বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

একটি বীজের ভবিষ্যৎ, একটি বনের অস্তিত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
একটি বীজের ভবিষ্যৎ, একটি বনের অস্তিত্ব

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলজুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবন শুধু একটি বনভূমি নয়Ñএটি একটি জীবন্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি প্রাকৃতিক ঢাল এবং উপকূলীয় মানুষের জীবনরেখা। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও, এর প্রকৃত গুরুত্ব নিহিত আছে এর প্রাকৃতিক পুনর্জন্মের ক্ষমতায়।

 

নদী, জোয়ার-ভাটা এবং কাদা-চরের জটিল সমন্বয়ে এই বন নিজেকে প্রতিনিয়ত পুনর্গঠন করে, টিকিয়ে রাখে হাজারো প্রাণ ও মানুষের অস্তিত্ব। সম্প্রতি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে “লংমার্চ ফর ফরেস্ট” কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদীর চরে ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচি কেবল একটি প্রতিবাদ নয়; এটি সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ রক্ষায় একটি গভীর সতর্ক সংকেত।

 

কারণ, যেটি একসময় প্রাকৃতিকভাবে বন সৃষ্টি করত, সেই প্রক্রিয়াই আজ মানুষের হস্তক্ষেপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সুন্দরবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর স্বয়ংক্রিয় পুনর্জন্ম ব্যবস্থা। সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, পশুরসহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ গাছের ফল ও বীজ জোয়ারের পানিতে ভেসে নদী, খাল ও চরের কাদায় পৌঁছে যায়। সেখানে উপযুক্ত পরিবেশ পেলে সেগুলো অঙ্কুরিত হয়ে নতুন গাছের জন্ম দেয়।

 

এই প্রক্রিয়ায় মানুষের কোনো পরিকল্পনা বা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয় না। প্রকৃতি নিজেই নির্ধারণ করে কোথায় কোন গাছ জন্মাবে। ফলে যে গাছ জন্মায়, তা সেই পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করে। কিন্তু গত কয়েক দশকে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। নদীর চরে ভেসে আসা বনজ বীজ স্থানীয় কিছু মানুষ জ্বালানি বা অন্যান্য প্রয়োজনে সংগ্রহ করছেন। এটি ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্ষুদ্র ঘটনা মনে হলেও, সমষ্টিগতভাবে এর প্রভাব ভয়াবহ।

অনেকে মনে করতে পারেন, কয়েকটি বীজ সংগ্রহ করলে কী এমন ক্ষতি হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিটি বীজ একটি সম্ভাব্য গাছ, আর প্রতিটি গাছ একটি সম্ভাব্য বাস্তুতন্ত্র। একটি পরিপূর্ণ ম্যানগ্রোভ গাছ শুধু কাঠ বা ছায়া নয়Ñএটি শতাধিক প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল, নদীর তীর সংরক্ষণের প্রাকৃতিক দেয়াল এবং কার্বন শোষণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অর্থাৎ একটি গাছ হারানো মানে একটি পুরো ক্ষুদ্র জীবনচক্রের সম্ভাবনা হারানো। যখন হাজার হাজার বীজ সংগ্রহ করা হয়, তখন ভবিষ্যতের বন গঠনের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।

 

এই ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও, দুই বা তিন দশক পরে এর প্রভাব ভয়াবহভাবে প্রকাশ পায়। বর্তমান বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের চরম বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ তার অন্যতম ভুক্তভোগী দেশ। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, আম্পান, ইয়াস কিংবা রেমালের মতো দুর্যোগ সুন্দরবনের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার পুনর্জন্ম ক্ষমতা। পুরোনো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নতুন গাছ জন্ম নিয়ে সেই ক্ষতি পূরণ করে। কিন্তু যদি সেই প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, তবে বন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে।

 

