সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

ক্ষমা চাইলেন ব্রাজিল অধিনায়ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ক্ষমা চাইলেন ব্রাজিল অধিনায়ক

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর স্বাভাবিকভাবে হতাশ অধিনায়ক মার্কিনিওস। শেষ ষোলর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করার আক্ষেপের পাশাপাশি ব্রাজিলের সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার।

নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্লিং হাল্যান্ডের জোড়া গোলে ২–১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে পেনাল্টিসহ বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। আর সেটিকেই পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন মার্কিনিওস।

ম্যাচ শেষে ব্রাজিল অধিনায়ক বলেন, ‘ব্যাখ্যা করা কঠিন। এমন সময়ে কথা বলাটাও কঠিন। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, এ ধরনের ম্যাচ খুব কঠিন হয়। প্রতিটি বলই গুরুত্বপূর্ণ। নরওয়ে তাদের পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছে। আমরা পেনাল্টিসহ যেসব সুযোগ পেয়েছি, তার অনেকগুলোই নষ্ট করেছি। জিততে না পেরে আমরা সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আসলে বিশ্বকাপে যে দল কম ভুল করে, তারাই পরের ধাপে যায়।’

দলের অধিনায়ক হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি, ‘অধিনায়ক হিসেবে, আর বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারে।’

Ads small one

বাংলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের চিরপ্রস্থান/ এম.এম হায়দার আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
বাংলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের চিরপ্রস্থান/ এম.এম হায়দার আলী

এম.এম হায়দার আলী

বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও মননশীল চিন্তার আকাশ থেকে আরেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর আমাদের মাঝে নেই। তাঁর প্রস্থান শুধু একটি মানুষের মৃত্যু নয়; এটি বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর মৃত্যুতে জাতি হারাল একজন চিন্তাশীল শিক্ষক, একজন নির্ভীক গবেষক এবং বাংলা ভাষার এক নিবেদিতপ্রাণ সাধক। গত রোববার রাজধানীর মিরপুরের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া আবুল কাসেম ফজলুল হক জ্ঞানের সাধনায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। সদ্য প্রয়াত এই মনীষীর জীবনি ঘেঁটে যতটুকু জানা সম্ভব হল, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে কেবল পাঠদানই করাননি, তাঁদের মধ্যে জাগিয়ে তুলেছিলেন মুক্তচিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাহিত্যবোধের দীপ্তি। বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে অসামান্য অবদান রাখেন। তাঁর লেখনী ছিল সময় সচেতন, বিশ্লেষণধর্মী এবং সমাজমনস্ক।

 

মুক্তিসংগ্রাম, ‘কালের যাত্রার ধ্বনি, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, ‘উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণী ও বাংলা সাহিত্য, মানুষ ও তার পরিবেশ, সাহিত্যজিজ্ঞাসা, সাহিত্যসৃষ্টি ও সাহিত্যবিচার, ‘জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিকতাবাদ, বিশ্বায়ন ও ভবিষ্যৎ, বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও উত্তরকাল, আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা’,এসব গ্রন্থ আজও গবেষক, শিক্ষার্থী ও পাঠকের কাছে মূল্যবান সম্পদ।

 

দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের রাজনৈতিক আদর্শের বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে তিনি বিশ্বচিন্তার দুয়ারও বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য উন্মুক্ত করেছিলেন। সম্পাদক হিসেবেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘মোতাহের হোসেন চৌধুরীর নির্বাচিত প্রবন্ধ, ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং স্বদেশচিন্তা সহ একাধিক গ্রন্থ বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি সুন্দরম ও লোকায়ত’ সাময়িকীর মাধ্যমে তিনি নতুন চিন্তা, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন।

তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পুরস্কার নয়; তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি ছিলেন একজন মুক্তবুদ্ধির মানুষ, যিনি সত্য, যুক্তি এবং মানব কল্যাণের পক্ষে আজীবন কলম ধরেছিলেন। একজন প্রকৃত মনীষীর মৃত্যু কখনো তাঁর চিন্তার মৃত্যু নয়। মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি, তাঁর দর্শন এবং তাঁর আলোকিত চিন্তা যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের রচনা, গবেষণা ও চিন্তার আলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে,এটাই আমাদের বিশ্বাস।

