সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

ইতিহাসের সর্বোচ্চ রিজার্ভের পথে বাংলাদেশ, লক্ষ্য ৫১ বিলিয়ন ডলার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
ইতিহাসের সর্বোচ্চ রিজার্ভের পথে বাংলাদেশ, লক্ষ্য ৫১ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন শুধু একটি আর্থিক সূচক নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক আস্থা এবং বহিঃখাতের স্থিতিশীলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। কয়েক বছর আগেও রিজার্ভ ছিল দেশের অর্থনৈতিক শক্তির প্রতীক। কিন্তু বৈশ্বিক অস্থিরতা, আমদানি ব্যয়ের উল্লম্ফন, ডলার সংকট এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতার কারণে সেই রিজার্ভ দ্রুত কমে যায়। এখন সেই অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

এমন প্রেক্ষাপটে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। লক্ষ্যটি অর্জিত হলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জনের পথ মোটেও সহজ নয়। কারণ রিজার্ভ বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির গতিও ধরে রাখতে হবে।

পাঁচ বছর পর নতুন রেকর্ডের স্বপ্ন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট। সেদিন মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৪৮ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার।

করোনা মহামারির সময় আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একইসময়ে প্রবাসী আয় রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। ফলে রিজার্ভ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে।

কিন্তু মহামারির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্য ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যায়। একই সময়ে রফতানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতা দেখা দেয়। ফলে কয়েক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এখন সরকার সেই পুরোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে ৫১ বিলিয়ন ডলারের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-পূর্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী, রফতানি আয় বৃদ্ধি, রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগামী অর্থবছরে রিজার্ভ ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগোতে পারে।

রিজার্ভের অঙ্ক নিয়ে বিভ্রান্তি কেন

বাংলাদেশে রিজার্ভ নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় হিসাব পদ্ধতির পার্থক্যকে কেন্দ্র করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক যে গ্রস রিজার্ভ প্রকাশ করে, সেখানে নগদ বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ, বৈদেশিক বন্ড, ট্রেজারি বিল, আইএমএফের স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) এবং অন্যান্য কিছু সম্পদও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিএপিএম-৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্টস ম্যানুয়াল-৬) পদ্ধতিতে রিজার্ভ হিসাব করে। এই পদ্ধতিতে শুধু সহজে ব্যবহারযোগ্য ও তরল বৈদেশিক সম্পদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে দুই হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তৈরি হয়।

সর্বশেষ ২৩ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আইএমএফের বিএপিএম-৬ পদ্ধতিতে একই সময়ের রিজার্ভ ছিল মাত্র ২৯ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সরকারের ৫১ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভের হিসাব অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেমিট্যান্স এখন অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ভরসা

চলতি অর্থবছরে অর্থনীতির সবচেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো—রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী উত্থান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২৩ দিনেই দেশে প্রায় ২ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২৩ মে একদিনেই দেশে এসেছে ১৭৩ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৬ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে প্রায় ১১ মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানো সহজ হওয়া এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর হার বৃদ্ধি—এই চারটি কারণে রেমিট্যান্সে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

বিদেশে কর্মী যাওয়া বাড়ছে

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৮৯ হাজার ৮৭০ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৫ হাজার ৩৪০ জন।

নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশে কর্মী নিয়োগ বাড়ায় আগামী বছরগুলোতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকার আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন ডলার কিনছে

একসময় বাজারে ডলার সংকট সামাল দিতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংককে। এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে।

২৩ মে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা বিনিময় হারে ৬ কোটি ডলার কিনেছে। শুধু মে মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয় দাঁড়িয়েছে ৬২৫ মিলিয়ন ডলার। আর চলতি অর্থবছরে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার অর্থ হচ্ছে বাজারে ডলারের সরবরাহ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অতিরিক্ত ডলার সংগ্রহ করে রিজার্ভ পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে—রিজার্ভ বাড়বে নাকি বিনিয়োগ? রিজার্ভ বৃদ্ধির লক্ষ্যকে স্বাগত জানালেও অর্থনীতিবিদরা একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলছেন।

তাদের মতে, অর্থনীতি কি শুধু রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য পরিচালিত হবে, নাকি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে?

