বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

বিজয়া দশমীতে সাতক্ষীরার ৩৮ পূজাম-পে বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
বিজয়া দশমীতে সাতক্ষীরার ৩৮ পূজাম-পে বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা

পত্রদূত ডেস্ক: বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ এবং প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। এই উৎসব যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সমাপ্ত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দেশব্যাপী বিভিন্ন পূজাম-পে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২৯টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর সংলগ্ন ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৯টি পূজাম-পের প্রতিমা বিসর্জনের সময় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের সদস্যগণ নিরাপত্তা প্রদান করছেন। প্রতিটি পূজাম-পকে ঘিরে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ থাকে, সে লক্ষ্যে বিজিবি সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা টহল প্রদান করছে। এই নিরাপত্তার দায়িত্বে ৩৩ বিজিবির ১৬টি প্লাটুন দায়িত্ব পালন করছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য এবং জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম যেন নির্বিঘেœ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা বা দুর্ঘটনা ছাড়াই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে, সে লক্ষ্যে সাতক্ষীরা বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে সর্বাত্মকভাবে নিয়োজিত রয়েছে।

 

এ ছাড়া উৎসব চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের সদস্যরা প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

Ads small one

কয়রায় সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোমিও চিকিৎসকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
কয়রায় সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোমিও চিকিৎসকের মৃত্যু

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলায় ১৩ শতক সরকারি জমি দখল ও কলা কাটাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হোমিও চিকিৎসক গোলাম রব্বানী (৫২) মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই নারীকে আটক করেছে। এর আগে সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মঠবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঠবাড়ী মৌজার গ্রামীণ সড়কের পাশে ১৩ শতক সরকারি জমি ও কলাগাছের কলা কাটাকে কেন্দ্র করে হোমিও চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদারের (২৬) বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দা, শাবল, রড ও লাঠির আঘাতে গোলাম রব্বানীসহ চারজন গুরুতর আহত হন। আহত অন্য তিনজন হলেন গোলাম রব্বানীর ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) ও মা রাহিলা বেগম (৫৫)।

আহতদের প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেও চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য গোলাম রব্বানীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, এ ঘটনায় এখনো লিখিত কোনো মামলা হয়নি, তবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগম (৩৫) নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে।

হেমন্তের শান্ত বলুয়া নদীতে বিজয়া দশমীর নৌকাবাইচ: তালের ছন্দে মুখর দুই তীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
হেমন্তের শান্ত বলুয়া নদীতে বিজয়া দশমীর নৌকাবাইচ: তালের ছন্দে মুখর দুই তীর

আসাদুজ্জামান সরদার: কার্তিকের সোনাঝরা রোদ আর স্নিগ্ধ বাতাসের স্পর্শে প্রকৃতিতে তখন হেমন্তের রূপময় উপস্থিতি। শারদীয় দুর্গাপূজার মহাবিজয়াদশমীর বিষাদ ও আনন্দের মিশ্র সুরের মাঝেই গ্রামীণ জনপদে বেজে উঠেছিল উৎসবের অন্যরকম এক বাদ্য। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বলুয়া নদীর শান্ত বুকে স্বর্গীয় বাশিরাম স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বর্ণিল ও রোমাঞ্চকর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।

 

বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা আর প্রতিমা বিসর্জনের পূর্বলগ্নে নদীমাতৃক বাংলার এই প্রাচীন রূপ দেখতে বলুয়া নদীর দুই তীরে উপচে পড়ে হাজারো মানুষের ভিড়। স্বচ্ছ জলের আলপনায় নদীর বুকে তখন সাজ সাজ রব। বৈঠার জাদুকরী ছন্দে চঞ্চল হয়ে ওঠা জলের ঢেউ আর দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। ঐতিহ্য ও উদ্দীপনার এই প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলো হলোÑসোনা বাঁধাল, দাদপুর, বনবিবি, চর মাগুরা, কুলপোতা, মহিষাডাংগা কালিমাতা ও মহিষাডাংগা জয়মা।

নৌকাগুলোর গতি আর মাঝিদের সমস্বরে গাওয়া ভাটিয়ালি ও জারি গানের সুরে নদীর দুই তীরের দর্শকেরা আনন্দে মেতে ওঠেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয় বিজায়ীদের নাম। এতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে কুলপোতা। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে চর মাগুরা এবং তৃতীয় হয় মহিষাডাংগা কালীমাতা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দিন। সহকারী অধ্যাপক হিরুলাল বিশ্বাস ও দেবব্রত বিশ্বাস দেবুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীদুর রহমান, কুল্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর ছাকী পলাশ, চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস ও মেহেদী হাসান সগর।

 

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন। হেমন্তের এই আনন্দময় সন্ধ্যায় বিজয়াদশমীর অনন্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বলুয়া নদীর তীরে উপস্থিত মানুষের মনে দীর্ঘদিনের জন্য এক অমলিন উৎসবের রেশ রেখে গেছে।

 

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

খলিষখালি (পাটকেলঘাটা) প্রতিনিধি: দীর্ঘ পাঁচ দিন ধরে দেবী দুর্গাকে আপন মনে পূজা-অর্চনা করার পর ২১ অক্টোবর সাতক্ষীরা ও তালার খলিলপুর, দলুয়া, মাগুরা, ইসলামকাটি, কুমিরা ও পাটকেলঘাটাসহ বিভিন্ন পূজাম-পে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসলামকাটি কপোতাক্ষ নদের দুই তীরে হাজার হাজার নারী-পুরুষ হাজির হন প্রতিমা বিসর্জনের জন্য। শুধু তাই নয়, নদের দুই তীরে বসেছিল নানা রকম মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কসমেটিকস ও হরেক রকমের মিষ্টির দোকান।

বিকেল থেকে দলুয়া শালিকা নদীর তীরে, মাগুরা কপোতাক্ষ নদের তীরে ও ইসলামকাটি কপোতাক্ষ নদের দুই তীরে হাজার হাজার নারী-পুরুষের সমাগমে উৎসব ও আনন্দে একাকার হয়ে যায় চারপাশ। অবশেষে সন্ধ্যা নামতেই প্রতিমা বিসর্জনের কাজ শুরু হয়। বিসর্জন শেষে নারী-পুরুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে বাড়ি ফিরে যান।