বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ: সাতক্ষীরার প্রাণের গুড়পুকুর মেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ: সাতক্ষীরার প্রাণের গুড়পুকুর মেলা

দীপঙ্কর বিশ্বাস

সাতক্ষীরা জেলার ইতিহাস, সামাজিক রূপরেখা আর সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে জড়িয়ে রয়েছে গুড়পুকুরের মেলা। তিন শত বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব কেবল পণ্য কেনাবেচার কোনো বাণিজ্যিক হাট নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের আবেগ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং শিকড়ের টানের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।

দীর্ঘ কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ১ অক্টোবর থেকে শুরু বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন, যা চলবে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। থমকে যাওয়া এই মেলা পুনরায় ফিরে আসায় পুরো সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক অভূতপূর্ব উৎসব-উদ্দীপনা ও প্রাণের স্পন্দন। গৃহস্থের আঙিনা থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি সর্বত্রই এখন আনন্দের গুনগুন সুর।

কালের আবর্তে ও পারিপার্শ্বিক নানা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের মেলায় হয়তো আগের মতো বিস্তীর্ণ পরিসর কিংবা সার্কাস, যাত্রা, হাউজি, জাদুপদ্যা, মৃত্যুকূপ কিংবা বিচিত্রা অনুষ্ঠানের মতো বিনোদনের সেই গমগমে রূপ দেখতে পাওয়া যাবে না। তবে বিনোদনের অনুষঙ্গে কিছুটা কাটছাঁট হলেও শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়ে পুনর্জীবিত হতে চলেছে, এতেই অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, জাঁকজমকের চেয়ে মেলার আসল সত্তা ও মূল চেতনাকে টিকিয়ে রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক লেনদেনের পাশাপাশি গুড়পুকুর মেলা যুগ যুগ ধরে কাজ করে আসছে সামাজিক মেলবন্ধনের এক অদৃশ্য সুতো হিসেবে।

গুড়পুকুরের মেলার দিনগুলোতে সাতক্ষীরার সামাজিক চিত্রে এক দারুণ রূপান্তর ঘটে। জেলা ও জেলার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আত্মীয়স্বজনেরা এ সময় সাতক্ষীরায় সমবেত হন। ঘরে ঘরে যেন এক অচেনা অতিথিপরায়ণতার ধুম পড়ে যায়। পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়ানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্য থেকে শুরু করে মাটি ও কাঠের তৈরি লোকশিল্পের কেনাকাটা এবং মেলা থেকে জিলাপি-খাজা কিংবা মন্ডা কিনে নেওয়ার যে আনন্দ, তা আধুনিক ডিজিটাল বিনোদনের যুগেও অতুলনীয়। সবচেয়ে বড় কথা, আধুনিক প্রযুক্তির কৃত্রিম দুনিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সামনে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য, মৃৎশিল্প ও নিজস্ব লোকজ সংস্কৃতিকে প্রত্যক্ষভাবে তুলে ধরার সবচেয়ে চমৎকার ক্ষেত্র তৈরি করে দেয় এই মেলা।

দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এই মিলনমেলা যেন কোনোভাবেই যেন বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনায় মলিন না হয়ে যায়, সে বিষয়েও সতর্ক নজর রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো, চাঁদা আদায়, ইভটিজিং কিংবা মব সৃষ্টির মতো অপচেষ্টা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মেলা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাভাবিক ও ভীতিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সকলের প্রত্যাশা সুরক্ষিত ও আনন্দঘন পরিবেশে এই আয়োজন রূপ নেবে একটি সার্থক সামাজিক উৎসবে, যা আমাদের হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ সংস্কৃতিকে আবারও স্বমহিমায় পুনরুজ্জীবিত করবে।

Ads small one

শরতের স্নিগ্ধ আলো আর উৎসবের আমেজে সাতক্ষীরায় শুরু হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
শরতের স্নিগ্ধ আলো আর উৎসবের আমেজে সাতক্ষীরায় শুরু হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: হেমন্তের আগমনী বার্তার মুখসন্ধানে, শরতের শুভ্র কাশবনের দোলা আর হিমেল হাওয়ার পরশ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বসেছে মিলনমেলা। বর্ণিল ফিতা কেটে এবং আকাশে রঙিন বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। এ ছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শরতের এই আনন্দ আয়োজনে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক প্রাঙ্গণ সেজেছে উৎসবের পোশাকে। স্থান পেয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক মনোহরি পণ্যের স্টল, চিরায়ত বাংলার বাঁশ ও বেতের শিল্পকর্ম, লৌহজাত দ্রব্যাদি এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান। শিশুদের আনন্দের রঙ বাড়াতে মেলায় চড়েছে নাগরদোলা, পুতুল নাচ ও ট্রেনগাড়ি। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লোকজ সংস্কৃতির এই উৎসব চলবে আগামী ২০ দিন।