সুতরাং বনজ বীজ সংগ্রহ বন্ধের বিষয়টি কেবল বন সংরক্ষণের প্রশ্ন নয়; এটি জলবায়ু অভিযোজনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুন্দরবনকে বলা হয় বাংলাদেশের সবুজ ঢাল। ঘূর্ণিঝড়ের সময় এই বন বাতাসের গতি কমায়, জলোচ্ছ্বাসের শক্তি হ্রাস করে এবং নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ প্রতিটি নতুন গাছ ভবিষ্যতের একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা স্তম্ভ। একটি বীজ আজ রক্ষা পেলে তা ভবিষ্যতে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছে পরিণত হবে, যা হয়তো কোনো এক দুর্যোগে হাজার মানুষের জীবন বাঁচাবে।

 

তাই একটি বীজের গুরুত্ব কেবল পরিবেশগত নয়, এটি মানবিক নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত। তবে সমস্যাটিকে একমাত্র পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যাবে না। শ্যামনগর, আশাশুনি, কয়রা কিংবা মোংলা অঞ্চলের বহু মানুষ চরম দারিদ্র্েযর মধ্যে বসবাস করেন। বিকল্প জ্বালানি, কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক সুযোগের অভাবে তাঁরা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। নদীতে ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ তাঁদের কাছে সহজ ও সস্তা জ্বালানির উৎস। তাই শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা বাস্তবসম্মত হবে না। বরং এতে সামাজিক অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। এখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

পরিবেশ সংরক্ষণ করতে হলে আগে মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান বন আইন বন ধ্বংসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও “প্রাকৃতিকভাবে ভেসে আসা বীজ সংগ্রহ” বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নেই। ফলে এটি এক ধরনের ধূসর এলাকায় থেকে যায়, যেখানে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কঠিন। বন বিভাগের জনবল সীমিত, নদী ও চরের বিস্তৃতি বিশাল, আর স্থানীয় অর্থনৈতিক চাপ অত্যন্ত বেশি।

 

এই বাস্তবতায় শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক নীতিমালা, যেখানে পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া আলাদা করে সুরক্ষিত থাকবে। সুন্দরবনের কোন এলাকায় কত বীজ স্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, কোথায় পুনর্জন্ম বেশি হচ্ছেÑএ ধরনের তথ্য এখনো সম্পূর্ণভাবে সংগৃহীত নয়। ফলে পরিকল্পনা অনেকাংশে অনুমাননির্ভর। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ “ম্যানগ্রোভ পুনর্জন্ম মানচিত্র” তৈরি করা জরুরি। এতে করে সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও থাইল্যান্ডে ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে।

 

সেখানে “কমিউনিটি ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট” পদ্ধতিতে মানুষকে বন রক্ষার অংশীদার করা হয়। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ায় স্থানীয় জনগণকে আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে বীজ সংরক্ষণে উৎসাহিত করা হয়। ফলে বন ধ্বংসের প্রবণতা কমেছে এবং পুনর্জন্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশেও এই ধরনের অংশীদারিত্বভিত্তিক মডেল গ্রহণ করা যেতে পারে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম রক্ষায় কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরিÑপ্রথমত, নদীতে ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ নিয়ন্ত্রণে স্পষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প জ্বালানি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, স্থানীয় জনগণকে বন সংরক্ষণের অংশীদার করতে হবে। চতুর্থত, গবেষণাভিত্তিক পুনর্জন্ম মানচিত্র তৈরি করতে হবে।পঞ্চমত, ব্যাপক জনসচেতনতা কর্মসূচি চালাতে হবে। সুন্দরবন কেবল একটি বন নয়Ñএটি বাংলাদেশের জলবায়ু নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি।

 

