রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

আপনার কম্পিউটার মাউস নোংরা? কয়েক মিনিটেই পরিষ্কার করার সহজ উপায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আপনার কম্পিউটার মাউস নোংরা? কয়েক মিনিটেই পরিষ্কার করার সহজ উপায়

প্রতিদিনের ব্যবহারে আপনার কম্পিউটার মাউসটি অজান্তেই ধুলো, খাবারের কণা এবং নানা ময়লা জমায়—ঠিক যেন একটি সত্যিকারের ইঁদুরের মতো ঘুরে বেড়ায়। তবে পার্থক্য হলো, আসল ইঁদুর নিজে নিজেই পরিষ্কার হয়ে নেয়, কিন্তু আপনার মাউস তা পারে না। আমরা নিয়মিত কীবোর্ড বা ইয়ারফোন পরিষ্কার করলেও মাউসকে প্রায়ই উপেক্ষা করি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যবহৃত এই ডিভাইসটি পরিষ্কার না রাখলে তা শুধু অস্বাস্থ্যকরই নয়, কাজের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মাউস পরিষ্কার রাখা জরুরি।

কী কী লাগবে?

মাউস পরিষ্কার করতে খুব বেশি কিছু প্রয়োজন নেই। হাতের কাছেই রাখুন— কমপ্রেসড এয়ার, লিন্ট-ফ্রি কাপড়, টুথপিক বা স্পাডজার (পাতলা প্লাস্টিক স্টিক) এবং অ্যালকোহল ওয়াইপ।

অপটিক্যাল/লেজার মাউস পরিষ্কার করার নিয়ম

 

গেমিং মাউস নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে এতে ধুলা, ময়লা এবং ক্ষুদ্র কণিকা জমে যেতে পারে। তাই সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে মাউসের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে।

প্রথমেই নিশ্চিত করুন যে মাউসটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। যদি এটি তারযুক্ত হয়, তাহলে কম্পিউটার থেকে খুলে ফেলুন। আর যদি ব্যাটারি চালিত হয়, তাহলে সাধারণত একটি সুইচ থাকে—সেটি বন্ধ করে দিন।

এরপর একটি কমপ্রেসড এয়ার ক্যান ব্যবহার করে মাউসের LED অংশটি আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। যদি ব্যাটারির জন্য আলাদা অংশ থাকে, তাহলে ব্যাটারি খুলে নিয়ে সেখানে কমপ্রেসড এয়ার বা শুকনো, লিন্ট-ফ্রি কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। এই অংশে কখনো ভেজা কিছু ব্যবহার করবেন না।

এরপর একটি টুথপিক বা স্পাডজার ব্যবহার করে মাউসের সব খাঁজ ও ফাঁকফোকর পরিষ্কার করুন। গেমিং মাউসে সাধারণত অতিরিক্ত বোতাম থাকে, তাই প্রতিটি বোতামের চারপাশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। স্ক্রল হুইল থাকলে সেটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পরিষ্কার করুন, যাতে ভেতরের ময়লাও বের হয়ে আসে।

সবশেষে আবার কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে বাকি ধুলাবালি উড়িয়ে দিন। এরপর একটি অ্যালকোহল ওয়াইপ বা হালকা ভেজা লিন্ট-ফ্রি কাপড় দিয়ে মাউসের বাইরের অংশ মুছে নিন। যদি ভেজা কাপড় ব্যবহার করেন, তাহলে শেষে একটি শুকনো কাপড় দিয়ে আবার মুছে নিন।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার গেমিং মাউস পরিষ্কার থাকবে এবং দীর্ঘদিন ভালোভাবে কাজ করবে।

ট্র্যাকবল মাউস পরিষ্কার করার নিয়ম

 

এই ধরনের মাউসে ময়লা বেশি জমে। প্রথমেই যদি আপনার ট্র্যাকবল মাউসটি তারযুক্ত হয়, তবে সেটি কম্পিউটার থেকে বিচ্ছিন্ন করুন। আর যদি ব্যাটারি চালিত হয়, তাহলে পরিষ্কার করার আগে ব্যাটারি খুলে নিন।

এরপর ট্র্যাকবলটি মাউসের বডি থেকে আলাদা করুন। কিছু মাউসে বলটি সহজেই ওপরে থেকে বের করা যায়। আবার কিছু মডেলে, বিশেষ করে যেগুলোর ট্র্যাকবল নিচে থাকে, সেগুলোর ক্ষেত্রে হাউজিংটি হালকা ঘুরিয়ে খুলতে হয়। সাধারণত এ কাজে কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।

