বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে পরিত্যাক্ত পাটকেলঘাটা অডিটরিয়াম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে পরিত্যাক্ত পাটকেলঘাটা অডিটরিয়াম

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: পাটকেলঘাটা একমাত্র অডিটরিয়াম এখন নেশাখোরদের আড্ডাখানা। সরকারি এই জরাজীর্ণ ভবনটি এখনো কালের স্বাক্ষী হিসেবে স্রণ করিয়ে দেয় পাটকেলঘাটা বানিজ্য কেন্দ্রে ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা। রাজনৈতিক মঞ্চে এই অডিটরিয়াম সংস্কারে নেতারা বিভিন্ন সময়ে ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কেউ কথা রাখেনি।

জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের আমলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. আফতাবুজ্জামান-এমপি পাটকেলঘাটা হাই স্কুলের মধ্যে একটি অডিটরিয়াম নির্মাণ করার পরিকল্পনা করেন। তৎকালীন সময়ের স্কুলে জমিদাতা তালা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত এবিএম আলতাফ হোসেন, তৎকালীন সময়ের সাধারণ সম্পাদক জমিদাতা প্রয়াত মফিদুল ইসলাম, জমিদাতা প্রয়াত আবু বক্কার, তৎকালীন সময়ের প্রধান শিক্ষক পশুপতিসহ ১০সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেন। এক হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়। একই বিল্ডিংয়ে একটি উঁচু বিশাল স্টেজ তৈরি করা হয়। দক্ষিণ পাশে বিশাল দুটি রেস্ট রুম করা হয়।

উপরে টিনের ছাউনি তৈরি করা হয়। গরমের দিনের কথা চিন্তা করে বড় বড় জানালা তৈরি করা হয়। এক বছর সময় লাগে। ১৯৮০ সালের আনুষ্ঠানিকভাবে বিশাল আয়োজনে ঐতিহাসিক অডিটরিয়ামটি উদ্বোধন করা হয়। এরপর সেটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

সেই থেকে রাজনৈতিক দলের সভা, সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষকদের ট্রেনিং, দর্জি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সভা সমাবেশ অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে পাটকেলঘাটা অডিটরিয়াম। অডিটরিয়াম এর রক্ষাণাবেক্ষণ, তত্ত্বাবধায়ন ও নিয়ন্ত্রণ ছিল স্কুলের হাতে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে অডিটরিয়ামের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে। তখন থেকে অডিটরিয়ামে কোন অনুষ্ঠান করতে হলে তালায় অবস্থিত ইউএনও অফিসের অনুমতি নেওয়ার বিধান চালু হয়।

 

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অডিটরিয়াম থেকে ইউএনও অফিসের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় ধীরে ধীরে অডিটরিয়াম ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হতে থাকে ব্যবহারকারীরা। বিকল্প হিসেবে খোলামেলা স্থানে অনুষ্ঠান করার প্রচলন শুরু হয়। ফলে অডিটরিয়াম ব্যবহার কমতে কমতে এক সময় সেটা পরিত্যাক্ত ভবনে পরিণত হয়।

এমন অবস্থায় ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাটকেলঘাটার কৃতি সন্তান ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরে অডিটরিয়ামটির সংস্কারের উদ্যোগ নেন। ২০১১ সালের দিকে সংস্কারের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দও দেন। কিন্তু জরাজীর্ণ এই ভবনের সংস্কারে সেই অর্থ খুবই অপ্রতুল হওয়ায় নামমাত্র সংস্কার হলেও তা ব্যবহার উপযোগী করা হয়নি। অন্যান্য সময়ে জনপ্রতিনিধিরা অডিটরিয়ামটির সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ তা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি।

পাটকেলঘাটা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, অডিটরিয়াম সংস্কার করার কোন অর্থ আমাদের ফান্ডে নেই।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণা বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সরকারি কোন অর্থ নেই। যদি পাই তাহলে বিষয়টি দেখব।

যুগীপুকুর গ্রামের রেজাউল বিশ্বাস, জাসদ নেতা আবুল কালাম আজাদ মিলন, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মমিন, সাবেক সভাপতি শেখ জহুরুল হক বলেন পাটকেলঘাটা অডিটরিয়ামটি এখন জরাজীর্ণ। এই ভবনই পাটকেলঘাটা বানিজ্য কেন্দ্রের ঐতিহ্যের সাক্ষ্য দেয়। তারা অডিটরিয়ামটি দ্রুত সংস্কারের দাবী জানান।

Ads small one

অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

মীর মোস্তফা আলী: প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় চিংড়ি ঘেরের আইল ও পতিত জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে অসময়ের বা বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ। সবজির পাশাপাশি এখন ক্ষেতজুড়ে শোভা পাচ্ছে বাংলালিংক ও আকর্ষণীয় হলুদ জাতের তরমুজ। চলতি মৌসুমে জেলার ১০৮ হেক্টর জমিতে এই তরমুজের সফল আবাদ হয়েছে।
উপকূলীয় সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতেই এখন ঝুলছে মিষ্টি ও রসালো এই ফল। বিশেষ করে তালা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় বাংলালিংক ও হলুদ তরমুজের ফলন বেশি হয়েছে।
তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৮ জন কৃষক বেসরকারি সংস্থা ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’ ও পিকেএসএফের সহযোগিতায় ২১ বিঘা জমিতে প্রথম এই হলুদ তরমুজের আবাদ শুরু করেন। মাত্র ৬৫ দিনে ফলন আসায় অল্প খরচে অধিক মুনাফা পাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার কৃষক ইকবাল, শিপন ও হান্নান জানান, জমি প্রস্তুত, সার, মালচিং পেপার, মাচা ও জাল বাবদ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও এই ফল বিক্রি করে বিঘা প্রতি ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তারা। অল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় একই জমিতে বছরে দুইবার তরমুজ চাষ করা সম্ভব।
উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষিবিদ নয়ন হোসেনের মতে, সাতক্ষীরার মাটি অসময়ের তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। চাকরির পেছনে না ঘুরে শিক্ষিত তরুণরা কৃষি উদ্যোগে যুক্ত হলে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বড় অবদান রাখতে পারবেন।