 

আজ তাঁর শূন্যতায় বাংলা সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ যেন এই প্রাজ্ঞ মনীষীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীকে এই শোক বহনের শক্তি দান করেন।বিদায় প্রাজ্ঞ মনীষী। আপনার কলম থেমে গেছে, কিন্তু আপনার চিন্তার আলো বাংলার আকাশে দীর্ঘদিন জ্বলে থাকবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

এজলাসে অসুস্থ শিশুকে দেখে রায়: অস্ত্রোপচারের খরচসহ ভরণপোষণ দিতে বাবাকে নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
এজলাসে অসুস্থ শিশুকে দেখে রায়: অস্ত্রোপচারের খরচসহ ভরণপোষণ দিতে বাবাকে নির্দেশ

বদিউজ্জামান: সাতক্ষীরার পারিবারিক আদালতের এজলাসে হাজির করা হয় সাত বছর বয়সী এক অসুস্থ শিশুকে। শিশুটির ডান হাতের তুলনায় বাঁ হাত অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া ও কালচে বর্ণ ধারণ করায় বিচারক নিজেই শিশুটিকে ডায়াসে ডেকে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। পরে রায়ে শিশুটির অস্ত্রোপচারের সম্পূর্ণ ব্যয়, বকেয়া ও নিয়মিত ভরণপোষণ এবং দেনমোহর পরিশোধের জন্য বাবাকে নির্দেশ দেন।

সাতক্ষীরা পারিবারিক আদালত-২-এর বিচারক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ মো. হাসানুল বান্না সম্প্রতি এ রায় প্রদান করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শিশুটির বাবা-মায়ের বিয়ে হয়। ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বর্তমানে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে দেবহাটা উপজেলায় বসবাস করছে। শিশুটির বাবা কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং ঢাকায় একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, শিশুটি ভাস্কুলার ম্যালফরমেশন রোগে আক্রান্ত। এ রোগের কারণে তার বাঁ হাতে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হাতটি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং কালচে বর্ণ ধারণ করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা।

শিশুটির মা গত বছরের মার্চ মাসে দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় চেয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলার শুনানিকালে বাদীপক্ষের আবেদনের পর শিশুটিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার শারীরিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফেরদৌস হোসেন জানান, আদালতের কাছে আবেদন করার পর বিচারক শিশুটিকে ডায়াসে ডেকে তার অসুস্থ হাত পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে প্রদত্ত রায়ে শিশুটির চিকিৎসার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
রায়ে শিশুটির অস্ত্রোপচারের জন্য ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা, ১৩ মাসের বকেয়া ভরণপোষণ বাবদ ৩৯ হাজার টাকা এবং ভবিষ্যতে শিশুর পড়াশোনা ও চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুটির মায়ের ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর পরিশোধেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অন্তর্র্বতীকালীন আদেশে শিশুটির জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভরণপোষণ নির্ধারণ করেছিলেন আদালত।

এ বিষয়ে শিশুটির বাবার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তার ছোট ভাই জানান, আদালতের রায়ের বিষয়ে তারা অবগত এবং আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালনের বিষয়ে তাদের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

আইনজীবী মহলের মতে, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ ও পিতার আইনগত দায়িত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।

 

সাতক্ষীরায় ৭৬ শতাংশ নারীই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহিংসতার শিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ৭৬ শতাংশ নারীই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহিংসতার শিকার

মো: হোসেন আলী: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি ও সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাতক্ষীরায় পরিচালিত এক জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৪৭ জন (প্রায় ৭৬ শতাংশ) জানিয়েছেন, তারা কোনো না কোনো সময় অনলাইনে হয়রানি বা ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হয়েছেন। অথচ ৪৮ জনই জানিয়েছেন, অনলাইন সহিংসতার ঘটনায় কোথায় অভিযোগ করতে হয়, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

সোমবার (৬ জুলাই) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে ‘যুব নেতৃত্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে এডভোকেসি সভায়’ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অ্যাকশন ফর ট্রান্সফরমেশন প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরার উন্নয়ন সংস্থা সিডো জরিপটি পরিচালনা করে। এতে সহযোগিতা করেছে একশনএইড বাংলাদেশ।