এই বনের প্রতিটি বীজ ভবিষ্যতের একটি গাছ, প্রতিটি গাছ ভবিষ্যতের একটি ঢাল। আজ যে বীজ নদীতে ভেসে আসে, সেটি যদি রক্ষা করা যায়, তবে সেটিই একদিন উপকূলকে রক্ষা করবে। আর যদি সেই বীজ হারিয়ে যায়, তবে হারিয়ে যাবে ভবিষ্যতের বন, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। অতএব, প্রশ্নটি এখন আর শুধু বন রক্ষার নয়Ñপ্রশ্নটি হলো আমরা কীভাবে আমাদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করব।

একটি ছোট বীজ হয়তো চোখে তুচ্ছ, কিন্তু সেই বীজের মধ্যেই লুকিয়ে আছে একটি বন, একটি উপকূল এবং একটি জাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা।
লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

ইতিহাস গড়ার বাসনায় ফের ‘বরবাদ’ নির্মাতার ফ্রেমে শাকিব খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
ইতিহাস গড়ার বাসনায় ফের ‘বরবাদ’ নির্মাতার ফ্রেমে শাকিব খান

দেশীয় চলচ্চিত্রে ব্যাপক আলোড়ন তোলা ‘বরবাদ’-এর সাফল্যের পর আবারও এক হচ্ছেন সেই ছবির পরিচালক ও নায়ক। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের নতুন সিনেমায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন শাকিব খান।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নতুন প্রজেক্টটির আনুষ্ঠানিক সাইনিং সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ‘বরবাদ’ মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি দর্শকদের প্রশংসাও কুড়ায়। ছবিটি শাকিব খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্যে পরিণত হয়।

ঈদে মুক্তির পর প্রথম সাত দিনেই প্রায় ২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার টিকিট বিক্রির দাবি করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে সিনেমাটি এবং বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমাগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেয়।

একই টিমের নতুন সিনেমার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ।

 

যদিও নতুন সিনেমাটির নাম কিংবা গল্প এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির ঘোষণা দেওয়া হবে।

পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় জানিয়েছেন, এটি একটি অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার সিনেমা। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারই শাকিব খানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিকে, শাকিব খানও তার ফেসবুক পেজে সাইনিংয়ের মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “বরবার টিম আবারও ফিরছে। চলো ফের নতুন ইতিহাস গড়ি।”

নির্মাতাদের দাবি, ‘বরবাদ’-এর মতো এবারও দর্শকদের জন্য বড় পরিসরের একটি চমক নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

রোনালদো নাকি মদরিচ, কার বিদায় আজ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
রোনালদো নাকি মদরিচ, কার বিদায় আজ?

ফুটবল বিশ্বের দুই কিংবদন্তি লুকা মদরিচ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়সের ভারে দুজনই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। চলতি বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগালের শেষ ষোলোর লড়াই তাই শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নয়, বরং দুই মহাতারকার একজনের বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি টানার মঞ্চও। ম্যাচটা মাঠে গড়াবে আজ রাত ৩টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস।

পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনহা ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মদরিচ ও রোনালদো বিশ্ব ফুটবলের দুই অসাধারণ আইকন। ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সৌভাগ্য হয়েছে, যা আমার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা। মদরিচের সঙ্গেও আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল। যতটুকু দেখেছি, তিনি ভীষণ ভদ্র ও আন্তরিক একজন মানুষ। কিন্তু আগামীকাল একজনের যাত্রা শেষ হবেই। আমি চাই, সেটি যেন মদরিচের হয়।’

ক্রমশ সময় ফুরিয়ে আসছে দুই তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ৪১ বছর বয়সী মদরিচ এবং ৪০ বছর বয়সী রোনালদোর এটি শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ফলে বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি একজনের জন্য হয়ে উঠতে পারে বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুজন মিলে খেলেছেন ৪৭টি ম্যাচ। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তাদের ঝুলিতে উঠেছে মোট ছয়টি ব্যালন ডি’অর, যার পাঁচটিই রোনালদোর। আর ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে খেলতে গিয়ে জিতেছেন চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজও দুই কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, ‘তারা জনমতের ঊর্ধ্বে থাকা ফুটবলার। এত দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের ধরে রাখা-ই তাদের বিশেষ করে তুলেছে। ৪০ পেরিয়েও মদরিচ নিয়মিত খেলছেন এবং দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই কথা আমাদের অধিনায়ক রোনালদোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বয়স কেবল একটি সংখ্যা। আসল বিষয় হলো, তারা মাঠে কী দিচ্ছেন এবং ড্রেসিংরুমে কী ধরনের উদাহরণ তৈরি করছেন।’

