মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

উলাশী খাল: ইতিহাসের পথে নতুন পুনর্জাগরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
উলাশী খাল: ইতিহাসের পথে নতুন পুনর্জাগরণ

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী-যদুনাথপুর খাল বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ইতিহাসে একটি বিশেষ নাম। এটি কেবল একটি জলপথ নয়-বরং একটি সময়, একটি রাজনৈতিক দর্শন এবং একটি সামাজিক অংশগ্রহণের প্রতীক। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল তুলে যে খাল খননের সূচনা করেছিলেন, সেটি পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গভীর পরিবর্তন আনে। প্রায় পাঁচ দশক পর সেই খাল আবার আলোচনায় এসেছে। কারণ, দীর্ঘদিন অবহেলা ও পলি জমে এটি প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।

 

এখন পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব মাননীয প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সম্পৃক্ততা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু এই গল্প কেবল রাজনীতির নয়; এটি গ্রামীণ অর্থনীতি, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন দর্শনেরও গল্প। একটি খালের জন্ম: সময়ের প্রয়োজনীয়তা ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ১৯৭০-এর দশকে শার্শা অঞ্চল ছিল ভৌগোলিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত। অঞ্চলটির উত্তরাংশে বিস্তৃত বিল এলাকা-প্রায় ২২ হাজার একর কৃষিজমি-বছরের বড় অংশ পানিতে ডুবে থাকত। এর ফলে-একফসলি জমি অনাবাদি পড়ে থাকত, কৃষকরা ঋণগ্রস্ত থাকত, খাদ্য ঘাটতি ছিল নিয়মিত, দারিদ্র্য ছিল কাঠামোগত এই বাস্তবতায় একটি সমন্বিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। সেই প্রয়োজন থেকেই উল্লাশী-যদুনাথপুর খাল খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

 

তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগতভাবে এই প্রকল্পে সম্পৃক্ত হন-যা বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তিনি সরাসরি মাঠে উপস্থিত হয়ে খনন কাজের সূচনা করেন। স্থানীয় মানুষ, কৃষক, শ্রমিক এবং স্বেচ্ছাসেবীরা একত্রিত হয়ে শুরু করেন এক অভূতপূর্ব শ্রমযজ্ঞ। উলাশী খালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন মডেল। সেখানে-হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেয়, কোনো আর্থিক পারিশ্রমিক ছিল না, কাজের বিনিময়ে সামান্য রুটি ও গুড় দেওয়া হতো, শ্রমকে দেখা হতো দায়িত্ব হিসেবে-এই ধরনের অংশগ্রহণ আজকের উন্নয়ন কাঠামোতে বিরল।

 

স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতে এখনও জীবন্ত সেই সময়-যখন রাষ্ট্রপ্রধান নিজে কোদাল হাতে মাটি কাটছেন, আর সাধারণ মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করছে। এই দৃশ্য শুধু প্রতীকী ছিল না; এটি ছিল একটি সামাজিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। খাল খননের পরবর্তী সময়টি ছিল শার্শার জন্য এক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের যুগ। প্রধান পরিবর্তনগুলো ছিল-বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হয়ে যাওয়ায় জমি চাষযোগ্য হয়। সেচ সুবিধা তৈরি হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমেও ধান চাষ শুরু হয়। একসময় অনাবাদি থাকা জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়। কৃষকরা ঋণমুক্ত হয়ে তুলনামূলক স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থায় আসে। এই পরিবর্তন শুধু কৃষি নয়, স্থানীয় বাজার, শ্রমবাজার এবং সামাজিক কাঠামোকেও প্রভাবিত করে।

 

উলাশী খাল শুধু কৃষি নয়, সমাজকেও বদলে দিয়েছিল কর্মসংস্থান বৃদ্ধিগ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা, স্থানীয় বাজার সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় পরোক্ষ উন্নতি গ্রামীণ সমাজে তখন একটি নতুন আশাবাদ জন্ম নেয়-“পানি নিয়ন্ত্রণ মানেই জীবন নিয়ন্ত্রণ।” যে অবকাঠামো একসময় উন্নয়নের প্রতীক ছিল, তা সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে অবহেলিত হয়ে পড়ে। খালের বর্তমান অবস্থার পেছনে প্রধান কারণগুলো- পলি জমে ভরাট হওয়া, নদী ও বৃষ্টির পানি থেকে আসা পলি ধীরে ধীরে খাল ভরাট করে ফেলে। নিয়মিত খনন বা ড্রেজিং না হওয়ায় প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। খালের কিছু অংশ ব্যক্তিগত ব্যবহারের আওতায় চলে যায়।

