মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে আইনজীবীদের সহযোগিতা চাইলেন বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে আইনজীবীদের সহযোগিতা চাইলেন বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া

বদিউজ্জামান: অধস্তন আদালত মনিটরিং কমিটির খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া বলেছেন, বার ও বেঞ্চের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তা দূর করা এবং যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। এজন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা আড়াইটায় সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া বলেন, বর্তমানে মামলা নিষ্পত্তির হার আশানুরূপ নয়, যা উদ্বেগের বিষয়।

 

বিচারপ্রাপ্তির পথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকলে—তা বিচারক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কিংবা পদ্ধতিগত সমস্যা যাই হোক না কেন—সেসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। বেঞ্চের পক্ষ থেকে কোনো অসহযোগিতা থাকলে সেটিও জানাতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন, সরকারি কৌশলী অ্যাডভোকেট অসীম কুমার ম-ল, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুস সাত্তার, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, অ্যাডভোকেট সোমনাথ ব্যানার্জী, অ্যাডভোকেট মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু, অ্যাডভোকেট তারক কুমার মিত্র, অ্যাডভোকেট কু-ু তপন কুমার, অ্যাডভোকেট ফেরদৌসী আরা লুসি, অ্যাডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামান ও অ্যাডভোকেট আকবার আলীসহ আহ্বায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান সংকট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে ওই ট্রাইব্যুনালে চার হাজারেরও বেশি মামলা বিচারাধীন থাকলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেখানে কোনো বিচারক নেই। দ্রুত বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি আরও একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের দাবি জানান তারা।

এছাড়া অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের সময়ে নতুন আদালত সৃষ্টি হলেও প্রয়োজনীয় বিচারক, জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে বিচারিক কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩০টি বিচারকের পদ এবং শতাধিক সহায়ক কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বলে তারা জানান। বিচারিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক ও জনবল নিয়োগের দাবি জানান আইনজীবীরা।

সভায় আইনজীবী নেতৃবৃন্দ সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সামগ্রিক কর্মকা-ের প্রশংসা করে বলেন, দেড় বছর আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ঘুষ ও দুর্নীতি রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকা-ে গতিশীলতা এনেছেন। আদালতের অবকাঠামোগত সংস্কার ও বিচারাঙ্গনের সৌন্দর্যবর্ধনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া আইনজীবী নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে বিচারপ্রার্থীরা যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পান, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের ইতিবাচক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আইনজীবী সমাজের সহযোগিতা কামনা করেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরায় পৌঁছালে বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিকেলে তিনি জেলার কর্মরত বিচারকদের সঙ্গেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। পরে সন্ধ্যায় তিনি খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় ‘ডিজাস্টার অ্যালার্ট’ অ্যাপের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ‘ডিজাস্টার অ্যালার্ট’ অ্যাপের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা

সংবাদদাতা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাতক্ষীরায় ‘বাংলাদেশ ডিজাস্টার অ্যালার্ট’ মোবাইল অ্যাপের এক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩ জুন বিকেল তিনটায় সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘর সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উত্তরণ’ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন’ যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এই অ্যাপটির মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়, ভারী বর্ষণ, বজ্রপাত, বন্যা ও তাপপ্রবাহসহ ১২টি মারাত্মক দুর্যোগের পূর্বাভাস সরাসরি ব্যবহারকারীর মোবাইল ফোনে পৌঁছে যাবে। এতে উপস্থিত ছিলেন প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কর্মকর্তা রাফসান আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম, জাহিদ হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান রিপন।

 

সাতক্ষীরা পৌরসভার পক্ষে অংশ নেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান তালুকদার, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. রবিউল আলম। এছাড়াও প্রথম আলো বন্ধুসভা সাতক্ষীরার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমনসহ বিভিন্ন যুব সংগঠনের ২৫ জন সদস্য ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

আশাশুনিতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জাল ওয়ারেশ সনদ দেওয়ার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জাল ওয়ারেশ সনদ দেওয়ার অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে জাল ওয়ারেশ সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথি ও পূর্বের রেকর্ড উপেক্ষা করে অতিরিক্ত দুই ব্যক্তির নাম সংযুক্ত করে এই সনদ দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, খাজরা ইউনিয়নের রাওতাড়া গ্রামের মৃত খগেন্দ্রনাথ মন্ডলের পাঁচ ছেলে হলেন—গোবিন্দ মন্ডল, মহিন্দ্র মন্ডল, রবিন মন্ডল, রঞ্জন মন্ডল ও সুশান্ত মন্ডল। ১৯৮২ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক আলী মোড়ল এবং পরবর্তীতে ২০১৬ ও ২০২৩ সালে সাবেক চেয়ারম্যান এসএম শাহানেওয়াজ ডালিম প্রদত্ত ওয়ারেশ সনদে এই পাঁচজনকেই বৈধ ওয়ারেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযোগ উঠেছে, গত ৫ জুন বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু পূর্বের সব সরকারি রেকর্ড উপেক্ষা করে একটি নতুন ওয়ারেশ সনদ ইস্যু করেন। সেখানে মৃত খগেন্দ্রনাথ মন্ডলের পিতার নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি অনিতা মন্ডল ও দুর্গা রানী মন্ডল নামের আরও দুই নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে মোট সাতজনের নামে সনদ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী রবিন মন্ডল অভিযোগ করেন, কয়েক দশক ধরে সরকারি নথিতে পাঁচজনের নাম থাকলেও মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বর্তমান চেয়ারম্যান নতুন দুজনকে যুক্ত করেছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে সরকারি নথিপত্র পরিবর্তন করা হলে ভবিষ্যতে জমিজমা নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এর আগে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঈদুল ফিতরের সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য তাহমিনা খাতুনের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতেই এই ওয়ারেশ সনদ দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি।

 

নাংলা ডিজি কপোতাক্ষ দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আইয়ুব আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
নাংলা ডিজি কপোতাক্ষ দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আইয়ুব আলী

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার নাংলা ডিজি কপোতাক্ষ দাখিল মাদ্রাসায় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে জি এম আইয়ুব আলীকে ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ২৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কাছে এই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামনন্দ কু-ুর নেতৃত্বে পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে আরও গতি সঞ্চার হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সুপার জি এম আইয়ুব আলী পরিচালনা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।