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, রিজার্ভ বাড়াতে হলে রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ শক্তিশালী রাখতে হবে। কিন্তু একই সময়ে যদি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়ানো হয়, তাহলে মূলধনি যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও বাড়বে। আর আমদানি বাড়লে ডলারের চাহিদা বাড়বে, যা রিজার্ভ বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে।

অর্থাৎ সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।

আমদানি-রফতানির চিত্র এখনও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আমদানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে রফতানি আয় কমেছে ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ অবস্থায় বহিঃখাতের সামগ্রিক চিত্রকে পুরোপুরি শক্তিশালী বলা যাচ্ছে না।

রফতানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে রিজার্ভ ধরে রাখা কঠিন হবে। তাই আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার আমদানি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, রফতানি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে।

আইএমএফ ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ বড় ভূমিকা রাখবে

রিজার্ভ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যমান ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির পরিবর্তে ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।

চুক্তি সম্পন্ন হলে আগামী অর্থবছরে আইএমএফ থেকে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার সহায়তা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অর্থ সরাসরি রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তবে একইসঙ্গে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধ ও সুদের চাপও বাড়াবে।

সামনে যে ঝুঁকিগুলো রয়েছে

রিজার্ভ বৃদ্ধির পথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়তে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিলে রফতানি আয় কমে যেতে পারে। শ্রমবাজার সংকুচিত হলে রেমিট্যান্সে ধাক্কা লাগতে পারে।

অন্যদিকে অর্থনীতি চাঙা হলে বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন বাড়বে, যার ফলে আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বাড়তে পারে। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের ওপর অতি নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঋণঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

ভারসাম্যের পরীক্ষায় সরকার

অর্থনীতির বাস্তবতা হলো, শুধু বড় অঙ্কের রিজার্ভ থাকলেই অর্থনীতি শক্তিশালী হয় না। একটি দেশের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রফতানি সক্ষমতা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর। বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একদিকে ডলার সংকট কাটিয়ে উঠতে হচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনীতিকে নতুন করে গতি দিতে হচ্ছে।

তাই আগামী অর্থবছরে ৫১ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ অর্জনের লক্ষ্য নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী এবং ইতিবাচক। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের গতি ধরে রাখা আরও বড় চ্যালেঞ্জ।