 

স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামো কার্যকরভাবে কাজ করেনি। ফলে যে খাল একসময় জীবনদায়ী ছিল, তা ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। বর্তমানে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নেতৃত্ব ও উপস্থিতির বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আলোচিত হলেও মূল গুরুত্ব থাকা উচিত এর বাস্তব প্রয়োগে। মাননীয প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর মাধ্যমে এই পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধনের ঘোষণা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কেবল উদ্বোধন নয়, বরং-দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন,টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা।

 

উলাশী-যদুনাথপুর খাল শুধু একটি কৃষি অবকাঠামো নয়, এটি একটি পরিবেশগত ব্যবস্থা। তাই এর পুনঃখননকে কেবল উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটি একটি নদী-খাল-জলাভূমি সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থার পুনর্গঠন হিসেবে দেখা জরুরি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই ভূখ-, বিশেষ করে যশোর এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। গত দুই দশকে এই অঞ্চলে তিনটি বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে-বৃষ্টি কখনও অতি বেশি, আবার কখনও দীর্ঘ খরা।

 

এই অনিশ্চয়তা কৃষি পরিকল্পনাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। অপরিকল্পিত সড়ক, বাঁধ এবং ভরাট হওয়া খালগুলো পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বর্ষায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বাড়ায় পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। এই তিনটি সংকট একসাথে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এ অবস্থায় উলাশী খালের মতো একটি জলপথ পুনরায় সচল করা কেবল ঐতিহ্য নয়, বরং একটি পরিবেশগত প্রয়োজন। বর্তমান উন্নয়ন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো-প্রাকৃতিক খাল ব্যবস্থা কি আধুনিক অবকাঠামোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে?

 

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে-রাস্তা নির্মাণে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা খালের সঙ্গে সমন্বিত নয়, নগরায়ন ও কৃষিজমি ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় নেই, ফলে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। উলাশী খালের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। একসময় যে খাল ছিল জীবন্ত জলপথ, তা ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে বিচ্ছিন্ন জলাশয়ে। খাল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা প্রযুক্তি নয়, বরং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার অভাব। প্রধান সমস্যা-একবার খনন করে দায়িত্ব শেষ মনে করা হয়।

 

নতুন প্রকল্পে অর্থ থাকলেও পুরোনো প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। গ্রাম পর্যায়ে কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা কমিটি অনেক জায়গায় নিষ্ক্রিয়। খাল দখল বা ভরাট এই কাঠামোগত দুর্বলতা গুলোই উলাশী খালকে ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় অবস্থায় নিয়ে গেছে। উলাশী খালের পরিবেশগত ভূমিকা বহুমাত্রিক-বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সরিয়ে কৃষিজমি রক্ষা করা। খাল পানির প্রাকৃতিক রিচার্জ সিস্টেম হিসেবে কাজ করে। খাল ও এর আশপাশে মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও পাখির আবাস তৈরি হয়। জলাধার স্থানীয় মাইক্রোক্লাইমেট নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অর্থাৎ, খাল কেবল কৃষির জন্য নয়, পুরো পরিবেশ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

মাননীয প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর উপস্থিতিতে উলাশী খাল পুনঃখননের উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে কয়েকটি বাস্তব শর্তের ওপর-খালের গভীরতা, ঢাল ও সংযোগ নদীর সঙ্গে সঠিকভাবে পরিকল্পিত হতে হবে। বেতনা নদী-এর প্রবাহ ঠিক না থাকলে খাল কার্যকর হবে না। স্থানীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী পানি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন জরুরি। প্রতি বছর বা নির্দিষ্ট সময় পর খনন ও পলি অপসারণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। খালের দুই পাশ দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন। বাস্তবতা বনাম প্রত্যাশা: সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রামীণ মানুষের প্রত্যাশা খুব সহজ-খাল সচল হোক, পানি জমে ফসল নষ্ট না হোক, সেচ সহজলভ্য হোক, উৎপাদন বাড়ুক, তাদের কাছে উন্নয়ন মানে জটিল নীতি নয়, বরং মাঠে বাস্তব পরিবর্তন। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা তাদের শেখায়-উদ্বোধন অনেক হয়েছে, কাজ কম টেকসই হয়েছে।

