সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক বিচারিক সুস্থতা দিবস : সুস্থতা থেকেই ন্যায়বিচারের সূচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক বিচারিক সুস্থতা দিবস : সুস্থতা থেকেই ন্যায়বিচারের সূচনা

সাকিবুর রহমান বাবলা

আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হলো একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দক্ষ বিচারব্যবস্থা। আর সেই বিচারব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থান করেন বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট, সালিশকারী এবং বিচার বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা। সমাজে ন্যায় ও অন্যায়ের সীমারেখা নির্ধারণ, নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখার গুরুদায়িত্ব তাঁদের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলনামূলকভাবে আড়ালে রয়ে গেছে-যারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন, তাঁদের নিজেদের শারীরিক, মানসিক ও আবেগগত সুস্থতা। এই উপলব্ধি থেকেই প্রতি বছর ২৫ জুলাই পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিচারিক সুস্থতা দিবস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২৫ সালের মার্চে গৃহীত অ/জঊঝ/৭৯/২৬৬ প্রস্তাবের মাধ্যমে দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়, যার লক্ষ্য বিচারকদের সুস্থতা, কর্মপরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বিচারিক সুস্থতা বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন দিগন্তের সূচনা হয় ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুতে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় এবং নাউরুর বিচার বিভাগের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত হয় “নাউরু ঘোষণা”। নাউরু ঘোষণায় বিচারিক সুস্থতাকে একটি স্বাধীন, কার্যকর ও জনআস্থাভিত্তিক বিচারব্যবস্থার অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বিচারকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিদ্যমান সংকোচ দূর করা, বিচারক, আদালত ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ দায়িত্ব নিশ্চিত করা, সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলা, সচেতনতা, প্রতিরোধ, সহায়তা ও পুনরুদ্ধারমূলক উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন, স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিচারিক সুস্থতাকে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

গ্লোবাল জুডিশিয়াল ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্কের ২০২১ সালের এক জরিপে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের বিচারকদের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। জরিপে ৯২ শতাংশ বিচারক জানান, তাঁরা নিয়মিত মানসিক চাপের মুখোমুখি হন এবং ৭৬ শতাংশ বিচারক মনে করেন, নিজেদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য তাঁদের পর্যাপ্ত সময় নেই। এছাড়া ৮৯ শতাংশ বিচারক সহকর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ বা উদ্বেগের উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত, ৬৯ শতাংশের মতে বিচার বিভাগে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা এখনও একটি ট্যাবু এবং ৮৩ শতাংশ বিচারক মনে করেন, তাঁদের আদালত ব্যবস্থা বিচারকদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে পারছে না। একই সঙ্গে ৯৭ শতাংশ বিচারক একমত যে বিচারিক সুস্থতার বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব ও দৃশ্যমানতা পাওয়া উচিত। জরিপে আরও দেখা যায়, বিচারিক সুস্থতার ঘাটতি আদালত পরিচালনা ও প্রশাসনিক দক্ষতা ৮০ শতাংশ, রায় ও সিদ্ধান্তের গুণগত মান ৬৮ শতাংশ, বিচার বিভাগের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ৪৭ শতাংশ, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুযোগ ৪০ শতাংশ, বিচারিক সততা ও নৈতিকতা ৩৫ শতাংশ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ন্যায্যতাকে ৩১ শতাংশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এসব তথ্য স্পষ্ট করে যে বিচারিক সুস্থতা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা, ন্যায়নিষ্ঠা এবং জনআস্থা গভীরভাবে সম্পর্কিত।

ধর্মীয় ঐতিহ্য, নৈতিক দর্শন, আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান-সব ক্ষেত্রেই একজন বিচারকের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক সুস্থতাকে সুষ্ঠু বিচারকার্যের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় বিচারকের প্রজ্ঞা, আত্মসংযম, ধৈর্য, সততা এবং রাগ, ক্লান্তি বা মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে; পাশাপাশি তাঁকে ভয়, প্রলোভন ও বাহ্যিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে মনোবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত কর্মচাপ, ঘুমের অভাব, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং ‘ডিসিশন ফ্যাটিগ’ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও বিচারবোধকে দুর্বল করতে পারে। তাই একজন বিচারকের জন্য নিরাপদ, শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও সহায়ক কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পর্যাপ্ত জনবল এবং বিচারিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের বিচারকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশ অতিরিক্ত মামলার জট, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তা-সংকটের কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। বিচারাধীন মামলার চাপ, সহায়ক জনবলের দক্ষতার ঘাটতি এবং কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্যহীনতা তাঁদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। তাই নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল, উন্নত অবকাঠামো, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পেশাগত কাউন্সেলিং নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি। কারণ বিচারকদের সুস্থতা নিশ্চিত করা মানেই বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা ও জনআস্থা সুদৃঢ় করা।

