শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

আশাশুনিতে জমি নিয়ে বিরোধে বাড়ি ঘর ভাংচুর শেষে ছয়জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে জমি নিয়ে বিরোধে বাড়ি ঘর ভাংচুর শেষে ছয়জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম

পত্রদূত রিপোর্ট: জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষরা বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাংচুর শেষে একই পরিবারের চারজন নারীসহ ছয়জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ঝিকরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত তিনজনকে খুলনা ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চারজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলার ঝিকরা গ্রামের মনোরঞ্জন ম-ল জানান, ৪৭ শতক ভিটা জমি নিয়ে তাদের সাথে প্রতিপক্ষ গোবিন্দ ম-ল, সুরঞ্জন ম-ল, শম্ভু ম-লসহ কয়েকজনের ১৯৮৮ সাল থেকে বিরোধ রয়েছে। ওই জমি তার (মনোরঞ্জন) নামে বর্তমান হাল রেকর্ড হলেও জোরপূর্বক দাবি করে আসছিলো তার শরিক সুরঞ্জন ম-লসহ অন্যরা। এ নিয়ে প্রতিপক্ষরা ১৯৮৮ সালে আশাশুনি উপজেলা আদালতে মামলা করে। ১৯৯৫ সালে রায় তারে বিপক্ষে গেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করে তারা। সেখানে হেরে যাওয়ায় ২০০৮ সালে মহামান্য হাইকোর্টে আপিল করে তারা। বর্তমানে ওই জমির উপর স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ থাকলেও প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন অজুহাতে তাদের জমি দখল ও পুকুরের মাছ লুটপাট করে আসছিলো। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার শালিসি বৈঠক হলেও তারা সে সিদ্ধান্ত মানেনি।

 

এমনকি ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল আশাশুনি থানায় উভয়পক্ষকে নিয়ে বসাবসি করে ১০জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে আপোষনামা তৈরি হলেও ২৮ এপ্রিল দুটি গরু উঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ গোবিন্দ ম-ল, সাগর ম-ল সহ কয়েকজন পুত্রবধু রিতা রানী ম-ল, শিখা রানী ম-লকে পিটিয়ে জখম করে। ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি পুতনী পুজা ম-লকে পিটিয়ে জখম করে। এসব নিয়ে থানায় মামলা না হওয়ায় প্রতিপক্ষরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

মনোরঞ্জন ম-ল আরো জানান, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রতিপক্ষ গোবিন্দ ম-ল, সুরঞ্জন ম-লসহ তাদের পরিবারের ৮/১০ জন তাদের দখলীয় ও রেকডীয় জমিতে ঢুকে কোদাল দিয়ে মাটি কাটতে থাকে। বাধা দেওয়ায় তার ছেলে পলাশ ম-লকে দা, লোহার রড ও কোদাল নিয়ে ধাওয়া করে গোবিন্দ, সুরঞ্জন, শম্ভু, কালিপদ, সুভাষ, চিত্তরঞ্জন, মিলন, তারামনি, কমলা, ফুলমতি ও কবিতা ম-লসহ কয়েকজন। পলাশ দৌড়ে ঘরের ভিতর ঢোকার চেষ্টা করলে হামলাকারিরা তাকে টেনে হিঁচড়ে বের করে উঠানে এনে মারপিট করতে থাকে। তাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে পুতনী কলেজ ছাত্রী সুপ্রিয়া ম-ল, কলেজ ছাত্রী পূজা ম-ল, পুত্রবধু শিখা ম-ল, রিতা ম-ল ও পৌত্র ১০ম শ্রেণীর ছাত্র রাজু ম-লকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়।

 

এ সময় তাদের ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিখা রানী ম-ল, পুজা রানী ম-ল ও সুপ্রিয়া ম-লকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে সুপ্রিয়া ম-লকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও তাকে সোমবার রাতে খুলনা সিটি মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুরঞ্জন ম-ল বলেন, সোমবার দুপুরে পলাশ ম-লসহ অন্যরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা মা কবিতা ম-লকে ধরে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার খবর পাই। এরপর তাদের বাড়ির লোকজনকে নিয়ে কবিতা ম-লকে উদ্ধারে গেলে তাদের সঙ্গে হাতহাতি হয়। নিজেদের অস্ত্র নিজেদের গায়ে লেগে জখম হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তার মাকেও আশাশুনি থেকে মেডিকেলে ভর্তি করা হবে।

