মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

কাতারে অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
কাতারে অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল করার লক্ষ্য নিয়ে মঙ্গলবারে কাতারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে শীর্ষ মার্কিন দূতদের। তবে এই কূটনৈতিক আলোচনার সময় ও আলোচ্যসূচি নিয়ে তৈরি হওয়া চরম অনিশ্চয়তা ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে থামানোর চেষ্টাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

গত সপ্তাহান্তে দুই দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পরই এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলো। ওই হামলা গত ১৭ জুনের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। ১৪ দফার ওই চুক্তিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন জটিল বিষয়ের সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে ৬০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এই যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী তেল ও অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্য ব্যাহত করেছে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং মূলত ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং তার দূত স্টিভ উইটকফ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে মঙ্গলবার দোহায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এর পাশাপাশি অন্যান্য কারিগরি বৈঠকও চলবে।

তবে ইরান চলতি সপ্তাহে কাতারে একটি কারিগরি প্রতিনিধি দল পাঠালেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘেই বলেছেন, মার্কিনীদের সফরের সঙ্গে এর ‘কোনও সম্পর্ক নেই’ এবং দুই পক্ষের মধ্যে কোনও বৈঠকের সূচি নির্ধারিত হয়নি।

বাঘেই স্পষ্ট করে বলেন, আগামী দিনগুলোতে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে কোনও পর্যায়েই আমাদের কোনও আলোচনার বৈঠক হবে না।

ইরানের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, দোহায় এই বৈঠক কেবল হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা এবং উত্তেজনা হ্রাসের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অবশ্য রবিবারের পর উত্তেজনা কিছুটা কমায় মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমেছে, যা ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারির পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতনের রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে।

চার মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ যোগাযোগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। অথচ এই রুট দিয়ে আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। এরপর থেকে ইরান এই জলপথের অপর প্রান্তে থাকা ওমানের সঙ্গে মিলে প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তারা ঘোষণা করেছে যে এই পথ ব্যবহারের জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি নেওয়া হবে এবং নির্ধারিত পথের বাইরে যাওয়া জাহাজগুলোর গতিবিধি ব্যাহত করছে।
বৃহস্পতিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন দিয়ে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত করেছে এবং এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় গত রবিবার কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।

এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশের ভেতরে ট্রাম্পকে তীব্র রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মরক্কো থেকে ফসফেট সার আমদানির ওপর কিছু শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করার অনুমোদন দিয়েছেন ট্রাম্প। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সারের সরবরাহ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে আরও সময় লাগবে, যার দরুন মার্কিন কৃষকেরা তীব্র সার সংকটে ভুগছেন।

দোহা বৈঠক নিয়ে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, দোহা বৈঠকটি হয়তো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। আমরা শিগগিরই তা জানতে পারবো।

এদিকে ইরানের ভেতরে, দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব যুদ্ধ থেকে টিকে গেলেও বিপর্যস্ত অর্থনীতির কারণে জনগণের তীব্র ক্ষোভের মুখে রয়েছে। এর মধ্যেই দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি প্রদেশে ‘সন্ত্রাসীদের’ গুলিতে এলিট ফোর্স রেভল্যুশনারি গার্ডসের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন বলে বাহিনীটি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে ইসরায়েল এবং লেবাননের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের অবসানের বিধানও রাখা হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহর মিত্র ও লেবাননের শক্তিশালী পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি ওই যুদ্ধ বন্ধে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে মার্কিন-মধ্যস্থতায় হওয়া আলাদা একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিটি দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় সংকটকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও অচল করার ঝুঁকিতে ফেলছে।

সূত্র: রয়টার্স

Ads small one

টানা দুই দিনে ভরিতে স্বর্ণের দাম কমলো ৬৫৯০ টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
টানা দুই দিনে ভরিতে স্বর্ণের দাম কমলো ৬৫৯০ টাকা

বিশ্ববাজারে খাঁটি (তেজাবি) স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার প্রভাবে দেশের বাজারেও আবারও কমানো হয়েছে সোনার দাম। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এর আগে সোমবারও প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল। ফলে দুই দিনে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম মোট ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমেছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা।

এর আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।

শুধু সোনা নয়, রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৯০ টাকা। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম কার্যকর থাকবে।

বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের সঙ্গে অলংকার তৈরির মজুরি যুক্ত হবে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন ভ্যাট কাঠামোর আওতায় স্বর্ণের গয়নার ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। নতুন ব্যবস্থায় প্রতি ভরি স্বর্ণের গয়নার ওপর নির্দিষ্ট ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে মোট মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল।

