বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

কপ-৩১: প্রতিশ্রুতি না-কি বাস্তবায়ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ
কপ-৩১: প্রতিশ্রুতি না-কি বাস্তবায়ন

বাহলুল আলম

জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর দূর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় সংকট। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় লবণাক্ততা, নিরাপদ পানির সংকট, কৃষি ও জীবিকার ক্ষতি এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোনো দেশের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং কার্যকর বাস্তবায়ন। এই প্রয়োজন থেকেই জাতিসংঘের জলবায়ু প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে গড়ে উঠেছে কপ।

১৯৮৮ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের জন্য আইপিসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কাঠামো কনভেনশন বা ইউএনএফসিসিসি গৃহীত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব এমন পর্যায়ে স্থিতিশীল করা, যাতে জলবায়ু ব্যবস্থায় বিপজ্জনক মানবসৃষ্ট হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা যায়। ইউএনএফসিসিসি -এর অধীনেই প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় কপ। এর মাধ্যমে বিশ্বের দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ সিদ্ধান্ত নেয়, আগের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করে এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করে।

গত তিন দশকে কপ-এর মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অর্জন হয়েছে। ১৯৯৭ সালের কপ৩-এ কিয়োটো প্রটোকল গৃহীত হয়, যা উন্নত দেশগুলোর জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক চুক্তি। ২০০১ সালের কপ৭-এ মারাকেশ অ্যাকর্ডের মাধ্যমে কিয়োটো প্রটোকল বাস্তবায়নের জন্য নির্গমন হিসাব, রিপোর্টিং ও কমপ্লায়েন্সের বিস্তারিত নিয়ম তৈরি হয়। ২০০৭ সালের কপ১৩-এর বালি অ্যাকশন প্ল্যান নতুন দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থা তৈরির আলোচনার পথ তৈরি করে।

২০০৯ সালের কপ১৫ কোপেনহেগেন সম্মেলন জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সেখানে উন্নত দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বছরে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন মোবিলাইজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ক্ক সেলসিয়াস -এর নিচে রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং ১.৫ক্ক সেলসিয়াস সীমার গুরুত্ব আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালের কপ১৬ কানকুন অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে অভিযোজন, অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো শক্তিশালী হয়।

২০১১ সালের কপ১৭ ডারবান প্ল্যাটফর্ম সব দেশের অংশগ্রহণে একটি নতুন আইনগত জলবায়ু চুক্তির দিকে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ তৈরি করে। ২০১৩ সালের কপ১৯-এ প্রতিষ্ঠিত হয় ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ক ওয়ারশ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করে। এরপর আসে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক কপ২১ এবং প্যারিস চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ক্ক সেলসিয়াস -এর অনেক নিচে রাখা এবং ১.৫ক্ক সেলসিয়াস সীমায় রাখার প্রচেষ্টা চালানোর জন্য একটি নতুন বৈশ্বিক কাঠামো তৈরি হয়।

২০১৮ সালের কপ২৪-এ প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা, রিপোর্টিং ও অগ্রগতি পরিমাপের জন্য কাটোভিস প্যাকেজ বা প্যারিস রুলবুক -এর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম-কাঠামো তৈরি হয়। ২০২১ সালের কপ২৬ প্লাসগো ক্লাইমেট প্যাক্টে প্রথমবারের মতো কপ-এর সিদ্ধান্তে অনিয়ন্ত্রিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন -এর ধাপে ধাপে হ্রাস এবং অদক্ষ জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানোর আহ্বান অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০২২ সালের কপ২৭-এ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ক্ষয়ক্ষতি তহবিল প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের কপ২৮-এ প্রথম বৈশ্বিক স্টকটেক সম্পন্ন হয় এবং জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দূরে সরে যাওয়ার বৈশ্বিক আহ্বানসহ ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা তিনগুণ করার লক্ষ্য সামনে আসে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের কপ২৯ বাকু সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় এবং সব উৎস মিলিয়ে বছরে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।

