বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

ইছামতীতে নেই সেই মিলনমেলা, শান্তিতেই শেষ দেবহাটার বিজয়া দশমী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
ইছামতীতে নেই সেই মিলনমেলা, শান্তিতেই শেষ দেবহাটার বিজয়া দশমী

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: একসময় বিজয়া দশমী এলেই দেবহাটার ইছামতি নদীর দুই পাড়ে বসত দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা। নদীতে ভাসত শত শত নৌকা, সীমান্তের দুই পাশে জড়ো হতেন হাজারো মানুষ। উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠত পুরো সীমান্ত এলাকা। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই দৃশ্য এখন শুধুই স্মৃতি। মিলনমেলা নেই, নেই আগের সেই জনসমাগম কিংবা নৌকার সারি। সীমান্তের নিজ নিজ অংশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে এবারের বিজয়া দশমী।

গত কয়েক বছরের মতো এবারও দেবহাটার ইছামতি নদীতে দুই দেশের মানুষের অংশগ্রহণে কোনো মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সীমিত সংখ্যক নৌকা নদীতে নামতে দেখা গেলেও আগের মতো বড় কোনো আয়োজন ছিল না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগেও বিজয়া দশমীতে ইছামতি নদীর এই সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের মানুষের মিলনমেলা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। দেবহাটার বিভিন্ন প্রান্তসহ দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসতেন। ভারতীয় সীমান্তের পাশেও থাকত মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি। কেউ আসতেন সীমান্তের কাছাকাছি উৎসবের আমেজ উপভোগ করতে, আবার কেউ আসতেন দুই বাংলার মানুষের মিলন দেখার আকর্ষণে। নদীর দুই পাড়ে ভাসত শত শত নৌকা।

২০১২ সালে ভারতের কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নৌকাডুবিতে মারা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে ভারতীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের আয়োজনের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সেই সময় থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ইছামতীর ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা। এরপর থেকে দুই দেশের মানুষ নিজ নিজ সীমান্তের মধ্যে থেকে পৃথকভাবে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে আসছেন।

এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দেবহাটা উপজেলার ২১টি পূজাম-পে সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন শেষে বিজয়া দশমীতে পৃথকভাবে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

দুর্গাপূজা নির্বিঘœ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিস্ কাউসার আজিজ, পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েক দফায় বিভিন্ন পূজাম-প পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও পূজাম-প পরিদর্শন করেন।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, “এ বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য সার্বিকভাবে মনিটরিং করা হয়েছে।”

দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, “সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শারদীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।” মিলনমেলার সেই পুরোনো স্মৃতি ইছামতির বুকে আজও থাকলেও বাস্তবে নেই আগের সেই আয়োজন। তবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবহাটায় শেষ হয়েছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

 

Ads small one

কয়রায় সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোমিও চিকিৎসকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
কয়রায় সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোমিও চিকিৎসকের মৃত্যু

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলায় ১৩ শতক সরকারি জমি দখল ও কলা কাটাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হোমিও চিকিৎসক গোলাম রব্বানী (৫২) মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই নারীকে আটক করেছে। এর আগে সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মঠবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঠবাড়ী মৌজার গ্রামীণ সড়কের পাশে ১৩ শতক সরকারি জমি ও কলাগাছের কলা কাটাকে কেন্দ্র করে হোমিও চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদারের (২৬) বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দা, শাবল, রড ও লাঠির আঘাতে গোলাম রব্বানীসহ চারজন গুরুতর আহত হন। আহত অন্য তিনজন হলেন গোলাম রব্বানীর ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) ও মা রাহিলা বেগম (৫৫)।

আহতদের প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেও চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য গোলাম রব্বানীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, এ ঘটনায় এখনো লিখিত কোনো মামলা হয়নি, তবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগম (৩৫) নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে।

