বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

কালিগঞ্জে ঘের ব্যবসায়ি সঞ্জীব সরকার হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা, গ্রেপ্তার-১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে ঘের ব্যবসায়ি সঞ্জীব সরকার হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা, গ্রেপ্তার-১

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের ঘের মালিক সঞ্জীব সরকার হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বাবা গোপাল সরকার বাদি হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০ জনের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘঁনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নেপাল সরকার নামের একজনকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত নেপাল সরকার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের মৃত অনন্ত সরকারের ছেলে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন, ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের গঙ্গাধর সরকারের ছেলে আনন্দ সরকার, একই গ্রামের নেপাল সরকারের ছেলে তাপস সরকার ওরফে ডালিম ও আনন্দ সরকারের ছেলে শাওন সরকার।

সরেজমিনে বৃহষ্পতিবার সকালে ঠেকরা রহিমপুর গ্রামে গেলে মাষ্টার বিজয় সরকার জানান, তাদের শরীক গোপাল সরকার ঠেকরা বিলে ২২ বিঘা মাছের ঘের করেন। তার ছেলে সঞ্জীব সরকার আট বিঘা ঘের করেন। গোপাল সরকারের ছোট ভাই পঞ্চানন সরকার ১৫ বছর আগে মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী মাধবী সরকারের কাছ থেকে তাপস সরকার ওরফে ডালিম ১২ বিঘা ও সঞ্জীব সরকার তিন বিঘা জমি লীজ নিয়ে তৃতীয় বছরের জন্য মাছ চাষ করতো।

 

৪৫ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা লীজ বাবদ তার কাকিমা মাধবীকে পরিশোধ করেছে সঞ্জীব। গত ৩১ মে রাতে সঞ্জীব সরকার তাপসের ঘের থেকে মাছ চুরি করেছে মর্মে অভিযোগ ওঠে। এক সপ্তাহ পর এনিয়ে গ্রামের পশুপতি সরকারের বাড়িতে শালিসি বৈঠক হলেও সঞ্জীবের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। এনিয়ে তাপস সরকার, আনন্দ সরকার ও শাওন সরকারের সাথে সঞ্জীবের বিরোধ চলে আসছিলো। সঞ্জীবের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগ ছিল বলে জানান ওই শিক্ষক।

গোপাল চন্দ্র সরকার জানান, তাপসের ঘেরে চুরির অভিযোগের সত্যতা না মেলায় সঞ্জীবের উপর ক্ষোভ ছিল আনন্দ, তাপস ও শাওনের। সঞ্জীব নেশা করতো এমন কথা জানতে পেরে তিনি গত পহেলা জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত বাড়ির বাইরে যেতে দেনননি। নিজের ও ছেলের ঘের তিনি নিজেই দেখাশুনা করতেন। ৩০ জুন সঞ্জীবকে নিয়ে তিনি আবারো ঘেরে যান। খবর পেয়ে তাপসের নেতৃত্বে আনন্দ ও শাওন দা ও লাঠি নিয়ে ধাওয়া করলে সঞ্জীব দৌড়ে বাড়ির ছাঁদে উঠে জীবন বাঁচায়। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান।

গোপাল সরকার আরো জানান, মঙ্গলবার বিকেলে সঞ্জীব ও তিনি নিজেদের ঘেরে ১৪টি আটল পাতেন। সঞ্জীবকে সেখানে রেখে বিলান জমির ঘেরে আটল পাততে যান তিনি। সেখান থেকে বাড়িতে এসে সঞ্জীবকে না পেয়ে রাত ৯টার দিকে তাকে খুঁজতে যান তিনি। তাকে না পেলেও ঘেরের বাসায় সঞ্জীবের পরিহিত জামা কাপড় দেখতে পান তিনি। এরপর তাকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন তিনি। সঞ্জীবকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হয় তার শ^শুর আশাশুনি উপজেলার হাড়িভাঙা গ্রামের হরিচাঁদ সরকারকে। বুধবার সকালে নিজের মাছের ঘেরের সরু খালের পানিতে সঞ্জীবের জুতা ভাসতে দেখেন। পরে খালের মধ্যে থাকা ঘাসের মধ্যে ছেলের লাশ দেখতে পান।

 

