মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

খেলার জন্য জীবন বিসর্জন-ক্ষতি কার/ এম.এম হায়দার আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
খেলার জন্য জীবন বিসর্জন-ক্ষতি কার/ এম.এম হায়দার আলী

এম.এম হায়দার আলী

ফুটবল পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি। এই খেলাকে ঘিরে মানুষের আবেগ, উচ্ছ্বাস, উদযাপন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সেই আবেগ একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, এ ক্ষতি কার? একটি ফুটবল দলের পরাজয় কি কখনও একজন মানুষের জীবনের চেয়ে বড় হতে পারে? কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্রাজিলের এক তরুণ সমর্থক রতনের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের পরাজয়ের পর প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের উপহাস ও নেতিবাচক ট্রল সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদি তদন্তে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হয়, তবে এটি কেবল একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য গভীর সতর্কবার্তা।

 

রতনের বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। জীবনের স্বপ্ন তখনও শুরুই হয়েছিল। পেছনে রেখে গেলেন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং মাত্র দুই মাসের একটি নিষ্পাপ সন্তান। একটি পরিবারের হাসি মুহূর্তেই পরিণত হলো আজীবনের কান্নায়। একটি ফুটবল ম্যাচ শেষ হয়েছে, কিন্তু এই পরিবারের দুঃখের কোনো শেষ নেই। আমাদের সমাজে খেলাকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ঠাট্টা-মশকরা নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন সেই ঠাট্টা অপমান, মানসিক নির্যাতন, সামাজিক হেনস্তা কিংবা অনলাইন ট্রলে রূপ নেয়, তখন তা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা প্রায়ই ভাবি, এ তো মজা করলাম। কিন্তু সেই ‘মজা’ অন্য একজনের কাছে অসহনীয় যন্ত্রণা হয়ে উঠতে পারে।

মনে রাখতে হবে, ফুটবল একটি খেলা। আজ ব্রাজিল হারবে, কাল আর্জেন্টিনা হারবে, অন্যদিন অন্য কোনো দল। জয়-পরাজয় খেলারই অংশ। কিন্তু একজন মানুষ হারিয়ে গেলে তিনি আর কখনও ফিরে আসেন না। কোনো ট্রফি, কোনো জয়, কোনো তর্ক একটি মানুষের জীবনের সমান নয়। এই ঘটনার জন্য শুধু ব্যক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সবারই দায়িত্ব রয়েছে। পরিবারে সন্তানদের শেখাতে হবে, খেলা বিনোদনের বিষয়; কোনো দলের জয়-পরাজয় ব্যক্তিগত সম্মান বা জীবনের মূল্য নির্ধারণ করে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার পাশাপাশি সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও সংযত হতে হবে। কাউকে হেয় করা, অপমান করা বা দলবদ্ধ ভাবে ট্রল করা কখনোই সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতির অংশ নয়। মতভেদ থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু মানবিকতা হারিয়ে গেলে সেই সমর্থনের কোনো মূল্য থাকে না।

প্রশাসন, ক্রীড়া সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোও এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে পারে। খেলা হোক আনন্দের, বিদ্বেষের নয়, এই বার্তাটি সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি, মানসিক চাপে থাকা মানুষ যেন সহজেই পরামর্শ ও সহায়তা পেতে পারেন, সে ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা জরুরি। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা প্রত্যেকে নিজের আচরণের দিকে তাকাই। একটি কটূক্তি, একটি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য বা একটি ট্রল কারও মনে কতটা আঘাত দিতে পারে, তা আমরা জানি না। তাই কথা বলার আগে ভাবা উচিত, আমার এই কথায় যদি একজন মানুষের জীবন অন্ধকার হয়ে যায়, তবে সেই কথার কোনো মূল্য নেই। রতনের মৃত্যু যেন আরেকটি পরিসংখ্যান হয়ে না থাকে। এটি হোক আমাদের বিবেক জাগ্রত করার একটি উপলক্ষ।

 

ফুটবল ভালোবাসি, খেলাকে ভালোবাসি, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভালোবাসি মানুষকে। কারণ খেলার আসল সৌন্দর্য প্রতিপক্ষকে ঘৃণা করা নয়, প্রতিযোগিতার মধ্যেও মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সম্মান বজায় রাখা। আসুন, আমরা এমন একটি সমাজ ড়ে তুলি যেখানে কোনো ফুটবল ম্যাচের ফল, কোনো ট্রল বা উপহাস আর কোনো রতনের জীবন কেড়ে নিতে না পারে। খেলার আনন্দ থাকুক মাঠে, আর মানবতার জয় হোক প্রতিটি হৃদয়ে সেই আশায়…।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

ভারী বৃষ্টিপাতে পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের জনদুর্ভোগ চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টিপাতে পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে একটানা ভারী বৃষ্টিপাতে খুলনার পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। নিচু এলাকা ও কাঁচা রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় এবং শ্রেণিকক্ষে জলাবদ্ধতা ও কাদার কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের মূল কারণগুলো হলো জলমগ্ন রাস্তা ও কাদা। টানা বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ কাঁচা রাস্তা ও সড়ক তলিয়ে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে গেছে। ফলে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ যানবাহন চলাচল করতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বা বিকল্প উপায়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করছে। উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক পুরোনো ও নিচু স্কুল ভবনে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। বৃষ্টিতে ভিজে বিদ্যালয়ে পৌঁছানো এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ক্লাস করার কারণে শিক্ষার্থীদের ঠান্ডা-জ্বরসহ নানা শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে।

