একটি কাফনের নীরবতা
মোঃ নাজির হোসেন
অবহেলায় আজ গৃহকর্তা নীরব, নিথর প্রাণ,
যে হাতে গড়া সংসার, আজ সেই হাত অচেনা স্থান।
সন্তানের সুখের তরে বিলিয়েছেন জীবনভর,
নিজের স্বপ্ন পুড়িয়ে গড়েছেন তাদের ঘর।
বৌমা-নাতির হাসির তরে সহেছেন কত ক্ষয়,
বার্ধক্যে সেই মানুষটির কেন হলো পরাজয়?
চাননি তিনি ধন-সম্পদ, চাননি কোনো রাজ্য,
চেয়েছিলেন একটু মমতা, আপনজনের হৃদ্যতা মাত্র।
অবহেলার দহন সহে- চোখে জমেছে জল,
বৃদ্ধাশ্রমের নীরব রাতে স্মৃতিরাই সম্বল।
যে মা-বাবা বুক পেতে দিয়েছিল ঝড়ের আঘাত,
আজ তাদেরই খোঁজ নেওয়ার নেই যেনো অবকাশ।
একদিন হঠাৎ থেমে যাবে বুকের ভেতর সুর,
কাফনে ঢাকা দেহটি হবে আপন ঘর থেকে দূর।
তখন সন্তান কাঁদিবে, ডাকিবে— “বাবা, ফিরে এসো”,
কিন্তু সময় ফিরিবে না, কহিবেনা মাদুরটি পেতে বসো।
কিছুই নেননি সঙ্গে-ধন, বাড়ি, সোনা, মান,
রেখে গেছেন শুধু স্মৃতি, ভালোবাসা আর অভিমান।
হে সন্তান, বেঁচে থাকতেই মা-বাবাকে দিও সম্মান,
মৃত্যুর পরে অশ্রু নয়-জীবনেই দিও ভালোবাসার দান।








