বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ গ্রেপ্তার ৪

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ গ্রেপ্তার ৪

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে বুধবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওসি জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে এসআই নিতিশ বিশ্বাস, এসআই আনজির হোসেন, এসআই আব্দুর রউফ, নাজিরসহ সঙ্গীয় ফোর্সের সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

অভিযানে কল্যাণপুর গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি রফিকুল ইসলাম (৪০), বৈকারঝুটি গ্রামের মৃত ক্ষতীন্দ্রনাথ ঘোষের ছেলে সন্তোষ কুমার ঘোষ, বাউশুলি গ্রামের মৃত এনায়েত আলী সরদারের ছেলে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবুল হাশেম (কেনা) এবং শ্যামনগর উপজেলার কাশিমারি গ্রামের আব্দুস সবুর গাজীর ছেলে সিআর মামলার আসামি মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এর মধ্যে মোঃ শহিদুল ইসলামকে আশাশুনি উপজেলার বুড়াখরাটি ক্লাব মোড় সংলগ্ন সড়ক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত চার আসামিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আশাশুনি থানার ওসি জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে পুলিশের এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

Ads small one

বিজয়া দশমীতে সাতক্ষীরার ৩৮ পূজাম-পে বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
বিজয়া দশমীতে সাতক্ষীরার ৩৮ পূজাম-পে বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা

পত্রদূত ডেস্ক: বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ এবং প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। এই উৎসব যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সমাপ্ত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দেশব্যাপী বিভিন্ন পূজাম-পে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২৯টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর সংলগ্ন ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৯টি পূজাম-পের প্রতিমা বিসর্জনের সময় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের সদস্যগণ নিরাপত্তা প্রদান করছেন। প্রতিটি পূজাম-পকে ঘিরে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ থাকে, সে লক্ষ্যে বিজিবি সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা টহল প্রদান করছে। এই নিরাপত্তার দায়িত্বে ৩৩ বিজিবির ১৬টি প্লাটুন দায়িত্ব পালন করছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য এবং জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম যেন নির্বিঘেœ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা বা দুর্ঘটনা ছাড়াই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে, সে লক্ষ্যে সাতক্ষীরা বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে সর্বাত্মকভাবে নিয়োজিত রয়েছে।

 

এ ছাড়া উৎসব চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের সদস্যরা প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

শ্যামনগরের দুর্গাবাটিতে হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের দুর্গাবাটিতে হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটিতে হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন। বুধবার বিকেল থেকে দুর্গাবাটি এলাকায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। দিনভর উৎসবের আমেজ, মানুষের ভিড় এবং নদীবক্ষে প্রতিমা প্রদর্শনকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।

দুর্গাপূজার সমাপনী দিনে দুর্গাবাটি ও খোলপেটুয়া নদীকে ঘিরে এই আয়োজন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়। শ্যামনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ দুর্গা প্রতিমার শোভাযাত্রা ও বিসর্জন দেখতে দুর্গাবাটিতে সমবেত হন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন শাখার নবনির্বাচিত সদস্যসচিব জি এম রুস্তম আলীর সার্বিক উদ্যোগ ও প্রথম প্রচেষ্টায় দুর্গাবাটির এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দর্শনার্থীদের সমাগম এবং প্রতিমা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উৎসবের ভিন্নমাত্রা যোগ হয়।

বিকেল থেকে দুর্গাবাটি এলাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিমা নিয়ে আসতে থাকেন পূজারিরা। শত শত ট্রলারের মাধ্যমে নদীতে প্রতিমা ঘোরানো হয়। নদীবক্ষে সাজানো প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। নৌযানে করে প্রতিমা প্রদর্শনের এ দৃশ্য উপভোগ করতে নদীর দুই পাড়েও ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে দুর্গাবাটি ও আশপাশের এলাকা।

সন্ধ্যার পর খোলপেটুয়া নদীতে একে একে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এ সময় আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে ছিল বিদায়ের আবেগ ও আগামী বছর আবারও দেবী দুর্গার আগমনের প্রত্যাশা।
স্থানীয়দের কাছে ‘দ্বিতীয় টাকি’ হিসেবে পরিচিত দুর্গাবাটির এ আয়োজন কেবল প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

 

ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন ও উপকূলীয় জনপদের ঐতিহ্যকে ধারণ করে এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবেÑএমন প্রত্যাশা দর্শনার্থীদের। সব মিলিয়ে, হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শত শত ট্রলারে প্রতিমা প্রদর্শন এবং খোলপেটুয়া নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শ্যামনগরের দুর্গাবাটিতে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

আশাশুনির বুড়িয়া আড়ং মেলায় তিন মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনির বুড়িয়া আড়ং মেলায় তিন মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন

Oplus_131074

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বুড়িয়া আড়ং মেলার মাঠে তিনটি মন্দিরের দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

বিসর্জন দেওয়া প্রতিমাগুলোর মধ্যে ছিল বড়দল বাজার মন্দির, বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ও ফকরাবাদ সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা। প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বুড়িয়া আড়ং মেলার মাঠে ভক্ত-অনুরাগীসহ হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। এ সময় পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

ধর্মীয় রীতি ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি বিদায়ের আবেগঘন মুহূর্তে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে এক ভিন্ন আবহের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের কাছে ঐতিহ্যবাহী বুড়িয়া আড়ং মেলা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর এ মেলায় স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সমাগম ঘটে।

প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিদুর রহমান, এএসআই অমিত হাসানসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া হাজারো ভক্ত-অনুরাগী উপস্থিত থেকে প্রতিমা বিসর্জনের এ আয়োজনে অংশ নেন।