 

উলাশী খালের পুনঃখনন প্রকল্প কেবল একটি অবকাঠামো উদ্যোগ নয়; এটি একটি পরীক্ষা-আমরা কি ইতিহাস থেকে শিখতে পারি? জলবায়ু পরিবর্তন, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ-এই তিনটি বিষয় যদি একসঙ্গে সমাধান না করা হয়, তাহলে যে কোনো খাল খনন প্রকল্প কাগজে সফল হলেও বাস্তবে ব্যর্থ হতে পারে। উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন এখন আর কেবল একটি স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি পরিণত হয়েছে একটি রাজনৈতিক, সামাজিক এবং উন্নয়ন-দর্শনের প্রতীকে। পাঁচ দশক আগে যে খালকে ঘিরে একটি কৃষি বিপ্লব ঘটেছিল, আজ তা আবার আলোচনায় এসেছে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। ফলে প্রশ্ন উঠছে-এটি কি কেবল উন্নয়ন প্রকল্প, নাকি উন্নয়নের ভাষায় রাজনৈতিক বার্তাও? বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ইতিহাসে প্রায় সব বড় অবকাঠামো প্রকল্পের সঙ্গে রাজনীতি গভীরভাবে যুক্ত।

 

উলাশী খালের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরাসরি মাঠে নেমে যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, তা ছিল রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে জনগণের অংশগ্রহণের এক প্রতীকী রূপ। আজ আবার যখন সেই খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে তারেক রহমান-এর উপস্থিতি ও সম্পৃক্ততা আলোচনায় এসেছে, তখন বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে। কিন্তু উন্নয়ন বিশ্লেষণের প্রশ্ন হলো-এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কি উন্নয়নকে শক্তিশালী করে, নাকি কখনও কখনও তা প্রতীকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলে? ১৯৭৬ সালের খাল খনন ছিল এই ধারার একটি শক্তিশালী উদাহরণ।

 

যেখানে-পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি, রক্ষণাবেক্ষণ কাঠামো শক্তিশালী, রাজনৈতিক পরিবর্তনের বাইরে টেকসই ব্যবস্থা থাকে, বর্তমান সময়ে উলাশী খালের টেকসই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই দ্বিতীয় ধারার ওপর। উলাশী খাল পুনঃখনন সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটতে পারে-পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নতি হলে-একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হবেবোরো ধানের আবাদ আরও বিস্তৃত হবে, কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে। খাল পুনঃখনন ও পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ কাজে-স্থানীয় শ্রমিকদের কাজের সুযোগ বাড়বে, মৌসুমি কর্মসংস্থান তৈরি হবে। অতিরিক্ত উৎপাদন-চালকল, কৃষি-প্রসেসিং, বাজার সম্প্রসারণ, এসব খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। অর্থনীতির ভাষায়, একটি খাল পুনঃখনন শুধু কৃষিতে সীমাবদ্ধ থাকে না।

 

এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে-পরিবহন খাতে, স্থানীয় বাজারে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়, এমনকি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও। যখন কৃষকের আয় বাড়ে, তখন তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, যা পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিকে সক্রিয় করে। বাংলাদেশের বহু উন্নয়ন প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বলে-প্রকল্প শুরু হওয়া সহজ, কিন্তু টিকিয়ে রাখা কঠিন। উলাশী খালের ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে-নতুন সরকার এলে অনেক প্রকল্পের অগ্রাধিকার বদলে যেতে পারে। প্রথম খননের পর নিয়মিত পরিচর্যা না হলে খাল আবার ভরাট হবে। খালের জায়গা ধীরে ধীরে দখল হয়ে যেতে পারে। বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থায়ী বাজেট না থাকলে প্রকল্প দুর্বল হয়ে পড়বে।

