মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

প্রকাশ ঘোষ বিধান

চুম্বন হলো দুই ঠোঁটের স্পর্শের মাধ্যমে ভালোবাসা, স্নেহ বা সম্মান প্রকাশ করার একটি সর্বজনীন মাধ্যম। এটি শুধুমাত্র আবেগের বহিঃপ্রকাশই নয়, বরং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ হ্রাস এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী।

আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস প্রতি বছর ৬ জুলাই বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়। এই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবনে চুম্বনের আনন্দ ও গুরুত্বকে মনে করিয়ে দেওয়া এবং সামাজিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে ভালোবাসার এই বিশুদ্ধ রূপকে উদযাপন করা। এই বিশেষ দিবসটি উদযাপনের রীতি প্রথম শুরু হয় যুক্তরাজ্যে।

অনেকে চুম্বনকে কেবল একটি সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা বা শারীরিক সম্পর্কের পূর্ব ধাপ হিসেবে দেখেন। এই ধারণার বাইরে গিয়ে চুম্বনের আসল আনন্দ, মানসিক প্রশান্তি এবং ভালোবাসার বিশুদ্ধ প্রকাশকে উদযাপন করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। এটি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মা-বাবা, সন্তান, বন্ধু এবং প্রিয়জনদের প্রতি স্নেহ ও সম্মান প্রদর্শনের একটি মাধ্যম।

২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হতে থাকে। মানুষ যেন কেবল সামাজিক লৌকিকতা বা অন্য কোনো কাজের প্রস্তাবনা হিসেবে নয়, বরং ভালোবাসার এক গভীর অনুভূতি হিসেবে চুম্বনের সাধারণ আনন্দকে উপভোগ করতে পারে, সেই সচেতনতা তৈরি করা।

ভালোবাসা সপ্তাহের কিস ডে বনাম আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবসঅনেকেই এই দুটি দিবসের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন, তবে এ দুটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ৬ জুলাই আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস, এটি সর্বজনীন ভালোবাসার প্রতীক। এটি শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবার, বন্ধু, সন্তান বা প্রিয় পোষা প্রাণীর প্রতি স্নেহ ও শ্রদ্ধা প্রকাশের দিন। ১৩ ফেব্রুয়ারি কিস ডে মূলত ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ বা ভালোবাসা সপ্তাহের একটি অংশ হিসেবে উদযাপিত হয়, যা সম্পূর্ণ রোমান্টিক সম্পর্কের ওপর কেন্দ্র করে পালিত হয়।

চুম্বনেরও প্রকারভেদ আছে। সম্পর্ক এবং সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে চুম্বন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। চুম্বনের ধরনই বলে দেয় সম্পর্কের গভীরতা। এমনকি চুম্বনের ধরন অনুযায়ী বোঝা যায়, সম্পর্কের ধরনও। চুম্বনের কোনও লিখিত ধরন নেই। তবে প্রচলিত রীতি আছে। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুম্বন বা ফরাসি চুম্বন। প্রেমের গাঢ় বন্ধনকেই প্রকাশ করে ফ্রেঞ্চ কিস এই বিশেষ চুম্বন। আবার কপালের চুম্বন অন্য অর্থের ইঙ্গিত। কপালে চুম্বন বা গালে চুম্বন স্নেহমূলক। সম্পর্কের সুরক্ষা ও ভরসার সংকেত এই বিশেষ চুম্বন। প্রেমের বাইরেও এই চুম্বন অভিভাবকদের কাছ থেকে সন্তানরা পেয়ে থাকে।

চুম্বনের ইতিহাস মানব সভ্যতার মতোই পুরনো। ষষ্ঠ শতকের দিকে ফ্রান্সে নাচের মাধ্যমে একে অপরকে চুম্বন করার প্রথা ছিল। রোমানরা আবার একে তিন ভাগে ভাগ করেছিল। অস্কুলাম; বন্ধুর গালে চুম্বন, বাসিয়াম; ঠোঁটে চুম্বন এবং সুভিয়াম; গভীর চুম্বন। আধুনিক সময়ে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের শেষলগ্নে কিস ডে-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাতে প্রিয়জনকে স্পর্শের মাধ্যমে মনের গভীর অনুরাগ প্রকাশ করা যায়।

ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ অনুযায়ী চুম্বনের ধরণও বদলে যায়। কপালে চুম্বন: এটি গভীর শ্রদ্ধা, যতœ এবং নিরাপত্তার প্রতীক। সঙ্গীকে আশ্বস্ত করতে এর চেয়ে বড় অস্ত্র আর নেই। হাতে চুম্বন: এটি মূলত আভিজাত্য এবং সঙ্গীর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করার এক সুন্দর ধরণ। গালে চুম্বন: এটি স্নেহ এবং বন্ধুত্বের উষ্ণতা প্রকাশ করে।

