মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতলো বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতলো বাংলাদেশ

প্রথম টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১৮ ওভারে ১৮৩/৪ (শামীম ৩১*, হৃদয় ৫১*; সাইফ ১৭, লিটন ২১, তানজিদ ২০, পারভেজ ২৮)

ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা: তাওহীদ ‍হৃদয়

নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ১৮২/৬ (স্মিথ ২*, ক্লার্কসন ২৭*; রবিনসন ০, ক্লিভার ৫১, ক্লার্ক ৫১, জ্যাকবস ১, ফক্সক্রফট ৩, কেলি ৩৯)

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়ার (১৮৩) কীর্তি গড়েছে। আগের সর্বোচ্চটিও ছিল চট্টগ্রামে। গত নভেম্বরে ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল স্বাগতিক দল।

অবশ্য চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৮৩ রানের লক্ষ্যে প্রথম দশ ওভারের খেলায় চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ১০ ওভারে ২ উইকেটে স্কোর ছিল ৭৭। পিছিয়ে পড়েছিল রান রেটে। ১০.১ ওভারে তানজিদ হাসান আউট হয়ে ফিরলে পারভেজ হোসেন নামার পরই পাল্টায় দৃশ্যপট। চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ২৮ বলে ৫৭ রান যোগ করেন পারভেজ। এই ঝড়ো জুটিতেই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। পারভেজ ১৪ বলে ২৮ রানের ক্যামিও খেলে ফিরলে তার পর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাকিটা সামাল দেন তাওহীদ হৃদয় ও শামীম হোসেন। ১২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছেন তারা। ২৬ বলে ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন হৃদয়। শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত থেকেছেন। সঙ্গী শামীম হোসেন ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ১৩ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ জয় নিশ্চিত করে ১৮তম ওভারের শেষ বলে। তাতে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্বাগতিক দল।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪০ রানে দুটি উইকেট নেন ইশ সোধি। একটি করে নিয়েছেন নাথান স্মিথ ও জশ ক্লার্কসন।

জুটি ভাঙলো পারভেজের বিদায়ে

চাপে পড়া বাংলাদেশকে জয়ের পথে তু্লতে থাকেন হৃদয়-পারভেজ। চতুর্থ উইকেটে ২৮ বলে ৫৭ রান যোগ করেন তারা। ১৪.৫ ওভারে এই জুটি ভেঙেছেন ক্লার্কসন। মেরে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন পারভেজ। ১৪ বলে ২৮ রানে ফেরেন তিনি৷ পারভেজের ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ২টি ছয়।

তানজিদের বিদায়ে পড়লো তৃতীয় উইকেট

যে গতিতে রানের দরকার সেভাবে রান আসছিল না। চাপ বাড়ছিল। ১০ ওভারে ২ উইকেটে স্কোর ছিল ৭৭। তার ওপর ধীর গতিতে খেলছিলেন ওপেনার তানজিদ। রানের গতিতে বাড়াতে গিয়ে ১০.১ ওভারে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন তিনি। ২৫ বলে তানজিদ ২০ রানে সোধির দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন।

আশা জাগিয়েও পারলেন না লিটন

৪১ রানে সাইফের আউটের পর রানের চাকা শ্লথ হয়ে পড়েছিল। তানজিদ প্রান্ত আগলে থাকলেও বাক্সবন্দী ছিলেন। কিন্তু লিটন দাস হাত খুলে গতি ফেরানোর চেষ্টা করতে থাকেন। আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ১৫ বলে ২১ রানে থেমেছে তার ইনিংস। ৮.৫ ওভারে সোধির বলে সরে গিয়ে খেলতে গেলে বোল্ড হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। লিটনের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছয়। বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট হারায় ৬৬ রানে।

সাইফের বিদায়ে ভাঙলো শুরুর জুটি

১৮৩ রানের লক্ষ্যে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান মিলে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন। তাদের ব্যাটে ৫ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৪০। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অবশ্য টিকতে পারেননি সাইফ। মেরে খেলতে গিয়ে স্মিথের তৃতীয় ওভারে ১৭ রানে ক্যাচ আউট হয়েছেন। তার ১৬ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছয়। ভাঙে ৪১ রানের ওপেনিং জুটি। ফলে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে বাংলাদেশ সংগ্রহ করতে পারে ৪৪ রান।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ১৮৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নিউজিল্যান্ড

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করেছে নিউজিল্যান্ড।

দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে যান রবিনসন। তার পর দ্রুত ম্যাচের গতি বদলে দেন ডেন ক্লিভার। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। এরপর ক্লিভারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৮৮ রানের জুটি গড়েন কাটেনে ক্লার্ক। এই জুটি ভেঙে ছন্দ পতন ঘটান রিশাদ। ক্লিভারকে ৫১ রানে এলবিডাব্লিউ করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, দুই সেট ব্যাটারই ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ক্লার্ক-ক্লিভারকে ফিরিয়েছেন রিশাদ।