হেমন্তের শান্ত বলুয়া নদীতে বিজয়া দশমীর নৌকাবাইচ: তালের ছন্দে মুখর দুই তীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
হেমন্তের শান্ত বলুয়া নদীতে বিজয়া দশমীর নৌকাবাইচ: তালের ছন্দে মুখর দুই তীর

আসাদুজ্জামান সরদার: কার্তিকের সোনাঝরা রোদ আর স্নিগ্ধ বাতাসের স্পর্শে প্রকৃতিতে তখন হেমন্তের রূপময় উপস্থিতি। শারদীয় দুর্গাপূজার মহাবিজয়াদশমীর বিষাদ ও আনন্দের মিশ্র সুরের মাঝেই গ্রামীণ জনপদে বেজে উঠেছিল উৎসবের অন্যরকম এক বাদ্য। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বলুয়া নদীর শান্ত বুকে স্বর্গীয় বাশিরাম স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বর্ণিল ও রোমাঞ্চকর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।

 

বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা আর প্রতিমা বিসর্জনের পূর্বলগ্নে নদীমাতৃক বাংলার এই প্রাচীন রূপ দেখতে বলুয়া নদীর দুই তীরে উপচে পড়ে হাজারো মানুষের ভিড়। স্বচ্ছ জলের আলপনায় নদীর বুকে তখন সাজ সাজ রব। বৈঠার জাদুকরী ছন্দে চঞ্চল হয়ে ওঠা জলের ঢেউ আর দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। ঐতিহ্য ও উদ্দীপনার এই প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলো হলোÑসোনা বাঁধাল, দাদপুর, বনবিবি, চর মাগুরা, কুলপোতা, মহিষাডাংগা কালিমাতা ও মহিষাডাংগা জয়মা।

নৌকাগুলোর গতি আর মাঝিদের সমস্বরে গাওয়া ভাটিয়ালি ও জারি গানের সুরে নদীর দুই তীরের দর্শকেরা আনন্দে মেতে ওঠেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয় বিজায়ীদের নাম। এতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে কুলপোতা। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে চর মাগুরা এবং তৃতীয় হয় মহিষাডাংগা কালীমাতা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দিন। সহকারী অধ্যাপক হিরুলাল বিশ্বাস ও দেবব্রত বিশ্বাস দেবুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীদুর রহমান, কুল্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর ছাকী পলাশ, চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস ও মেহেদী হাসান সগর।

 

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন। হেমন্তের এই আনন্দময় সন্ধ্যায় বিজয়াদশমীর অনন্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বলুয়া নদীর তীরে উপস্থিত মানুষের মনে দীর্ঘদিনের জন্য এক অমলিন উৎসবের রেশ রেখে গেছে।

 

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

খলিষখালি (পাটকেলঘাটা) প্রতিনিধি: দীর্ঘ পাঁচ দিন ধরে দেবী দুর্গাকে আপন মনে পূজা-অর্চনা করার পর ২১ অক্টোবর সাতক্ষীরা ও তালার খলিলপুর, দলুয়া, মাগুরা, ইসলামকাটি, কুমিরা ও পাটকেলঘাটাসহ বিভিন্ন পূজাম-পে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসলামকাটি কপোতাক্ষ নদের দুই তীরে হাজার হাজার নারী-পুরুষ হাজির হন প্রতিমা বিসর্জনের জন্য। শুধু তাই নয়, নদের দুই তীরে বসেছিল নানা রকম মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কসমেটিকস ও হরেক রকমের মিষ্টির দোকান।

বিকেল থেকে দলুয়া শালিকা নদীর তীরে, মাগুরা কপোতাক্ষ নদের তীরে ও ইসলামকাটি কপোতাক্ষ নদের দুই তীরে হাজার হাজার নারী-পুরুষের সমাগমে উৎসব ও আনন্দে একাকার হয়ে যায় চারপাশ। অবশেষে সন্ধ্যা নামতেই প্রতিমা বিসর্জনের কাজ শুরু হয়। বিসর্জন শেষে নারী-পুরুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে বাড়ি ফিরে যান।