সংবাদদাতা: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ০৬ নম্বর ওয়ার্ডের তেঁতুলডাঙ্গা গ্রামে বেতনা নদীর তীরে ২ হাজার বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৪ থেকে ১৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। নদীতীরবর্তী পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তের সার্বিক নির্দেশনা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও তত্ত্বাবধানে এবং ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এতে ৫৪ জন শিশু ও যুবদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
জীবন দক্ষতা থেকে পরিবেশ সুরক্ষা: শিশু ও যুবদের সক্রিয় অংশগ্রহণ
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় জীবন দক্ষতাবিষয়ক সেশনের মাধ্যমে শিশুদের নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব সেশনে অর্জিত জ্ঞান ও অনুপ্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে শিশুরা কমিউনিটি পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বেতনা নদীর তীরে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমে শিশু ও যুবরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। বৃক্ষরোপণের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে তাদের সম্পৃক্ততা জীবন দক্ষতা সেশনে অর্জিত শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের একটি ইতিবাচক উদাহরণ। এর মাধ্যমে শিশুরা পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব অনুধাবনের পাশাপাশি নিজেদের কমিউনিটির উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছে।
প্রায় সাত বিঘা জমিতে বৃক্ষরোপণ, গুরুত্ব পাচ্ছে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ:
এ সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের আওতায় বেতনা নদীর তীরবর্তী প্রায় সাত বিঘা জমিতে দুই হাজার বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। রোপণকৃত গাছের মধ্যে রয়েছে কদবেল, তেঁতুল, গোলপাতা, খইবাবলা, বাবলা, কাঁকড়া, বাইন, কাঁকড়া, পবন ঝাউ ও কেওড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ।
স্থানীয় পরিবেশ ও নদীতীরবর্তী এলাকার বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রোপণকৃত চারার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় স্থানে নেট বা জাল, খুঁটি ও বাঁশের বেড়া ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো বেড়ে উঠলে নদীতীরবর্তী পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্মিলিত উদ্যোগে চলবে বৃক্ষের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ:
বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণকৃত চারাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় কমিউনিটি, ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদ এবং বন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। শিশু ও যুবদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা এ কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারি প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, বন বিভাগ এবং কমিউনিটির সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ সামাজিক বনায়নকে একটি টেকসই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে পরিণত করার প্রত্যাশা রয়েছে।
জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার উদ্যোগ
উপকূলীয় সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিবর্তনের নানা ঝুঁকির মুখোমুখি। এ প্রেক্ষাপটে বেতনা নদীর তীরে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় পর্যায়ের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।
বিশেষ করে শিশু ও যুবদের জীবন দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বাস্তব সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা তাদের নেতৃত্ব, সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে সহায়তা করে। এ ধরনের উদ্যোগে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ পরিবেশ সংরক্ষণকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
যথাযথ পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বেতনা নদীর তীরের এ সামাজিক বনায়ন ভবিষ্যতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।