তবে কপ-এর অর্জনের পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাও কম নয়। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো-প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবায়নের ব্যবধান কতটা কমেছে? জলবায়ু অর্থায়নের ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যটি তার একটি বড় উদাহরণ। ২০২০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনের কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ে অর্জিত হয়নি। ওইসিডি -এর হিসাবে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো উন্নত দেশগুলোর দেওয়া ও সংগৃহীত জলবায়ু অর্থায়ন ১১৫.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে তা ১৩২.৮ বিলিয়ন এবং ২০২৪ সালে ১৩৬.৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের দুই বছর পরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে-জলবায়ু অর্থায়নের অর্থ কি শুধুই অর্থের পরিমাণ? মোট অর্থের পাশাপাশি অর্থের ধরন, শর্ত, প্রবেশাধিকার এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীও গুরুত্বপূর্ণ। কতটা অর্থ অনুদান, কতটা ঋণ, কতটা অভিযোজনের জন্য, কতটা প্রশমনের জন্য এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে কতটা পৌঁছাচ্ছে-এসব প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন। কপ২৯-এর ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন লক্ষ্য তাই শুধু একটি সংখ্যাগত লক্ষ্য নয়; এর কার্যকর বাস্তবায়ন, অর্থের মান, সহজপ্রাপ্যতা এবং ন্যায্য বণ্টনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জলবায়ু অর্থায়নের প্রশ্ন থেকেই সামনে আসে-ঋণ নাকি ক্ষতিপূরণ? বাংলাদেশসহ জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে, তাদের যদি অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার জন্য অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়, তাহলে একদিকে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করতে গিয়ে অন্যদিকে ঋণের বোঝা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ক্ষয়ক্ষতি -এর ক্ষেত্রে অর্থায়নকে সাধারণ উন্নয়ন ঋণের সঙ্গে এক করে দেখলে জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি দুর্বল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের জন্য তাই পর্যাপ্ত, পূর্বানুমানযোগ্য, সহজপ্রাপ্য এবং বিশেষ করে ক্ষয়ক্ষতি ও অভিযোজনের ক্ষেত্রে অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের দাবি গুরুত্বপূর্ণ।

আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গতির ঘাটতি। একাধিক কপ-এ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ক্ক সেলসিয়াস সীমার মধ্যে রাখার জন্য যে দ্রুত ও ব্যাপক নির্গমন হ্রাস প্রয়োজন, তা এখনও একটি বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার বিষয়ে কপ২৬-এ শক্তিশালী ভাষা আসতেও দীর্ঘ সময় লেগেছে। একইভাবে ক্ষয়ক্ষতি তহবিল প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ ও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে অর্থ পৌঁছানো এখনও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
এই বাস্তবতার মধ্যেই সামনে আসছে কপ৩১। ২০২৬ সালের ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কপ৩১ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশকে এবার শুধু জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরলেই হবে না; বরং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্তে রূপ দেওয়ার জন্য সুস্পষ্ট, তথ্যভিত্তিক ও পরিমাপযোগ্য দাবি নিয়ে এগোতে হবে।

কপ৩১-এ বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অভিযোজন অর্থায়নে ন্যায্যতা। বাংলাদেশের উপকূলীয় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ ও নিরাপদ পানির সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন প্রয়োজন। এই অর্থায়ন হতে হবে পর্যাপ্ত, পূর্বানুমানযোগ্য, সহজপ্রাপ্য এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের উচিত ঋণনির্ভর জলবায়ু অর্থায়নের পরিবর্তে অনুদান ও সহজশর্তের অর্থায়নের দাবি জোরালো করা। বিশেষ করে ক্ষয়ক্ষতি -এর অর্থ যেন নতুন ঋণের বোঝা সৃষ্টি না করে, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যে যে ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তার জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল-এর কার্যকর অর্থপ্রবাহ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হওয়া উচিত। ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমি ও জীবিকার ক্ষতি এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির মতো বিষয়গুলোকে ক্ষয়ক্ষতি -এর আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে অর্থ ও সহায়তা পৌঁছানোর কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

চতুর্থত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপদ পুনর্বাসনকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় আরও গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়; তাদের জীবিকা, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি, কর্মসংস্থান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

পঞ্চমত, বাংলাদেশকে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আনতে হবে। জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, নিরাপদ পানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আগাম সতর্কতা, পানি ব্যবস্থাপনা, উপকূল সুরক্ষা ও স্থানীয় গবেষণার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান সহজলভ্য করা প্রয়োজন।

ষষ্ঠত, বাংলাদেশকে প্রকৃতিনির্ভর অভিযোজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। সুন্দরবন, ম্যানগ্রোভ, নদী, খাল, জলাভূমি, উপকূলীয় বন ও মিঠাপানির উৎস শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এগুলো জলবায়ু অভিযোজনেরও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রকৃতি ধ্বংস না করে প্রকৃতিকে অভিযোজনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।

সপ্তমত, জলবায়ু অর্থায়নকে স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, নারী, যুব, কৃষক, জেলে ও স্থানীয় সংগঠনকে অভিযোজন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। শুধু বড় জাতীয় প্রকল্প নয়, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন উদ্যোগেও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

