শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

সোহাগ হোসেন

শিশুরা একটি জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাদের সুস্থ, নিরাপদ ও শিক্ষানির্ভর পরিবেশে বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়েই একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখনো সমাজের একটি অংশের শিশু জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শ্রমে নিয়োজিত থেকে। এবারের প্রতিপাদ্যÑ “শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করি”— আমাদের সেই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায় এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

শিশুশ্রম কেবল একটি সামাজিক সমস্যা নয়; এটি মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। যে বয়সে একটি শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়ার, খেলাধুলা করার এবং নিজের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের কথা, সে বয়সে অনেক শিশু জীবিকার তাগিদে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। এর ফলে তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে এবং স্বাভাবিক শৈশব হারাচ্ছে।

শিশু শ্রমের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দারিদ্র্যকে চিহ্নিত করা হলেও বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক সচেতনতার অভাব এবং সস্তা শ্রমের চাহিদাও এই সমস্যাকে জিইয়ে রাখছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশু শ্রম সহজে দৃশ্যমান না হওয়ায় সমস্যাটি অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।

একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে উন্নত হতে পারে, যখন তার প্রতিটি শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারে। শিশু শ্রমের কারণে একটি শিশু যেমন নিজের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হয়, তেমনি দেশও হারায় একজন সম্ভাবনাময় নাগরিককে। ফলে শিশু শ্রম নিরসনকে শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, জাতীয় উন্নয়নের কৌশলগত প্রয়োজন হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে।

শিশু শ্রম রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ সমূহ:
প্রথমত, শিশু শ্রমের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দরিদ্র ও নি¤œ আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে পরিবারগুলো সন্তানদের শ্রমে পাঠাতে বাধ্য না হয়।

দ্বিতীয়ত, সকল শিশুর জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যালয় ত্যাগকারী শিশুদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় আনা এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও আকর্ষণীয় ও বাস্তবমুখী করে তুলতে হবে।
তৃতীয়ত, শিশু শ্রম সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশু নিয়োগের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চতুর্থত, শিশু শ্রমের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পরিবার, নিয়োগকর্তা ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সামাজিক আন্দোলন ও গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পঞ্চমত, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে শিশু শ্রম প্রতিরোধে শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো শিশু শ্রমে জড়িত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
ষষ্ঠত, ইতোমধ্যে শ্রমে জড়িত শিশুদের পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে শ্রম থেকে সরিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

শিশু শ্রম নির্মূল কেবল মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি উন্নত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত। তাই শিশুদের হাতে শ্রমের সরঞ্জাম নয়, শিক্ষা ও স্বপ্নের আলো তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা

 

 

 

Ads small one

আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কনফারেন্স কক্ষে এ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।
“মেধা-বিজ্ঞান উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে” এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোের্ট স্কিম, এসইডিপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকার আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ হাসানুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনের এমপি, মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাও. নূরুল আফসার মুর্তাজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাজহারুল ইসলাম মুকুল। অন্যদের মধ্যে আশাশুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়েরর প্রধান শিক্ষক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, আশাশুনি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক লিংকন আসলাম, কোষাধ্যক্ষ এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক মুস্তাহিদুর রহমানসহ উপজেলার ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ ১২টি বিদ্যালয়ের “স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী আইডিয়া উপস্থাপনকৃত মেলার স্টল ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করেন। মেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে, সরাপপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে, গুনাকরকাটি শাহ মোহাম্মদ ইয়াহিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী শিক্ষাশিবির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী শিক্ষাশিবির

সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদরের ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক কর্মী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়াস্থ আল-আমিন ট্রাস্ট মিলনায়তনে এ শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি মো. শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য শহীদুল ইসলাম মুকুল।
এছাড়াও বিভিন্ন সেশনে বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন,জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্রফেসর আব্দুল ওয়ারেছ, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শহিদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা আনিছুর রহমান, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা উসমান গনি, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি আলী আহসান আল মুজাহিদ প্রমুখ।

তালায় শিবপুর স্পোর্টিং ক্লাবের ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
তালায় শিবপুর স্পোর্টিং ক্লাবের ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালায় উৎসবমুখর পরিবেশে শিবপুর স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়ের সামনের মাঠে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক এস.এম নজরুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খ-কালীন শিক্ষক রিজাউল ইসলাম সানা সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম হাসান আলী বাচ্চু, আব্দুল লতিফ শেখ ও মুকুল সরদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলাফীল গাজী, শাওন শেখ, সামিউল খাঁ, রিয়াব খাঁ, আবু সাইদসহ শিবপুর স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্যরা।
উদ্বোধনী খেলায় মুখোমুখি হয় শাহাপুর ফুটবল একাদশ ও মহল্লাপাড়া ফুটবল একাদশ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় উভয় দল ১-১ গোলে সমতায় থাকায় খেলার ফলাফল নির্ধারণে ট্রাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হয়। রুদ্ধশ্বাস ট্রাইব্রেকারে মহল্লাপাড়া ফুটবল একাদশ ৫-৪ গোলের ব্যবধানে শাহাপুর ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে জয়লাভ করে।