শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

কলারোয়ায় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় গুণী শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের অশ্রুসিক্ত চিরবিদায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় গুণী শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের অশ্রুসিক্ত চিরবিদায়

কলারোয়া প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মিজানুর রহমানের বড়ো ভাই এ জনপদের সুপরিচিত ও গুণী শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের মৃত্যুতে পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘ এক বছর ধরে কঠিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি হার মানেন মৃত্যুর কাছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় কলারোয়ার কুশোডাঙ্গা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান(৬০) মৃত্যুবরণ করেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে ভারাক্রান্ত ও আবেগঘন। মানুষের এই ব্যাপক উপস্থিতিই প্রমাণ করে সমাজে একজন মানুষ হিসেবে তিনি কতোটা শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ছিলেন।

গ্রামের ছায়াঘেরা শান্ত আঙিনায়, শ্যামল বৃক্ষরাজির তলে শুক্রবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় তাঁর নামাজে জানাজা। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় স্বজনদের কান্না আর শুভানুধ্যায়ীদের নীরব অশ্রুতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। গুণী শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের পিতার নাম আতিয়ার রহমান। ব্যক্তিগত জীবনে আক্তারুজ্জামান এক কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর অনুজ আরেক ভাই আসাদুজ্জামান সোনালী ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। স্থানীয়রা জানান, আক্তারুজ্জামান শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজের একজন আলোকবর্তিকা।

 

তাঁর আদর্শ, সততা ও মানবিক আচরণ দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই জানাজায় অংশ নেওয়া অনেকেই স্মৃতিচারণ করে বলেন, আক্তারুজ্জামান ছিলেন একজন সৎ, মানবিক ও আদর্শবান শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে দিয়েছিল।অশ্রুসজল চোখে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে এলাকাবাসী বলেন, তাঁর মৃত্যুতে সমাজ একজন আলোকিত মানুষকে হারালো।

 

জানাজায় শরিক হন নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মিজানুর রহমান, তার ছোটো ভাই সোনালী ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, কলারোয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু নসর, কলারোয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু ও সাবেক অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিন, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদ, সোনারবাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু, কুশোডাঙ্গার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, শিক্ষক নেতা আমানুল্লাহ আমান, আব্দুর রউফ, মোস্তফা বাকি বিল্লাহ শাহী, আব্দুল করিম, প্রধান শিক্ষক আখতার আসাদুজ্জামান, প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল, প্রভাষক আরিফ মাহমুদ প্রমুখ।

 

 

 

 

 

 

Ads small one

খোলা কিতাব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
খোলা কিতাব

মোঃ রহমত আলী
তিঁনি তো আছেন সাক্ষী,
যা হয়েছে, যা হচ্ছে, আর যা যা হবে,
বিচারকেরও বিচারক, মহা ন্যায়বিচারক।
এখানে সত্য-মিথ্যা প্রমাণ-নির্ভর,
কিন্তু সেদিন ওখানে.. সবার খোলা কিতাব।

তিঁনি তো আছেন দেখছেন,
কে মৌ-লভী, কে মৌলবী, আর কে মোল্-লা,
যার যা ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা সবই।
এখানে জল ঘোলা করে পার পেলেও –
ওখানে কিন্তু সেদিন.. নিশ্চিত জবাবদিহি।

তিঁনি তো আছেন অন্তর্যামী,
কে-বা চোর! কে-বা সাধু! অজানা নেই তাঁর।
কোনটা সুদ, কোনটা ঘুষ, কোনটা তওফা!
এখানে সব ঢাকা, নানা মুখোশে ও পোশাকে,
কিন্তু ওখানে সেদিন.. পরিমাপ ও পরিণাম।

ক্ষতবিক্ষত কানন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ক্ষতবিক্ষত কানন

মোঃ রহমত আলী
শহরের সজ্জিত বাগিচাগুলো বিবর্ণ প্রায়,
প্রজাপতি উড়তে দেখা যায় না তেমন আর!
ডাকে না কাক, ডাকে না সুরে সুরে কোকিল;
গুলবাহারে অবহেলিত কতো ফুল কতো কুঁড়ি।

পুষ্পগুলো অবিরত নির্যাতিত হায়্ গুলবাগে,
পাখিদের কান্নায় বাতাস ভারী কানন জুড়ে!
শহরের সাজ-সাজ-রব গোলকধাঁধার ন্যায়,
জীবন্ত লাশ ঘুরে বেড়ায় পথে ঘাটে ফুটপাতে।

অনাকাক্সিক্ষত নির্যাতন, অপ্রত্যাশিত হত্যা,
প্রতিনিয়তই শহরজুড়ে ক্ষতবিক্ষত আর্তনাদ!
অনিরাপদ আজ বাগিচা রহস্যময় রক্তস্রোতে;
মেতে উঠেছে কারা গুলিস্তানের ধ্বংসলীলায়?

গীতাঞ্জলির সুরে আজও বাজে সেই অমৃত বাণী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
গীতাঞ্জলির সুরে আজও বাজে সেই অমৃত বাণী

অরুণ সান্যাল
শ্রাবণ আকাশ আজ বরিষণে ম্লান হয়ে আসে
তোমার প্রয়াণলগ্নে মন মোর বিষাদে ভাসে!
বাইশে শ্রাবণের ধারা ঝরে পড়ে অবিরল পাতার মায়ায়,
তুমি চলে গেছ বহু দূরে, তবু আছ অন্তরের গহনায়।
তোমার লেখনীতে
ফুটে উঠত বাংলার মাটি আর সুজলা-সুফলা নদী,
আজো তোমাকেই স্মরণ করি প্রতি ক্ষণে, প্রতিপদী।
“সোনার তরী” বেয়ে তুমি চলে গেলে চিরকালের তরে
তোমার অভাব আজও মোরা অনুভব করি অন্তরে।
গীতাঞ্জলির সুরে আজও বাজে সেই অমৃত বাণী,
তোমার কীর্তিগাথা গাইছে মোদের প্রতিটি তরুণ প্রাণী।
রক্তকরবীর আলোয়
আজও খুঁজে ফিরি মুক্তির ঠিকানা,
তোমার ভাবের রাজ্যে নেই তো কোনো সীমানা।
তুমি তো শুধু কবি নও, তুমি বাঙালির প্রাণ,
তোমার স্মরণে আজ হৃদয়ে বেজে ওঠে বিষাদের গান!
পঁচাশির শ্রাবণ দিনে নিভেছিল তোমার নশ্বর প্রদীপ,
তোমার অমর বাণী
আজও জ্বলে হৃদয়ে, উজ্জ্বল প্রদীপ্ত দ্বীপ।
হে বিশ্বকবি,
তোমার চরণে জানাই মোর শত কোটি প্রণাম,
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে
চিরদিন অমর থাকবে তোমার নাম।