রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

এআইতে আপনার গোপন জিজ্ঞাসা সত্যিই কি গোপন থাকে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
এআইতে আপনার গোপন জিজ্ঞাসা সত্যিই কি গোপন থাকে?

ইন্টারনেটে কিছু খোঁজার সময় মানুষ অনেক এমন বিষয়ও লিখে ফেলেন, যা তিনি হয়তো কারও সঙ্গে সরাসরি শেয়ার করতেন না। এখন সেই জায়গাটা ধীরে ধীরে দখল করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এআইতে করা ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল প্রশ্নগুলো কি সত্যিই গোপন থাকে?

প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি এই প্রশ্নটি এখন ব্যবহারকারীদের অন্যতম বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

এআই কি আপনার প্রশ্ন সংরক্ষণ করে?

বেশিরভাগ এআই সিস্টেম ব্যবহারকারীর প্রশ্ন বা ইনপুট কোনও না কোনোভাবে সংরক্ষণ করে। এর উদ্দেশ্য সাধারণত সেবার মান উন্নত করা, ভুল সংশোধন করা এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো উত্তর দেওয়া।

তবে এই সংরক্ষণ সবসময় ব্যক্তিগত পরিচয়সহ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তথ্যগুলো পরিচয়মুক্ত বা “অ্যানোনিমাইজড” করে রাখা হয়।

আপনার কথোপকথন কে দেখে?

কিছু ক্ষেত্রে এআই প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের সেবা উন্নত করতে মানুষের সহায়তা নেয়। তখন সীমিত পরিসরে কিছু কথোপকথন পর্যালোচনা করা হতে পারে।

তবে সাধারণত এসব প্রক্রিয়া কঠোর গোপনীয়তা নীতির আওতায় পরিচালিত হয় এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়।

কোথায় ঝুঁকি?

কি একেবারে নেই—এমন বলা যাবে না। ব্যবহারকারী যদি নিজের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড বা আর্থিক তথ্য সরাসরি লিখে দেন, তাহলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ যেকোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই তথ্য ফাঁসের সম্ভাবনা পুরোপুরি শূন্য নয়।

এছাড়া তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ বা অনির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।

গোপনীয়তা কতটা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গোপনীয়তার একটি বড় অংশ নির্ভর করে ব্যবহারকারীর আচরণের ওপর।

প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা এবং সংবেদনশীল তথ্য এড়িয়ে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?

এআই ব্যবহারের সময় কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। যেমন—ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য শেয়ার না করা, অপরিচিত বা সন্দেহজনক প্ল্যাটফর্ম এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের গোপনীয়তা নীতি পড়ে নেওয়া। এসব ছোট পদক্ষেপই বড় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

তাহলে কতটা গোপন?

সহজভাবে বললে—আংশিক। এআই আপনার প্রশ্ন প্রক্রিয়াজাত করে এবং অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণ করে, তবে তা সবসময় সরাসরি আপনার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে না।

তবে শতভাগ গোপনীয়তার নিশ্চয়তা কোনও অনলাইন সেবাই দিতে পারে না—এটাই বাস্তবতা।

শেষ কথা

এআই আমাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে, পাশাপাশি তৈরি করেছে নতুন ধরনের সচেতনতার প্রয়োজন।

আপনার গোপন জিজ্ঞাসা কতটা নিরাপদ থাকবে—তা শুধু প্রযুক্তির ওপর নয়, অনেকটাই নির্ভর করে আপনার সচেতন ব্যবহারের ওপর।

Ads small one

পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১০ মে) বিকেলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সরকারি আদেশ অমান্য করায় অভিযুক্তকে জরিমানাও করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মৌজার ১৪৯ দাগের ‘ক’ তপশিলভুক্ত সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন পরিদর্শন করে অবৈধ নির্মাণের প্রমাণ পান।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন তালা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, মাত্র এক শতক সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি আদেশ অমান্য করার দায়ে দ-বিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় নির্মাণাধীন স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জমি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জনস্বার্থে কোনো অবৈধ দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

এমএ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাল ডাক্তারি সনদ বিক্রি করে আসছিল ‘প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন’ (পিটিএফ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার (১০ মে) দুপুরে যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা অভিযান চালিয়ে ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দিয়েছেন।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছিলেন। সে সময় জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এ কে আজাদ ওরফে ইকতিয়ারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে লোকচক্ষুর অন্তরালে চক্রটি তাদের জাল সনদ বিক্রির বাণিজ্য অব্যাহত রাখে।
২০১৬ সালে খুলনার যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (জয়েন্ট স্টক) থেকে নিবন্ধন নিয়ে কেশবপুর শহরের মাইকেল মোড়ে একটি ভাড়া বাসায় পিটিএফের ‘কেন্দ্রীয় হেড অফিস’ খোলেন আবুল কালাম আজাদ। এরপর ডিএমএফ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফিসহ ৫৬টি ট্রেডে সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে ট্রেনিং সেন্টার শুরু করেন। আকর্ষণীয় লিফলেটের প্রলোভনে পড়ে বেকার যুবকরা এখানে আসতেন এবং কোর্সভেদে ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া ডাক্তারি সনদ হাতিয়ে নিতেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিষয়ক যেকোনো ট্রেনিং বা সনদ প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ কে আজাদ জয়েন্ট স্টকের একটি সাধারণ নিবন্ধনকে পুঁজি করে গত ১১ বছর ধরে অবৈধভাবে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সরকারি তদারকি না থাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, “পিটিএফ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুয়া সনদ বিক্রি করছেÑএমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তারা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খরিয়াটি গ্রামে স্বামীর গচ্ছিত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এক গৃহবধূর পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খরিয়াটি হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা আব্দুস সবুর সরদার এই ঘটনায় খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন ও নিজের স্ত্রী রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে আব্দুস সবুরের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আব্দুস সবুর বাড়িতে না থাকার সুযোগে রেশমা খাতুন দুই সন্তানকে ফেলে খোকনের সঙ্গে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি মাদ্রাসার সঞ্চয় তহবিলের নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা এবং ৩ ভরি ২ আনা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী আব্দুস সবুর জানান, রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংগৃহীত মাদ্রাসার টাকা ব্যাংক ছুটি থাকায় তিনি বাড়িতে রেখেছিলেন। স্ত্রী ও অর্থসম্পদ হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে। এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আদালতে সিআর ১৫৯/২৬ (আশাশুনি) নং মামলা দায়ের করার পর আসামিরা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী ০৮ নং আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।