অষ্টমত, কপ৩১-এ জলবায়ু অর্থায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হওয়া উচিত। কোন দেশ কত অর্থ দিচ্ছে, অর্থের কতটা অনুদান ও কতটা ঋণ, কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে, কতটা অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি -এ যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ কতটা সুবিধা পাচ্ছে-এসব তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এই জায়গায় রাষ্ট্রের পাশাপাশি সিভিল সোসাইটির দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিভিল সোসাইটির কাজ শুধু ঈঙচ-এ দাবি তোলা নয়; বরং কপ-এর প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা। জলবায়ু অর্থায়নের উৎস ও ব্যবহার অনুসরণ করা, জাতীয় বাজেট ও প্রকল্পের সামাজিক নিরীক্ষা করা, স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নথিবদ্ধ করা এবং সেই তথ্য নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরা-এসব কাজ আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে নারী, যুব, কৃষক, জেলে, উপকূলীয় জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কণ্ঠস্বর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় পৌঁছে দিতে হবে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত। কপ-এর সিদ্ধান্তকে জাতীয় নীতি, বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, এনডিসি এবং বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অর্থ, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় সরকারকে শুধু দায়িত্ব দিলে হবে না; প্রয়োজনীয় অর্থ, ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও দিতে হবে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানি, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ, নদী-খাল পুনরুদ্ধার, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, জীবিকা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং প্রকৃতি সংরক্ষণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, কপ-এর গত তিন দশকের অর্জনকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিয়োটো প্রটোকল, প্যারিস চুক্তি, ১.৫ক্ক সেলসিয়াস লক্ষ্য, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল, বৈশ্বিক স্টকটেক এবং জলবায়ু অর্থায়নের নতুন কাঠামো-এসবই আন্তর্জাতিক জলবায়ু রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কিন্তু জলবায়ু সংকটের বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে।

তাই কপ৩১-এ বাংলাদেশের বার্তা হওয়া উচিত-নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, পুরোনো প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই। ঋণনির্ভর জলবায়ু অর্থায়ন নয়, ন্যায্য, পর্যাপ্ত, সহজপ্রাপ্য ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাই। ক্ষয়ক্ষতি -এর অর্থ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। জলবায়ু ন্যায়বিচার মানে শুধু বেঁচে থাকা নয়; নিরাপদ পানি, খাদ্য, জীবিকা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করাও জলবায়ু ন্যায়বিচারের অংশ।

কপ৩১-এর সামনে তাই বাংলাদেশের মূল প্রশ্ন একটাই-বিশ্ব কি এবার প্রতিশ্রুতির রাজনীতি থেকে বাস্তবায়নের পথে এগোবে?

বাহলুল আলম, প্রধান নির্বাহী-সিভিক ভয়েজ বাংলাদেশ

Ads small one

সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ কি হারিয়ে যাবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ কি হারিয়ে যাবে?

তারিক ইসলাম

‎‘সুন্দরবন’—নামটির সঙ্গে গভীর রক্তের টান যেন ‘সুন্দরী’ গাছের। যে বৃক্ষের সমৃদ্ধি আর বিশালতায় টিকে আছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের মূল সৌন্দর্য ও পরিচয়, সেই সুন্দরী গাছই আজ আক্রান্ত এক মরণব্যাধিতে। বনজুড়ে চলছে গাছগুলোর নীরব বিদায়ের করুণ সুর। কেবল পাতা আর ডালপালা শুকিয়ে যাওয়া নয়, মড়ক ছড়িয়ে পড়ছে মূল কাণ্ড পর্যন্ত। এর পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে কমছে নতুন চারা গজানোর হারও। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র যে বড় ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সুন্দরী গাছের এই অসুস্থতা তারই এক মারাত্মক বার্তা।

‎সম্প্রতি সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে প্রকাশিত একটি সমীক্ষার ফলাফল পুরো দেশকে শঙ্কিত করে তুলেছে। ২০২৪–২৫ সালে পরিচালিত ‘সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থার পরিবীক্ষণ’ শীর্ষক দুই বছর মেয়াদি সমীক্ষা অনুযায়ী, বনের প্রায় ৩৯ শতাংশ সুন্দরী গাছই এখন ‘আগামরা’ বা ‘টপ-ডাইং’ (Top-Dying) রোগে আক্রান্ত। সব মিলিয়ে আক্রান্ত গাছের আনুমানিক সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ কোটি ৯৫ লাখ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে দুই কোটিরও বেশি গাছ গুরুতরভাবে মরে যাওয়ার মুখোমুখি।

