শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

খেজুর রসের মিষ্টি সুবাস ও শীতের স্নিগ্ধ পরশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
খেজুর রসের মিষ্টি সুবাস ও শীতের স্নিগ্ধ পরশ

তারিক ইসলাম

শীত মানেই কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, নরম রোদ আর চারদিকে এক অদ্ভুত আলস্যমাখা আবহ। ভোরের প্রথম আলো যখন গাছের পাতায় জমে থাকা শিশিরের ওপর পড়ে, তখন চারপাশটা যেন মুক্তোর মতো ঝলমল করে ওঠে। শীতের এই আগমনী বার্তা গ্রামবাংলায় নিয়ে আসে আমাদের ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ—খেজুরগাছ। ঋতুচক্রের আবর্তনে হেমন্তের শেষ থেকেই বাংলার গ্রামীণ জনপদে শুরু হয় এই গাছকে ঘিরে এক অপূর্ব কর্মব্যস্ততা। গাছিদের নিপুণ হাতে হাঁড়ি বাঁধার শব্দ, রসের মিষ্টি গন্ধ আর শীতের সকালে উনুনের ধোঁয়া মিলে তৈরি করে এক মায়াবী আবহ।

শীতকালে গ্রামবাংলার মেঠোপথে হাঁটলে কিংবা দীঘির পাড়ে তাকালে সারি সারি খেজুরগাছ আমাদের শৈশবের স্মৃতি ও নস্টালজিয়াকে জাগিয়ে তোলে। বিশেষ পরিচর্যা ছাড়াই প্রকৃতির নিয়মে বেড়ে ওঠা এই গাছটি শীত মৌসুমে বাংলার মানুষকে উপহার দেয় এক অমূল্য সম্পদ—সুমিষ্ট রস। ভোরের মিষ্টি রোদে বসে কাঁচা খেজুরের রস পান করার আনন্দই আলাদা। এর সঙ্গে গরম ভাপা পিঠা কিংবা চিতই পিঠার সঙ্গে পাটালি গুড়ের স্বাদ—এ যেন বাঙালির কাছে অমৃতসুধা। শহুরে যান্ত্রিকতার ভিড়েও এই চিরচেনা স্বাদ ফিরে পাওয়ার আকুলতা প্রবাসী ও শহুরে বাঙালিসহ সবার মনেই এক গভীর নস্টালজিয়া তৈরি করে।

শুধু স্বাদের দিক থেকেই নয়, খেজুরের রস ও গুড়ের রয়েছে পুষ্টিগুণ। খেজুরের রসে বিভিন্ন খনিজ উপাদান ও প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। তবে কাঁচা রস পান করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও মনে রাখা জরুরি। রস থেকে যখন ঝোলা গুড়, দানা গুড় ও পাটালি তৈরি হয়, তখন এর সুবাস ও স্বাদ হয়ে ওঠে অনন্য। খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পায়েস, পুলি, চিতই কিংবা পাটিসাপটা পিঠার সুবাসে শীতের সকালগুলো হয়ে ওঠে আরও উৎসবমুখর।

কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খেজুরগাছ আজ নানা সংকটের মুখোমুখি। অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটা, দ্রুত নগরায়ণ, কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তন এবং নতুন গাছ রোপণের প্রতি উদাসীনতার কারণে দিন দিন খেজুরগাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। একসময় যে গ্রামগুলোতে শত শত গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হতো, আজ সেখানে হাতে গোনা কয়েকটি গাছ টিকে আছে। ঐতিহ্যবাহী গাছি পেশার মানুষও জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন। এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিকড় দুর্বল হয়ে যাওয়া।

প্রকৃতির এই অমূল্য দান ও আমাদের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনই সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। গ্রামীণ রাস্তার পাশে, জমির আইলে কিংবা অব্যবহৃত জমিতে বেশি করে খেজুরের চারা রোপণ করতে হবে। পাশাপাশি, এই প্রাচীন পেশার সঙ্গে যুক্ত গাছিদের সরকারি-বেসরকারি প্রণোদনা দিতে হবে। রস সংগ্রহের জন্য আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