সঞ্জীবের বাম চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভারী জিনিস দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পাশর্^বতী ঘেরের পাহারাদারসহ বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, তাপস, আনন্দ ও শাওনসহ তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে মঙ্গলবার রাতে সঞ্জীবকে নির্যাতন করে হত্যার পর ক্যানেলের ঘাসের নীচে লাশ গুমের চেষ্টা করেছে।

সঞ্জীবের মা মায়া রানী ম-ল তার ছেলে ও স্ত্রী প্রিয়া ম-ল স্বামী সঞ্জীব হত্যার জন্য আনন্দ সরকার, তাপস সরকার ও শাওনকে দায়ী করেন। তারা জানান, মঙ্গলবার রাতে তাপেেসর ঘেরের বাসায় বেঁধে রেখে সঞ্জীবকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে সঞ্জীবের লাশ বুধবার রাতে স্থানীয় শ্মশানে সৎকার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আনন্দ সরকার ও তাপস সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, সঞ্জীব সরকার হত্যার ঘটনায় তার বাবা গোপাল সরকারি বাদি হয়ে আনন্দ সরকার, তাপস সরকার ও আনন্দ সরকারের ছেলে শাওনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০জনকে আসামী করে বুধবার রাতে থানায় একটি হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই ঘঁনার সঙ্গে জড়িত থাকার পর অনন্ত সরকারের ছেলে নেপাল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তারকৃত নেপাল সরকারকে বৃহষ্পতিবার দুপুরে আদালতের মধ্যেমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৫ দিনের রিমা- আবেদন জানানো হবে। পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুর রহিমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Ads small one

ইতিহাস গড়ার বাসনায় ফের ‘বরবাদ’ নির্মাতার ফ্রেমে শাকিব খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
ইতিহাস গড়ার বাসনায় ফের ‘বরবাদ’ নির্মাতার ফ্রেমে শাকিব খান

দেশীয় চলচ্চিত্রে ব্যাপক আলোড়ন তোলা ‘বরবাদ’-এর সাফল্যের পর আবারও এক হচ্ছেন সেই ছবির পরিচালক ও নায়ক। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের নতুন সিনেমায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন শাকিব খান।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নতুন প্রজেক্টটির আনুষ্ঠানিক সাইনিং সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ‘বরবাদ’ মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি দর্শকদের প্রশংসাও কুড়ায়। ছবিটি শাকিব খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্যে পরিণত হয়।

ঈদে মুক্তির পর প্রথম সাত দিনেই প্রায় ২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার টিকিট বিক্রির দাবি করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে সিনেমাটি এবং বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমাগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেয়।

একই টিমের নতুন সিনেমার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ।

 

যদিও নতুন সিনেমাটির নাম কিংবা গল্প এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির ঘোষণা দেওয়া হবে।

পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় জানিয়েছেন, এটি একটি অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার সিনেমা। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারই শাকিব খানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিকে, শাকিব খানও তার ফেসবুক পেজে সাইনিংয়ের মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “বরবার টিম আবারও ফিরছে। চলো ফের নতুন ইতিহাস গড়ি।”

নির্মাতাদের দাবি, ‘বরবাদ’-এর মতো এবারও দর্শকদের জন্য বড় পরিসরের একটি চমক নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

রোনালদো নাকি মদরিচ, কার বিদায় আজ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
রোনালদো নাকি মদরিচ, কার বিদায় আজ?

ফুটবল বিশ্বের দুই কিংবদন্তি লুকা মদরিচ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়সের ভারে দুজনই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। চলতি বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগালের শেষ ষোলোর লড়াই তাই শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নয়, বরং দুই মহাতারকার একজনের বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি টানার মঞ্চও। ম্যাচটা মাঠে গড়াবে আজ রাত ৩টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস।

পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনহা ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মদরিচ ও রোনালদো বিশ্ব ফুটবলের দুই অসাধারণ আইকন। ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সৌভাগ্য হয়েছে, যা আমার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা। মদরিচের সঙ্গেও আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল। যতটুকু দেখেছি, তিনি ভীষণ ভদ্র ও আন্তরিক একজন মানুষ। কিন্তু আগামীকাল একজনের যাত্রা শেষ হবেই। আমি চাই, সেটি যেন মদরিচের হয়।’

