বদিউজ্জামান: অধস্তন আদালত মনিটরিং কমিটির খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া বলেছেন, বার ও বেঞ্চের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তা দূর করা এবং যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। এজন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা আড়াইটায় সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া বলেন, বর্তমানে মামলা নিষ্পত্তির হার আশানুরূপ নয়, যা উদ্বেগের বিষয়।
বিচারপ্রাপ্তির পথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকলে—তা বিচারক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কিংবা পদ্ধতিগত সমস্যা যাই হোক না কেন—সেসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। বেঞ্চের পক্ষ থেকে কোনো অসহযোগিতা থাকলে সেটিও জানাতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন, সরকারি কৌশলী অ্যাডভোকেট অসীম কুমার ম-ল, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুস সাত্তার, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, অ্যাডভোকেট সোমনাথ ব্যানার্জী, অ্যাডভোকেট মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু, অ্যাডভোকেট তারক কুমার মিত্র, অ্যাডভোকেট কু-ু তপন কুমার, অ্যাডভোকেট ফেরদৌসী আরা লুসি, অ্যাডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামান ও অ্যাডভোকেট আকবার আলীসহ আহ্বায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান সংকট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে ওই ট্রাইব্যুনালে চার হাজারেরও বেশি মামলা বিচারাধীন থাকলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেখানে কোনো বিচারক নেই। দ্রুত বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি আরও একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের দাবি জানান তারা।
এছাড়া অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের সময়ে নতুন আদালত সৃষ্টি হলেও প্রয়োজনীয় বিচারক, জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে বিচারিক কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩০টি বিচারকের পদ এবং শতাধিক সহায়ক কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বলে তারা জানান। বিচারিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক ও জনবল নিয়োগের দাবি জানান আইনজীবীরা।
সভায় আইনজীবী নেতৃবৃন্দ সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সামগ্রিক কর্মকা-ের প্রশংসা করে বলেন, দেড় বছর আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ঘুষ ও দুর্নীতি রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকা-ে গতিশীলতা এনেছেন। আদালতের অবকাঠামোগত সংস্কার ও বিচারাঙ্গনের সৌন্দর্যবর্ধনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া আইনজীবী নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে বিচারপ্রার্থীরা যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পান, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের ইতিবাচক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আইনজীবী সমাজের সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরায় পৌঁছালে বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিকেলে তিনি জেলার কর্মরত বিচারকদের সঙ্গেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। পরে সন্ধ্যায় তিনি খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।