মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

গুড়পুকুর মেলা: ঐতিহ্যের টান আছে, বদলে গেছে আয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
গুড়পুকুর মেলা: ঐতিহ্যের টান আছে, বদলে গেছে আয়োজন

মিলন বিশ্বাস: শরতের নরম রোদ, বাতাসে হালকা শীতের পরশ, সামনে শারদীয় দুর্গাপূজা এমন উৎসবমুখর সময়ে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। নাগরদোলা, খেলনা, প্রসাধনী, গৃহস্থালির সামগ্রী আর নানা পণ্যের দোকানে মুখর মেলা প্রাঙ্গণ। দর্শনার্থীদের আনাগোনায় উৎসবের আমেজ থাকলেও সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে মেলার আয়োজন ও ব্যবসার ধরন।

 

প্রবীণদের স্মৃতিতে থাকা নৌকায় আসা দোকানি, কবিগান, জারিগান ও বাউলগানের আসর এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। ঐতিহ্যের টান থাকলেও মেলার সেই পুরোনো রূপ অনেকটাই বদলে গেছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) মেলার একাদশ দিনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল বেশ ভালো। দুই বছর বিরতির পর ফিরে আসা প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি ও বিনোদনে সময় কাটাচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। তবে মেলার বর্তমান চিত্রের সঙ্গে অতীতের তুলনা করতে গিয়ে প্রবীণদের স্মৃতিতে উঠে আসছে ভিন্ন এক আয়োজনের কথা।

সাতক্ষীরা শহরের কামালনগরের ৭৩ বছর বয়সী ফজলুর রহমানের স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল গুড়পুকুর মেলার পুরোনো দিনগুলো। তার ভাষ্য, আগে দূরদূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা নৌকায় করে মেলায় আসতেন। মেলায় বসত নানা ধরনের গৃহস্থালির সামগ্রীর পসরা। কেনাকাটার পাশাপাশি মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল লোকজ সংস্কৃতির আয়োজন।

ফজলুর রহমান বলেন, “আগে দূরদূরান্ত থেকে দোকানিরা নৌকায় করে মেলায় আসতেন। তখন মেলায় বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালির জিনিসপত্র পাওয়া যেত। কবিগান, জারিগান ও বাউলগানের আসর বসত। মানুষ কেনাকাটার পাশাপাশি এসব গান শুনতেও মেলায় আসতেন। এখন সেই আয়োজন আর তেমন দেখা যায় না। মেলায় এখন দোকানপাটই বেশি চোখে পড়ে।”

তার মতে, পুরোনো দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজন ফিরিয়ে আনা গেলে মেলার ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মও স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
মেলার পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতাতেও। ঢাকা থেকে আসা ৫৬ বছর বয়সী প্রসাধনী ব্যবসায়ী সৈকত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মেলায় দোকান দিয়ে আসছেন। তার অভিজ্ঞতায়, আগে মেলায় গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রীর চাহিদা বেশি ছিল। সময়ের সঙ্গে ক্রেতাদের পছন্দ বদলেছে; বেড়েছে প্রসাধনী ও ফ্যাশনপণ্যের চাহিদা।

সৈকত বলেন, “আগে বিভিন্ন মেলায় দোকান দিয়েছি। তখন এসব প্রসাধনসামগ্রী এত বিক্রি হতো না। সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদা বেশি ছিল। এখন কসমেটিকস, কানের দুল, হারসহ বিভিন্ন ফ্যাশনপণ্যের চাহিদা অনেক বেড়েছে। এসব পণ্যের ব্যবসাও মোটামুটি লাভজনক। তাই আমরাও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসার ধরন পাল্টেছি।”
তার কথায়, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এখন ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসার ধরন বদলানোও তাদের প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে।

প্রবীণদের কাছে গুড়পুকুর মেলা পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার উপলক্ষ। অন্যদিকে তরুণদের কাছে মেলার আকর্ষণ অনেকটাই বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি, আড্ডা ও কেনাকাটাকে ঘিরে। মেলায় ঘুরতে আসা তরুণ দর্শনার্থী মৌমিতা বলেন, “আমাদের কাছে মেলা মানে বান্ধবীদের নিয়ে একসঙ্গে ঘোরাঘুরি, আড্ডা দেওয়া আর কেনাকাটা করা। তিন বান্ধবী মিলে নৌকায় উঠেছি, কেনাকাটাও করছি। বেশ ভালো লাগছে। তবে গুড়পুকুর মেলায় পুরোনো দিনের কিছু ঐতিহ্য থাকলে আরও ভালো লাগত। একটু জায়গা রেখে শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক আয়োজন করা হলে মেলাটি আরও প্রাণবন্ত হতো।”

মৌমিতার প্রত্যাশায় উঠে এসেছে নতুন প্রজন্মের চাওয়া। আধুনিক বিনোদনের পাশাপাশি মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ পরিবেশনা ও শিশু-কিশোরদের উপযোগী শিক্ষামূলক আয়োজন থাকলে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরও বৈচিত্র্যময় হতে পারে।

মেলার একাদশ দিনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। সার্বিক পরিবেশও ছিল স্বাভাবিক। মেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থাও রয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো থাকায় পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা স্বস্তিতে মেলা ঘুরে দেখছেন।

