মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

আশাশুনিতে অবৈধ আর্থিক জাল, ঝুঁকিতে মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে অবৈধ আর্থিক জাল, ঝুঁকিতে মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় ‘সমবায়’ নামটি আজ অনেকের কাছে আস্থার নয়, বরং আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠছে। নিবন্ধিত সমবায়ের আড়ালে কিংবা একেবারেই নিবন্ধনবিহীনভাবে গড়ে ওঠা অসংখ্য সমিতি ও মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম-যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান গ্রামগঞ্জের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করছে।

 

ব্যাংকের চেয়েও বেশি লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা আমানত নিচ্ছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই অর্থের নিরাপত্তা বা ফেরতের কোনো নিশ্চয়তা নেই। সুযোগ বুঝে অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। জেলা সমবায় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আশাশুনি উপজেলায় নিবন্ধিত সমবায় সমিতির সংখ্যা ১৭৯টি। এর মধ্যে সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় রয়েছে ১২টি। নিবন্ধিত এসব সমিতি সরকারি নিয়ম মেনে সদস্যদের মধ্যে সঞ্চয় ও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা। তবে বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অনেকেই নিয়ম ভেঙে সদস্যের বাইরের মানুষদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করছে।

 

অন্যদিকে, বুধহাটা, পাইথলী, কুল্যা, গুনাকরকাটি, বাহাদুরপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লা ও বাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য অনিবন্ধিত সমবায় সমিতি। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো বৈধ অনুমোদন, নেই কার্যক্রমের স্বচ্ছতা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রথমে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ছবি সংগ্রহ করে নামমাত্র কমিটি গঠন করেন। পরে সেই কমিটির আড়ালে ‘সমবায় সমিতি’ বা ‘মাল্টিপারপাস’ প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যক্রম শুরু করেন।

 

অনেক ক্ষেত্রে সমবায় অফিসের অসাধু কিছু কর্মচারীর সঙ্গেও তাদের সখ্য গড়ে ওঠে, যার ফলে নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে এসব প্রতিষ্ঠান নির্বিঘেœ চালিয়ে যায় অবৈধ লেনদেন। সমবায়ের নিয়ম অনুযায়ী, একটি সমিতি তার নির্দিষ্ট এলাকার সদস্যদের মধ্যেই সঞ্চয় ও ঋণ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখবে। কিন্তু আশাশুনির বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ সমিতিই সেই নিয়ম মানছে না। তারা সদস্য বহির্ভূত ব্যক্তিদের কাছ থেকেও চেক বা পাসবইয়ের মাধ্যমে আমানত নিচ্ছে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরেও ঋণ বিতরণ করছে।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকর তদারকি নেই। বিশেষ করে বুধহাটা বাজারে একাধিক অনিবন্ধিত সমবায়ের কার্যক্রম প্রকাশ্যেই চললেও তা দেখার যেন কেউ নেই। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন। এরই মধ্যে বুধহাটা বাজারের ‘প্রগতি ঋণদান সমবায় সমিতি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার আমানত নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।

 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েও তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার সময় হলে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করে। কখনো তারা গা-ঢাকা দেয়, আবার কখনো ফিরে এসে ‘দিচ্ছি, দেব’ বলে গ্রাহকদের ঘুরিয়ে রাখে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ, যারা স্বপ্ন দেখেছিলেন সামান্য সঞ্চয় থেকে কিছু লাভের।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত সমবায় কার্যক্রম শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার জন্যও হুমকিস্বরূপ। তারা মনে করেন, দ্রুত এসব ভুয়া সমবায় চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সুধী মহল বলছেন, সমবায় অধিদপ্তরের নজরদারি বাড়ানো, নিয়মিত অডিট নিশ্চিত করা এবং অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি।

 

পাশাপাশি গণমাধ্যম ও প্রশাসনের সমন্বয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে। সমবায়ের মূল দর্শন ছিল পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমৃদ্ধি। কিন্তু সেই দর্শনকে পুঁজি করে যদি প্রতারণার জাল বিস্তার করা হয়, তবে তা শুধু একটি ব্যবস্থার ব্যর্থতা নয়-এটি সমাজের জন্যও এক গভীর সংকেত।

Ads small one

উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে সরকার। তিনি জানান, কোস্ট গার্ডের সার্বিক উন্নয়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের বহরে হেলিকপ্টার সার্ভিস যোগ করা হবে। পাশাপাশি বৃদ্ধি করা হবে আরও ১০ হাজার জনবল। এতে করে অতীতের তুলনায় কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়াও গত এক বছরে সুন্দরবনে অভিযানসহ নানা কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের নেতৃত্বে খালেদা জিয়া কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই বাহিনী জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোস্ট গার্ড শুধু সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তাই নয়, বরং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজেও ভূমিকা রাখছে। তাদের নিয়মিত টহলের ফলে সমুদ্রপথ এখন অনেক বেশি নিরাপদ। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সুন্দরবন সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি “গার্ডিয়ান এট সী’’ মূলমন্ত্রে আধাসামরিক স্বতন্ত্র বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাহিনীটি আজ উপকূলীয় জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, কোস্ট গার্ড বর্তমানে উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে মাদক এবং অস্ত্র পাচার, মানবপাচার, চোরাচালান, জলদস্যুতা এবং অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় পড়া নৌযান উদ্ধার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাহিনীর সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