আন্তর্জাতিক বিচারিক সুস্থতা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ন্যায়বিচারের শক্তি শুধু আইন, বিধি বা আদালতের কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রকৃত ভিত্তি হলো বিচারকার্যে নিয়োজিত মানুষের সুস্থতা, প্রজ্ঞা ও নৈতিক দৃঢ়তা। একজন বিচারকের শারীরিক, মানসিক ও আবেগগত সুস্থতা যত বেশি সুরক্ষিত হবে, বিচারব্যবস্থাও তত বেশি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জনআস্থাসম্পন্ন হয়ে উঠবে। এই দিবসের মূল বার্তা একটাই-সুস্থ বিচারকই সুস্থ বিচারব্যবস্থার ভিত্তি, আর একটি সুস্থ বিচারব্যবস্থাই পারে ন্যায়, আস্থা ও মানবিক মর্যাদার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে। সত্যিই, সুস্থতা থেকেই ন্যায়বিচারের সূচনা।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবায়িত হলো, ফলোআপ সভায় আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবায়িত হলো, ফলোআপ সভায় আলোচনা

filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0; module:1facing:0; hw-remosaic: 0; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: Auto; cct_value: 0; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 59.0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় যুব-নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারী কর্মকর্তা, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও, সাংবাদিক ও কমিউনিটির অন্যান্যদের সমন্বয়ে স্থানীয় চাহিদা নিরূপনে নির্বাচনী ইশতেহার শীর্ষক ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগষ্ট ২৬) বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিডো বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় এফরটি প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সাতক্ষীরায় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উপকূলীয় টেকসই বেড়িবাঁধ ও সুপেয় পানি নিশ্চিতকরণ, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, প্রাণ সায়ের খালের আধুনিকায়ন করা, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধ করা, রেল যোগাযোগ বাস্তবায়ন করা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষির প্রসার, যুব ও নারীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ভোমরা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর রুপান্তর করা, আন্তজাতিক মানের স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করা, সামাজিক শান্তি-সম্প্রীতি উন্নয়নে ভুমিকা। জনগণের অংশগ্রহণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সিডো সাতক্ষীরার প্রধান নির্বাহী, শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।

বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল হাসান হাদি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবণী সরকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আবুল হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরার প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, এটিএন বাংলা প্রতিনিধি এম কামরুজ্জামান, মাছরাঙা টেলিভিশন ও দৈনিক আমাদের সময় প্রতিনিধি মো: মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আবু সাঈদ বিশ্বাস, বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান, স্বদেশ নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত।

সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সিডো সাতক্ষীরার প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস।
যুব-নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ইশতেহারে সাতক্ষীরার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় স্থানীয় উন্নয়নে চাহিদা নিরুপন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা ইয়ূথ হাবের সভাপতি সাকিব হাসান।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর-২০২৫ সাতক্ষীরায় সকল রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ইলেকশন মেনিফেস্টো সংলাপে সাতক্ষীরার দাবি উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিকট সাতক্ষীরার সমস্যা ও প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়েছিল সেখানে। তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারই প্রেক্ষিতে এই ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ফলোআপ সভার উদ্দেশ্য নির্বাচনের পুর্বে জনগণের সামনে উপস্থাপিত প্রতিশ্রুতি ও সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। একইসঙ্গে কোন প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কোনগুলো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে, বাস্তবায়নে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে-এগুলোই আলোচনার মূল বিষয় ছিল।

সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দেস আব্দুল খালেক বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণ তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই এলাকার মানুষের সেবা করা তার দায়িত্ব।

এমপি মুহাদ্দেস আব্দুল খালেক বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা ও দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে। এখন সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা, অসম্পূর্ণ উদ্যোগ চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

 

তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ
তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

Oplus_131072

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভা পরিচালনা করেন উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. ইমান উদ্দীন।

সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিরাজুস সালেহীন, তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক, পাটকেলঘাটা থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইদ্রিস আলী, জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু, ইসলামকাটি ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম ফারুক, তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম, খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু, তালা সদর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক, খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ কামরুল ইসলাম লাল্টু, কুমিরা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম, সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ মাসুদ রানা, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবার হোসেন এবং পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মোমিন।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, অনলাইন জুয়া, চুরি ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, অপরাধ দমন এবং উপজেলার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সাতক্ষীরায় গণপূর্ত কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি, দ্রুত নিয়মিতকরণের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় গণপূর্ত কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি, দ্রুত নিয়মিতকরণের দাবি

সংবাদদাতা: গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়ন ও দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের দাবিতে সাতক্ষীরায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন ১৬৪৭নং সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা গণপূর্ত ভবন প্রাঙ্গণে এ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা অংশ নেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন আবু দাউদ আলম, শেখ মেহদী হাসান, মো. জুবায়দুর রহমান ও মোছা. ফাতেমা খাতুন।

এ সময় বক্তারা বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে এলেও তাদের চাকরি নিয়মিতকরণসহ বেশ কিছু দাবি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের রিভিউয়ের রায়, আইন মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি শাখার মতামত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের পক্ষে থাকার পরও বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ শাখায় অপেক্ষমাণ রয়েছে।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ থাকা নিয়মিতকরণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মধ্যে কর্মস্থলে স্থিতিশীলতা ও কর্মস্পৃহা বাড়বে। তাই কোনো ধরনের বিলম্ব না করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের চাকরি নিয়মিত করার দাবি জানান বক্তারা।

এ ছাড়া ভাউচার, দৈনিকভিত্তিক ও মাস্টাররোল কর্মচারীদের অবিলম্বে কার্যভিত্তিক করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগের প্রচলিত প্রথা বিলুপ্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে নিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবিও তুলে ধরেন তারা।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, কর্মচারীদের ন্যায্য দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে-এমন প্রত্যাশা করেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন ১৬৪৭নং সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি থেকে দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।