‎পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ পরিচালনায় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক স্বপন কুমার সরকারসহ বিশেষজ্ঞ দলের গবেষণায় এই ভয়াল চিত্র উঠে এসেছে।

‎সুন্দরবনের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রধান বৃক্ষ যখন একযোগে রোগাক্রান্ত হয়, তখন এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট উদ্ভিদের সমস্যা থাকে না; পুরো বনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে দেয়। গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, উজান থেকে আসা মিষ্টি পানির প্রবাহ হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের নোনা পানির অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি—এসব মিলেই সুন্দরী গাছের জীবনীশক্তি শুষে নিচ্ছে। সুন্দরবনের মিষ্টি পানি ও মৃদু লবণাক্ত পরিবেশের ভারসাম্য বজায় না থাকায় মাটির বায়ুসঞ্চালন কমছে, যা গাছগুলোর গোড়া ও কাণ্ডকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার ওপর ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও পলি জমার কারণে বন নিজের প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে।

‎

‎সুন্দরবন কেবল নান্দনিক সৌন্দর্যের আধার নয়, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবর্ম। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের থাবা থেকে বছরের পর বছর বুক দিয়ে বাংলাদেশকে আড়াল করে রেখেছে এই ম্যানগ্রোভ বন। আর সেই বনের মূল কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ সুন্দরী গাছ যদি একে একে উজাড় হয়ে যায়, তবে গোটা উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ দুর্লভ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

‎

‎সুন্দরবনের এই নীরব আর্তনাদ আর উপেক্ষা করার সময় নেই। সময় এসেছে সুনির্দিষ্ট ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার:

‎

‎১. মিষ্টি পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার: উজান থেকে সুন্দরবনমুখী নদ-নদীগুলোতে মিষ্টি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে আন্তঅঞ্চলীয় ও জাতীয় পানিসম্পদ নীতিতে বিশেষ জোর দিতে হবে।

‎

‎২.পলি নিরসন ও নদী-খাল খনন: বনের অভ্যন্তরীণ যে নদ-নদী ও খালগুলো পলি ভরাট হয়ে মিষ্টি ও নোনা পানির ভারসাম্য নষ্ট করছে, সেগুলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুনঃখননের উদ্যোগ নিতে হবে।

‎

‎৩.রোগ প্রতিরোধে জোরালো গবেষণা: আগামরা রোগের সঠিক জীবাণু বা অণুজীব শনাক্ত করে তা থেকে সুন্দরী গাছকে রক্ষায় বন অধিদপ্তর এবং বিজ্ঞানীদের সমন্বিত গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন।

‎

‎৪.সুরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা ও নজরদারি: বনের যেসব এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি, সেগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে নতুন চারা উৎপাদন ও বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

‎

‎সুন্দরবন ছাড়া আমাদের মানচিত্রের এক বিরাট অংশকে কল্পনা করা যায় না, আর সুন্দরী গাছ ছাড়া সুন্দরবনের অস্তিত্ব অসম্পূর্ণ। ১২ কোটি ৯৫ লাখ সুন্দরী গাছের রোগাক্রান্ত হওয়া কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের প্রকৃতির বিপন্নতার স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এখনই যদি কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে হয়তো মানচিত্রে ‘সুন্দরবন’ নামটি থেকে যাবে, কিন্তু হারিয়ে যাবে তার আসল রূপকার—আমাদের ‘সুন্দরী’।

