শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কলারোয়ায় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় গুণী শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের অশ্রুসিক্ত চিরবিদায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় গুণী শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের অশ্রুসিক্ত চিরবিদায়

0-4024x1784-0-0-{}-0-12#

কলারোয়া প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মিজানুর রহমানের বড়ো ভাই এ জনপদের সুপরিচিত ও গুণী শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের মৃত্যুতে পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘ এক বছর ধরে কঠিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি হার মানেন মৃত্যুর কাছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় কলারোয়ার কুশোডাঙ্গা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান(৬০) মৃত্যুবরণ করেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে ভারাক্রান্ত ও আবেগঘন। মানুষের এই ব্যাপক উপস্থিতিই প্রমাণ করে সমাজে একজন মানুষ হিসেবে তিনি কতোটা শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ছিলেন।

গ্রামের ছায়াঘেরা শান্ত আঙিনায়, শ্যামল বৃক্ষরাজির তলে শুক্রবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় তাঁর নামাজে জানাজা। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় স্বজনদের কান্না আর শুভানুধ্যায়ীদের নীরব অশ্রুতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। গুণী শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের পিতার নাম আতিয়ার রহমান। ব্যক্তিগত জীবনে আক্তারুজ্জামান এক কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর অনুজ আরেক ভাই আসাদুজ্জামান সোনালী ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। স্থানীয়রা জানান, আক্তারুজ্জামান শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজের একজন আলোকবর্তিকা।

 

তাঁর আদর্শ, সততা ও মানবিক আচরণ দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই জানাজায় অংশ নেওয়া অনেকেই স্মৃতিচারণ করে বলেন, আক্তারুজ্জামান ছিলেন একজন সৎ, মানবিক ও আদর্শবান শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে দিয়েছিল।অশ্রুসজল চোখে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে এলাকাবাসী বলেন, তাঁর মৃত্যুতে সমাজ একজন আলোকিত মানুষকে হারালো।

 

জানাজায় শরিক হন নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মিজানুর রহমান, তার ছোটো ভাই সোনালী ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, কলারোয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু নসর, কলারোয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু ও সাবেক অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিন, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদ, সোনারবাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু, কুশোডাঙ্গার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, শিক্ষক নেতা আমানুল্লাহ আমান, আব্দুর রউফ, মোস্তফা বাকি বিল্লাহ শাহী, আব্দুল করিম, প্রধান শিক্ষক আখতার আসাদুজ্জামান, প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল, প্রভাষক আরিফ মাহমুদ প্রমুখ।

 

 

 

 

 

 

Ads small one

না-এ কোনও ইতিহাস নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
না-এ কোনও ইতিহাস নয়

মারিয়া নূর
কয়েক মিলিয়ন কষ্টের বরাদ্দ নেওয়া ছিলো
আগেই, অনেক আগেই।
এখন আর বাড়তি দেনার দায় নেই ভাগ্যলিপিতে।
সুখেরা তো বরাবরই মুখচোরা
তাই আর ঘাঁটাতে চাইনি ওদের নতুন করে।

ফিরে যাওয়া বসন্তের আক্ষেপ পত্রে
অভিযোগ ছিলো – অপয়া মুখদর্শনের।
এখন দফায় দফায় হাজিরা চলে
জজকোর্ট থেকে হাইকোর্টের বারান্দায়।

সানগ্লাসটা ছোট হতে হতে
এখন মোটা ফ্রেমের চশমায় পরিনত।
চোখের নিচে বয়সের পাটিগণিত।
নামতা ভুলে গেছি সেই কবে;
উপপাদ্য বা সম্পাদ্য যাই বলো
সকল সুত্রের কারসাজিতে এখন
চোখ রাঙানি দেখি ভীষণ রকম।

যারা একসময় স্বপ্নের পরিচয়ে
চোখের সমুদ্রে খেলতো গোল্লাছুট;
বৃদ্ধ বটের নুয়ে পড়া তর্জনী আঁকড়ে
ওরাও ঝুলে থাকে অলস দুপুরে।

এখন আর দিবাকরের হৃদপি-ে কামড় দিয়ে
রোদ চুরি করে না কেউ।

না – এ কোনও ইতিহাস নয়;
রবীঠাকুরের ছোট গল্প? না তাও না।
এ হলো সেই চমকপ্রদ উপন্যাস
যার বিশেষ ক’টা পৃষ্ঠা অলক্ষেই অন্তর্ধান।

নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

বাবুল চৌধুরী
খোলা চুলে বাইরে এসো না এই ঘোর পূর্ণিমা-রাতে
সনাতন চাঁদ আকাশে সওয়ার চাঁদের জোয়ার, তাই
জোছনায় আহত হতে পারো আমিও চন্দ্রগ্রস্থ বলে
এক শ’ বছর পেছনে তাকাই অথবা তারও বেশি
সময়ের উল্টো স্রোতে, তোমার মুখে দেখি দীঘল
ফসলের মাঠ, চুলে খরতর নদী, ও শাড়ির জমিনে
জড়ানো স্থির অথবা অনেক উড়ন্ত ফিঙের ডানা,
আঁচলে আদরে আগলে রেখেছ নাকি ধান স্বর্ণালী!
আরেক মানবীর মতো তখন তুমি, যে মুখ বহু বছর
আগে দেখেছি – সে ছন্দে নাচে, উঠোনে হেসে যায়

এখনি ঢেঁকির শব্দ উঠবে, ঢেঁকিতে পড়ছে তার পা
স্বপ্নের ভেতর তার ছন্দিত পা দেখি, ধান ভাঙা হলে
এখনই দেবে সে নবান্নের ডাক, এখন চাঁদের মতো
সব থালা ভরবে নতুন খাদ্য-কণায়, নিরন্ন লোকালয়

নবান্নের সাড়া পেয়ে যায়, আকাশে চাঁদের জোয়ার –
এ নবান্নে নিমগ্ন আমি – খোলাচুলে বাইরে এসো না

সুখের দিনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
সুখের দিনে

ফাহিম শাহরিয়ার রুমি
সুখের দিনে কেন এ হৃদয়
নিভৃতে কাঁদিতে চায়?
হাসির আড়ালে কার যেন বেদনা
নীরবে ভাসিয়া যায়।

রৌদ্রঝলমল প্রভাত-আকাশে
স্বর্ণরেখা খেলে যায়,
তবু মোর চিত্তে অকারণ ছায়া
নিভৃত ব্যথা বুনে যায়।

সবাই যখন গাহে আনন্দগান,
মিলন-সুরে মাতে প্রাণ,
আমি কেন শুনি বিরহের বীণা
অশ্রুর মৃদু তান?

ফুলে ভরা এ জীবনের বাগান,
গন্ধে ভরে চারিধার,
তবু কেন যেন মলিন হইয়া
ঝরে পড়ে অন্তর-হার।

হায়, সুখের মাঝে লুকায়ে থাকে
দুঃখের অচেনা রূপ,
মানব-হৃদয় তাই চিরদিন
বিরোধে গাঁথা এক সুরূপ।