উপজেলার মটবাড়ী গ্রামের অভিভাবক রহিমা বেগম বলেন, আমার ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। বৃস্টির কারণে আসা যাওয়ার পথে বৃস্টিতে ভিজে তার জ্বরও সর্দি হয়েছে। দমকা বাতাস আর বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় দিয়েও রক্ষা হচ্ছে না।

বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, যার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পানি ও কাদা মাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। এই বর্ষায় শিক্ষার্থীদের সর্দি-কাশি ও পানিবাহিত রোগের পাশাপাশি পিচ্ছিল রাস্তায় পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা পড়েছে বৃষ্টির বিড়াম্বনায়।

কলারোয়ার আমেনা হত্যা মামলার আপিলে স্বামী ও শ^শুরের ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার আমেনা হত্যা মামলার আপিলে স্বামী ও শ^শুরের ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন

পত্রদূত রিপোর্ট: ২০১৭ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়ার চাঁন্দুড়িয়া গ্রামে গৃহবধু আমেনা খাতুনকে কুলবাগানে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যার পর ইছামতী নদীতে ফেলে লাশ গুম করার চেষ্টার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বামী ওমর আলী ও শ^শুর দ্বীন মোহাম্মদ গাজীর ফাঁসির আদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ প্রদান করা হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি সাথিকা হোসেন গত বছরের ৯ ডিসেম্বর আসামীপক্ষের আপিল শুনানী শেষে এ আদেশ দেন। সম্প্রতি ওই আদেশ সাতক্ষীরা কারাগার ও জজ আদালতে পৌঁছায়।

সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, কলারোয়া উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদ গাজী ও তার ছেলে ওমর আলী।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে কলারোয়া উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের আব্বাসউদ্দিনের মেয়ে আমেনা খাতুনের সাথে একই উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদ গাজীর ছেলে ওমর আলীর পারিবারিকভাকে বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলায় আমেনা ও তার শ^শুরের সাথে বিরোধ হতো।

 

একপর্যায়ে বাবা দ্বীন মোহাম্মদের পরামর্শে ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল আমেনাকে পাশর্^বর্তী ইছামতী নদীর ধারে আজিজুল ইসলামের কুলবাগানে ডেকে নিয়ে ওমর আলী ও তার বাবা দ্বীন মোহাম্মদ গাজী আমেনার শরীর থেকে ওড়না খুলে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যা করে। পরে ইছামতী নদীতে ফেলে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়। ১০ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ইছামতী নদী থেকে আমেনার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই আমেনার বাবা মোঃ আব্বাস উদ্দিন বাদি হয়ে জামাতা ওমর আলী, তার বাবা দ্বীন মাহাম্মদ গাজী, মা আনোয়ারা বিবি’র নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

১২ এপ্রিল ওমর আলীকে মনিরামপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারি কর্মকর্তা কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক ইয়াছিন আলম চৌধুরী। পরদিন ওমর আলী নিজেকে ও বাবাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিচারিক হাকিম রাজীব কুমার রায় এর কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এজাহারে উল্লেখিত তিন জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ৭ আগষ্ট তৎকালিন জেলা ও দায়রা জজ ওমর আলী ও তার বাবা দ্বীন মোহাম্মদ গাজীকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদ- কার্যকর করার নির্দেশ দেন।

এ আদেশের বিরুদ্ধে ওমর আলী ও দ্বীন মোহাম্মদ গাজী মহামান্য হাইকোর্টে ২৪৯/১৮ ও ২৫০/১৮ নং জেল আপিল করেন। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ওই আপিল শুনানী শেষে বিচারপতিদ্বয় তাদের মৃত্যুদ-াদেশ প্রত্যাহার করে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ দেন। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ গত ২ জুলাই সাতক্ষীরা আদালত ও জেলা কারাগারে পৌঁছায়।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. মোস্তফাজামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় নির্বাচনের বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ সিইসির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
স্থানীয় নির্বাচনের বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ সিইসির

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়কে দ্রুত নির্বাচনি আচরণবিধি ও নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন এক নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘সিইসি স্যার আমাদের দ্রুত বিদ্যমান বিধিমালাগুলো চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

এর আগে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছিলেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা যৌক্তিক হবে। সে ক্ষেত্রে ভোটের অন্তত ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনি আচরণবিধি ও নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত করা বাধ্যতামূলক। নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে বিধিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধির খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও মতামত দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি দল ইতোমধ্যে মতামত দিয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন বিধিমালার কাজও চলছে। সেটিও জুলাইয়ের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী। বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালে নির্বাচন উপযোগী হবে।

 

এ ছাড়া দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভায় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন পাঁচটি উপজেলাসহ বর্তমানে দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা ৫০০। সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী। নতুন উপজেলাগুলো হলো—বগুড়ার মোকামতলা, কক্সবাজারের মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ও ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ।

অপরদিকে, নতুন বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশে বর্তমানে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা ১৩। সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী। তবে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।