সুন্দরবনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বনাঞ্চলে ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত এক বছরের বেশি সময় সুন্দরবনে ২৯টি অভিযানে ৩৫ জন ডাকাত গ্রেফতার, ৪৭ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং ৩০ জন জিম্মিকে মুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধভাবে পাচার হওয়া কাঠ উদ্ধার করেছে।

কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তিনটি সার্ভেইলেন্স ড্রোন যুক্ত হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে বুলেটপ্রুফ সুবিধাসম্পন্ন হাই-স্পিড বোট সংগ্রহের চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় আধুনিক ডকইয়ার্ড নির্মাণ, নতুন প্যাট্রোল ভেসেল সংযোজন, হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম সারভেইলেন্স সিস্টেম সংযোজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কোস্ট গার্ড সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে মিরপুর জোয়ারসাহারা ও পূর্বাচলে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে এবং সামুদ্রিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

মোবাইল গ্রাহকদের জন্য সুখবর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
মোবাইল গ্রাহকদের জন্য সুখবর

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে করে, অফিস কিংবা বাসাবাড়ির ভেতরে মোবাইলে কথা বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহারে কমবে গ্রাহক ভোগান্তি।
তথ্য-বিনোদনের খোরাক মেটানো থেকে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগসহ প্রায় সব কিছুই এখন মোবাইল নির্ভর। বিটিআরসির তথ্য, বর্তমানে দেশে মোবাইল সংযোগধারীর সংখ্যা সাড়ে ১৮ কোটি।

অপারেটরদের তথ্য বলছে, এর মধ্যে শহরে থাকেন ৪০ শতাংশ গ্রাহক। ৬০ শতাংশ ব্যবহারকারী উপশহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের। নেটওয়ার্কের মান শহরে খানিকটা ভালো হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে দুর্বল। ঘরের ভেতরে কথা বলার মাঝেই বিচ্ছিন্ন হয় সংযোগ। কাঙ্ক্ষিত গতি মেলে না ইন্টারনেট সেবায়।

এ অবস্থায় নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি। গ্রামীণফোনকে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার ধারাবাহিকতায় এবার ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ডে তরঙ্গ চেয়ে আবেদন করেছে রবি ও বাংলালিংক। নথিপত্রে দেখা যায়, বর্তমানে বিটিআরসির কাছে বরাদ্দযোগ্য ৮.৪ মেগাহার্টজ ‘ই-জিএসএম’ তরঙ্গ রয়েছে। এর মধ্যে ৩.৪ মেগাহার্টজ করে রবি ও বাংলালিংক ৬.৮ মেগাহার্টজ তরঙ্গ চেয়েছে। তবে তার আগে পার্শ্ববর্তী দেশের ব্যবহৃত ৮৫০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড এবং ‘ই-জিএসএম’ তরঙ্গের বাধা কতটুকু তা জানতে চায় অপারেটর ২টি। এরই প্রেক্ষিতে পরীক্ষামূলক ১ মাসের জন্য ৮.৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, সীমান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ই-জিএসএম ব্যান্ডের কার্যকারিতা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেবে ২ অপারেটর। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষা করতে বিটিআরসি আমাদেরকে বিবেচনা করেছে। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব, কীভাবে সেটা আমরা কিনতে পারি’।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে মোবাইলে ‘ভয়েস কল’ ও ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে ৪ অপারেটর।

সকালে ঘুম উঠে পানি পান করার উপকারিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
সকালে ঘুম উঠে পানি পান করার উপকারিতা

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করার অভ্যাস জাপানিদের মধ্যে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। চিকিৎসকরাও প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানি পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারারাত ঘুমানোর পর আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে দিনের শুরুতেই পানি পান করলে শরীরের কার্যক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকালে খালি পেটে পানি পান করলে ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে, গ্যাসের সমস্যা কমায় এবং মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করতে পারে।

তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

সকালে ঘুম উঠে কেন পানি পান করার উপকারিতা

১। রাতে ঘুমানোর পরে দীর্ঘসময় হজম প্রক্রিয়ার তেমন কোনো কাজ থাকে না। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য অন্তত এক গ্লাস পানি পান করা উচিত।

২। ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মাথাব্যথা করে। মূলত শরীরে পানির মাত্রা কমে যাওয়া এ মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি আপনি খালি পেটে পানি পান করেন, তাহলে মাথাব্যথা অনেকাংশে কমে যাবে।

৩। ওজন কমানোর জন্যও প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানি পানের অভ্যাস করুন। কেননা যত বেশি পানি পান করবেন, ততই আপনার হজম প্রক্রিয়া ভালো হবে এবং শরীরে বাড়তি ফ্যাট জমবে না।

৪। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান করলে মলাশয় পরিষ্কার হয় এবং শরীর সহজেই নতুন করে খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে।

৫। প্রতিদিন সকালে নাস্তার আগে এক গ্লাস পানি খেলে নতুন মাংসপেশি ও কোষ গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

৬। সকালে মাত্র এক গ্লাস পানি আপনার বমি ভাব, গলার সমস্যা, মাসিকের সমস্যা, ডায়রিয়া, কিডনির সমস্যা, আথ্রাইটিস, মাথাব্যথা ইত্যাদি অসুখ কমাতে সহায়তা করে।

৭। সকালে প্রতিদিন খালি পেটে পানি পান করলে রক্তের দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায় এবং ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়।