তাদের বিদায়ে কিছুটা ছন্দ হারায় নিউজিল্যান্ড। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে, আর মাঝের ওভারগুলোতে কোনো স্থায়ী জুটিও গড়ে ওঠেনি। অধিনায়ক নিক কেলি ৩৯ রানের একটি ধীরস্থির ইনিংস খেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৮তম ওভারে তার বিদায়ের পর ইনিংসের গতি আরও কমে যায়।

বাংলাদেশের বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। নিউজিল্যান্ড যখন ২০০ রানের পথে এগোচ্ছিল, তখনই তারা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। শেষ দিকে জশ ক্লার্কসনের ১৪ বলের (২৭*) ছোট্ট ঝড়ে দলটি ১৮০ পার হতে সক্ষম হয়।

৩২ রানে ২ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। একটি করে নেন শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান ও মেহেদী হাসান।

শরিফুলের প্রথম শিকার কেলি

দ্রুত উইকেট পতন হলেও প্রান্ত আগলে খেলছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি। রান বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। ১৭.৫ ওভারে মেরে খেলতে গিয়ে শরিফুলের প্রথম শিকার হন তিনি। কেলি ২৭ বলে করেছেন ৩৯ রান। তাতে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছয়।

আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ

আলোর স্বল্পতায় ১৬.৩ ওভারে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ক্রিকইনফোর খবর অনুযায়ী মেঘলা আবহাওয়ায় ফ্লাডলাইটের কিছু বাতি আকস্মিকভাবে কাজ করছে না। তখনই খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

মেহেদীর ঘূর্ণিতে পড়লো পঞ্চম উইকেট

বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপ বাড়ছিলো। রান বাড়াতে মরিয়া হওয়ার চেষ্টায় পঞ্চম উইকেটও গেছে নিউজিল্যান্ডের। মেহেদী হাসানের বল এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ৭ বলে ৩ রানে বোল্ড হয়েছেন ফক্সক্রফট। নিউজিল্যান্ড পঞ্চম উইকেট হারিয়েছে ১৩০ রানে।

রিশাদের পর সাকিবের আঘাত

জুটি ভাঙার পর ছন্দ পতন ঘটেছে নিউজিল্যান্ড ইনিংসে। ক্লিভারের পর রিশাদের দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন কাটেনে ক্লার্ক। অবশ্য তার আগেই ৩৪ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি ছুঁয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৫১ রানে হৃদয়কে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছয়। পরের ওভারে নতুন ব্যাটার বেভন জ্যাকবসকেও (১) তালুবন্দি করান তানজিম হাসান। তাতে দ্রুত আরও একটি উইকেটের পতন হয়েছে। নিউজিল্যান্ড চতুর্থ উইকেট হারায়১১৭ রানে।

৮৮ রানের জুটি ভাঙলেন রিশাদ

৯.১ ওভারেই দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। রিশাদের বলে কাটেনে ক্লার্কের ক্যাচ উঠলেও সেটা নিতে পারেননি সাইফ। তার পর টানা দুই চারে ২৭ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি পূরণ করেন ডেন ক্লিভার। চতুর্থ ডেলিভারিতে শেষ পর্যন্ত রিশাদের ঘূর্ণিতে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন তিনি। ক্লিভারের ২৮ বলে করা ৫১ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছয়। তার আউটে ভেঙেছে ৮৮ রানের জুটি (৫০ বলে)।

পাওয়ার প্লেতে নিউজিল্যান্ডের ৬১

১১ রানে প্রথম উইকেট হারালেও ঝড়ো গতিতে খেলে রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে স্কোরবোর্ডে যোগ করেছে ৬১ রান। এই সময় ডেন ক্লিভার ও কাটেনে ক্লার্কের জুটি পঞ্চাশ স্পর্শ করেছে।

হৃদয়ের থ্রোতে রানআউট রবিনসন

প্রথম ওভারেই ১১ রান তুলে ফেলেছিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারে অবশ্য রানআউটে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়েছেন টিম রবিনসন (০)। নিউজিল্যান্ড ১১ রানে হারায় তাদের প্রথম উইকেট।

টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

পাঁচ মাস বিরতির পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর এবার টি-টোয়েন্টি জয়ের মিশন। চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুরুতে আজ টসভাগ্য হেসেছে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে বোলিং নিয়েছে বাংলাদেশ।

পরিসংখ্যান

মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশের অবস্থা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। দুই দলের ২০টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র চারটিতে। নিউজিল্যান্ড জয় পেয়েছে ১৫ ম্যাচে, আর একটি ম্যাচে কোনো ফলাফল আসেনি।

তাছাড়া চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই হবে নিউজিল্যান্ডের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এর আগে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তাদের ছয়টি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে মিরপুরে। দুই দলের মধ্যে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ হয়েছে ২০২৩ সালে। যা সমতায় শেষ হয়েছিল।

একাদশে কারা

বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবার মূল জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন পেসার রিপন মন্ডল। যদিও এশিয়ান গেমসে তিনটি টি-টোয়েন্টিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