গবেষণা ও চিকিৎসকদের মতে, চুম্বনের বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা রয়েছে। চুম্বনের ফলে মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন ও ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে মানসিক চাপ কমিয়ে মন ভালো করে। এটি রক্তনালীকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তীব্র বা আবেগপূর্ণ চুম্বনের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে প্রায় ৬.৪ ক্যালোরি পর্যন্ত বার্ন বা ক্ষয় হতে পারে। সম্পর্কের বাঁধন মজবুত করার পাশাপাশি এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও এক পরম ওষুধ।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

Ads small one

কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ক্লিনিকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ক্লিনিকে জরিমানা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ক্লিনিক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়ন এর মা জননী নার্সিং হোম এবং মাতৃকল্যাণ ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম।

 

এ সময় ক্লিনিকে সরকারি অনুমোদন না থাকায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনুমোদিত ডাক্তার না থাকায় উভয় প্রতিষ্ঠানকে মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ- ১৯৮২ অনুযায়ী পাঁচ হাজার করে সর্বমোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

 

আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. বাপ্পি কুমার দাস, বেঞ্চ সহকারী এমএ মান্নানসহ থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম।

পাইকগাছায় আমড়ার বাম্পার ফলন: দূর-দূরান্তে যাচ্ছে উপকূলের টক-মিষ্টি ফল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় আমড়ার বাম্পার ফলন: দূর-দূরান্তে যাচ্ছে উপকূলের টক-মিষ্টি ফল

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে মুখরোচক ফল আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ ফলের ফলন ও বাজার দর ভালো পাওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় আমড়া চাষি ও ব্যবসায়ীদের।

খুলনার লবণাক্ত এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গদাইপুর, রাড়ুলী, হরিঢালী ও কপিলমুনির মতো উঁচু এলাকাগুলোতে প্রচুর আমড়ার চাষ হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনসমৃদ্ধ এ ফলটি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখে। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা আমড়া বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়।

আষাঢ় থেকে ভাদ্রÑএই তিন মাস আমড়ার প্রধান মৌসুম। ব্যাপারীরা এ সময় গ্রাম ঘুরে পুরো গাছের ফল এককালীন চুক্তিতে কিনে নেন। এরপর আড়ত হয়ে এ আমড়া সরবরাহ করা হয় ঢাকা, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, রোদযুক্ত উঁচু স্থানে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করলে ৩-৪ বছরের মধ্যে ফল পাওয়া যায়। এখানে মূলত দেশি ও হাইব্রিড—দুই জাতের আমড়া চাষ হয়। হাইব্রিড জাতের চারা রোপণের মাত্র এক বছরের মধ্যেই ফলন মেলে। দানাদার সার ও বর্ষার মৌসুমে পোকা দমনে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করলেই গাছ রোগমুক্ত থাকে।

চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন জানান, আমড়া উপকূলীয় এলাকার একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল। উৎপাদন আরও বাড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নতুন চারা রোপণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

 

খানাখন্দে জর্জরিত পাটকেলঘাটা-চোমরখালি সড়ক: দুর্ভোগে শত গ্রামের মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
খানাখন্দে জর্জরিত পাটকেলঘাটা-চোমরখালি সড়ক: দুর্ভোগে শত গ্রামের মানুষ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটা বাণিজ্যিক কেন্দ্রের দক্ষিণ অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এখন বেহাল দশা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হওয়া বিশাল খানাখন্দকের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত গ্রামের বাসিন্দা।

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হওয়া এ সড়কটি সরুলিয়া ও খলিশখালী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রসারিত হয়েছে। রাজেন্দ্রপুর, লালচন্দ্রপুর, জুসখোলা, চোমরখালি, আমতলা ডাঙা, শিয়ালডাঙ্গা, কাশিয়াডাঙ্গা ও খলিশখালীসহ বহু গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এটি। প্রতিদিন এই পথ দিয়েই খুলনা, সাতক্ষীরা, কেশবপুর, আশাশুনি ও গোয়ালপোতাগামী যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয় কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শামীম শেখ আফসোস করে জানান, পুরো সাতক্ষীরা জেলায় এত খারাপ রাস্তা আর কোথাও আছে বলে তাঁর জানা নেই। অন্যদিকে খলিশখালী ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দারাও জানান, সড়কটির এমন চরম দুরবস্থা তাঁরা আগে কখনো দেখেননি।

যোগাযোগব্যবস্থার এই নাজুক অবস্থা নিয়ে সরুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাসুদ রানা ও ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রুস্তম মোড়ল জানান, সড়কটি মেরামতের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোস্তফা লুৎফুল্লাহর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, সড়কটির বেহাল দশার বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।