বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

কল্যাণ ব্যানার্জি: সাতক্ষীরার সাংবাদিকতায় আস্থার এক দীর্ঘ ঠিকানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
কল্যাণ ব্যানার্জি: সাতক্ষীরার সাংবাদিকতায় আস্থার এক দীর্ঘ ঠিকানা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
একজন সাংবাদিক কেবল সংবাদ লেখেন না। তিনি সময়কে ধারণ করেন, মানুষের কথা তুলে ধরেন এবং একটি জনপদের সুখ-দুঃখ, সংকট, সম্ভাবনা ও স্বপ্নের সাক্ষী হয়ে থাকেন। কখনো তিনি নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর, কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন, আবার কখনো একটি প্রত্যন্ত গ্রামের অজানা গল্পকে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় নিয়ে আসেন। একজন সাংবাদিকের প্রকৃত সাফল্য তাই শুধু কতটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তার হিসাব দিয়ে মাপা যায় না; বরং মানুষের আস্থা কতটা অর্জন করতে পেরেছেন, সেটিই হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। সাতক্ষীরার সাংবাদিকতায় কল্যাণ ব্যানার্জি তেমনই একটি আস্থার নাম। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংবাদপেশায় যুক্ত থেকে তিনি শুধু সাংবাদিকতা করেননি, সাতক্ষীরার মানুষের জীবন ও বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে এমনভাবে যুক্ত করেছেন যে তাঁর সাংবাদিকতা হয়ে উঠেছে এই জনপদের ইতিহাসেরও একটি অংশ। ৬৪ বছর বয়সেও তাঁর কর্মস্পৃহা ও সংবাদ অনুসন্ধানের আগ্রহে যেন তারুণ্যের ছাপ। নতুন কোনো ঘটনা ঘটলে তার ভেতরের সাংবাদিক এখনো আগের মতোই সক্রিয় হয়ে ওঠেন। কোথায় কী ঘটেছে, মানুষের কী সমস্যা, কেন ঘটেছে, এর পেছনের কারণ কীÑএসব প্রশ্ন তাঁকে আজও তাড়িত করে। বয়স তাঁর কাছে কখনো সংবাদ অনুসন্ধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কল্যাণ ব্যানার্জির সাংবাদিকতার শুরু ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমী পত্রিকার মাধ্যমে। সেই সময় থেকেই সংবাদ সংগ্রহ ও লেখালেখির জগতে তাঁর পথচলা শুরু। এরপর তিনি কাজ করেন দৈনিক পূর্বাঞ্চলে। খুলনার দৈনিক তথ্যে ডেস্কে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে সংবাদ সম্পাদনা, সংবাদ বিশ্লেষণ ও সংবাদ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে অর্জন করেন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। যশোর থেকে প্রকাশিত স্ফুলিঙ্গ পত্রিকাতেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর তাঁর সাংবাদিকতার পরিধি ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকার সংবাদপত্র অঙ্গনে। ১৯৮৩ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক দিনকালে। পরে একে একে কাজ করেন সাপ্তাহিক একতা, দৈনিক বাংলা, দৈনিক বাংলার বাণী এবং দৈনিক আজকের কাগজের মতো ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্রে। প্রতিটি কর্মস্থল তাঁর সাংবাদিকতা জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করেছে। সংবাদ সম্পাদনা থেকে মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিংÑসাংবাদিকতার বিভিন্ন শাখায় কাজ করার সুযোগ তাঁর পেশাগত দক্ষতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।তবে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দৈনিক ভোরের কাগজে কাজ করার সময়। মাঠপর্যায়ে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি এবং সাধারণ মানুষের কাছাকাছি গিয়ে তাঁদের কথা তুলে ধরার কারণে তিনি দ্রুত আলাদা পরিচিতি লাভ করেন। খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ কভার করার জন্য তাঁকে নিয়মিত পাঠানো হতো। সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে দেশের গ-ি পেরিয়ে ভারতেও যেতে হয়েছে তাঁকে। একজন রিপোর্টার হিসেবে তাঁর কাজের স্বীকৃতিও এসেছে। একাধিকবার তিনি ভোরের কাগজের শ্রেষ্ঠ রিপোর্টার নির্বাচিত হন। এ স্বীকৃতি শুধু একটি পুরস্কার ছিল না; বরং তাঁর অনুসন্ধানী মন, সংবাদবোধ, পরিশ্রম এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করার সক্ষমতার স্বীকৃতি।কল্যাণ ব্যানার্জির দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় দেশের অন্যতম প্রধান দৈনিক প্রথম আলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে। ১৯৯৯ সালে তিনি প্রথম আলোর শ্রেষ্ঠ রিপোর্টার নির্বাচিত হন। একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ পেশাগত জীবনে এ ধরনের স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।