এছাড়া অলংকার বিনিময় ও পুনঃক্রয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালা বহাল থাকবে। রুপার অলংকারে ভ্যাট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে একাদশ নিয়ে ভাবনায় স্কালোনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
কেপ ভার্দের বিপক্ষে একাদশ নিয়ে ভাবনায় স্কালোনি

 

বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে বড় দলগুলোর কেউ কেউ সুবিধা করতে পারেনি। একই দিনেই বাদ পড়েছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দল। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তো জাপানের সঙ্গে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের গোলে জয় পেয়ে মাঠ ছেড়েছে।

তাই লিওনেল স্কালোনি তার দল নিয়ে বেশি চিন্তিত। সেরা ৩২-এ আর্জেন্টিনা খেলবে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে। শক্তির বিচারে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দেই আছে আফ্রিকার দলটি। গ্রুপ পর্বের কোনও ম্যাচ হারেনি তারা। পয়েন্ট ভাগ করেছে স্পেন, উরুগুয়ের মতো সাবেক চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে। এমন চমক দেখানো দলটির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা কেমন একাদশ নিয়ে মাঠ নামে সেটি নিয়ে এখন জানার আগ্রহ অনেকের।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে এরই মধ্যে অনুশীলনে ফিরেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। তবে তিনটি পজিশন নিয়ে এখনও চিন্তায় আছেন স্কালোনি। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা রক্ষণভাগে, বিশেষ করে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ডান হাঁটুতে চোট পান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। এর আগেও একই হাঁটুতে চোট ছিল তার। তাই জর্ডানের বিপক্ষে তাকে মাঠে নামানো হয়নি। যদিও চিকিৎসকদের মতে, রোমেরোর চোট গুরুতর নয়। হাঁটুর ফোলা কমলেও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন এই ডিফেন্ডার। অনুশীলনে রোমেরোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত নেবে কোচিং স্টাফ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চোটের পর প্রথমবারের মতো সতীর্থদের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলন করেছেন রোমেরো। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে না পেলে, লিসান্দ্রো মার্তিনেসের সঙ্গে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে দেখা যেতে পারে জর্ডানের বিপক্ষে অধিনায়কত্ব করা নিকোলাস ওতামেন্দিকে।

স্কালোনির দ্বিতীয় ধোঁয়াশা আক্রমণভাগে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে লিওনেল মেসির শুরুর একাদশে ফেরা একরকম নিশ্চিত। তবে তাঁর সঙ্গে আক্রমণে কে থাকবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল হুলিয়ান আলভারেসকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে রাখার। কিন্তু গোড়ালির চোট থেকে ফিরলেও এখনও পুরোপুরি ফিট নন এই ফরোয়ার্ড।

জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন লাউতারো মার্তিনেস। ফলে স্কালোনি এখন সিদ্ধান্তহীনতায়—ফিটনেসে পিছিয়ে থাকা আলভারেস নাকি ফর্মে থাকা লাউতারো, কে মেসির সঙ্গে আক্রমণে জুটি গড়বেন।

স্কালোনির সামনে তুলনামূলকভাবে কম চিন্তা লেফটব্যাক পজিশন নিয়ে। নিকোলাস তালিয়াফিকো প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি। তার অনুপস্থিতিতে ফাকুন্দো মেদিনা দায়িত্ব সামলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে ফিরেছেন তালিয়াফিকো। তাই সব ঠিক থাকলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ফিরবেন তিনিই।

কৌতুক; হাসির বিজ্ঞান ও নৈতিকতার নির্মল রম্যরস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
কৌতুক; হাসির বিজ্ঞান ও নৈতিকতার নির্মল রম্যরস

সাকিবুর রহমান বাবলা

পহেলা জুলাই আন্তর্জাতিক কৌতুক দিবস (International Joke Day। প্রতিদ্বন্দ্বিতা, উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ব্যস্ততার এই পৃথিবীতে দিবসটি যেন একটি মৃদু স্মরণিকাÑমানুষের জীবনে হাসিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান আছে। হাসি শুধু আনন্দের প্রকাশ নয়; এটি সামাজিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন, মানসিক প্রশান্তির উৎস এবং বাস্তবতাকে সহজে গ্রহণ করার এক মানবিক কৌশল।

