মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস চিকিৎসায় নতুন আশা: আন্তর্জাতিক গবেষণায় কলারোয়ার বিজ্ঞানী সুভাষ সাহা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস চিকিৎসায় নতুন আশা: আন্তর্জাতিক গবেষণায় কলারোয়ার বিজ্ঞানী সুভাষ সাহা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বায়ুদূষণ, ধূমপান ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে বিশ্বজুড়ে ফুসফুসের রোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট (সিওপিডি) এখন জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে মানব ফুসফুসের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কৃত্রিমভাবে পুনরুদ্ধার করার এক অভিনব গবেষণা প্রকল্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আর এই যুগান্তকারী বহুজাতিক গবেষণা দলের অন্যতম নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের সাতক্ষীরার সন্তান ও অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির (ইউটিএস) সিনিয়র লেকচারার ড. সুভাষ চন্দ্র সাহা।
সম্প্রতি তাঁর এই আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পটি ভারতের মর্যাদাপূর্ণ একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি রুপিরও বেশি গবেষণা অনুদান (গ্র্যান্ট) লাভ করেছে।
কৃত্রিম সিলিয়া প্রযুক্তি: বিজ্ঞানী ড. সুভাষ চন্দ্র সাহার এই গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য হলো—মানুষের ফুসফুসে ক্ষতিগ্রস্ত ‘সিলিয়া’র পরিবর্তে কৃত্রিম সিলিয়া ব্যবহার। সিলিয়া হলো শ্বাসনালীর অভ্যন্তরে অবস্থিত অতি সূক্ষ্ম চুলের মতো এক ধরনের গঠন, যা ফুসফুস থেকে ধূলিকণা, জীবাণু এবং মিউকাস (শ্লেষ্মা) অপসারণে প্রাকৃতিক ঝাড়ু হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন জটিল রোগের কারণে এই প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে মানুষ তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগে। গবেষকদের আশা, কৃত্রিম সিলিয়া প্রযুক্তি ভবিষ্যতে এই সমস্যার একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান দেবে।
প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও এআই-এর সমন্বয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ড. সুভাষ সাহা জানান, ভবিষ্যতের চিকিৎসা প্রযুক্তিতে প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যৌথ সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এই প্রকল্পে উন্নত কম্পিউটার সিমুলেশন এবং বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে কৃত্রিম সিলিয়ার কার্যকারিতা ও রোগাক্রান্ত ফুসফুসে এর আচরণ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
দুই বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি (ইউটিএস) ও কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এনআইটি) রায়পুর ও মতিলাল নেহরু ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং আন্তর্জাতিক বিখ্যাত স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘রেজমেড’-এর গবেষকেরা যৌথভাবে কাজ করছেন।
ড. সুভাষ চন্দ্র সাহার জন্ম সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার ১ নং জয়নগর ইউনিয়নের খোর্দবাঁটরা গ্রামে। কম্পিউটেশনাল বায়োফ্লুইড মেকানিক্স এবং শ্বাসনালীতে প্লাস্টিক কণা, সিগারেটের ধোঁয়া ও ভাইরাসের প্রভাব নিয়ে গবেষণায় তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিকবার বিশ্বখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ‘বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ’ বিজ্ঞানীর মধ্যে স্থান পেয়েছেন।
এছাড়াও তিনি অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসায় সিপিএপি (ঈচঅচ) থেরাপির কার্যকারিতা মূল্যায়ন, ড্রাই পাউডার ইনহেলারের নকশা উন্নতকরণ এবং নিউমোনিয়া রোগীদের জন্য হাই-ফ্রিকোয়েন্সি অসিলেশন থেরাপি নিয়ে কাজ করছেন।
চিকিৎসা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্পটিকে অত্যন্ত যুগান্তকারী ও উদ্ভাবনী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। মানব ফুসফুসে কৃত্রিম সিলিয়া সংযোজনের ধারণাটি এখনও বিশ্বব্যাপী প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে, এই গবেষণার সফল সমাপ্তি ঘটলে তা চিকিৎসা বিজ্ঞানে সম্পূর্ণ নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগী নতুন জীবন ফিরে পাবেন।

Ads small one

সাতক্ষীরায় প্রাইভেটকার চালক সুমন হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রাইভেটকার চালক সুমন হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা

পত্রদূত রিপোর্ট: ছেলে সুমন হুসাইনকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর পানিতে ডুবিয়ে লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পিতা আব্দুল হামিদ সরদার বাদি হয়ে সোমবার রাতে কারো নাম উল্লেখ না করে সাতক্ষীরা সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, রবিবার রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের পূর্ব কৈখালি গ্রামের আব্দুল হমিদ সরদারের ছেলে প্রাইভেটকার চালক সুমন হুসাইনকে মুঠোফেনে ডেকে নিয়ে যায় অজ্ঞাতনামা কয়েক জন। পরদিন সকালে কেসমত আলীর মাছের ঘের থেকে তার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ লাশের পাশ থেকে ৩৩ ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার, দুটি লোহা কাটা ব্লেড ও সিমবিহীন একটি বাটাম ফোন উদ্ধার করে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, এ ঘঁনায় নিহতের পিতা আব্দুল হামিদ সরদার বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞতনামা ৩/৪জনকে আসামী করে সোমবার রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার ক্লু উদ্ধার করে দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান খান

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমরান খান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে এমরান খান লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট নিয়োগপ্রাপ্ত হই। আমি আমার ব্যক্তিগত কারণে উক্ত পদ থেকে আজ পদত্যাগ করলাম।’

এর আগে গত ২৩ জুন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সাত জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেন।

সাতক্ষীরায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে দুধ ভান্ডারকে এক লাখ টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে দুধ ভান্ডারকে এক লাখ টাকা জরিমানা

সংবাদদাতা: জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় বাজার তদারকিমূলক অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে সদর উপজেলার ‘কুলতিয়া ঘোষপাড়া’ এলাকার বাজারে এ তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ‘প্রসেনজিৎ ঘোষ দুধ ভান্ডার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান তানভীর জানান, “ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণে আমাদের এ অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”

মেহেদী হাসান বলেন “জনস্বার্থ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়টি মাথায় রেখে আজ আমরা সাতক্ষীরা সদরের কুলতিয়া ঘোষপাড়া বাজারে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়েছি। আইন অমান্য ও খাদ্যে অনিয়ম করায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারায় প্রসেনজিৎ ঘোষ দুধ ভান্ডারকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করছি যেন তারা সঠিক মান বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করেন। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমাদের এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”