বইয়ের বিকল্প কেবল বই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বইয়ের বিকল্প কেবল বই

 

‎তারিক ইসলাম
‎সভ্যতার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির জ্ঞানচর্চা, মননশীলতা এবং উৎকর্ষ সাধনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বাহন হলো বই। প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল মাধ্যমের অভূতপূর্ব বিপ্লবের যুগে আজ চারদিকে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধছে—ডিজিটাল স্ক্রিন, ই-বুক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়েও কি বইয়ের আবেদন অপরিবর্তিত থাকবে? নাকি এর কোনো বিকল্প চলে এসেছে? গভীর ও সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করলে একটি সত্যই সামনে ভেসে ওঠে—তা হলো, বইয়ের বিকল্প কেবল আরেকটি বই-ই হতে পারে, অন্য কিছু নয়।
‎আজকের দিনে তথ্য প্রাপ্তির পথ অত্যন্ত সহজলভ্য। ইন্টারনেটের এক ক্লিকেই হাজারো তথ্য, নিবন্ধ ও সারসংক্ষেপ চোখের সামনে চলে আসে। কিন্তু তথ্য আর জ্ঞান এক জিনিস নয়। তথ্য আমাদের সাময়িক কৌতূহল মেটায় বা কাজের সুবিধা করে দেয়, আর জ্ঞান আমাদের ভেতরটাকে সমৃদ্ধ করে, চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে এবং জীবনদর্শনের ভিত্তি গড়ে দেয়। এই পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানলাভের একমাত্র এবং প্রধান মাধ্যম হলো বই পড়া। একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের পাতায় পাতার সঙ্গে যখন একজন পাঠকের চোখ ও মনের সংযোগ ঘটে, তখন সেখানে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা শুরু হয়, যা কোনো টুকরো তথ্য বা ডিজিটাল স্ক্রিনের ক্ষণস্থায়ী স্ক্রোলিংয়ে পাওয়া অসম্ভব।
‎বই পড়ার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গভীর ও ইন্দ্রিয়গ্রাহী। কাগজের ঘ্রাণ, পাতা উল্টানোর শব্দ এবং একটি আস্ত কাহিনীর ভেতরে ডুবে যাওয়ার অনুভূতি কেবল একটি বস্তুগত বইই দিতে পারে। এর বিপরীতে, ডিজিটাল মাধ্যমে পড়ার সময় মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেশি থাকে। নোটিফিকেশন, পপ-আপ বিজ্ঞাপন বা ইন্টারনেটের নানা প্রলোভন পাঠকের মনোযোগকে বারবার ছিন্ন করে। ফলে লেখকের মূল ভাবনার গভীরে পৌঁছানো বা তার সাথে মানসিক ঐক্য স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বই আমাদের এক ধরনের একাগ্রতা শেখায়, যা আজকের দ্রুতগতির বিক্ষিপ্ত যুগে বড় বেশি দুর্লভ।
‎অনেকে মনে করেন, ই-বুক বা অডিওবুক বইয়ের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। নিঃসন্দেহে এগুলো প্রযুক্তির চমৎকার উপহার এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত উপযোগী। কিন্তু এগুলোকে বইয়ের পরিপূরক বলা চলে, বিকল্প নয়। অডিওবুক শোনার সময় আমাদের কল্পনাশক্তির ওপর শ্রোতা হিসেবে একধরনের সীমাবদ্বতা তৈরি হয়, কারণ কথক বা কণ্ঠশিল্পীর উচ্চারণের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। অথচ নিজে বই পড়ার সময় পাঠক নিজেই তার কল্পনার রঙে চরিত্র ও দৃশ্যপটকে জীবন্ত করে তোলেন। বই পড়ার এই সৃজনশীল প্রক্রিয়াটি একান্তই পাঠকের নিজস্ব।
‎সবশেষে বলা যায়, সমাজ পরিবর্তনশীল, প্রযুক্তির রূপ বদলায়, বিনোদনের মাধ্যমও নতুন থেকে নতুনতর হয়; কিন্তু মানুষের মননশীলতার খোরাক জোগাতে বইয়ের আসন চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকে। একটি ভালো বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, সুসময়ের আনন্দ এবং দুর্দিনের সান্ত¡না। তাই যত আধুনিকতাই আসুক না কেন, মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও আবেগের সঠিক বিকাশ ঘটাতে বইয়ের স্থান কেউ দখল করতে পারবে না। বইয়ের বিকল্প কেবল বই-ই। লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় আগামী ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য হাজী সম্মেলন উপলক্ষে কলারোয়ায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কলারোয়ার মরহুম ডাক্তার আনিসুর রহমান ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলারোয়া উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও কলারোয়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু নসরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলহাজ মো. দ্বীন আলী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ গোলাম মোস্তফা। উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইউনুস আলী, শাহীনুর রহমান ও আব্দুর রউফ উপস্থিত ছিলেন।