রেমিট্যান্স, রফতানি, বৈদেশিক সহায়তা এবং নতুন বিনিয়োগ—এই চারটি খাত একসঙ্গে শক্তিশালী থাকলে বাংলাদেশ শুধু রিজার্ভের নতুন রেকর্ডই গড়বে না, বরং আরও টেকসই ও শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত্তিও তৈরি করতে পারবে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মা কাজের তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। সাতক্ষীরা শহরের বাড়িতে একা হয়ে পড়া মেয়েটির ওপর তখন পরিবারের কার্যকর কোনো নজরদারি ছিল না। সেই সুযোগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পার হতেই সে জানতে পারে তার স্বামী একজন পেশাদার জুয়াড়ি। পাওনাদারদের চাপ, পারিবারিক কলহ আর স্বামীর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের মুখে বাপের বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হয় সে। পরবর্তীতে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করে সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ-মাইনাস’ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। জীবনে বাল্যবিবাহের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে পেছনে ফেলে এই তরুণী এখন বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী উল্লেখ করেন, অবুঝ বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সংসারে অশান্তি শুরু হয় এবং জানতে পারেন স্বামী নিয়মিত জুয়া খেলত ও ঋণের মধ্যে ছিল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের কাছে ফিরে এসে আবার পড়াশোনা শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যতে নিজের মতো করে জীবন গড়ে তুলতে চান।
সাতক্ষীরা শহরজুড়ে আইনি ফাঁকফোকর, সামাজিক অবক্ষয় ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে শতশত কিশোরীর জীবন এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামের কলবাড়ি নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী ও পার্শ্ববর্তী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে এই কিশোর-কিশোরী এক সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়েছিল যে, বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই অঙ্গীকারনামা অমান্য করে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা জজ কোর্টের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করিয়ে ১৫ ও ১৬ বছরের দুই নাবালক-নাবালিকাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও আইনি ও দাপ্তরিক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মহিলা বিষয়ক কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাহায্য না চাইলে পুলিশ সরাসরি গিয়ে অভিযান চালাতে পারে না।
শ্যামনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক জানান, খবর পাওয়ার পর অভিযুক্ত ছেলের বাবাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য অফিশিয়াল নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তিনি উপস্থিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলামের দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে এফিডেভিটের মাধ্যমে সামাজিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের বর্তমান গড় হার দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে, যার মধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। উপকূলীয় এই অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত লবণাক্ততায় নিয়মিত কাজ করার ফলে কম বয়সে মেয়েদের শরীরের ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে সামাজিক ভীতি থেকে অভিভাবকেরা দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেন।
গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি হেলেনা বিলকিস জানান, ক্লিনিকে আসা গর্ভবতী নারীদের একটি বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এই বয়সে সন্তান ধারণের কারণে এবং অতিরিক্ত লবণাক্ত পরিবেশের প্রভাবে তাদের উচ্চ রক্তচাপ, এপিলেপসি ও রক্তস্বল্পতার হার বেশি। নদী পার হয়ে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে অনেক প্রসূতির মৃত্যু ঘটে।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন জানান, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে মেয়ে এবং ২১ বছরের নিচে ছেলের বিয়ে বেআইনি। অসাধু নোটারি পাবলিক ও জালিয়াতি চক্র টাকার বিনিময়ে এফিডেভিট করে দিচ্ছে, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্ত জানান, কার্যকর নজরদারির অভাবের কারণেই অঙ্গীকারনামা থাকার পরও বাল্যবিবাহ রোখা যাচ্ছে না। স্থানীয় সরকারের উদ্যোগ ও সঠিক সনদ যাচাই ছাড়া বিবাহ রেজিস্ট্রি বন্ধ করা প্রয়োজন।
সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, গোপনে ও এফিডেভিটের অপব্যবহার করে বিয়ে সম্পাদন করার কারণে সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না, তবে স্থানীয় নজরদারি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

সংবাদদাতা: আশাশুনির প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা, নিরাপদ অপসারণ ও আগাম সতর্কবার্তা বিষয়ক পরিবারভিত্তিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আইডিয়াল’-এর বাস্তবায়নে, ‘সিডিডি’-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ‘লিলিয়ান ফন্ডস’-এর অর্থায়নে ‘রেজিলেন্স বিগিনস এট হোম’ প্রকল্পের অধীনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় ২৫ জন প্রতিবন্ধী শিশুর কেয়ারগিভার অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস হোসেন। বক্তব্য দেন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মো. মামুন আলী ও প্রজেক্ট ফোকাল এস এম মিজানুর রহমান।

আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের ৬টি হিন্দু পরিবারের ২৫ শতক জমি দখল করে বানানো খুপড়ি ঘর ও বেড়া আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অপসারনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় কালিগঞ্জ থানার গোলঘরে অনুষ্ঠিত এক সালিশি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ১৪ আগস্ট রাতে গ্রাম পুলিশ সাইফুল ও তার সহযোগীরা জয়দেব রজক ও বাসুদেব রজকসহ ছয়টি পরিবারের জমিতে খুপড়ি ঘর নির্মাণ করে জমি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে বাসুদেব রজক ও রীনা রানী রজক থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করলে শালিসি সভা ডাকা হয়।
সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল মীর জানান, সাইফুলের পক্ষ থেকে জমির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অবৈধ ঘর ও বেড়া সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শালিসি সভায় দক্ষিণ শ্রীপুর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহজী, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুলফিকার সাঁফুই ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্তনামায় স্বাক্ষর করেন। কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম হাওলাদারকে বদলী করে সাতক্ষীরা আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মো. শাহীন যোগদান করেছেন।