প্রথম আলোতে কাজ করার সময় সংবাদকে তিনি শুধু একটি ঘটনা হিসেবে দেখেননি। ঘটনার পেছনের মানুষ, সমাজ ও জনস্বার্থের বিষয়টি তাঁর কাছে ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি ঘটনা ঘটলে তার তাৎক্ষণিক খবরের পাশাপাশি এর সামাজিক প্রভাব কী, সাধারণ মানুষ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিংবা কোথায় অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রয়েছেÑসেসব বিষয়ও তিনি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। সাতক্ষীরা একটি সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় জেলা। এই জেলার মানুষের জীবন অন্য অনেক জেলার মানুষের জীবন থেকে আলাদা। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সুন্দরবনের সংকট, কৃষি, মৎস্য, সীমান্ত পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানÑপ্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা।এই বাস্তবতাগুলোকে রাজধানীকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যমের পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ কাজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন মাঠে যাওয়ার মানসিকতা, মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সক্ষমতা এবং সমস্যার গভীরে যাওয়ার আগ্রহ।সাতক্ষীরার এমন খুব কম জনপদই আছে, যেখানে সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে কিংবা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তাঁর পা পড়েনি। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম, সীমান্ত এলাকা থেকে সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদÑমানুষের জীবনের নানা গল্প তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। কোনো কৃষকের ফসল নষ্ট হওয়ার গল্প, কোনো জেলে পরিবারের জীবিকার সংকট, নদীভাঙনে ঘর হারানো মানুষের কষ্ট, সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবনসংগ্রাম কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামের কোনো শিক্ষার্থীর সাফল্যÑসবই তাঁর সাংবাদিকতার বিষয় হয়েছে।ফলে সাতক্ষীরার অনেক মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন সংবাদকর্মী নন; তিনি এমন একজন মানুষ, যার কাছে নিজের সমস্যার কথা বলা যায় এবং যিনি সেই কথাকে বৃহত্তর সমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেনÑএমন একটি বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের আস্থা। একজন সাংবাদিক যদি মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারেন, তাহলে তাঁর প্রতিবেদন কেবল সংবাদ থাকে নাÑতা হয়ে ওঠে পরিবর্তনের একটি মাধ্যম।কল্যাণ ব্যানার্জির সাংবাদিকতার বড় বৈশিষ্ট্য এখানেই। তিনি সংবাদকে মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখেননি। তাঁর কাছে একটি খবর মানে শুধু একটি ঘটনা নয়; বরং সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের জীবন, অধিকার ও ভবিষ্যৎ।সাতক্ষীরার বহু স্থানীয় সমস্যা তাঁর প্রতিবেদনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক ঘটনা স্থানীয় পরিসর ছাড়িয়ে বৃহত্তর আলোচনায় এসেছে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর। একটি জেলার সংবাদকে জাতীয় পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যেমন সাংবাদিকের দক্ষতার পরিচয়, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে সেই আস্থা ধরে রাখা একজন সাংবাদিকের বড় অর্জন। কল্যাণ ব্যানার্জির সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা শুধু সংবাদপত্রে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টেলিভিশনে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। কাজ করেছেন চ্যানেল আইতেও। রেডিও সাংবাদিকতারও অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। রেডিও বিবিসি এবং এবিসির সঙ্গে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশনের সঙ্গেও। একজন সাংবাদিকের পেশাগত জীবনে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও এবং ইংরেজি সংবাদমাধ্যমÑবিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে নিঃসন্দেহে একটি সমৃদ্ধ সাংবাদিকতায় পরিণত করেছে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে শুধু দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেই হয় না। সময়ের সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের পদ্ধতি, প্রযুক্তি, নৈতিকতা ও উপস্থাপনার ধরনও বদলে যায়। নিজেকে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়ন। কল্যাণ ব্যানার্জি প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতার মৌলিক ও পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ তাঁর সাংবাদিকতাকে আরও পেশাদার ও পরিণত করেছে।