ক্রমশ সময় ফুরিয়ে আসছে দুই তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ৪১ বছর বয়সী মদরিচ এবং ৪০ বছর বয়সী রোনালদোর এটি শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ফলে বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি একজনের জন্য হয়ে উঠতে পারে বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুজন মিলে খেলেছেন ৪৭টি ম্যাচ। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তাদের ঝুলিতে উঠেছে মোট ছয়টি ব্যালন ডি’অর, যার পাঁচটিই রোনালদোর। আর ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে খেলতে গিয়ে জিতেছেন চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজও দুই কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, ‘তারা জনমতের ঊর্ধ্বে থাকা ফুটবলার। এত দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের ধরে রাখা-ই তাদের বিশেষ করে তুলেছে। ৪০ পেরিয়েও মদরিচ নিয়মিত খেলছেন এবং দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই কথা আমাদের অধিনায়ক রোনালদোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বয়স কেবল একটি সংখ্যা। আসল বিষয় হলো, তারা মাঠে কী দিচ্ছেন এবং ড্রেসিংরুমে কী ধরনের উদাহরণ তৈরি করছেন।’

এবারের বিশ্বকাপেও দুজনই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। তবে বয়সের ছাপ যে তাদের পারফরম্যান্সে পড়েছে, সেটিও স্পষ্ট।

পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচেই পুরো ২৭০ মিনিট খেলেছেন রোনালদো। করেছেন দুটি গোলও। তবে সতীর্থদের জন্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। ২৫০ মিনিটের বেশি খেলা ফরোয়ার্ডদের মধ্যে বল স্পর্শ, বল দখল, প্রগ্রেসিভ পাস এবং দ্বৈরথে অংশ নেওয়ার পরিসংখ্যানে তিনি পিছিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে মদরিচ খেলেছেন ২২৯ মিনিট। একটি অ্যাসিস্টসহ পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। তবে ২২৫ মিনিটের বেশি খেলা মিডফিল্ডারদের মধ্যে বল দখল ও দ্বৈরথের পরিসংখ্যানে তিনিও অনেকটাই নিচের দিকে।

তাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে দুই কিংবদন্তির চেয়ে তাদের সতীর্থদের ভূমিকাই হতে পারে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাঝমাঠের লড়াইকে দুই কোচই ম্যাচের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে দেখছেন।

এই জায়গায় পর্তুগালের শক্তি নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মতো। ভিতিনহা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও নেভেস, বের্নার্দো সিলভা ও রুবেন নেভেস—প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থানে বিশ্বের সেরাদের একজন।

অন্যদিকে অভিজ্ঞ মদরিচ ও মাতেও কোভাচিচের পাশাপাশি উদীয়মান পেতার সুচিচকে নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি মিডফিল্ড গড়ে তুলেছে ক্রোয়েশিয়া।

ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও মনে করছেন, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে মাঝমাঠেই। তার ভাষায়, ‘নিঃসন্দেহে এটি হবে বিশাল এক লড়াই। সম্ভবত মধ্যমাঠের আধিপত্যই ঠিক করে দেবে ম্যাচের ফল।’

খামেনির শেষ বিদায়ে কত কোটি মানুষ আসবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
খামেনির শেষ বিদায়ে কত কোটি মানুষ আসবে

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধের বার্তা বিশ্বকে পৌঁছে দিতেই এই উপস্থিতির আহ্বান জানান তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আগামী শনিবার (৪ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকতা প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, আমি সকল ইরানি জনগণকে আহ্বান জানাই, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ইসলামি ইরানের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় রচনা করুন। তিনি আরও বলেন, প্রতিশোধের জন্য জাতির আহ্বান যেন পুরো বিশ্বের কানে পৌঁছে যায়।

ঐতিহাসিক এই আয়োজন প্রসঙ্গে গালিবাফ বলেন, ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ চরম উত্তাল থাকায় খামেনির শেষকৃত্য এতদিন স্থগিত ছিল। তবে সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি সই হওয়ার পর, বর্তমানে চলমান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তার বাসভবনে নিহত হন। শনিবার তার মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাখা হবে। সেখানে তার নিহত স্বজনদের মরদেহও প্রদর্শন করা হবে।

কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। তাহলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান।

শেষ বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠান চলাকালে তেহরানের পাশাপাশি পবিত্র শহর কুম ও মাশহাদে সরকারি ছুটি পালন করা হবে। একই সঙ্গে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যান চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে শহরের কেন্দ্রের বড় অংশে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।