আশাশুনিতে সাঁকো ভেসে যাওয়ায় দুর্ভোগ, এক সপ্তাহে কাজ শুরুর আশ্বাস
আশাশুনি সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়া এলাকায় মরিচ্চাপ নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকো জোয়ারের স্্েরাতে ভেসে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরের দিকে হঠাৎ করে সাঁকোটি ধসে নদীতে ভেসে যায়। এতে অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া ও বুধহাটা ইউনিয়নের কুন্দুড়িয়া গ্রামের মধ্যবর্তী এই নদীপথটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এলাকার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বুধহাটা, পাইথালী, ব্যাংদহা, গাজীরমাঠ ও কামালকাটি হাট-বাজারে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে নদী খননের পর সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সাময়িকভাবে একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়, যা দিয়ে মানুষ চলাচল ছাড়াও সাইকেল ও মোটরসাইকেল পারাপার হতো।
কিন্তু সেই সাঁকোটিও টিকল না। শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে নদীর তীব্র স্্েরাতের মুখে এটি ভেঙে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ভেসে যায়। ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসীকে বিকল্প দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে বেড়েছে সময় ও খরচ।

খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমদ খান, এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী বাপ্পী কুমান দাশসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে এমপি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত অস্থায়ী পারাপার ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে কাঠের সাঁকো নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের হিসাব তৈরি করে দ্রুত জমা দিতে এলজিইডি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অস্থায়ী সমাধানের বদলে দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।









