রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

আপনার কম্পিউটার মাউস নোংরা? কয়েক মিনিটেই পরিষ্কার করার সহজ উপায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আপনার কম্পিউটার মাউস নোংরা? কয়েক মিনিটেই পরিষ্কার করার সহজ উপায়

প্রতিদিনের ব্যবহারে আপনার কম্পিউটার মাউসটি অজান্তেই ধুলো, খাবারের কণা এবং নানা ময়লা জমায়—ঠিক যেন একটি সত্যিকারের ইঁদুরের মতো ঘুরে বেড়ায়। তবে পার্থক্য হলো, আসল ইঁদুর নিজে নিজেই পরিষ্কার হয়ে নেয়, কিন্তু আপনার মাউস তা পারে না। আমরা নিয়মিত কীবোর্ড বা ইয়ারফোন পরিষ্কার করলেও মাউসকে প্রায়ই উপেক্ষা করি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যবহৃত এই ডিভাইসটি পরিষ্কার না রাখলে তা শুধু অস্বাস্থ্যকরই নয়, কাজের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মাউস পরিষ্কার রাখা জরুরি।

কী কী লাগবে?

মাউস পরিষ্কার করতে খুব বেশি কিছু প্রয়োজন নেই। হাতের কাছেই রাখুন— কমপ্রেসড এয়ার, লিন্ট-ফ্রি কাপড়, টুথপিক বা স্পাডজার (পাতলা প্লাস্টিক স্টিক) এবং অ্যালকোহল ওয়াইপ।

অপটিক্যাল/লেজার মাউস পরিষ্কার করার নিয়ম

 

গেমিং মাউস নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে এতে ধুলা, ময়লা এবং ক্ষুদ্র কণিকা জমে যেতে পারে। তাই সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে মাউসের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে।

প্রথমেই নিশ্চিত করুন যে মাউসটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। যদি এটি তারযুক্ত হয়, তাহলে কম্পিউটার থেকে খুলে ফেলুন। আর যদি ব্যাটারি চালিত হয়, তাহলে সাধারণত একটি সুইচ থাকে—সেটি বন্ধ করে দিন।

এরপর একটি কমপ্রেসড এয়ার ক্যান ব্যবহার করে মাউসের LED অংশটি আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। যদি ব্যাটারির জন্য আলাদা অংশ থাকে, তাহলে ব্যাটারি খুলে নিয়ে সেখানে কমপ্রেসড এয়ার বা শুকনো, লিন্ট-ফ্রি কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। এই অংশে কখনো ভেজা কিছু ব্যবহার করবেন না।

এরপর একটি টুথপিক বা স্পাডজার ব্যবহার করে মাউসের সব খাঁজ ও ফাঁকফোকর পরিষ্কার করুন। গেমিং মাউসে সাধারণত অতিরিক্ত বোতাম থাকে, তাই প্রতিটি বোতামের চারপাশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। স্ক্রল হুইল থাকলে সেটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পরিষ্কার করুন, যাতে ভেতরের ময়লাও বের হয়ে আসে।

সবশেষে আবার কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে বাকি ধুলাবালি উড়িয়ে দিন। এরপর একটি অ্যালকোহল ওয়াইপ বা হালকা ভেজা লিন্ট-ফ্রি কাপড় দিয়ে মাউসের বাইরের অংশ মুছে নিন। যদি ভেজা কাপড় ব্যবহার করেন, তাহলে শেষে একটি শুকনো কাপড় দিয়ে আবার মুছে নিন।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার গেমিং মাউস পরিষ্কার থাকবে এবং দীর্ঘদিন ভালোভাবে কাজ করবে।

ট্র্যাকবল মাউস পরিষ্কার করার নিয়ম

 

এই ধরনের মাউসে ময়লা বেশি জমে। প্রথমেই যদি আপনার ট্র্যাকবল মাউসটি তারযুক্ত হয়, তবে সেটি কম্পিউটার থেকে বিচ্ছিন্ন করুন। আর যদি ব্যাটারি চালিত হয়, তাহলে পরিষ্কার করার আগে ব্যাটারি খুলে নিন।