তবে সোমবার দুপুর আড়াইটায় এ প্রতিবেদক আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সমগ্র হাসপাতালে খুঁজে কবিতা ম-লকে পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, সুপ্রিয়া ম-ল ও শিখা ম-লকে ধারালো জিনিস দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। তা ছাড়া সুপ্রিয়া, শিখা ও পুজাকে ভারী জিনিস দিয়ে হাত ও পা, পিঠ জখম করা হয়েছে। বার বার বমি হওয়ায় অবস্থার অবনতি হলে সুপ্রিয়াকে খুলনায় ভর্তি করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শামীম খান সুমিত্রা ম-লসহ কয়েকজনের উপর প্রতিপক্ষের গুরুতর হামলার কথা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় পঙ্কজ কুমার ম-ল বাদি হয়ে সোমবার রাতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছন। এঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হবে। গ্রেপ্তার করা হবে আসামীদের।

 

Ads small one

শিক্ষকের দেয়া বই পেয়ে উপকূলে নারী শিক্ষায় অন্য জাগরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
শিক্ষকের দেয়া বই পেয়ে উপকূলে নারী শিক্ষায় অন্য জাগরণ

আতরজান মহিলা কলেজে শিক্ষার আলোয় বদলে যাওয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

পত্রদূত ডেস্ক: নারী শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও আনন্দঘণ আয়োজন। উপজেলার একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজ’-এর ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে নতুন ভর্তিকৃত সকল শিক্ষার্থী, বিশেষ করে দেড় শতাধিক গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বইসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

 

কলেজের শিক্ষকবৃন্দের নিজস্ব অর্থায়ন এবং সুভানুধ্যায়ীদের সার্বিক সহযোগিতায় বেলা ১১টায় কলেজ ভবনের তৃতীয় তলাস্থ কলেজ মিলনায়তনে এ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। একই সাথে অনুষ্ঠিত হয় তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমগ্র আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ জি. এম. আমির হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আমীর হোসেন বলেন, “নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে শিক্ষকমণ্ডলী ও সুভানুধ্যায়ীদের এই যৌথ উদ্যোগ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব এস. এম. আফজালুল হক বলেন, “এই অঞ্চলের নারীদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” দেশ টিভি’র স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, “শিক্ষকদের নিজেদের অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের বই কিনে দেওয়ার এমন মহতী উদ্যোগ সমাজ ও শিক্ষার উন্নয়নে অনুকরণীয় অবদান রাখবে। এই আয়োজন উপকূলের নারী শিক্ষার জাগরণে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

 

সার্বিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে কলেজের সভাপতি ও বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এড. মাসুদুল আলম দোহা বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব; এই ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

 

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, সিনিয়র শিক্ষক মানবেন্দ্র দেবনাথ। সঞ্চালকের বক্তব্যে সিনিয়র শিক্ষক মানবেন্দ্র দেবনাথ বলেন, “শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য; আজকের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন প্রেরণা জোগাবে।”

 

সহযোগিতা ও ভালোবাসায় অভিভূত হয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিনামূল্যে সম্পূর্ণ সেট বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থী তামান্না পারভিন অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “নতুন ক্লাসে উঠে সব বই কেনা আমাদের অনেকের জন্যই খুব কঠিন ছিল; শিক্ষকদের এমন মানবিক সহায়তায় আমাদের পড়াশোনার দুশ্চিন্তা দূর হলো।” শিক্ষা উপকরণ গ্রহণের পর লিতুনজিরা আক্তার কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকদের এই স্নেহ ও উপহার আমাদের ভবিষ্যতে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা যোগাবে, আমরা তাঁদের কাছে আজীবন ঋণী।” এছাড়া শিক্ষার্থী ঋতু রাণী সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “কলেজ জীবনের শুরুতেই স্যারদের এমন উপহার পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত; আমরা যেন ভালো ফলাফল করে কলেজের সুনাম রাখতে পারি, সেই দোয়া চাই।”

 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মো: শাহজাহান খান, মো: সহিদুল ইসলাম, এম. এম. সিরাজুল ইসলাম, কুমারেশ মণ্ডল, দেবপ্রসাদ মণ্ডল, কৃষ্ণা কুমারী রায়, এস. এম. আবু দাউদ, মনোরঞ্জন বৈদ্য, কল্পনা মণ্ডল, জি. এম. মাহবুব আলম, ডালিয়া পারভিন, কিশোর কুমার মণ্ডল, জি. এম. ওমর ফারুক, আশুতোষ রায়, নিউটন মজুমদারসহ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

 