বলটি বের করার পর, একটি অ্যালকোহল ওয়াইপ বা হালকা ভেজা লিন্ট-ফ্রি কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিন। এরপর কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে মাউসের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করুন এবং কাপড় দিয়ে হালকাভাবে মুছে নিন।

মাউসের কোণ বা ফাঁকফোকরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে একটি টুথপিক বা স্পাডজার ব্যবহার করতে পারেন। যদি ময়লা শক্তভাবে আটকে থাকে, তবে আবার কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে তা ঢিলা করে নিন।

সবশেষে, একটি হালকা ভেজা লিন্ট-ফ্রি কাপড় বা অ্যালকোহল ওয়াইপ দিয়ে পুরো মাউসের বাহিরের অংশ মুছে নিন। তারপর ট্র্যাকবলটি আবার আগের জায়গায় বসিয়ে দিন।

ভার্টিক্যাল (এরগোনমিক)

ভার্টিক্যাল এরগোনমিক মাউস, যেমন লজিটেক লিফ্ট, হাতের কব্জির ব্যথা কমাতে দারুণ কার্যকর। তবে পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে এগুলো কিছুটা ঝামেলার হতে পারে। তাই সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা জরুরি।

প্রথমেই, অন্যান্য মাউসের মতো এটিকেও বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করুন। যদি আপনার মনে হয় মাউসের ভেতরে খাবারের কণা বা ধুলাবালি ঢুকে গেছে, তাহলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী মাউসটি খুলে ফেলুন। এরপর কমপ্রেসড এয়ার এবং শুকনো মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে ভেতরের অংশ পরিষ্কার করুন। বাইরের অংশটি হালকা ভেজা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে মুছে নিন। সব কিছু শুকিয়ে গেলে আবার মাউসটি জোড়া লাগান।

যদি আপনি মাউস খুলতে না চান এবং শুধু বাইরের অংশ পরিষ্কার করাই যথেষ্ট মনে করেন, তাহলে একটি টুথপিক বা স্পাডজার দিয়ে মাউসের সব খাঁজ ও ফাঁক পরিষ্কার করুন। এরপর কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে ধুলাবালি উড়িয়ে দিন এবং শেষে একটি হালকা ভেজা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে পুরো মাউসটি মুছে ফেলুন।

একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—অনলাইনে অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন যে এই ধরনের মাউসের কিছু কোটিং সহজেই ময়লা ধরে। এর চেহারা পুরোপুরি আগের মতো ঝকঝকে করা কঠিন হতে পারে। তবে এই পরিষ্কার করার পদ্ধতি অনুসরণ করলে অন্তত এটি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর থাকবে, যদিও একেবারে নতুনের মতো না-ও দেখাতে পারে।

মনে রাখা ভালো, আপনার মাউস প্রতিদিন আপনার হাতের স্পর্শে থাকে। তাই এটিকে পরিষ্কার রাখা মানে শুধু ডিভাইসের যত্ন নয়, নিজের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত রাখা। মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিলেই মাউস থাকবে নতুনের মতো পরিষ্কার। সূত্র: পিসিম্যাগ

Ads small one

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের যে চিত্র সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, তাকে কেবল ‘অব্যবস্থাপনা’ বললে ভুল হবে; এটি জনস্বাস্থ্যের প্রতি চরম অবহেলার এক নিষ্ঠুর দলিল। পাঁচ শয্যার একটি ওয়ার্ডে যখন প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগীকে চিকিৎসা নিতে হয়, তখন স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলাও নিরর্থক হয়ে পড়ে। সেখানে চিকিৎসা নয়, বরং এক মানবেতর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
একটি জেলা শহরের প্রধান সরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের এমন জরাজীর্ণ দশা মেনে নেওয়া কঠিন। ধারণক্ষমতার চেয়ে আট-নয় গুণ বেশি রোগী যেখানে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন, সেখানে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখাই অসম্ভব। তার ওপর শিশুদের সঙ্গে বয়স্কদের একই স্থানে রাখা হচ্ছে, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ‘ক্রস ইনফেকশন’ বা সংক্রমণের ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সুস্থ হতে এসে নতুন কোনো রোগ বাধিয়ে বাড়ি ফেরার এই শঙ্কা রোগীদের জন্য চরম উদ্বেগের।
হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা আরও ভয়াবহ। চারদিকে ময়লার স্তূপ আর উৎকট দুর্গন্ধের মধ্যে সুস্থ মানুষের পক্ষেই টিকে থাকা দায়, সেখানে রোগাক্রান্ত মানুষ কীভাবে আরোগ্য লাভ করবে? পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হাসপাতালের মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। জনবল সংকট বা স্থানাভাবের দোহাই দিয়ে এই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে জায়েজ করার কোনো সুযোগ নেই।
সাতক্ষীরা একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় এখানে মাঝে মাঝেই পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। এটি জানা সত্ত্বেও কেন আগেভাগে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি, সেই দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।
আমরা সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের এই মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন। কেবল শয্যা বাড়ানোই সমাধান নয়, একই সঙ্গে ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিশু ও বয়স্কদের জন্য পৃথক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। ডায়রিয়ার প্রকোপ আরও বাড়ার আগেই যদি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হয়, তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। নাগরিকের ন্যূনতম সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাÑকর্তৃপক্ষ আশা করি এই সত্যটি ভুলে যাবে না।