এরপর ট্র্যাকবলটি মাউসের বডি থেকে আলাদা করুন। কিছু মাউসে বলটি সহজেই ওপরে থেকে বের করা যায়। আবার কিছু মডেলে, বিশেষ করে যেগুলোর ট্র্যাকবল নিচে থাকে, সেগুলোর ক্ষেত্রে হাউজিংটি হালকা ঘুরিয়ে খুলতে হয়। সাধারণত এ কাজে কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।

বলটি বের করার পর, একটি অ্যালকোহল ওয়াইপ বা হালকা ভেজা লিন্ট-ফ্রি কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিন। এরপর কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে মাউসের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করুন এবং কাপড় দিয়ে হালকাভাবে মুছে নিন।

মাউসের কোণ বা ফাঁকফোকরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে একটি টুথপিক বা স্পাডজার ব্যবহার করতে পারেন। যদি ময়লা শক্তভাবে আটকে থাকে, তবে আবার কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে তা ঢিলা করে নিন।

সবশেষে, একটি হালকা ভেজা লিন্ট-ফ্রি কাপড় বা অ্যালকোহল ওয়াইপ দিয়ে পুরো মাউসের বাহিরের অংশ মুছে নিন। তারপর ট্র্যাকবলটি আবার আগের জায়গায় বসিয়ে দিন।

ভার্টিক্যাল (এরগোনমিক)

ভার্টিক্যাল এরগোনমিক মাউস, যেমন লজিটেক লিফ্ট, হাতের কব্জির ব্যথা কমাতে দারুণ কার্যকর। তবে পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে এগুলো কিছুটা ঝামেলার হতে পারে। তাই সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা জরুরি।

প্রথমেই, অন্যান্য মাউসের মতো এটিকেও বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করুন। যদি আপনার মনে হয় মাউসের ভেতরে খাবারের কণা বা ধুলাবালি ঢুকে গেছে, তাহলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী মাউসটি খুলে ফেলুন। এরপর কমপ্রেসড এয়ার এবং শুকনো মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে ভেতরের অংশ পরিষ্কার করুন। বাইরের অংশটি হালকা ভেজা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে মুছে নিন। সব কিছু শুকিয়ে গেলে আবার মাউসটি জোড়া লাগান।

যদি আপনি মাউস খুলতে না চান এবং শুধু বাইরের অংশ পরিষ্কার করাই যথেষ্ট মনে করেন, তাহলে একটি টুথপিক বা স্পাডজার দিয়ে মাউসের সব খাঁজ ও ফাঁক পরিষ্কার করুন। এরপর কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে ধুলাবালি উড়িয়ে দিন এবং শেষে একটি হালকা ভেজা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে পুরো মাউসটি মুছে ফেলুন।

একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—অনলাইনে অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন যে এই ধরনের মাউসের কিছু কোটিং সহজেই ময়লা ধরে। এর চেহারা পুরোপুরি আগের মতো ঝকঝকে করা কঠিন হতে পারে। তবে এই পরিষ্কার করার পদ্ধতি অনুসরণ করলে অন্তত এটি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর থাকবে, যদিও একেবারে নতুনের মতো না-ও দেখাতে পারে।

মনে রাখা ভালো, আপনার মাউস প্রতিদিন আপনার হাতের স্পর্শে থাকে। তাই এটিকে পরিষ্কার রাখা মানে শুধু ডিভাইসের যত্ন নয়, নিজের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত রাখা। মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিলেই মাউস থাকবে নতুনের মতো পরিষ্কার। সূত্র: পিসিম্যাগ

Ads small one

পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশ দলে তানজিদ-অমিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশ দলে তানজিদ-অমিত

অনলাইন ডেস্ক: পাকিস্তানের বিপক্ষে আগামী মাসে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে রবিবার প্রথম টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ৮ মে। ১৬ মে সিলেটে হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

টেস্ট স্কোয়াডে প্রথমবারের মতো জায়গা পেয়েছেন দুই ক্রিকেটার। একজন হচ্ছেন সাদা বলে নিয়মিত মুখ তানজিদ হাসান, আরেকজন নতুন মুখ অমিত হাসান।