‎লেখক : তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

ডিসেম্বরে খুলনায় চালু হচ্ছে বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
ডিসেম্বরে খুলনায় চালু হচ্ছে বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট
পত্রদূত ডেস্ক: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় দেশের প্রথম বর্জ্য রিসাইকেল প্ল্যান্টের পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩ অক্টোবর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং ফলাফল সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে সবঠিক থাকলে ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে চালু হবে।
প্রকল্পটি চালু হলে একইসঙ্গে মিলবে সার, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ। এটি পরিচালনার জন্য দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি একটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি এলজিইডি এবং কেসিসির যৌথ সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফাস্ট ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে, এটি চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, এটি চালাবে প্রফেশনাল প্রাইভেট অপারেটর। ইতোমধ্যে কোম্পানি নিযুক্ত করা হয়েছে। এটি থেকে সার, জ্বালানি তেল ও বায়োগ্যাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ, প্লান্টের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরে চালু করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টের কম্পোস্ট ও পাইরোলাইসিস প্লান্টের যন্ত্রকৌশল ম্যাটারিয়ালস এ্যান্ড ম্যাটালোজিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে কারিগরি সহায়তার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ পাঁচ প্রকৌশলীকে নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি টিম। টিমের সদস্যরা প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সরজমিনে পর্যবেক্ষণে গত ১ অক্টোবর খুলনায় আসেন। ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় পরীক্ষা শেষে তারা ঢাকায় ফিরে যান।
টিমের সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. ইনসানুল করিম, প্রাক্তন সিনিয়র প্রকৌশলী একেএম শামসুল হুদা, প্রাক্তন নির্বাহী প্রকৌশলী, সানইয়ার্ড গ্রুপ বর্তমানে ন্যাশনাল কেমিক্যাল ম্যানুফাকচারিং কোঃ লিঃ-এর ডিএমডি প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল জব্বার, প্রাক্তন সিনিয়র প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ উদ্দিন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) প্রাক্তন চিফ সাইন্টিফিক অফিসার ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল গফুর। প্রতিনিধি দলের চারজন বুয়েট এবং বাকি একজন চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। যারা সবাই শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্লান্ট মেশিনারি ডিজাইনার।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে মতামত প্রকল্প পরিচালককে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প ম্যানেজার প্রকৌশলী পিন্টু মন্ডল। তিনি বলেন, প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সরজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি দল এসেছিলেন। তারা ২/৩ দিন এখানে ছিলেন। তাদের ক্লান্তির কারণে ৩৬ ঘণ্টা পাইরোলাইসিস করা হয়নি।
পাইরোলাইসিসের প্রসেস অনুযায়ী ৬ ঘণ্টা পর তেল আসা শুরুর ২/৩ ঘণ্টা মেশিন চালানোর পর বন্ধ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে পলিথিন এবং প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেলের মধ্য থেকে ১০ লিটার তেল পরীক্ষার জন্য স্যারেরা ঢাকায় নিয়ে গেছেন। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে পর্যালোচনা করে মিটিং করে মতামত প্রকল্পের পরিচালক স্যারকে জানাবেন। প্রকল্পের পরীক্ষামূলক ফলাফল সফল হয়েছে বলা যায়।
এর আগে গত ১ অক্টোবর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এরপর মেশিনারিজ সম্পূর্ণ সেট আপের পর শনিবার সকালে পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রযুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যায়।
বিগত ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শলুয়া বাজার-সংলগ্ন ১৭ একর জমিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে প্রকল্পটির উদ্যোক্তা। দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরডিপি-২)’র আওতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে এটিতে অর্থায়ন করেছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৫৩ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিন ধরনের বর্জ্য থেকে তিন ধরনের পণ্য উৎপাদন হবে। গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি হবে জৈব সার, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিক রিসাইকেল করে উৎপাদন করা হবে জ্বালানি তেল এবং কাঁচাবাজার থেকে সংগৃহীত বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োগ্যাস দিয়ে উৎপাদন করা হবে বিদ্যুৎ। অত্যাধুনিক পাইরোলাইসিস প্রযুক্তি ব্যবহারে বায়ু দূষণের কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন ২০ টন জৈব সার, ৪ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল এবং উৎপাদিত বায়োগ্যাস থেকে সাড়ে ৪০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। উৎপাদিত তেল ও বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র সরবরাহ করা হবে। প্রতি ব্যাচ বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সময় লাগবে এক সপ্তাহ।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় স্থাপিত বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট আগামী ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে। একইসঙ্গে বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গায় আরও একটি বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে রাজবাঁধ ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডে মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগার প্লান্টও শিগগিরই চালু হচ্ছে। এই তিনটি রিসাইক্লিং প্লান্ট চালু হলে মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

কয়রায় অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে ৬ জনকে আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
কয়রায় অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে ৬ জনকে আটক
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলায় ভাগবা গ্রামের ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। ১২ অক্টোবর বিশেষ অভিযানে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন ভাগবা গ্রামের  মোঃ আব্বাস গাজীর পুত্র ,মোঃ জিয়ারুল ইসলাম (২২), মোঃ মাসুদ সরদারের পুত্র মোঃ জাহিদুল ইসলাম (২০), মোঃ কেনা গাজীর পুত্র, মোঃ আব্দুল আলিম গাজী (২১), মোঃ শহিদুল গাজীর পুত্র মোঃ আলী হোসেন (২১),মোঃ আয়ুব আলী মোড়লের  পুত্র, মোঃ সিফাত হোসাইন (২৪), মোঃ নজরুল শেখের পুত্র মোঃ জাকারিয়া শেখ।
কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ রাশেদুল আলম জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়া খেলায়  ১২ অক্টোবর ভাগবা গ্রাম থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। অনলাইন জুয়া মামলায় আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।