 

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস টুর্নামেন্ট: জেলা ক্রিকেটে ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন শ্যামনগর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস টুর্নামেন্ট: জেলা ক্রিকেটে ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন শ্যামনগর

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস টুর্নামেন্ট’-এ ক্রিকেটে দাপট দেখিয়েছে শ্যামনগর উপজেলা। রোববার (১০ মে) জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বালক ও বালিকাÑউভয় বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা।
ক্রিকেটের বালক বিভাগের চূড়ান্ত লড়াইয়ে শ্যামনগর বালক দল সাতক্ষীরা পৌরসভা দলকে পরাজিত করে। অন্যদিকে, বালিকা বিভাগের ফাইনালে আশাশুনি উপজেলা দলকে হারিয়ে শিরোপা জেতে শ্যামনগরের মেয়েরা। শুধু ক্রিকেট নয়, এর আগে ফুটবল মাঠেও সফল ছিল শ্যামনগরের মেয়েরা। ফুটবলের ফাইনালে তারা কালিগঞ্জ উপজেলা দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
টুর্নামেন্টের অন্যান্য ইভেন্টেও শ্যামনগরের জয়জয়কার দেখা গেছে। দলটির উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো হলোÑ ব্যাডমিন্টনে বালিকা বিভাগ একক ও দ্বৈতÑউভয় ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন। তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতাতেও শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা। ক্যারাতে ইভেন্টে শ্যামনগর রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে।

 

রোববার বিকেলে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনকসহ বিভিন্ন উপজেলার শরীরচর্চা শিক্ষক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।
শ্যামনগর উপজেলার এই অভাবনীয় সাফল্যে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব, ফুটবল রেফারী সমিতি ও ফুটবল একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়েছে।
ইউএনও শামসুজ্জাহান কনক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “শ্যামনগরের ছেলে-মেয়েরা ক্রীড়াঙ্গনে যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা পুরো উপজেলার জন্য গর্বের। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

আশাশুনিতে লোকালয়ে অবৈধ কয়লা চুল্লি, ধোঁয়ায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ও প্রকৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে লোকালয়ে অবৈধ কয়লা চুল্লি, ধোঁয়ায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ও প্রকৃতি

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের তকিপুর এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে কাঠ পোড়ানো কয়লার চুল্লি। লোকালয়ের একদম পাশে গড়ে ওঠা এসব কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকার জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের কোনো অনুমোদন না থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব আর গোপন লেনদেনের জোরে নির্বিঘেœ চলছে এই ক্ষতিকর ব্যবসা।

তেঁতুলিয়া-সোনাই সড়কের মাঝামাঝি তকিপুর নামক স্থানে ৪টি বিশেষ চুল্লি তৈরি করা হয়েছে। মাটি ও ইটের তৈরি এসব চুল্লিতে দিনরাত পোড়ানো হচ্ছে শত শত মণ কাঠ। শাহনগর গ্রামের বিপুল শাহর জমি ভাড়া নিয়ে বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের আলী গাজী এই কারবার চালাচ্ছেন। কারখানার কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের বাড়িঘরে। এতে নষ্ট হচ্ছে ফলন্ত গাছপালা ও জমির ফসল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ধোঁয়ার কারণে এলাকার শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা খুব কষ্টে আছি। চুল্লির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করেই তারা এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।”

এর আগে স্থানীয়রা মৌখিকভাবে অভিযোগ জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। দ্রুত তদন্ত করে এই অবৈধ চুল্লির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”