আলোচনা সভা ও বই বিতরণ কর্মসূচি শেষে কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় এক আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা পুরো আয়োজনকে উৎসবমুখর করে তোলে।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শতাধিক পরিবারের মাঝে নিউ কৃষি ঘরের নগদ অর্থ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শতাধিক পরিবারের মাঝে নিউ কৃষি ঘরের নগদ অর্থ বিতরণ
​দীপঙ্কর বিশ্বাস: শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেবহাটায় শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ‘নিউ কৃষি ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী গৌতম মন্ডল ।
উৎসবের আনন্দ সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং শারদীয় এই উৎসবে অস্বচ্ছল পরিবারগুলো যেন স্বস্তিতে আনন্দ উদ্‌যাপন করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও শতাধিক পরিবারের হাতে এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
​সহায়তা পেয়ে আনন্দিত উপকারভোগী পরিবারগুলো সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং নিউ কৃষি ঘরের স্বত্বাধিকারীর এই মহৎ উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগরে বর্ণিল আয়োজনে ৭১টি মন্ডপে দুর্গোৎসব শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বর্ণিল আয়োজনে ৭১টি মন্ডপে দুর্গোৎসব শুরু
সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি:  শ্যামনগর উপজেলায় আলোকসজ্জা,সুসজ্জিত প্যান্ডেল ও বর্ণিল আয়োজনে ৭১টি মন্ডপে শারদীয়া দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। শুক্রবার(১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে উপজেলার মন্ডপে মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ভক্তবৃন্দ তথা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ পুজা উদ্যাপন পরিষদ শ্যামনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.কৃষ্ণ পদ মন্ডল জানান চলতি বছরে উপজেলার বারটি ইউনিয়নে ৭১টি মন্ডপে শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এবার দুর্গা পুজার মন্ডপ সংখ্যা বেড়েছে। গতবার মন্ডপ সংখ্যা ছিল ৭০টি। এবার নতুনভাবে পূজা হচ্ছে ৪টি মন্ডপে। আর গতবারে অনুষ্টিত পূজা মন্ডপ থেকে ৩টি কমে গেছে বলে জানান সাধারণ সম্পাদক ।

শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন মন্ডপে আকর্ষণীয় করার লক্ষে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে মন্ডপ গুলোতে। যেমন উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া রাস মন্দির প্রাঙ্গনে কর্নফুলী ট্যানেলের অনুরুপ ট্যানেলের মধ্য দিয়ে শিবদূতী মহামায়া দেবী দুর্গা প্রতিমা দর্শন, হরিনগর বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্ডপে আকর্ষণ ডিজিটাল লাইটিং ও ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তি দ্বারা সমৃদ্ধ সজ্জা, সোনাখালী ভৈরবনগর সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্ডপে থাকছে আধুনিক আলোকসজ্জা সহ চলন্ত প্রতিমা,ভেটখালী দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরে ভারতের উত্তর বঙ্গের আসামের ভৈরবী মন্দিরের অণুকরণে সু-সজ্জিত লাইটিং ও প্যান্ডেল তৈরী, নওয়াবেঁকী বড়কুপট সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরে নবদূর্গা তৈরী করা হয়েছে,দয়ালচাঁদ সেবাশ্রম দক্ষিণ বড় কুপট সার্বজনীন মন্দিরে ভারতের ওড়িশা রাজ্যের মুক্তেশর মন্দিরের অণুকরণে ২৪ ফুট দীর্ঘ নৃসিংহ অবতারের মাঝে চিত্ররুপা প্রতিমা তৈরী, ভেটখালী দক্ষিণপাড়া সার্বজনীনপূজা কমিটি ভারতের আসামের ভৈরবী মন্দিরের অণুকরণে তৈরী করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন মন্ডপে  দুর্গোৎসব উপলক্ষে ধর্মীয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলার সকল মন্ডপে সরকারি ও বেসরকারীভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সম্পাদক আরও বলেন উপজেলার বৃহৎ মন্ডপ গুলি হল নকিপুর হরিতলা সার্বজনীন দুর্গা পূজা মন্ডপ, আড়পাঙ্গাশিয়া রাস মন্দির দুর্গা পূজা মন্ডপ, হরিনগর বাজার দুর্গা পূজা মন্ডপ, মধ্য কুলতলী দুর্গা পূজা মন্ডপ, নওয়াবেঁকী দুর্গা পূজা মন্ডপ, কুপট বৈদ্য বাড়ী ও মন্দিরঘাট দুর্গা পূজা মন্ডপ, ধূমঘাট শীলতলা দুর্গা পূজা মন্ডপ, ভেটখালী দক্ষিণপাড়া দুর্গা পূজা মন্ডপ।

এদিকে দুর্গা পূজা মন্ডপ গুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক মন্ডপ গুলিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিকল্প বিদ্যুৎ জেনারেটর ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখা সহ অন্যান্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রত্যেকটি মন্ডপে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মন্ডপে মন্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যাক স্বেচ্ছাসেবক থাকছে।

পুরোহিত হরপ্রসাদ জানান এবার দুর্গা পূজার সময়সূচী অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার দুর্গা দেবীর বোধন,পূজা আরম্ভ, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টেবর মহাঅস্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার দশমী পূজা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিশেষ করে হিন্দুধর্মালম্বীদের পরিবারে উৎসবের আমেজ পড়ে গেছে। বাজারে পোষাকের দোকানগুলোতে নতুন পোষাক ক্রয় বিক্রয়ের ভীড়ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।