২৩ বছর বয়সী অমিত মূলত ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ২০১৯ সালে অভিষেকের পর ৮২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। তার গড় ৪৯।

এদিকে পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম প্রায় ছয় মাস পর আবার টেস্ট দলে ফিরেছেন। অফ স্পিনার নাঈম হাসানও প্রায় এক বছর পর টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন।

বিসিবির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় নির্বাচক প্যানেলের চেয়ারম্যান হাবিবুল বাশার বলেছেন, ‘তানজিদকে আমরা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য বিবেচনায় রেখেছিলাম। তার প্রথম শ্রেণির রেকর্ড খুবই ভালো এবং আমরা মনে করি, সে এই সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। তার টেকনিক ভালো, স্বাভাবিক দক্ষতাও আছে। সুযোগ পেলে দীর্ঘ ফরম্যাটে ভালো করবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’

অমিতকে নিয়ে তার কথা, ‘অমিত তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণেই দলে জায়গা পেয়েছে। তার মানসিকতা আলাদা করে নজরে পড়ে, যা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য উপযুক্ত। এই ফরম্যাটে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা দরকার, যা সে দীর্ঘ সময় ধরে দেখিয়েছে।’

টেস্ট দল

নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, এবাদত হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, তানজিদ হাসান, অমিত হাসান।

‘রোনালদোর জন্য বিশ্বকাপ জিততে চাই’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
‘রোনালদোর জন্য বিশ্বকাপ জিততে চাই’

 

রেকর্ড সর্বোচ্চ ষষ্ঠবার ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আগামী জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্টটি হতে যাচ্ছে তার শেষ আসর। ব্যক্তিগত ও ক্লাব ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব–ই জিতেছেন রোনালদো। অপূর্ণতা বলতে জাতীয় দলের হয়ে অধরা ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফি। জাতীয় দলের সতীর্থরা তাই বিদায় বেলায় সিআরসেভেনকে বিশ্বকাপ উপহার দিতে চান।
বিশ্ব ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় অন্যতম ফেভারিট হিসেবে খেলতে নামবে পর্তুগাল। আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণ মিলিয়ে তাদের স্কোয়াডে বৈচিত্র এবং ভারসাম্য রয়েছে। যাকে কাজে লাগিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সে পুরো ফায়দা তুলতে চায় রবার্তো মার্টিনেজের দল। বিশ্ব ফুটবলে রোনালদোর অবদানের প্রতিদান হিসেবে এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের প্রত্যাশা জানিয়েছেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ।

ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা ওয়েইন রুনির সঙ্গে সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক অনুষ্ঠানে যুক্ত হন ফার্নান্দেজ। এ সময় তিনি বলেন, ‘শেষ বিশ্বকাপটা জয়ের মাধ্যমে ক্রিস্টিয়ানো (রোনালদো) ক্যারিয়ারের ইতি টানতে পারলে সেটি অসাধারণ এক ব্যাপার হবে। আমি সত্যিই আশাবাদী যে আমরা তা করতে পারব। এটি কেবল পর্তুগালের জন্য নয়, ফুটবল এবং বিশ্বকে ক্রিশ্চিয়ানো যা দিয়েছে তার জন্যও।’

এখনই ফুটবলবিশ্বের অন্যতম কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন রোনালদো। বয়সটা ৪১–এর কোঠা পেরিয়ে এগিয়ে চললেও, নিজের স্বপ্ন পূরণের প্রচেষ্টা থামিয়ে রাখেননি। ছুটে চলেছেন পেশাদার ক্যারিয়ারে ১০০০তম গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার দিকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৪৩ করা এই তারকা বিশ্বকাপ জিততে না পারার আক্ষেপটা পূর্ণ করতে চান আসন্ন ২৩তম আসরে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ড পর্তুগালকে ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতিয়েছেন। দু’বার জিতেছেন উয়েফা নেশন্স লিগও। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে রোনালদোর পর্তুগাল পড়েছে ‘কে’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। গ্রুপপর্বে যথাক্রমে তিনটি দলের সঙ্গে ১৭, ২৩ ও ২৭ জুন মুখোমুখি হবে পর্তুগিজরা।