কল্যাণ ব্যানার্জির জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলোÑতিনি সাংবাদিকতাকে কখনো শুধুমাত্র একটি চাকরি হিসেবে দেখেননি। জীবনের এক পর্যায়ে একটি ব্যাংক এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই চাকরিতে যোগ না দিয়ে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতাকে। তখন হয়তো তিনি জানতেন না, এই পেশা তাঁকে জীবনের কতটা সময়, শ্রম ও আবেগ দাবি করবে। কিন্তু একবার সাংবাদিকতাকে বেছে নেওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাননি। চার দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতার কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছেন। অসংখ্য রাত, দীর্ঘ পথ, অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি, প্রতিকূলতাÑসবকিছুর মধ্যেও সংবাদ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে গেছেন।তাঁর কাছে সাংবাদিকতা ছিল পেশা, কিন্তু একই সঙ্গে ছিল এক ধরনের দায়বদ্ধতা।কল্যাণ ব্যানার্জির মতো একজন সাংবাদিকের ক্ষেত্রে অবসরের বিষয়টি তাই অনেকের কাছেই আবেগের।সুস্থ, কর্মক্ষম ও সংবাদ অনুসন্ধানে এখনো সমানভাবে সক্রিয় থাকা অবস্থায় ৬৩ বছর সাত মাস বয়সে তাঁকে তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল প্রথম আলো থেকে অবসর নিতে হয়েছে। সাংবাদিকতার মতো একটি পেশায় অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক। একজন প্রবীণ সাংবাদিকের চার দশকের অভিজ্ঞতা কোনো প্রতিষ্ঠান একদিনে তৈরি করতে পারে না। মাঠপর্যায়ের জ্ঞান, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, সংবাদবোধ, ঘটনার প্রেক্ষাপট বোঝার ক্ষমতা এবং দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতাÑএসব সময়ের সঙ্গে অর্জিত হয়। তাই কল্যাণ ব্যানার্জির অবসর শুধু একটি চাকরি থেকে অবসর নয়; এটি যেন একটি দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধ্যায়কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে থামিয়ে দেওয়ার মতো অনুভূতি তৈরি করে। অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতি ও নিয়ম রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্যÑএকজন অভিজ্ঞ সাংবাদিকের দক্ষতা ও মেধাকে বয়সের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা যায় না। প্রথম আলোর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখা, প্ল্যাটফর্ম ও কার্যক্রম রয়েছে। সেখানে কল্যাণ ব্যানার্জির মতো অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত একজন সাংবাদিককে তাঁর অভিজ্ঞতার উপযুক্ত কোনো দায়িত্বে যুক্ত করার সুযোগ থাকতেই পারেÑএমন প্রত্যাশা থাকা অস্বাভাবিক নয়। এই প্রত্যাশা শুধু একজন সহকর্মী বা শুভাকাক্সক্ষীর নয়; সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ এবং দীর্ঘদিন তাঁর প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিজেদের কথা বলার সুযোগ পাওয়া সাধারণ মানুষেরও। কল্যাণ ব্যানার্জির সাংবাদিকতা জীবন নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য একটি শিক্ষণীয় অধ্যায়।প্রযুক্তি বদলেছে। সংবাদ সংগ্রহের ধরন বদলেছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যম এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংবাদপ্রবাহকে মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয়গুলো বদলায়নিÑসত্য অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই, মানুষের কথা শোনা, বস্তুনিষ্ঠ থাকা এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া।একজন সাংবাদিকের হাতে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা আধুনিক প্রযুক্তি থাকতে পারে; কিন্তু মানুষের আস্থা অর্জন করা যায় কেবল সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে।কল্যাণ ব্যানার্জি সেই আস্থাই অর্জন করেছেন দীর্ঘ সময় ধরে।একজন মানুষের কর্মজীবনের মূল্যায়ন শুধু তাঁর পদবি কিংবা কর্মস্থলের তালিকা দিয়ে করা যায় না। তাঁর কাজ কত মানুষের জীবনকে স্পর্শ করেছে, কত মানুষের কথা তিনি তুলে ধরেছেন এবং কতটা বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে পেরেছেনÑসেটিই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে ওঠে। কল্যাণ ব্যানার্জির দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন সেই অর্থে একটি চলমান ইতিহাস। খুলনার সংবাদপত্র থেকে শুরু করে ঢাকার জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন, রেডিও, ইংরেজি সংবাদমাধ্যমÑবিভিন্ন মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করে তিনি শেষ পর্যন্ত সাতক্ষীরার সাংবাদিকতার সঙ্গে নিজেকে গভীরভাবে যুক্ত করেছেন। সাংবাদিকতার নির্দিষ্ট বয়স থাকতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার কোনো অবসর নেই। একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিকের জ্ঞান, স্মৃতি, সংবাদবোধ ও মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্ক একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পদ। তাই কল্যাণ ব্যানার্জির মতো সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে অবসরের পরও তাঁদের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিই হওয়া উচিত বড় প্রশ্ন। তিনি নিজেও মনে করেনÑযতদিন শরীর ও মন সায় দেবে, ততদিন সাংবাদিকতার সঙ্গেই থাকতে চান।সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশাও তাইÑকল্যাণ ব্যানার্জির কলম থেমে না যাক।কারণ একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয় তাঁর পদে নয়, তাঁর কাজে। আর দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময়ের কাজ দিয়ে কল্যাণ ব্যানার্জি সাতক্ষীরার সাংবাদিকতায় যে আস্থার জায়গাটি তৈরি করেছেন, সেটি সহজে পূরণ হওয়ার নয়। কল্যাণ ব্যানার্জি তাই শুধু একজন সাংবাদিকের নাম নয়Ñসাতক্ষীরার সংবাদজগতে তিনি একটি দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, একটি আস্থার ঠিকানা এবং একটি সময়ের সাক্ষী। লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়নবিষয়ক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়নবিষয়ক কর্মশালা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) কমপ্লেক্সে সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, মৎস্য চাষ, গবাদিপশু ও জীবিকার ওপর স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় এবং যৌথ পরিকল্পনাবিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়ন: স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় ও যৌথ পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে কেয়ার বাংলাদেশের নেতৃত্বে ‘নবপল্লব’ কনসোর্টিয়াম ও কর্ডএইড।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেয়ার বাংলাদেশের রিজিওনাল ম্যানেজার লুৎফা পারভীন ও কর্ডএইডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মাসুদ রানা।
কর্মশালায় বক্তারা সুন্দরবন উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান (নেচার-বেসড সলিউশনস) গ্রহণের ওপর জোর দেন। জলবায়ু অভিযোজন ও স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারি দপ্তর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।

কলারোয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

 

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার মানিকনগর গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভিটেবাড়ি দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সোমবার রাতে কলারোয়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, একই গ্রামের তিন নারী ও কপিল উদ্দিন গাজী দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে তাঁর পরিবারকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। তাঁদের অত্যাচারের কারণে মানিকনগরের বাড়ি ছেড়ে বর্তমানে খোর্দ্দ বাজারে দাদার বাড়িতে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন।
উজ্জ্বল হোসেন জানান, ২০১৪ সালে তাঁদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হলেও তা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পরবর্তীতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩০ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। এর মধ্যে সর্বশেষ মামলায় ২ নম্বর আসামি হিসেবে তাঁর মামা শামিনুর রহমানকে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে সোনাবাড়িয়া বাজার থেকে কলারোয়া থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ ও জখমের হুমকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জেলা কালচারাল অফিসার অন্বেষার সঙ্গে মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
জেলা কালচারাল অফিসার অন্বেষার সঙ্গে মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মৌচাক সাহিত্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিস কক্ষে উপস্থিত হয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি মৌচাক সাহিত্য পরিষদের বিভিন্ন কর্মকা- সম্পর্কে অবহিত হন এবং সংগঠনের কবি-সাহিত্যিকদের খোঁজখবর নেন। এ সময় মৌচাক সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষাকে শুভেচ্ছা স্মারক, ‘মৌচাক’ পত্রিকা এবং মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুল ওহাব আজাদের লেখা তিনটি বই প্রদান করা হয়।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুল ওহাব আজাদ, সহসভাপতি প্রভাষক মহিনুর ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মো. মছরুর রহমান, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুন্না ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।