রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

প্রকাশ ঘোষ বিধান

চুম্বন হলো দুই ঠোঁটের স্পর্শের মাধ্যমে ভালোবাসা, স্নেহ বা সম্মান প্রকাশ করার একটি সর্বজনীন মাধ্যম। এটি শুধুমাত্র আবেগের বহিঃপ্রকাশই নয়, বরং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ হ্রাস এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী।

আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস প্রতি বছর ৬ জুলাই বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়। এই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবনে চুম্বনের আনন্দ ও গুরুত্বকে মনে করিয়ে দেওয়া এবং সামাজিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে ভালোবাসার এই বিশুদ্ধ রূপকে উদযাপন করা। এই বিশেষ দিবসটি উদযাপনের রীতি প্রথম শুরু হয় যুক্তরাজ্যে।

অনেকে চুম্বনকে কেবল একটি সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা বা শারীরিক সম্পর্কের পূর্ব ধাপ হিসেবে দেখেন। এই ধারণার বাইরে গিয়ে চুম্বনের আসল আনন্দ, মানসিক প্রশান্তি এবং ভালোবাসার বিশুদ্ধ প্রকাশকে উদযাপন করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। এটি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মা-বাবা, সন্তান, বন্ধু এবং প্রিয়জনদের প্রতি স্নেহ ও সম্মান প্রদর্শনের একটি মাধ্যম।

২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হতে থাকে। মানুষ যেন কেবল সামাজিক লৌকিকতা বা অন্য কোনো কাজের প্রস্তাবনা হিসেবে নয়, বরং ভালোবাসার এক গভীর অনুভূতি হিসেবে চুম্বনের সাধারণ আনন্দকে উপভোগ করতে পারে, সেই সচেতনতা তৈরি করা।

ভালোবাসা সপ্তাহের কিস ডে বনাম আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবসঅনেকেই এই দুটি দিবসের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন, তবে এ দুটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ৬ জুলাই আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস, এটি সর্বজনীন ভালোবাসার প্রতীক। এটি শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবার, বন্ধু, সন্তান বা প্রিয় পোষা প্রাণীর প্রতি স্নেহ ও শ্রদ্ধা প্রকাশের দিন। ১৩ ফেব্রুয়ারি কিস ডে মূলত ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ বা ভালোবাসা সপ্তাহের একটি অংশ হিসেবে উদযাপিত হয়, যা সম্পূর্ণ রোমান্টিক সম্পর্কের ওপর কেন্দ্র করে পালিত হয়।

চুম্বনেরও প্রকারভেদ আছে। সম্পর্ক এবং সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে চুম্বন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। চুম্বনের ধরনই বলে দেয় সম্পর্কের গভীরতা। এমনকি চুম্বনের ধরন অনুযায়ী বোঝা যায়, সম্পর্কের ধরনও। চুম্বনের কোনও লিখিত ধরন নেই। তবে প্রচলিত রীতি আছে। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুম্বন বা ফরাসি চুম্বন। প্রেমের গাঢ় বন্ধনকেই প্রকাশ করে ফ্রেঞ্চ কিস এই বিশেষ চুম্বন। আবার কপালের চুম্বন অন্য অর্থের ইঙ্গিত। কপালে চুম্বন বা গালে চুম্বন স্নেহমূলক। সম্পর্কের সুরক্ষা ও ভরসার সংকেত এই বিশেষ চুম্বন। প্রেমের বাইরেও এই চুম্বন অভিভাবকদের কাছ থেকে সন্তানরা পেয়ে থাকে।

চুম্বনের ইতিহাস মানব সভ্যতার মতোই পুরনো। ষষ্ঠ শতকের দিকে ফ্রান্সে নাচের মাধ্যমে একে অপরকে চুম্বন করার প্রথা ছিল। রোমানরা আবার একে তিন ভাগে ভাগ করেছিল। অস্কুলাম; বন্ধুর গালে চুম্বন, বাসিয়াম; ঠোঁটে চুম্বন এবং সুভিয়াম; গভীর চুম্বন। আধুনিক সময়ে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের শেষলগ্নে কিস ডে-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাতে প্রিয়জনকে স্পর্শের মাধ্যমে মনের গভীর অনুরাগ প্রকাশ করা যায়।

ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ অনুযায়ী চুম্বনের ধরণও বদলে যায়। কপালে চুম্বন: এটি গভীর শ্রদ্ধা, যতœ এবং নিরাপত্তার প্রতীক। সঙ্গীকে আশ্বস্ত করতে এর চেয়ে বড় অস্ত্র আর নেই। হাতে চুম্বন: এটি মূলত আভিজাত্য এবং সঙ্গীর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করার এক সুন্দর ধরণ। গালে চুম্বন: এটি স্নেহ এবং বন্ধুত্বের উষ্ণতা প্রকাশ করে।

গবেষণা ও চিকিৎসকদের মতে, চুম্বনের বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা রয়েছে। চুম্বনের ফলে মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন ও ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে মানসিক চাপ কমিয়ে মন ভালো করে। এটি রক্তনালীকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তীব্র বা আবেগপূর্ণ চুম্বনের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে প্রায় ৬.৪ ক্যালোরি পর্যন্ত বার্ন বা ক্ষয় হতে পারে। সম্পর্কের বাঁধন মজবুত করার পাশাপাশি এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও এক পরম ওষুধ।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

Ads small one

তহবিল অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের সবুজ জ্বালানি পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
তহবিল অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের সবুজ জ্বালানি পরিকল্পনা

বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এটি দেশের সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রতি শক্তিশালী অঙ্গীকারের ইঙ্গিত দিলেও, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল নিয়ে অনিশ্চয়তা দক্ষিণ এশিয়ায় এই রূপান্তরের গতি ধীর করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তুরস্কের আন্টালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের (কপ-৩১) আগে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে একাধিক কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩১ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সরঞ্জাম আমদানিতে শূন্য শুল্ক এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে করপোরেট আয়কর অব্যাহতি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য বিনিয়োগ ব্যয় কমানো, বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করা।

এ পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো অভিযোজন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ন্যায়সংগত রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে উন্নত দেশ ও বহুপাক্ষিক অর্থায়ন সংস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে একদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে হচ্ছে, অন্যদিকে কমে যাওয়া গ্যাস মজুত, আমদানি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

এই বাস্তবতাই বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তরকে একইসঙ্গে পরিবেশগত প্রয়োজন ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারে পরিণত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরেও এ বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—যার মধ্যে রয়েছে বড় সৌর প্রকল্প, ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন, সবুজ শিল্প ও জলবায়ু তহবিল।

চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার। নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন, বেইজিংয়ের সবুজ বিনিয়োগ সম্প্রসারণ দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পগুলোকে আরও গতিশীল করবে।

তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অগ্রগতি থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভর করছে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার এলএনজি আমদানি অব্যাহত রেখেছে; পাশাপাশি ২০৩০ সাল পর্যন্ত কয়লা আমদানিতে কর সুবিধা বহাল রেখেছে। সরকার বলছে, রূপান্তরকালীন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এসব ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এই বাস্তবতা দক্ষিণ এশিয়ার বড় চ্যালেঞ্জের প্রতিচ্ছবি—যেখানে একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্প উৎপাদন, অপরদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু লক্ষ্যকে সমন্বয় করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করবে এবং হালনাগাদ জাতীয় অবদান (এনডিসি) অনুযায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাবে—যা আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

তবে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো সীমিত, যা বড় আকারের বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গ্রিড আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, উপকূলীয় সুরক্ষা এবং কৃষি ও নগর অবকাঠামোতে সহনশীলতা বাড়াতে প্রতিবছর বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশের এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মিল রয়েছে।

ভারতেও জলবায়ু ঝুঁকি ও জ্বালানি রূপান্তরের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বহু জেলায় ফসলহানি ও খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে। একইসঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ও ব্যাটারি স্টোরেজে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে জলবায়ু তহবিল কপ-৩১ এর অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাংক ২০২৪ সালে ৪১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন দিয়েছে, যার মধ্যে ১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন অভিযোজন খাতে। তবে সহায়তার দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

যদিও ২০২৪ সালে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, দাতা দেশগুলোর অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে তহবিল কমে যেতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এ পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রয়োজন শুধু নিঃসরণ কমানোর জন্য নয়, বরং বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা ও কৃষি ক্ষতির মতো বাস্তব প্রভাব মোকাবিলায় অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন।