বজ্রপাতে সাত জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
বজ্রপাতে সাত জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু

 

বজ্রপাতে দেশের সাত জেলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়ে একজন মারা গেছেন।
গাইবান্ধা

গাইবান্ধা জেলায় রোববার বিকেলে বজ্রপাতে শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা গ্রামে তিনজন, ফুলছড়ি উপজেলার দেলুয়াবাড়ি গ্রামে একজন ও সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামের একজন রয়েছেন।

নিহতরা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী (১০), একই গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি চৌধুরী (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান মিয়া (২০), ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫) ও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নম্বার আলী (৬৫)।

বোনারপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় মৌসুমের প্রথম ঝড়-বৃষ্টির দিনে বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন। রোববার বিকেলে রায়গঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে এবং তাড়াশ উপজেলার বেত্রাশীন গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আকাশে মেঘে দেখে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে মাঠে কাটা ধান স্তূপ করে রাখছিলেন একই পরিবারের কয়েকজন। এমন সময় বজ্রপাতে হোসেন আলী সেখ (২৫) গুরুতর আহত হন। স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত ব্যক্তি ওই গ্রামের আবদুল হালিম সেখের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

এদিকে তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আবদুল হামিদ (৫০)। তিনি মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।

তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বলেন, বজ্রপাতে একজন কৃষক মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি।

ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা ও এর আশপাশে থেমে থেমে বৃষ্টি চলছিল। বেলা পৌনে দুইটার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি মারা যান।

অন্যদিকে কোষাডাঙ্গীপাড়ায় বজ্রপাতের ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুরে বৈরামপুর এলাকায় জমিতে ফসল দেখতে যান ইলিয়াস। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

পীরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এসব ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।

পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে মো. সোহরাওয়ার্দী (২২) নামের এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকায় একটি চা-বাগানের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩) নামের আরও দুই চা-শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে মো. মোস্তফাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত সোহরাওয়ার্দী ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকার আবদুস সামাদের ছেলে।

ধামোর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খোরশেদ আলম কুদ্দুস বলেন, সকালে সোনাপাতিলা এলাকায় শের আলী নামের এক চাষির চা-বাগান থেকে চা-পাতা তুলে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শ্রমিক। এ সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বজ্রপাতে চা-বাগানের পাশেই ঘটনাস্থলে সোহরাওয়ার্দী মারা যান। ঘটনার সময় তার সামান্য দূরে থাকা অপর দুই শ্রমিক আহত হন। মারা যাওয়া শ্রমিক সোহরাওয়ার্দী আট দিন আগে বিয়ে করেছেন।

আটোয়ারী থানার ওসি মতিয়ার রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।

জামালপুর

জামালপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একজন ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ রাজীবের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২) ও সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার হাবিব মণ্ডলের ছেলে হাসমত আলী (৪৫)।

আহতরা হলেন মেলান্দহের হাজরাবাড়ী এলাকার হারুন মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগম (২৫), সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার নুর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৪) ও একই এলাকার মোহাম্মদ রুমান মিয়ার ছেলে মো. শাওন মিয়া (২৫) এবং সদর উপজেলার নাওভাঙ্গা এলাকার সুমন মিয়ার মেয়ে সুখী (১৪)। আহত ব্যক্তিদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে হঠাৎ জামালপুরে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ি এলাকায় বাড়ির ওঠানে থাকা রান্নাঘরে কাজ করছিলেন মর্জিনা বেগম। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অপর দিকে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় ফসলের মাঠে কাজ করছিলেন হাসমত আলী। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হয়। এতে হাসমত আলী, আনোয়ার হোসেন ও মো. শাওন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসমত আলীর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একটি ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় চারটি গরুর মৃত্যু হয়েছে।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে সহকারী পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান মৃত্যু ও আহত ব্যক্তিদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।