এবারের বিশ্বকাপেও দুজনই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। তবে বয়সের ছাপ যে তাদের পারফরম্যান্সে পড়েছে, সেটিও স্পষ্ট।

পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচেই পুরো ২৭০ মিনিট খেলেছেন রোনালদো। করেছেন দুটি গোলও। তবে সতীর্থদের জন্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। ২৫০ মিনিটের বেশি খেলা ফরোয়ার্ডদের মধ্যে বল স্পর্শ, বল দখল, প্রগ্রেসিভ পাস এবং দ্বৈরথে অংশ নেওয়ার পরিসংখ্যানে তিনি পিছিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে মদরিচ খেলেছেন ২২৯ মিনিট। একটি অ্যাসিস্টসহ পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। তবে ২২৫ মিনিটের বেশি খেলা মিডফিল্ডারদের মধ্যে বল দখল ও দ্বৈরথের পরিসংখ্যানে তিনিও অনেকটাই নিচের দিকে।

তাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে দুই কিংবদন্তির চেয়ে তাদের সতীর্থদের ভূমিকাই হতে পারে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাঝমাঠের লড়াইকে দুই কোচই ম্যাচের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে দেখছেন।

এই জায়গায় পর্তুগালের শক্তি নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মতো। ভিতিনহা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও নেভেস, বের্নার্দো সিলভা ও রুবেন নেভেস—প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থানে বিশ্বের সেরাদের একজন।

অন্যদিকে অভিজ্ঞ মদরিচ ও মাতেও কোভাচিচের পাশাপাশি উদীয়মান পেতার সুচিচকে নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি মিডফিল্ড গড়ে তুলেছে ক্রোয়েশিয়া।

ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও মনে করছেন, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে মাঝমাঠেই। তার ভাষায়, ‘নিঃসন্দেহে এটি হবে বিশাল এক লড়াই। সম্ভবত মধ্যমাঠের আধিপত্যই ঠিক করে দেবে ম্যাচের ফল।’

খামেনির শেষ বিদায়ে কত কোটি মানুষ আসবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
খামেনির শেষ বিদায়ে কত কোটি মানুষ আসবে

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধের বার্তা বিশ্বকে পৌঁছে দিতেই এই উপস্থিতির আহ্বান জানান তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আগামী শনিবার (৪ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকতা প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, আমি সকল ইরানি জনগণকে আহ্বান জানাই, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ইসলামি ইরানের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় রচনা করুন। তিনি আরও বলেন, প্রতিশোধের জন্য জাতির আহ্বান যেন পুরো বিশ্বের কানে পৌঁছে যায়।

ঐতিহাসিক এই আয়োজন প্রসঙ্গে গালিবাফ বলেন, ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ চরম উত্তাল থাকায় খামেনির শেষকৃত্য এতদিন স্থগিত ছিল। তবে সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি সই হওয়ার পর, বর্তমানে চলমান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তার বাসভবনে নিহত হন। শনিবার তার মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাখা হবে। সেখানে তার নিহত স্বজনদের মরদেহও প্রদর্শন করা হবে।

কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। তাহলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান।

শেষ বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠান চলাকালে তেহরানের পাশাপাশি পবিত্র শহর কুম ও মাশহাদে সরকারি ছুটি পালন করা হবে। একই সঙ্গে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যান চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে শহরের কেন্দ্রের বড় অংশে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।