 

উলাশী খালকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে হলে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন-শুধু উলাশী খাল নয়, পুরো বেতনা নদী-নির্ভর পানি ব্যবস্থাকে একসঙ্গে পরিকল্পনা করতে হবে। প্রবাহ, পলি ও পানি স্তর পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। গ্রাম পর্যায়ে জনগণকে সরাসরি ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করতে হবে। খাল দখল বা দূষণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। উলাশী খালের ইতিহাস আমাদের একটি মৌলিক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়-উন্নয়ন কি কেবল উদ্বোধনের ছবি, নাকি ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া? ১৯৭৬ সালে খাল খনন ছিল অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

 

আজকের চ্যালেঞ্জ হলো সেই অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। উলাশী খাল পুনঃখনন প্রকল্প সফল হলে এটি হতে পারে-কৃষি পুনর্জাগরণের প্রতীক, জলবায়ু অভিযোজনের মডেল, গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন চালিকা শক্তি, কিন্তু ব্যর্থ হলে এটি যোগ করবে আরেকটি অধ্যায়-যেখানে ইতিহাসের একটি উদ্যোগ সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছে অবহেলায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর উপস্থিতিতে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং স্থানীয় অংশগ্রহণের ওপর। উলাশী খাল আমাদের মনে করিয়ে দেয়-উন্নয়ন কোনো একক ঘটনার নাম নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কোদাল দিয়ে শুরু হতে পারে, কিন্তু শেষ হয় ব্যবস্থাপনা, নীতি এবং মানুষের অংশগ্রহণে। ইতিহাস আমাদের পথ দেখায়, কিন্তু ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হয় দায়িত্বশীল বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে সরকার। তিনি জানান, কোস্ট গার্ডের সার্বিক উন্নয়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের বহরে হেলিকপ্টার সার্ভিস যোগ করা হবে। পাশাপাশি বৃদ্ধি করা হবে আরও ১০ হাজার জনবল। এতে করে অতীতের তুলনায় কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়াও গত এক বছরে সুন্দরবনে অভিযানসহ নানা কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের নেতৃত্বে খালেদা জিয়া কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই বাহিনী জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোস্ট গার্ড শুধু সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তাই নয়, বরং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজেও ভূমিকা রাখছে। তাদের নিয়মিত টহলের ফলে সমুদ্রপথ এখন অনেক বেশি নিরাপদ। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সুন্দরবন সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি “গার্ডিয়ান এট সী’’ মূলমন্ত্রে আধাসামরিক স্বতন্ত্র বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাহিনীটি আজ উপকূলীয় জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, কোস্ট গার্ড বর্তমানে উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে মাদক এবং অস্ত্র পাচার, মানবপাচার, চোরাচালান, জলদস্যুতা এবং অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় পড়া নৌযান উদ্ধার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাহিনীর সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

সুন্দরবনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বনাঞ্চলে ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত এক বছরের বেশি সময় সুন্দরবনে ২৯টি অভিযানে ৩৫ জন ডাকাত গ্রেফতার, ৪৭ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং ৩০ জন জিম্মিকে মুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধভাবে পাচার হওয়া কাঠ উদ্ধার করেছে।

কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তিনটি সার্ভেইলেন্স ড্রোন যুক্ত হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে বুলেটপ্রুফ সুবিধাসম্পন্ন হাই-স্পিড বোট সংগ্রহের চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় আধুনিক ডকইয়ার্ড নির্মাণ, নতুন প্যাট্রোল ভেসেল সংযোজন, হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম সারভেইলেন্স সিস্টেম সংযোজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কোস্ট গার্ড সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে মিরপুর জোয়ারসাহারা ও পূর্বাচলে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে এবং সামুদ্রিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

মোবাইল গ্রাহকদের জন্য সুখবর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
মোবাইল গ্রাহকদের জন্য সুখবর