মেলা কমিটির সদস্য হাসান শিকদার জানান, দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে মেলার সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। এখন প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলছে। বর্ধিত সময়ে দর্শনার্থীরা আরও বেশি সময় নিয়ে মেলা ঘুরে দেখা ও কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছেন।
জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার আয়োজনে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে গত ১ অক্টোবর শুরু হয়েছে গুড়পুকুর মেলা। চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই বছর বিরতির পর মেলা ফিরে আসায় স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

গুড়পুকুর মেলার পরিবর্তন একদিকে মানুষের রুচি ও ব্যবসার ধরন বদলে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরে, অন্যদিকে সামনে আনে ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্ন। আধুনিক পণ্য ও নতুন বিনোদনের আয়োজন মেলার স্বাভাবিক বিবর্তনের অংশ। তবে এর পাশাপাশি কবিগান, জারিগান, বাউলগানসহ স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতির আয়োজন ফিরিয়ে আনা গেলে মেলা আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

প্রবীণদের স্মৃতি, ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা আর তরুণদের প্রত্যাশা সব মিলিয়ে গুড়পুকুর মেলার সামনে রয়েছে নতুন সম্ভাবনা। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুরোনো ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে পারলেই সাতক্ষীরার এই প্রাচীন মেলা আগামী প্রজন্মের কাছেও হয়ে উঠবে আরও আকর্ষণীয় ও অর্থবহ।

 

 

 

 

Ads small one

কপ৩১-কে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা: ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
কপ৩১-কে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা: ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১-কে সামনে রেখে ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম এই পদযাত্রার আয়োজন করে।

সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে পদযাত্রাটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এর আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশ ও পক্ষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, দিন দিন বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করছেন। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি, জীবিকা ও সুপেয় পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বারবার দুর্যোগে নিঃস্ব হয়ে অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। জীবিকার তাগিদে তাদের কেউ কেউ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

তারা বলেন, কপ৩১-কে সামনে রেখে জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে জোরালো দাবি তুলে ধরতে হবে।

এসময় গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, গ্রীন কোয়ালিশনের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, জেলা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সদস্যসচিব ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মো. মফিজুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান, যুব সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্য জ্যোতি সরকার প্রমুখ। #

সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত: প্রয়োজন সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত: প্রয়োজন সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ

সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ ও প্রাণহানির হার প্রতিদিন বাড়ছে। সীমান্তঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরাতেও প্রতিদিন নতুন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ২৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ কাজের বা পড়াশোনার জন্য পার্শ্ববর্তী জেলা খুলনায় অবস্থান করছিলেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরে সাতক্ষীরায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। সারাদেশে মৃত্যু প্রায় তিন শতাধিক এবং আক্রান্ত লাখ ছুঁইছুঁইÑযা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিগত বছরগুলোর চরম ব্যর্থতা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সংকটের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রার তারতম্য, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এডিস মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্তমানে এডিস মশার বিস্তার কেবল রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে সীমাবদ্ধ নেই; গ্রাম ও মফস্বলেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে শয্যা, প্রয়োজনীয় কিট ও ওষুধের সংকট এই মুহূর্তে না থাকলেও মূল সমস্যা রয়ে গেছে প্রতিরোধের জায়গায়। কেবল আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেই এ মহামারির মতো সংকট নিরসন সম্ভব নয়; প্রয়োজন এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র নির্মূল করা।

প্রতি বছর ডেঙ্গুর মওসুমে রুটিনমাফিক কিছু স্প্রে ও মৌখিক প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশলের ঘাটতি সুস্পষ্ট। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রথমত স্থানীয় প্রশাসন ও কৌরসভাগুলোকে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে কার্যকর মশক নিধন অভিযান চালাতে হবে। ব্যবহৃত কীটনাশকের মান, কার্যকারিতা ও সঠিক মাত্রা নিয়মিত মনিটর করা জরুরি, যাতে নি¤œমানের কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ ও শ্রমের অপচয় না ঘটে।

দ্বিতীয়ত, ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশা স্বচ্ছ জমাটবদ্ধ পানিতে বংশবৃদ্ধি করে এবং মূলত দিনের বেলায় কামড়ায়। ফলে নিজ নিজ ঘরবাড়ি, আঙিনা, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি মওসুমি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি একটি স্থায়ী জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। সময় এসেছে প্রথাগত মশক নিধন কার্যক্রমের বাইরে এসে বছরব্যাপী গবেষণা, মশার লার্ভা ধ্বংসের কার্যকর প্রযুক্তি এবং সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারণাকে সমন্বিত করার। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশকে এডিস মুক্ত রাখতে এখনই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; নতুবা ডেঙ্গুর এই রূপ আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বাঁশদহায় কাওনডাঙ্গা বাজারে রমজান আলীর মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
বাঁশদহায় কাওনডাঙ্গা বাজারে রমজান আলীর মতবিনিময়

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১নম্বর বাঁশদহা ইউনিয়নের কাওনডাঙ্গা বাজারে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা রমজান আলী। সোমবার কাওনডাঙ্গা বাজারে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।