শীতের মিষ্টি রোদ, খেজুরের রস আর গ্রামীণ পিঠাপুলির এই ঐতিহ্য কেবল আমাদের খাদ্যাভ্যাসের অংশ নয়; এটি বাঙালি পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। আসুন, খেজুরগাছ রক্ষা ও এর ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আমরা সবাই সচেতন হই, যাতে আগামী প্রজন্মও শীতের সকালে এই অমলিন স্বাদ ও প্রকৃতির স্নিগ্ধতা উপভোগ করতে পারে।

লেখক: তারিক ইসলাম
সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

তালার জলাশয়ে কচুরিপানার বেগুনি-সাদা ফুলের সমারোহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
তালার জলাশয়ে কচুরিপানার বেগুনি-সাদা ফুলের সমারোহ

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের আগমনী আবহে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জলাশয়, বিল ও নিচু জমিতে ফুটেছে কচুরিপানার বেগুনি ও সাদা ফুল। একসময় অবহেলিত এই জলজ উদ্ভিদের ফুল এখন প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। সবুজের বুকে বেগুনি-সাদা ফুলের সমারোহ মুগ্ধ করছে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

উপজেলার বিভিন্ন জলাশয় ঘুরে দেখা যায়, পানির ওপর ছড়িয়ে থাকা কচুরিপানার ফুলে কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক গালিচার মতো দৃশ্য। নিভৃত জলাশয়ে ফুটে থাকা এসব ফুল দেখতে চলার পথে থমকে দাঁড়াচ্ছেন স্থানীয় তরুণ-তরুণী ও পথচারীরা। কেউ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউবা মুঠোফোনে ছবি তুলে রাখছেন।

কচুরিপানার ফুল দেখতে আসা স্থানীয় শিক্ষার্থী আহনাফ হক বলেন, “প্রতিদিনের পড়ালেখার ক্লান্তি কাটাতে প্রকৃতির এই রূপ সত্যিই মনকে প্রফুল্ল করে তোলে।”

কাজের ফাঁকে ঘুরতে আসা আবুল হোসেন বলেন, “যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার পর গ্রামবাংলার এমন শান্ত পরিবেশ ও ফুলের সৌন্দর্য দেখতে চমৎকার লাগে। প্রকৃতির এই স্বাভাবিক রূপ মনে একধরনের প্রশান্তি এনে দেয়।”

গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা হায়দার আলী বলেন, “একসময় বিল-ঝিলে এমন কচুরিপানার ফুল অনেক দেখেছি। কিন্তু এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না।” কচুরিপানাকে ঘিরে তাঁর জীবনের নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

পরিবেশবিদদের মতে, কচুরিপানার ফুল সাময়িকভাবে জলাশয়ের সৌন্দর্য বাড়ালেও অতিরিক্ত কচুরিপানা জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এর নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জেলা সবুজ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি এজাজ আহম্মেদ স্বপন বলেন, ঋতুবদলের এই সময়ে কচুরিপানার বেগুনি ও সাদা ফুল গ্রামীণ পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। সাধারণ এই জলজ উদ্ভিদের ফুল প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, গ্রামবাংলার চিরচেনা সৌন্দর্য আজও লুকিয়ে আছে নিভৃত জলাশয় ও সবুজের মাঝে।

৭ নভেম্বরের কর্মসূচি সফল করতে তালা উপজেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
৭ নভেম্বরের কর্মসূচি সফল করতে তালা উপজেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে তালা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়ের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলী, শরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদুল রাজু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব এবং সরুলিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

সভায় নেতারা জানান, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের বিকেল ৩টায় পাটকেলঘাটার পাঁচ রাস্তার মোড়ে শহীদ স ম আলাউদ্দীন চত্বরে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

লাবসা ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
লাবসা ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন

oplus_0

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. আব্দুল আলীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাসান, শেখ জাহাঙ্গীর হাসেমী, সাংবাদিক আবু সাঈদ ও বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনি।

এ সময় বক্তব্য দেন আবুল হাসান, ডা. আনোয়ার হোসেন, শাহজাহান আলী, কবীর হোসেন, যশোর আলী, মাসুম বিল্লাহ ও রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার কয়েকটি ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। লাবসা ইউনিয়নেও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এ কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলো প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবে।

অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।