উৎসবের আনন্দকে নিষ্কণ্টক রাখতে প্রশাসন গ্রহণ করেছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চাঁদাবাজি ও জুয়া বন্ধে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা মুড়ে দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে। সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।

শ্যামনগরে গাছ কাটতে বাধা পেয়ে মা-মেয়েকে পিটিয়ে জখম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে গাছ কাটতে বাধা পেয়ে মা-মেয়েকে পিটিয়ে জখম

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গাছ কাটায় বাঁধা পেয়ে ময়না বেগম(৫৫) ও তার মেয়ে আমিনা বেগম(২৬)কে পিটিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বুধবার বিকালে উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এসময় দুই নারীকে উদ্ধারে এগিয়ে আসায় আমিনার স্বামী আলআমিন মোড়লও মারধরের শিকার হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আমিনা বেগমের ভাষ্য তাদের জমি ইজারা নিয়ে নুরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি কাঁকড়ার হ্যাচারী গড়ে তুলেছে। বুধবার বিকালে পানখালীর সাইদের নেতৃত্বে নুরুজ্জামানের ৭/৮ জন কর্মচারী আকস্মিকভাবে উক্ত জমিতে থাকা কেওড়া ও বাইন গাছ কাটা শুরু করে। এসময় বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে তারা মা-মেয়ে বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে সাইদের নেতৃত্বে লাঠিশোটা দিয়ে গাছ কাটতে আসা লোকজন তাদের মারপিট শুরু করে। খবর পেয়ে তার স্বামী ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করায় তাকেও মারধর করা হয়।

আলআমিন মোড়লের দাবি তার স্ত্রীর পেটে মারাত্বকভাবে আঘাত করার কারনে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী শ^াশুড়ীও মারাত্বকভাবে আহত হয়েছে। ইজারা নেয়া জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নুরুজ্জামান তার লোকজন দিয়ে গত তিন বছর ধরে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের জমির উপর দিয়ে নির্মিত চলাচলের রাস্তা পর্যন্ত তারা তালাবদ্ধ করে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালাচ্ছে।

অভিযুক্ত নুরুজ্জামান জানান তিনি ঘটনাস্থলে না থাকায় তার কর্মচারীরা ভুল করেছে। ইতিমধ্যে আহত মা-মেয়ের চিকিৎসার দায়-দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে বসে মিমাংসার প্রস্তাবও দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম জানান লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করতে সহকারী উপ-পরিদর্শক নবীর হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নীলডুমুর বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে ৪০টি ডাস্টবিন বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
নীলডুমুর বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে ৪০টি ডাস্টবিন বিতরণ

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ডাস্টবিনে ফেলি, সুন্দরবনকে রক্ষা করি’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নীলডুমুর বাজারে বেসরকারি সংস্থা সিসিডিবির সিসিআরসি-এর সহযোগিতায় এ ডাস্টবিন বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোল্লার রুহুল আমিন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হালিম এবং সিসিডিবি পিসিআরসিবি প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রুপন, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার অমিতাভ হালদার, ফিল্ড অর্গানাইজার ওয়ারেসুর রহমান, সাখিরা খানম, দিল আফরোজসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে নীলডুমুর বাজারের ৪০ জন ব্যবসায়ীর হাতে একটি করে ডাস্টবিন তুলে দেওয়া হয়। বাজারের বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে উৎপন্ন প্লাস্টিকের প্যাকেট, বোতলসহ অন্যান্য বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ এবং পরবর্তীতে যথাযথভাবে অপসারণের উদ্দেশ্যে এসব ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকার বাজারগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। এসব বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখলে তা নালা-নর্দমা ও নদীতে গিয়ে পড়ার পাশাপাশি একসময় সুন্দরবনের জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবেশ রক্ষায় বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে প্লাস্টিক বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তারা আরও বলেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। সুন্দরবন ও এর আশপাশের নদ-খালকে প্লাস্টিক দূষণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি।

ডাস্টবিন বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ক্ষেত্রে তারা সচেতন থাকবেন। একই সঙ্গে বাজারে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানান তারা।