রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

এক রাতের বৃষ্টিতে ডুবেছে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল, জলাবদ্ধতায় নাকাল জনজীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
এক রাতের বৃষ্টিতে ডুবেছে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল, জলাবদ্ধতায় নাকাল জনজীবন

নিজস্ব প্রতিনিধি: এক রাতের রেকর্ড বৃষ্টিতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে সাতক্ষীরায়। পৌরসভাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাতে জেলায় ১৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

রাতভর টানা বর্ষণে পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ বিভিন্ন এলাকা এখন পানিতে থইথই করছে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, কলেজ মাঠ, হাসপাতাল চত্বর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ একাধিক সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় পানি জমে গেছে। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড থেকে শুরু করে মাছখোলা এলাকার বাসিন্দারা। এই এলাকার রাস্তাঘাটে এখন হাঁটুসমান পানি। ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ—অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় এই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোডের বাসিন্দা সবুর গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বছরের পর বছর ধরে সাতক্ষীরার মানুষ একই দুর্ভোগে পড়ে আছে। পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো কাজই ঠিকমতো করে না, সব কাজে তারা অনিয়ম করে থাকে। আমরা ২০ বছর এখানে বসবাস করছি; আগে হালকা বৃষ্টিতে তলিয়ে যেত, আর এখনো তাই যায়। তাহলে উন্নতিটা হলো কী? এখন বলছেন, নতুন সরকার এসেছে কাজ হবে। আল্লাহ জানেন আদৌ কাজ হবে কি না।”

একই এলাকার মাছখোলা গ্রামের গৃহবধূ শাহানারা বেগম বলেন, “১০ বছর ধরে এমন হয়, কিন্তু কোনো সমাধান নেই। রান্নাঘরে পানি ঢুকে হাঁড়ি-পাতিল নষ্ট, বন্ধ হয়ে গেছে খাওয়া-দাওয়া। সাপ-মাকড় ঢুকে পড়েছে, ঘুমাতে পারছি না। সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ জায়গায় থাকতে হচ্ছে।”

শিক্ষা কার্যকলাপেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। বৃষ্টিতে ‘দক্ষিণবঙ্গের অক্সফোর্ড’ খ্যাত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ টু মাছখোলা সড়ক এবং কলেজের খেলার মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। কলেজের শিক্ষার্থী সবুজ বলেন, “পানির কারণে কলেজে যেতে পারি না। হাঁটু পানি পার হয়ে যেতে আমাদের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এই সময়টা খুব দুর্ভোগে থাকতে হয়। টিউবওয়েল ডুবে গেছে, পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।”

একই অবস্থা কলারোয়া পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা, কার্যালয় ও শ্রেণিকক্ষ হাঁটুপানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য জেলা পরিষদ ও পৌর প্রশাসকসহ জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম কামরুলসহ কর্তৃপক্ষ।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা। প্যান্ট গুটিয়ে, বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ বাঁচিয়ে কোনোমতে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। এতে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি নিছু হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষায় চারপাশ থেকে পানি এসে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এবার মাঠ ছাড়িয়ে শৌচাগারে যাওয়ার পথটিও পানির নিচে চলে গেছে। বিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, মাঠ ভরাট ও স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলেও দীর্ঘ দিনেও কার্যকর সমাধান মেলেনি।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবু সাঈদ বলেন, “সরকার যেখানে শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়নে জোর দিচ্ছে, সেখানে জলাবদ্ধতার কারণে এই বিদ্যালয়ের শিশুরা স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অনেক অভিভাবক নিজেরাই সন্তানদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন।” বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জোছনা আরা বলেন, “শিশুদের এই সীমাহীন কষ্ট দেখে চুপ থাকা যায় না। তাই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য জোর দাবি জানিয়েছি।”

অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ১৪৯ নম্বর শ্রীফলকাটি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে মাঠের পানি উপচে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও মাঠ ভরাটের জন্য গত ৮ জুলাই জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম।

