শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

আশাশুনিতে ৩ পরীক্ষা কর্মকর্তা অব্যাহতি নিয়ে গুঞ্জন!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ৩ পরীক্ষা কর্মকর্তা অব্যাহতি নিয়ে গুঞ্জন!

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর এসএসস পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবসহ তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় গত ৫ মে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় শিক্ষা অনুরাগী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেনÑকেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ গৌরপদ মন্ডল, ট্যাগ অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ঝংকর ঢালী এবং পরীক্ষা কমিটির সদস্য সহকারী শিক্ষক জি এম রাখিদুল ইসলাম।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ বিধি বহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের কেন্দ্রে প্রবেশ। একজন সহকারী প্রধান শিক্ষকের ছেলে ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও বিশেষ সুবিধা প্রদান। ট্যাগ অফিসার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের খাতা কেড়ে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি। কমিটির সদস্য কর্তৃক প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা এবং ভিজিলেন্স টিমের হাতে ধরা পড়া।

তবে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কেন্দ্রটি সিসি ক্যামেরা ও কড়া পুলিশি পাহারায় নিয়ন্ত্রিত। ৯টি প্রতিষ্ঠানের ৪৬৫ জন পরীক্ষার্থী এখানে পরীক্ষা দিচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের একাংশের দাবি, কেন্দ্রটি আগের চেয়ে অনেক বেশি শৃঙ্খল। কোনো অনিয়ম হলে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই সত্যতা পাওয়া যেত। তদন্ত ছাড়াই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

অব্যাহতি পাওয়া কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ গৌরপদ মন্ডল বলেন, “আমি সব নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করেছি। কতিপয় প্রধান শিক্ষক পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে আসেন ঠিকই, কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগেই চলে যান। সিসিটিভি ফুটেজই আমার প্রমাণ। অব্যাহতির সিদ্ধান্তে আমি বিস্মিত।”

ট্যাগ অফিসার ঝংকর ঢালী দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের সতর্ক করার জন্য মাত্র ৫-১৫ মিনিটের জন্য দুটি খাতা নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, শিক্ষক রাখিদুল ইসলাম প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভিজিলেন্স টিমের সামনে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

এ বিষয়ে জানতে ভিজিলেন্স টিমের সদস্য প্রভাষক জহুরা ইয়াসমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধির সুপারিশের ভিত্তিতে তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষেই প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।”

 

 

 

Ads small one

আজ পর্দা উঠবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
আজ পর্দা উঠবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় আজ ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে টুর্নামেন্টের এই সময়সূচি ও ফিক্সচার প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ প্রতিদিন বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হবে।
খেলার সূচি অনুযায়ীÑ ১৬ আগস্ট (প্রথম ম্যাচ): শ্যামনগর উপজেলা বনাম কলারোয়া উপজেলা। ১৭ আগস্ট (দ্বিতীয় ম্যাচ): সাতক্ষীরা পৌরসভা বনাম কালিগঞ্জ উপজেলা। ১৮ আগস্ট (তৃতীয় ম্যাচ): সাতক্ষীরা সদর বনাম তালা উপজেলা। ১৯ আগস্ট (চতুর্থ ম্যাচ): দেবহাটা উপজেলা বনাম আশাশুনি উপজেলা।
সেমিফাইনাল ও ফাইনাল: ২১ আগস্ট (প্রথম সেমিফাইনাল): দ্বিতীয় ম্যাচের বিজয়ী বনাম তৃতীয় ম্যাচের বিজয়ী। ২২ আগস্ট (দ্বিতীয় সেমিফাইনাল): প্রথম ম্যাচের বিজয়ী বনাম চতুর্থ ম্যাচের বিজয়ী।
২৪ আগস্ট (ফাইনাল): দুই সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের শিরোপা লড়াই। ক্রীড়ামোদী দর্শকদের স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 

সম্পাদকীয়/ সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে বন্ধ হোক প্লাস্টিক দূষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে বন্ধ হোক প্লাস্টিক দূষণ

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন কেবল আমাদের প্রাকৃতিক ঢালই নয়, জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম মজবুত স্তম্ভ। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই বন উপকূলীয় অঞ্চলকে প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে, বায়ুম-লের কার্বন শোষণ করে এবং বছরে প্রায় ৪৬০ কোটি টাকার রাজস্ব যোগায় জাতীয় কোষাগারে। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, বেঙ্গল টাইগার, ইরাবতী ডলফিনসহ বিরল সব বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রজাতির এই অনন্য আবাসস্থলটি আজ প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণের ভয়াবহ থাবায় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সুন্দরবনের ৫৪টি নদীতে প্রতিদিন গড়ে জমা হচ্ছে প্রায় ৫০ টন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য। জোয়ার-ভাটার টানে এসব বর্জ্য বনের ১৫ কিলোমিটার গভীরে ছড়িয়ে পড়ছে এবং গাছের শ্বাসমূল পেঁচিয়ে ধরে ম্যানগ্রোভের প্রাণশক্তি নিঃশেষ করে দিচ্ছে। থমকে যাচ্ছে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপন্ন হচ্ছে ২১০ প্রজাতির মাছ, কুমির ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জীবন। পাশাপাশি, যেসব নদীর ওপর ভিত্তি করে ৩০ লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন, সেগুলোর বাস্তুতন্ত্র আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া চিপস-বিস্কুটের প্যাকেট, বোতল ও ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক বনের ভেতরে ঢুকে প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করছে।
সুন্দরবনকে বাঁচাতে এখনই সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বনের সীমানায় পলিথিন ও সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানা নিশ্চিত করা আবশ্যক। প্রতিটি ট্যুরিস্ট ভেসেল ও দর্শনীয় স্থানে সুনির্দিষ্ট ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা, সংগৃহীত বর্জ্য বনের বাইরে এনে রিসাইক্লিংয়ের আওতায় নেওয়া এবং প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ও পরিবেশবান্ধব পাত্রের ব্যবহার জোরদার করা দরকার। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় ১৭টি উপজেলায় চলমান সরকারের ‘রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল’ (৩জ) কৌশলের কার্যকর বাস্তবায়ন প্লাস্টিক দূষণ হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সুন্দরবন আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক। স্থানীয় বনজীবী, ট্যুর অপারেটর, পর্যটক ও বন বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় খাল ও সৈকতগুলোতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং কঠোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। অবিলম্বে প্লাস্টিক মুক্ত সুন্দরবন নিশ্চিত করতে না পারলে আমরা কেবল একটি বিশ্ব ঐতিহ্যকেই হারাব না, বরং পুরো দেশের পরিবেশগত নিরাপত্তাও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেব।

সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের চার নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের চার নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আখতার হোসেন (৫৫), সাতক্ষীরা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভন (৩০), জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর হোসেন (৪০) এবং কালিগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার শফিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানায়, তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।