সম্প্রতি জাতিসংঘ জলবায়ু আলোচনায়ও তহবিল ইস্যু বড় ভূমিকা রাখে, তবে অগ্রগতি ছিল সীমিত।

স্বল্পোন্নত দেশগুলো বলেছে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে রূপান্তরের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয় পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর ছাড়া।

এবার নজর কপ-৩১ এর দিকে, যেখানে তুরস্ক ‘অ্যাকশন অ্যাজেন্ডা’ প্রস্তাব করেছে—বিদ্যুতায়ন, মিথেন কমানো এবং বাস্তবভিত্তিক জ্বালানি রূপান্তরকে কেন্দ্র করে।

তবে বাংলাদেশের সাফল্য নির্ভর করবে কেবল আন্তর্জাতিক আলোচনার ওপর নয়, বরং অভ্যন্তরীণ বাস্তবায়নের ওপরও।

বাংলাদেশ এখনো সীমিত গ্রিড সক্ষমতা, ব্যাটারি স্টোরেজ ঘাটতি, জমির সংকট এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার মতো কাঠামোগত বাধার মুখে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কর ও শুল্ক প্রণোদনা তখনই কার্যকর হবে, যদি তা বেসরকারি বিনিয়োগ টানতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেন্টার ফর পারটিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, এখন সময় নীতি ঘোষণার বাইরে গিয়ে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প তৈরি করার। তার মতে, অনুদানভিত্তিক, পূর্বানুমানযোগ্য জলবায়ু তহবিলই টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের মূল চাবিকাঠি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সবুজ জ্বালানি কৌশল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিনিয়োগ বাড়লেও তা কার্যকর করতে হলে স্বচ্ছতা, পরিবেশগত মান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।

কপ-৩১ সামনে রেখে বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হলো—নীতিকে বাস্তব প্রকল্পে রূপান্তর, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে বাস্তবায়নযোগ্য অর্থ ও প্রযুক্তিতে পরিণত করা।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তরের সফলতা নির্ভর করছে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তবায়নের গতির ওপর।

আশাশুনিতে আবাসিক এলাকায় অবৈধ রাইস মিল, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে আবাসিক এলাকায় অবৈধ রাইস মিল, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

আশাশুনি প্রতিনিধি: সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে একের পর এক অটো রাইস মিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ও খাদ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই এসব মিল চলায় একদিকে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি।
বুধহাটা ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, মিলের ধোঁয়া ও তুষের ছাইয়ে গাছপালা পুড়ে যাচ্ছে এবং শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও চোখের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। প্রতিটি মিলে আধুনিক ‘সাইক্লোন প্রযুক্তি’ থাকার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ চাতালে তা নেই। ফলে উড়ন্ত ছাই ও কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণা রায় জানান, যেসব রাইস মিল পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়া চলছে, সেগুলোর তালিকা করা হচ্ছে এবং অচিরেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা সহকারী পরিচালক জানান, আবাসিক এলাকায় চাতাল স্থাপন নিয়মবহির্ভূত, লিখিত অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

মণিরামপুরে ১০ মসজিদের উন্নয়নে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
মণিরামপুরে ১০ মসজিদের উন্নয়নে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১০টি মসজিদের উন্নয়নকাজে মোট ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২’ প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ বরাদ্দ করা হয়।
রোববার (৫ জুলাই) উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বরাদ্দের অনুমোদনপত্র সংশ্লিষ্ট মসজিদ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের অনুকূলে ৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দপ্রাপ্ত মসজিদগুলোর মধ্যে রয়েছে— মণিরামপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বড় সালাতপুর জামে মসজিদ, পল্লি পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ, লেবুগাতী গোয়ালপাড়া মোড় জামে মসজিদ, ভোজগাতী বায়তুল আমান জামে মসজিদ, করেরাইল বাইতুল মামুন জামে মসজিদ, জালঝাড়া মাদ্রাসা মসজিদ, খড়িঞ্চি দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ, পারখাজুরা বায়তুল মামুন জামে মসজিদ এবং বাটবিলা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ।
অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ফজলুল হকসহ সংশ্লিষ্ট মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।