এদিকে বৃষ্টির কারণে কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও ভ্যানচালকের মতো খেটে খাওয়া মানুষ। ভ্যানচালক ভোলা জানান, “বৃষ্টির জন্য ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছি না, ভাড়াও নেই। প্রতিদিনের চাল-ডাল কেনা বন্ধ। এনজিওর কিস্তি কীভাবে দেবো, সেই চিন্তায় আছি।” একইভাবে দিনমজুর আখতারুল ইসলাম বলেন, “দুই দিন ধরে ঘরে বসে আছি। কোনো কাজ নেই। পরিবার নিয়ে খুব সমস্যায় পড়ে গেছি।”

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত বলেন, “নতুন সরকারের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন খাল ও নদী খনন করা হচ্ছে। ফলে আমি মনে করি এবার হয়তো শহরের জলাবদ্ধতা দূর হবে। পাশাপাশি শহরের স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হবে এবং প্রাণসায়ের খালে পানি নিয়ে যাওয়ার জন্য সব ড্রেন সচল করে প্রাণসায়ের খালের সাথে যুক্ত করা হবে। তখন আশা করি পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

Ads small one

পাইকগাছা লোনাপানি কেন্দ্র পরিদর্শনে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছা লোনাপানি কেন্দ্র পরিদর্শনে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় অবস্থিত লোনাপানি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র। গত ১০ ও ১১ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই টানা দুদিন তিনি কেন্দ্রের চলমান বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে মহাপরিচালক কেন্দ্রের সামগ্রিক গবেষণার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় তিনি গবেষণার মানোন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
লোনাপানি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কেন্দ্রপ্রধান ড. আজহার আলীর তত্ত্বাবধানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গোলাম সাজেদ রিয়ার, শফিকুল আলম রুবেল, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ও সায়মা সুলতানা সোননিয়াসহ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

 

কালিগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে একই পরিবারের তিনজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে একই পরিবারের তিনজন

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে খাবারের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে একই পরিবারের তিনজনকে অজ্ঞান করা হয়েছে। তবে পরিবারের এক সদস্য বিষয়টি বুঝতে পারায় ক্ষয়ক্ষতির কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে পরিবারটি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উপজেলার কুশলিয়া গ্রামের মৃত এছাক সরদারের স্ত্রী মাছাঃ রিজিয়া খাতুন (৪৫) জানান, ৯ জুলাই দিবাগত রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের রান্নাঘরে গোপনে প্রবেশ করে রাতের খাবারের সাথে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে দেয়। তিনি এবং পরিবারের অপর ৪ সদস্য রাত ১১টার দিকে ওই খাবার খান। এতে ৩জন তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞান হারান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তার মেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তিনজনকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগে তিনি আরও জানান, ১১জুলাই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও তারা এখনও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেননি। এ ছাড়া ঘটনার পর থেকে পরিবারের সবাই আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। ক্ষয়ক্ষতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।
এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

তালায় ৯ বছরেন শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
তালায় ৯ বছরেন শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

‎তালা প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউেিয়নের মহন্দী পূর্বপাড়া গ্রামে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
‎জানাগেছে, রোববার দুপুরে ওই শিশুটি রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় মহন্দী পূর্বপাড়ার মৃত হোসেন মোল্লার ছেলে জাকির মোল্লা বাবু (৩৫) শিশুটিকে কৌশলে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টা করলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে জাকির মোল্লা বাবু পালিয়ে যায়।
‎এব্যপারে তালা থানার ওসি (তদন্ত) শাখাওয়াত হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিশুটির হাত ধরে টানছিলেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
‎এদিকে ঘটনার পর থেকে জাকির মোল্লা তার ফোন বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎এদিকে, এ ঘটনায় থানায় মামলা বন্ধ রেখে বিষয়টি আপোষ মিমাংসার জন্য এলাকার একটি মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।