ঋণের বোঝা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে যাচ্ছেন জেলেরা
প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): ঋণের বোঝা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার জেলেরা। শুঁটকি মৌসুমকে সামনে রেখে মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন নিয়ে তাঁরা সুন্দরবনের দুবলার চর ও বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে যাত্রা করছেন। তবে জলদস্যুর ভয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।
উপজেলার বোয়ালিয়া, মাহামুদকাঠি, হিতামপুর, কাটাখালী, হাবিবনগর, নোয়াকাঠি, রামনাথপুর ও কাঠিপাড়া গ্রামের প্রায় ৩০০ পরিবার সমুদ্রে মাছ আহরণের সঙ্গে জড়িত। নৌকা মেরামত, জাল কেনা, জ্বালানি ও রসদ সংগ্রহে প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য তাঁদের অনেকেই মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নেন। মাছ বিক্রি করে ঋণ শোধ করতে না পারলে পড়তে হয় চরম সংকটে।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শীত মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া পাইকগাছার ১ হাজার ৯৫০ জন জেলে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। তাঁরা সরকারি খাদ্যসহায়তা পান। জেলেরা শিবসা ও পশুর নদী হয়ে সুন্দরবনের দুবলার চর, আলোর কোল ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাছ আহরণ করেন। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হলে অনুমতি নিয়ে দুবলার চরে অস্থায়ী জেলেপল্লি গড়ে তোলেন তাঁরা।
জেলেদের অভিযোগ, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ পাওয়ার কথা থাকলেও নানা শর্তের কারণে তা পাওয়া কঠিন। ফলে বাধ্য হয়ে চড়া সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়। অন্যদিকে, সাগরের আকস্মিক ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নিম্নচাপের পাশাপাশি পর্যাপ্ত আধুনিক যোগাযোগ ও দিকনির্ণয় প্রযুক্তির অভাব তাঁদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
বোয়ালিয়া জেলেপল্লির বাসিন্দা অশোক বিশ্বাস বলেন, প্রতি বছর মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সমুদ্রে যেতে হয়। সরকারি সহায়তাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যুদের উৎপাত কিছুটা কমলেও জেলেদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়।
একই গ্রামের জেলে সিতেনাথ বিশ্বাস বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরে সরকারকে রাজস্ব দিলেও সমুদ্রে মাছ আহরণের জন্য সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায় না। জেলেদের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন তিনি।
জেলেদের প্রত্যাশা, সহজ শর্তে ঋণ, পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা এবং সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তাঁদের জীবিকা আরও নিরাপদ ও টেকসই হবে।