পরিচালিত এ জরিপে তালা উপজেলার ধানদিয়া ও নগরঘাটা ইউনিয়ন এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পৌরসভা, ফিংড়ী ও ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নে যুব সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ভুক্তভোগী নারী ও কমিউনিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হয়। জরিপে মোট ৬২টি কী ইনফরমেন্ট ইন্টারভিউ (নারী ৩৮, পুরুষ ২৪) এবং চারটি ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে (এফজিডি) ৪৬ জন (নারী ২৩, পুরুষ ২৩) অংশ নেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করলেও একই সঙ্গে নারীদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকিরও সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অপব্যবহার, সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, চরিত্রহনন, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করে হয়রানির মতো ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।

জরিপে অংশ নেওয়া সবাই ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব ব্যবহার করেন। এছাড়া ২৫ জন টিকটক, ১৫ জন ই-মেইল, ৮ জন ইমো এবং ৫ জন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন। হয়রানির মাধ্যম হিসেবে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে ফেসবুক। জরিপ অনুযায়ী, ২০ জন ফেসবুকের মাধ্যমে এবং ৫ জন মেসেঞ্জারের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া ফোন মেসেজ ও ইমোর মাধ্যমেও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে।

হয়রানির ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১৯ জনের নামে ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে। ১৬ জন অশালীন বার্তা পেয়েছেন। ১১ জনের ছবি বা ভিডিও অপব্যবহার করা হয়েছে এবং সমানসংখ্যক ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া ৯ জন হুমকি, ৭ জন ব্ল্যাকমেইল এবং ৪ জন সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন।

ডিজিটাল সহিংসতার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য। ২৯ জন জানিয়েছেন, তারা তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন। ২২ জন ভয় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন। ১৩ জনের শিক্ষা বা কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ৮ জন আত্মবিশ্বাস হারিয়েছেন এবং ৭ জন সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

জরিপে দেখা গেছে, হয়রানির শিকার হওয়ার পর মাত্র একজন পুলিশকে এবং একজন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে বিষয়টি জানিয়েছেন। ১৫ জন পরিবারের সদস্যদের এবং ২০ জন বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি ভাগাভাগি করেছেন। একজন শিক্ষককে জানিয়েছেন। তবে ৮ জন কাউকেই কিছু জানাননি।

কেন অভিযোগ করেননি? এমন প্রশ্নে ১৬ জন বলেছেন, প্রতিকার পাবেন বলে বিশ্বাস করেননি। ১৫ জন ভয় পেয়েছেন, ১৪ জন সামাজিক লজ্জার কথা বলেছেন। ৯ জন জানিয়েছেন, কোথায় অভিযোগ করবেন তা জানতেন না। আর ৬ জন পরিবারের বাধার কথা উল্লেখ করেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ৬২ জনের মধ্যে ৪৮ জনই জানিয়েছেন, অনলাইন সহিংসতার ঘটনায় কোথায় অভিযোগ করা যায়, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কেউই অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে নারীদের জন্য ‘খুব নিরাপদ’ মনে করেননি। ২৪ জন বলেছেন, কিছুটা নিরাপদ। অন্যদিকে ২৩ জন এটিকে অনিরাপদ এবং ১৫ জন খুবই অনিরাপদ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের মতে, সামাজিক কুসংস্কার, প্রযুক্তি সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান, ব্যক্তিগত তথ্য অসতর্কভাবে শেয়ার করা, দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ নারীদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, কিশোরী ও তরুণীদের জন্য কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তা সহজলভ্য করা, যুব নেতৃত্বে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা।

প্রতিবেদনটি বলছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করতে হলে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এ জন্য শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পথ।

উন্নয়ন সংস্থা সিডোর নির্বাহী পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম, সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন, এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম. কামরুজ্জামান, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মমতাজ পারভীন, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিক উদ দৌলা সাগর, সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন, সিডোর প্রকল্প সমন্বয়কারী তৌহিদুর রহমান, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার, যুব সংগঠক মো. সাকিব হোসেন, মাহফুজ আহমেদ প্রমুখ।

সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, উন্নয়নকর্মী, যুব প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় প্রকল্পের আওতায় গঠিত যুব সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।