কৌতুকের ইতিহাস মানবসভ্যতার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন লিখিত কৌতুকের সন্ধান পাওয়া যায় প্রায় চার হাজার বছর পুরোনো সুমেরীয় সভ্যতার একটি প্রবাদে। মজার বিষয় হলো, সেই প্রাচীন কৌতুকটিও ছিল দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ও মানবিক অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে। এতে বোঝা যায়, হাজার হাজার বছর আগে মানুষ যেমন হাসত, আজও তেমনি হাসে; শুধু ভাষা ও প্রেক্ষাপট বদলেছে।

প্রাচীন গ্রিসে কৌতুক ও ব্যঙ্গরস ছিল সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নাট্যকার এরিস্টোফেনিসের কমেডি নাটকগুলো জনজীবনের নানা অসঙ্গতিকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরত। পরবর্তীকালে রোমান সভ্যতা, মধ্যযুগের রাজদরবারের ভাঁড় এবং ইউরোপীয় রেনেসাঁস যুগের রম্যসাহিত্য কৌতুককে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

কৌতুক সংরক্ষণের ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ। বিশ্বের প্রাচীনতম পরিচিত কৌতুকসংকলন ‘ফিলোজেলোস’ (Philogelos), যা খ্রিস্টীয় চতুর্থ বা পঞ্চম শতকে গ্রিক ভাষায় সংকলিত হয়েছিল। এতে ২৬৪টি কৌতুক সংরক্ষিত আছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, সেই সংকলনের অনেক কৌতুকের কাঠামো আজও আধুনিক রসিকতায় দেখা যায়।

মানুষ কেবল কৌতুক সৃষ্টি করেনি, সংরক্ষণও করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাস্যরস ও ব্যঙ্গচর্চা নিয়ে বিশেষ জাদুঘর গড়ে উঠেছে। কানাডার মন্ট্রিয়লে অবস্থিত ‘জাস্ট ফর লাফস’ উৎসব ও সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে বিশ্বের অন্যতম হাস্যরসকেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া বিভিন্ন দেশে কমেডি, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র সংরক্ষণের জন্য পৃথক জাদুঘরও রয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, হাসি মানুষের শরীরে ইতিবাচক রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়। হাসলে শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, পেশির টান কমে, মানসিক চাপ হ্রাস পায় এবং মনোসামাজিক যোগাযোগ আরও দৃঢ় হয়। এমনকি প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসকেরাও রোগীদের মন ভালো রাখতে নাটক ও কৌতুক উপভোগের পরামর্শ দিতেন। আধুনিক গবেষণাও দেখায় যে হাসি উদ্বেগ কমাতে এবং মানসিক সুস্থতা বাড়াতে সহায়ক।

তবে কৌতুকেরও একটি নৈতিক সীমারেখা রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে হাসি ও কৌতুক নিষিদ্ধ নয়; বরং তা মানবিক ও স্বাভাবিক আচরণের অংশ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও সাহাবিদের সঙ্গে কখনও কখনও রসিকতা করতেন, তবে সেই রসিকতায় মিথ্যা, অপমান, বিদ্রুপ বা কঠোরতা থাকত না। ইসলামী ঐতিহ্যে কৌতুককে এমন একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয় যা মানুষের মনকে প্রফুল্ল করে, সম্পর্ক মজবুত করে এবং মানসিক চাপ কমায়। তবে কাউকে হেয় করা, মিথ্যা বলা বা ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপহাস করা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। হযরত আলী (রা.)-এর মতে, “কথায় কৌতুক ততটুকুই মেশানো উচিত, যতটুকু খাবারে লবণ দেওয়া হয়।”

আসলে কৌতুকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এটি মানুষের মধ্যে দূরত্ব ও জড়তা কমানো। রাজনৈতিক মতভেদ, সামাজিক বিভাজন কিংবা ব্যক্তিগত সংকট—সবকিছুর মাঝেও একটি নির্মল হাসি মানুষকে কাছাকাছি আনতে পারে। হাসি মানুষের বেঁচে থাকার শক্তিকে জাগিয়ে রাখে।

ডিজিটাল বিপ্লবে কৌতুকের রূপ বদলেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের হাসির তৃষ্ণা রয়েই গেছে। লোককথা আর বৈঠকখানার আসরের সেই রসিকতা এখন মিম ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে নতুন প্রাণ পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক কৌতুক দিবস আমাদের সেই চিরন্তন মানবিক সত্যটিই স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবনের সব সমস্যার সমাধান হয়তো হাসি নয়, কিন্তু কিছু হাসি সমস্যার ভার কিছুটা হলেও হালকা করতে পারে। তাই কৌতুক হোক নির্মল, মানবিক ও ইতিবাচক; হাসি হোক সুস্থ সমাজ গঠনের এক অনন্য শক্তি।