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে করে, অফিস কিংবা বাসাবাড়ির ভেতরে মোবাইলে কথা বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহারে কমবে গ্রাহক ভোগান্তি।
তথ্য-বিনোদনের খোরাক মেটানো থেকে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগসহ প্রায় সব কিছুই এখন মোবাইল নির্ভর। বিটিআরসির তথ্য, বর্তমানে দেশে মোবাইল সংযোগধারীর সংখ্যা সাড়ে ১৮ কোটি।

অপারেটরদের তথ্য বলছে, এর মধ্যে শহরে থাকেন ৪০ শতাংশ গ্রাহক। ৬০ শতাংশ ব্যবহারকারী উপশহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের। নেটওয়ার্কের মান শহরে খানিকটা ভালো হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে দুর্বল। ঘরের ভেতরে কথা বলার মাঝেই বিচ্ছিন্ন হয় সংযোগ। কাঙ্ক্ষিত গতি মেলে না ইন্টারনেট সেবায়।

এ অবস্থায় নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি। গ্রামীণফোনকে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার ধারাবাহিকতায় এবার ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ডে তরঙ্গ চেয়ে আবেদন করেছে রবি ও বাংলালিংক। নথিপত্রে দেখা যায়, বর্তমানে বিটিআরসির কাছে বরাদ্দযোগ্য ৮.৪ মেগাহার্টজ ‘ই-জিএসএম’ তরঙ্গ রয়েছে। এর মধ্যে ৩.৪ মেগাহার্টজ করে রবি ও বাংলালিংক ৬.৮ মেগাহার্টজ তরঙ্গ চেয়েছে। তবে তার আগে পার্শ্ববর্তী দেশের ব্যবহৃত ৮৫০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড এবং ‘ই-জিএসএম’ তরঙ্গের বাধা কতটুকু তা জানতে চায় অপারেটর ২টি। এরই প্রেক্ষিতে পরীক্ষামূলক ১ মাসের জন্য ৮.৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, সীমান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ই-জিএসএম ব্যান্ডের কার্যকারিতা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেবে ২ অপারেটর। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষা করতে বিটিআরসি আমাদেরকে বিবেচনা করেছে। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব, কীভাবে সেটা আমরা কিনতে পারি’।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে মোবাইলে ‘ভয়েস কল’ ও ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে ৪ অপারেটর।

সকালে ঘুম উঠে পানি পান করার উপকারিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
সকালে ঘুম উঠে পানি পান করার উপকারিতা

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করার অভ্যাস জাপানিদের মধ্যে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। চিকিৎসকরাও প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানি পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারারাত ঘুমানোর পর আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে দিনের শুরুতেই পানি পান করলে শরীরের কার্যক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকালে খালি পেটে পানি পান করলে ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে, গ্যাসের সমস্যা কমায় এবং মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করতে পারে।

তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

সকালে ঘুম উঠে কেন পানি পান করার উপকারিতা

১। রাতে ঘুমানোর পরে দীর্ঘসময় হজম প্রক্রিয়ার তেমন কোনো কাজ থাকে না। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য অন্তত এক গ্লাস পানি পান করা উচিত।

২। ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মাথাব্যথা করে। মূলত শরীরে পানির মাত্রা কমে যাওয়া এ মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি আপনি খালি পেটে পানি পান করেন, তাহলে মাথাব্যথা অনেকাংশে কমে যাবে।

৩। ওজন কমানোর জন্যও প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানি পানের অভ্যাস করুন। কেননা যত বেশি পানি পান করবেন, ততই আপনার হজম প্রক্রিয়া ভালো হবে এবং শরীরে বাড়তি ফ্যাট জমবে না।

৪। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান করলে মলাশয় পরিষ্কার হয় এবং শরীর সহজেই নতুন করে খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে।

৫। প্রতিদিন সকালে নাস্তার আগে এক গ্লাস পানি খেলে নতুন মাংসপেশি ও কোষ গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

৬। সকালে মাত্র এক গ্লাস পানি আপনার বমি ভাব, গলার সমস্যা, মাসিকের সমস্যা, ডায়রিয়া, কিডনির সমস্যা, আথ্রাইটিস, মাথাব্যথা ইত্যাদি অসুখ কমাতে সহায়তা করে।

৭। সকালে প্রতিদিন খালি পেটে পানি পান করলে রক্তের দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায় এবং ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়।