মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস: সম্মিলিত ক্ষুদ্র উদ্যোগে সমৃদ্ধি, সাম্য ও টেকসই উন্নয়নের পথ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস: সম্মিলিত ক্ষুদ্র উদ্যোগে সমৃদ্ধি, সাম্য ও টেকসই উন্নয়নের পথ

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর জুলাই মাসের প্রথম শনিবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস। দিবসটি পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং টেকসই উন্নয়নের এক বৈশ্বিক দর্শনের স্মারক। ১৯২৩ সালে ‘আন্তর্জাতিক সমবায় জোট’ এ দিবস পালন শুরু করে এবং ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের স্বীকৃতির মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করে।

সমবায়ের মূল ভিত্তি হলো সম্মিলিত মালিকানা, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং ন্যায্য সুফল বণ্টন। এর দর্শন— “সকলের জন্য একজন, একজনের জন্য সকলে”Ñ ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে ক্ষুদ্রসমষ্টিগত কল্যাণকে গুরুত্ব দেয়। লাভের সর্বোচ্চীকরণের পরিবর্তে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নই সমবায়ের প্রধান লক্ষ্য।

আধুনিক সমবায় আন্দোলনের সূচনা ১৮৪৪ সালে ইংল্যান্ডের রচডেল শহরের ২৮ জন শ্রমিকের হাত ধরে। তাদের প্রণীত নীতিমালাই আজও বিশ্বব্যাপী সমবায় আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক দেশে প্রায় ৩০ লাখ সমবায় প্রতিষ্ঠানে এক বিলিয়নেরও বেশি মানুষ যুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট কর্মসংস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমবায় খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষায় সমবায়ের অবদান আজ বিশ্বস্বীকৃত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সমবায়ের গুরুত্ব একটু গভীর। কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সমবায় দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। কৃষি উৎপাদন, মৎস্য চাষ, পোল্ট্রি, গবাদিপশু ও দুগ্ধ শিল্প, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, গ্রামীণ সঞ্চয় এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সমবায় একটি পরীক্ষিত মডেল। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং সমবায় অধিদপ্তর এ খাতের উন্নয়ন, নিবন্ধন ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সমবায়ের অবদান অনস্বীকার্য, চলছে সরকারি বেসরকারি প্রকল্প।

বর্তমান বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন, আয়বৈষম্য, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমন বাস্তবতায় সমবায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন মডেল হিসেবে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। কৃষি ও ঋণ কার্যক্রমের বাইরে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, ডিজিটাল সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও সমবায়ের বিস্তার ঘটছে। ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ, অনলাইন বিপণন এবং ই-কমার্সভিত্তিক কার্যক্রম সমবায়কে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও যুগোপযোগী করে তুলতে পারে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। দুর্বল ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতার ঘাটতি, নেতৃত্ব সংকট এবং কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব সমবায়ের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুশাসন নিশ্চিত করা, সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে সমবায় শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে হবে এবং দূর করতে হবে সকল দুর্নীতি।

আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় যে, টেকসই উন্নয়নের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে। ক্ষুদ্র সঞ্চয়, ক্ষুদ্র বিনিয়োগ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ যখন সমবেত শক্তিতে রূপ নেয়, তখন তা শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, সামাজিক সাম্য ও মানবিক অগ্রগতির পথও সুগম করে। বৈষম্যহীন, অংশগ্রহণমূলক এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সমবায় আন্দোলনের বিকল্প নেই। তাই সমবায়কে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলাই হতে পারে আগামীর উন্নয়ন অভিযাত্রার অন্যতম কৌশল।

Ads small one

৩০ বছর পর সরকারি জমি উদ্ধারে নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
৩০ বছর পর সরকারি জমি উদ্ধারে নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুর পৌরসভা ভবন সংলগ্ন পাবলিক লাইব্রেরির পাশে প্রায় সাত শতক সরকারি জমি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর দখলমুক্ত করেছে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ওই জমি উদ্ধার করা হয়।দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিটি বিভিন্ন দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের অভিযানের পর জমিটি দখলমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় নাগরিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর ভবন সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, পাবলিক লাইব্রেরি ও সরকারি প্রভাতি বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়। গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করায় দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের দিকে প্রভাবশালী একটি মহল নামমাত্র ডিসিআর নিয়ে প্রায় সাত শতক সরকারি জমি দখল করে সেখানে মুরগি, মুদি, মিষ্টি ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিল। পরবর্তীতে নাগরিকদের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট ডিসিআর বাতিল করে সরকার জমিটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ওই জমির একটি অংশ পুনরায় দখল করে পাঁচটি টিনশেড দোকান নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কয়েকজনকে এসব দোকান ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মুরগির দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানো এবং পাশেই অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চা ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। সরকারি জমি দখলমুক্ত করার জন্য নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সুতারং দখলমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং উপজেলা প্রশাসন প্রশাংসায় ভাষছে ।

কয়রায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ রোগী হাসপাতালে ভর্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
কয়রায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ রোগী হাসপাতালে ভর্তি

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত পাঁচ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও পুরুষ রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে পাঁচজনের শারীরিক অবস্থা ভালো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীরা হলেন-সোনালী (২০), শুহিনা (২২), ইকবাল (৩৫), জাহাঙ্গীর (২৬) ও রিয়াজ মোল্ল্যা (২৩)।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে ওই পাঁচজনের রক্তে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হয়। বর্তমানে তাদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, “জ্বর নিয়ে পাঁচজন চিকিৎসা নিতে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের রক্তে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হয়। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে। কারও অবস্থার অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হবে।”

সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

পত্রদূত ডেস্ক: ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যে সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আয়োজনে জেলা কালেক্টরেট চত্বর থেকে র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মোজাফফর উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবির, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা ‘সাস’ এর নির্বাহী পরিচালক ইমান আলী, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীন, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম টুকু এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান।

বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়। পরিবর্তিত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে মানুষের জীবনমুখী, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান অর্জন প্রয়োজন। একটি দক্ষ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি হলো সাক্ষরতা।

তারা আরও বলেন, ঝরে পড়া শিশু, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় আনতে সাক্ষরতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা দরকার। সাক্ষরতার বিস্তার মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য কমাতে এবং ব্যক্তি ও পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক শেখ ফারুক হোসেন।