শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

কয়রায় এক কলেজের ২৯ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
কয়রায় এক কলেজের ২৯ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য

জি এম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): খুলনার কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৯ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য। এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পাঠদান ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটি থেকে ২৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের এমন ফলের পেছনে পাঠদানের মান, শিক্ষকদের ভূমিকা, নিয়মিত ক্লাস ও শিক্ষার পরিবেশের প্রভাব খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এস এক আকবর হোসেন বলেন, ২৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিল এবং নিয়মিত কলেজে আসত না। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পরও অভিভাবকদের অনুরোধে তাদের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে এমন ফল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকশানা পারভীন বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Ads small one

কয়রায় শিক্ষকের বসতঘরে দুর্বৃত্তদের আগুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
কয়রায় শিক্ষকের বসতঘরে দুর্বৃত্তদের আগুন

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জি এম আব্দুর রশিদের বসতঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোরে জানালা দিয়ে ঘরে আগুন দেওয়ার এ ঘটনা ঘটে। এতে ঘরের পালঙ্ক, তোশক, বিছানাপত্র, কাপড়চোপড় ও পাশে থাকা ধানের গোলার কিছু অংশ পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে আব্দুর রশিদের বসতঘরে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে তাঁরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়দের দাবি, আব্দুর রশিদের ছেলে সাবেক ছাত্রনেতা তুফান। বর্তমানে তাঁরা পরিবারের সবাই খুলনায় অবস্থান করায় বাড়িটি ফাঁকা ছিল। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে আগুন দিয়েছে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফেরদৌস ঢালী বলেন, রশিদ মাস্টারের বসতঘরে আগুন লাগার খবর পেয়েছেন তিনি। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা জানা যায়নি।

হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ চার দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ চার দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। তবে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজকে এ বিধিনিষেধের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে নানা বাধার মুখে পড়লেও এই চার দেশের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোগাদ্দাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দেশ চারটিকে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমকে মোগাদ্দাম বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও সেগুলোতে বাধা দিচ্ছে না।

তিনি জানান, ভারতীয় জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ দেশটি থেকে ওষুধ আমদানি নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, চীনা জাহাজকে ছাড় দেওয়ার পেছনে বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখার বিষয়টি কাজ করছে।

তবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের এ ছাড়ের অর্থ বিনা মূল্যে পারাপারের সুযোগ নয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলাচলের অনুমতি পেলেও ভারতীয় জাহাজকে ট্রানজিট ফি বা পারাপারের মাশুল দিতে হতে পারে।

অর্থাৎ, ইরানের এ সিদ্ধান্তে চার দেশের জাহাজের জন্য প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা হলেও পারাপারের আর্থিক খরচ মওকুফ করা হয়নি।

বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক: আজ ৬ নভেম্বর, বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস। রাগ, ক্ষোভ কিংবা মতবিরোধের সময় চিৎকার না করে ধৈর্য, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দিবসটি পালিত হয়।

বাড়িতে, কর্মক্ষেত্রে, জনসমক্ষে কিংবা অনলাইনে—সব জায়গায় শান্ত ও সংযতভাবে কথা বলার গুরুত্ব তুলে ধরে দিবসটি। অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, ধৈর্যের সঙ্গে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করা এবং কথোপকথনে সৌজন্য বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য।

উঁচু স্বরে কথা বললে কেউ আতঙ্কিত হতে পারেন, আবার কেউ নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারেন। বিশেষ করে শিশুদের মনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শুধু কথার বিষয়বস্তু নয়, কীভাবে কথা বলা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবসের ইতিহাস

২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে দিবসটির সূচনা হয়। ‘লেটস স্টপ শাউটিং কমিউনিটি ইন্টারেস্ট কোম্পানি’ নামের একটি সংগঠন মানুষের কথা বলার ধরন নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়। সংগঠনটির মতে, চিৎকার সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে, মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। তাই শান্ত ও ভেবেচিন্তে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ব্রিটিশ কাউন্সেলর ইয়াসমিন শাহিন-জাফর এ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মতে, কণ্ঠস্বরের ওঠানামা ও কথা বলার ভঙ্গি অন্যের নিরাপত্তাবোধ এবং গুরুত্ব পাওয়ার অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। ধীরে ধীরে স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও পরিবারেও এ বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

২০২৪ সালে এ উদ্যোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। বিশেষ করে স্নায়ুবৈচিত্র্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তাঁদের ক্ষেত্রে মানসিক চাপের সময় চিৎকার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে সহানুভূতিশীল আচরণ ও শান্তভাবে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

প্রতি বছর ৬ নভেম্বর বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে স্কুল, অফিস ও পরিবারে নিজেদের কথাবার্তার ধরন নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন অনেকে। দিবসটির বার্তা হলো—শান্ত স্বর সম্পর্ককে সুন্দর করে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায়। কথা বলার ভঙ্গিতে সামান্য পরিবর্তনও অনেক সময় বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কীভাবে পালন করবেন?

দিবসটি পালনে বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন কথাবার্তায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই এর চর্চা শুরু করা যায়। প্রথমেই স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা নিচু স্বরে কথা বলার চেষ্টা করুন। এতে অন্যরাও শান্তভাবে উত্তর দিতে উৎসাহিত হতে পারেন। বিশেষ করে পরিবারের সদস্য ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংযত স্বর বজায় রাখা জরুরি।

কেউ কথা বলার সময় মাঝপথে বাধা না দিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শোনার অভ্যাস ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে মাথা নেড়ে বা হাসিমুখে বুঝিয়ে দিন যে আপনি তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন।

বাড়িতে এমন একটি জায়গা তৈরি করতে পারেন, যেখানে টেলিভিশন, মুঠোফোন বা অন্য কোনো যন্ত্রের উচ্চ শব্দ থাকবে না। সেখানে বই পড়া, বিশ্রাম নেওয়া কিংবা কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকা যেতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় সংযত ভাষা ব্যবহার করুন। কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে সবার সামনে তর্কে না জড়িয়ে আলাদাভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন।

এ ছাড়া এক দিনের জন্য টেলিভিশন, মুঠোফোন ও অন্যান্য যন্ত্রের শব্দ কমিয়ে রাখতে পারেন। অতিরিক্ত চিৎকার-চেঁচামেচি রয়েছে—এমন অনুষ্ঠান এড়িয়ে শান্ত গান বা পডকাস্ট শুনতে পারেন। এতে বাড়ি কিংবা কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ আরও শান্ত ও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে।