বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রভাষক মোঃ জুলমত আলী।

জানা যায়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং- ১৭০৫/২০২৬-এর আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। অপরদিকে, আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে কেশবপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরী বহাল রয়েছেন।

সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার সকালে প্রভাষক জুলমত আলী মাদ্রাসা পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক মোঃ আব্দুল হান্নান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শামসুল আলম বুলবুল, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সুধীজন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতি প্রভাষক জুলমত আলী বলেন, “এই মাদ্রাসাকে একটি আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। সভাপতি হিসেবে আমি সব সময় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের পাশে থাকব।”

তিনি আরও বলেন, “এই মাদ্রাসায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনার্স বিভাগ চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি, অচিরেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাদ্রাসা পরিদর্শনে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

স্থানীয় শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, প্রভাষক মোঃ জুলমত আলী একজন সুশিক্ষিত, জ্ঞানী, ভদ্র, সৎ ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। একজন দক্ষ শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি শুধু শ্রেণিকক্ষেই নয়, সামাজিক কর্মকান্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছেন।

এলাকাবাসীর বিশ্বাস, তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, সততা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে একটি সুন্দর সমন্বয় গড়ে তুলে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে তিনি সফল হবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিশেষে সভাপতি প্রভাষক মোঃ জুলমত আলী সকলের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। তাঁর আগমন ও দিকনির্দেশনাকে ঘিরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

 

 

 

 

 

Ads small one

‘গরুর স্কুল’ তকমায় শিক্ষার্থী নেমেছে ২৪ জনে, পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
‘গরুর স্কুল’ তকমায় শিক্ষার্থী নেমেছে ২৪ জনে, পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

সংবাদদাতা: বিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে নিয়মিত গরু-ছাগল বেঁধে রাখা, গোবর ও আবর্জনা ফেলা এবং উন্মুক্ত ড্রেন তৈরির কারণে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সোনাটিকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে স্থানীয় মহলে এটি ‘গরুর স্কুল’ হিসেবে তকমা পেয়েছে। যার প্রভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমতে কমতে এখন মাত্র ২৪ জনে এসে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনিক ও পুলিশি হস্তক্ষেপ চেয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর চিঠি দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের একাধিক পরিদর্শন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দেওয়া লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইউএনওকে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম নিয়মকানুন উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের সামনে গরু-ছাগল বেঁধে রাখেন। মাঠের মধ্যে গোবর, খড়কুটা, গাছের পাতা ও পরিত্যক্ত আসবাবপত্র ফেলে রাখা হয়। এমনকি তাঁর বাড়ির বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য বিদ্যালয়ের সামনে একটি উন্মুক্ত ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। এতে পুরো ক্যাম্পাস

 

দুর্গন্ধময় ও নোংরা হয়ে পড়েছে। শিক্ষকেরা ও শিক্ষা কর্মকর্তারা একাধিকবার নিষেধ ও সতর্ক করলেও তিনি তা আমলে নেননি।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চারপাশের এমন নোংরা পরিবেশের কারণে তাঁরা সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে চাচ্ছেন না। এছাড়া বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে থাকা প্রতিবেশীদের বাঁশঝাড়ের কারণে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারছে না। বাঁশঝাড় সরানোর অনুরোধ করলেও কোনো কাজ হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি সম্পত্তির পবিত্রতা রক্ষায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

কলারোয়ায় মিষ্টান্নের দোকানে ৮ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় মিষ্টান্নের দোকানে ৮ হাজার টাকা জরিমানা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে দুলালের মিষ্টির দোকান ও রাজ হোটেলকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে কলারোয়ার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ওই দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাতক্ষীরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে ভোক্তা অধিকারের একটি টিম কলারোয়া পৌর শহরের বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। এ সময় খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি না মানা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণ এবং অন্যান্য ভোক্তা অধিকারবিরোধী অনিয়মের অভিযোগে কলারোয়া উপজেলা মোড়ের রাজ হোটেলের স্বত্বাধিকারী সাগর হোসেনকে ৩ হাজার টাকা এবং দুলালের মিষ্টির দোকানের স্বত্বাধিকারী সুভাষ ঘোষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। সাতক্ষীরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান তানভীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

শ্যামনগরে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের সূচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের সূচনা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: “সংস্কৃতি মানুষের মনন গঠনে সহায়ক। সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও দ্রোহের চেতনা বিলিয়ে দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নির্যাতিত মানুষকে পথ দেখিয়েছেন।” প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে দেশব্যাপী এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৬৪টি জেলা ও নির্ধারিত ৭৩টি উপজেলার মতো শ্যামনগরেও এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা যেমন জাতির মেরুদ-, তেমনি সংস্কৃতি মানুষের ভেতরের মননকে বিকশিত করে। নজরুলের সাহিত্য ও সৃষ্টিকে যদি নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া না যায়, তবে তারা বাঙালি সংস্কৃতির এক বিশাল অধ্যায় থেকে বঞ্চিত হবে। উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি জাতীয় কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও বেশি গবেষণা ও চর্চা বাড়ানোর তাগিদ দেন।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনের পর শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনকের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলার তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয় এবং সর্বস্তরের মানুষকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসাইনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন:
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. জিয়াউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল ওয়াহেদ ও সোলায়মান কবির, অধ্যাপক আবু সাইদ, শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির, শিক্ষক প্রতিনিধি লাভলু, আজহারুল ইসলাম এবং এস কে সিরাজ।

আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও দর্শনের ওপর একটি তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধ পাঠ করেন শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক সচ্চিদানন্দ অমল।

বক্তারা বলেন, নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের বার্তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে কবির গান, কবিতা ও জীবনভিত্তিক নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরি করবে।