নিউজিল্যান্ড অবশ্য দুঃসংবাদ নিয়েই খেলতে নামছে। চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তার বদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিক কেলি। এছাড়া অভিষেক হচ্ছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ন‍্যাথান স্মিথ ও পেসার ম‍্যাথু ফিশারের।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), পারভেজ হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম ও রিপন মণ্ডল।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: টিম রবিনসন, কাটেনে ক্লার্ক, ডেন ক্লিভার, নিক কেলি (অধিনায়ক), বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, ম্যাথু ফিশার ও বেন লিস্টার।

Ads small one

কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা এলাকায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়া জেলে মো. আরিফ হাসানের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত আরিফ হাসান চাকলা গ্রামের মৃত আব্দুল হাই সানার ছেলে। এর আগে গত সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে চাকলা গ্রামের কপোতাক্ষ নদে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফ হাসান প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে একা একটি নৌকা নিয়ে কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরতে যান। বিকেলের দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে একপর্যায়ে তাঁর নৌকার ওপর বজ্রপাত হয়। এতে তিনি নৌকা থেকে ছিটকে নদে পড়ে নিখোঁজ হন এবং নৌকাটি ডুবে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় জেলে, স্বজন ও এলাকাবাসী মিলে ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করতে পারলেও আরিফের কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও ডুবুরিরা নদে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাটের পাশে নদে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে আরিফ হাসানের মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে চিলতে ওই গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই নদের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সম্পাদকীয়/ ডিজিটাল সেবার নামে এনালগ ভোগান্তি বন্ধ হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ ডিজিটাল সেবার নামে এনালগ ভোগান্তি বন্ধ হোক

প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক ও সহজ গ্রাহকসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে দেশে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকেরা ঘরে বসেই অনায়াসে রিচার্জ করতে পারবেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখতে পারবেন। কিন্তু সাতক্ষীরায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রিপেইড মিটারের বর্তমান চিত্রটি ঠিক এর উল্টো। গত এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে রিচার্জ করতে না পেরে শত শত গ্রাহককে তীব্র গরমের মধ্যে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সেবা সহজ করার আধুনিক এই মাধ্যমটি এখন গ্রাহকদের জন্য নতুন ভোগান্তি, এমনকি কারও কারও ভাষায় ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পত্রদূত পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকার ওজোপাডিকোর গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী, পুরুষ, প্রবীণ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় জমছে। অনেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। একদিকে ডিজিটাল রিচার্জ ব্যবস্থা অচল, অন্যদিকে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য কাউন্টার সংখ্যা অপ্রতুল। ফলে মাত্র একটি বা দুটি কাউন্টারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে দিনমজুর থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষকেও। যেখানে সাধারণ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, সেখানে সেবার নামে এমন এনালগ ও কষ্টদায়ক ব্যবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ওজোপাডিকোর আওতাধীন সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের গ্রাহক সংখ্যা ৪৫ হাজারের বেশি। এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সেবা সচল রাখতে কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করা কর্তৃপক্ষের প্রথম দায়িত্ব ছিল। অথচ এক মাস ধরে এই সংকট চললেও এখন পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা চালু করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কাউন্টার বাড়ানোর যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা সাময়িক উপশম মাত্র, স্থায়ী সমাধান নয়।
আমরা মনে করি, আধুনিক সেবার মূল শর্তই হলো তা হয়রানিমুক্ত ও সহজলভ্য হতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এসে সামান্য রিচার্জের জন্য মানুষকে কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়া প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও দূরদর্শিতার অভাবকেই স্পষ্ট করে। অবিলম্বে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপগুলোর কারিগরি জটিলতা দূর করে ঘরে বসে রিচার্জের ব্যবস্থা সচল করতে হবে। একই সঙ্গে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে কাউন্টার ও লোকবল বাড়িয়ে লাইনে দাঁড়ানো মানুষের কষ্ট লাঘব করা জরুরি। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করবে।

প্রতাপনগরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
প্রতাপনগরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে আরিফ হোসেন (৩৫) নামে এক মৎস্যজীবি নৌকা থেক পড়ে নিখোঁজ রয়েছে। সোমবার (৮ জুন) বিকাল ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া নৌকা উদ্ধার হলেও আরিফের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ জানান, চাকলা গ্রামের মৃত্যু আব্দুল হাই সানার ছেলে আরিফ হোসেন প্রতিদিনের ন্যায় নদীতে নৌকায় মাছ ধরার কাজে করছিল। হঠাৎ মেঘের গর্জন ও হাল্কা বৃষ্টিপাতের একপর্যায়ে নৌকায় বজ্রপাতে ঘটলে নৌকায় থাকা একমাত্র আরিফ হোসেন ছিটকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যায় এবং নৌকটিও নদীতে ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌকাটি উদ্ধার করা গেলেও আরিফ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আরিফ হোসেনের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন আত্মীয় স্বজন, এলাকাবাসী ও মৎস্যজীবীরা।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি, কয়রা থেকে ফায়ার সার্ভিসের টিম সদস্য ও ডুবুরীরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
আশাশুনি ফায়ার সার্ভিসের সদস্য জাকির হোসেন জানান, কয়রা থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজে গিয়েছে।