সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতলো বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতলো বাংলাদেশ

প্রথম টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১৮ ওভারে ১৮৩/৪ (শামীম ৩১*, হৃদয় ৫১*; সাইফ ১৭, লিটন ২১, তানজিদ ২০, পারভেজ ২৮)

ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা: তাওহীদ ‍হৃদয়

নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ১৮২/৬ (স্মিথ ২*, ক্লার্কসন ২৭*; রবিনসন ০, ক্লিভার ৫১, ক্লার্ক ৫১, জ্যাকবস ১, ফক্সক্রফট ৩, কেলি ৩৯)

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়ার (১৮৩) কীর্তি গড়েছে। আগের সর্বোচ্চটিও ছিল চট্টগ্রামে। গত নভেম্বরে ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল স্বাগতিক দল।

অবশ্য চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৮৩ রানের লক্ষ্যে প্রথম দশ ওভারের খেলায় চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ১০ ওভারে ২ উইকেটে স্কোর ছিল ৭৭। পিছিয়ে পড়েছিল রান রেটে। ১০.১ ওভারে তানজিদ হাসান আউট হয়ে ফিরলে পারভেজ হোসেন নামার পরই পাল্টায় দৃশ্যপট। চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ২৮ বলে ৫৭ রান যোগ করেন পারভেজ। এই ঝড়ো জুটিতেই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। পারভেজ ১৪ বলে ২৮ রানের ক্যামিও খেলে ফিরলে তার পর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাকিটা সামাল দেন তাওহীদ হৃদয় ও শামীম হোসেন। ১২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছেন তারা। ২৬ বলে ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন হৃদয়। শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত থেকেছেন। সঙ্গী শামীম হোসেন ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ১৩ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ জয় নিশ্চিত করে ১৮তম ওভারের শেষ বলে। তাতে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্বাগতিক দল।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪০ রানে দুটি উইকেট নেন ইশ সোধি। একটি করে নিয়েছেন নাথান স্মিথ ও জশ ক্লার্কসন।

জুটি ভাঙলো পারভেজের বিদায়ে

চাপে পড়া বাংলাদেশকে জয়ের পথে তু্লতে থাকেন হৃদয়-পারভেজ। চতুর্থ উইকেটে ২৮ বলে ৫৭ রান যোগ করেন তারা। ১৪.৫ ওভারে এই জুটি ভেঙেছেন ক্লার্কসন। মেরে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন পারভেজ। ১৪ বলে ২৮ রানে ফেরেন তিনি৷ পারভেজের ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ২টি ছয়।

তানজিদের বিদায়ে পড়লো তৃতীয় উইকেট

যে গতিতে রানের দরকার সেভাবে রান আসছিল না। চাপ বাড়ছিল। ১০ ওভারে ২ উইকেটে স্কোর ছিল ৭৭। তার ওপর ধীর গতিতে খেলছিলেন ওপেনার তানজিদ। রানের গতিতে বাড়াতে গিয়ে ১০.১ ওভারে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন তিনি। ২৫ বলে তানজিদ ২০ রানে সোধির দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন।

আশা জাগিয়েও পারলেন না লিটন

৪১ রানে সাইফের আউটের পর রানের চাকা শ্লথ হয়ে পড়েছিল। তানজিদ প্রান্ত আগলে থাকলেও বাক্সবন্দী ছিলেন। কিন্তু লিটন দাস হাত খুলে গতি ফেরানোর চেষ্টা করতে থাকেন। আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ১৫ বলে ২১ রানে থেমেছে তার ইনিংস। ৮.৫ ওভারে সোধির বলে সরে গিয়ে খেলতে গেলে বোল্ড হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। লিটনের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছয়। বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট হারায় ৬৬ রানে।

সাইফের বিদায়ে ভাঙলো শুরুর জুটি

১৮৩ রানের লক্ষ্যে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান মিলে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন। তাদের ব্যাটে ৫ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৪০। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অবশ্য টিকতে পারেননি সাইফ। মেরে খেলতে গিয়ে স্মিথের তৃতীয় ওভারে ১৭ রানে ক্যাচ আউট হয়েছেন। তার ১৬ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছয়। ভাঙে ৪১ রানের ওপেনিং জুটি। ফলে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে বাংলাদেশ সংগ্রহ করতে পারে ৪৪ রান।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ১৮৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নিউজিল্যান্ড

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করেছে নিউজিল্যান্ড।

দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে যান রবিনসন। তার পর দ্রুত ম্যাচের গতি বদলে দেন ডেন ক্লিভার। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। এরপর ক্লিভারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৮৮ রানের জুটি গড়েন কাটেনে ক্লার্ক। এই জুটি ভেঙে ছন্দ পতন ঘটান রিশাদ। ক্লিভারকে ৫১ রানে এলবিডাব্লিউ করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, দুই সেট ব্যাটারই ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ক্লার্ক-ক্লিভারকে ফিরিয়েছেন রিশাদ।

তাদের বিদায়ে কিছুটা ছন্দ হারায় নিউজিল্যান্ড। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে, আর মাঝের ওভারগুলোতে কোনো স্থায়ী জুটিও গড়ে ওঠেনি। অধিনায়ক নিক কেলি ৩৯ রানের একটি ধীরস্থির ইনিংস খেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৮তম ওভারে তার বিদায়ের পর ইনিংসের গতি আরও কমে যায়।

বাংলাদেশের বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। নিউজিল্যান্ড যখন ২০০ রানের পথে এগোচ্ছিল, তখনই তারা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। শেষ দিকে জশ ক্লার্কসনের ১৪ বলের (২৭*) ছোট্ট ঝড়ে দলটি ১৮০ পার হতে সক্ষম হয়।

৩২ রানে ২ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। একটি করে নেন শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান ও মেহেদী হাসান।

শরিফুলের প্রথম শিকার কেলি

দ্রুত উইকেট পতন হলেও প্রান্ত আগলে খেলছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি। রান বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। ১৭.৫ ওভারে মেরে খেলতে গিয়ে শরিফুলের প্রথম শিকার হন তিনি। কেলি ২৭ বলে করেছেন ৩৯ রান। তাতে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছয়।

আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ

আলোর স্বল্পতায় ১৬.৩ ওভারে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ক্রিকইনফোর খবর অনুযায়ী মেঘলা আবহাওয়ায় ফ্লাডলাইটের কিছু বাতি আকস্মিকভাবে কাজ করছে না। তখনই খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

মেহেদীর ঘূর্ণিতে পড়লো পঞ্চম উইকেট

বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপ বাড়ছিলো। রান বাড়াতে মরিয়া হওয়ার চেষ্টায় পঞ্চম উইকেটও গেছে নিউজিল্যান্ডের। মেহেদী হাসানের বল এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ৭ বলে ৩ রানে বোল্ড হয়েছেন ফক্সক্রফট। নিউজিল্যান্ড পঞ্চম উইকেট হারিয়েছে ১৩০ রানে।

রিশাদের পর সাকিবের আঘাত

জুটি ভাঙার পর ছন্দ পতন ঘটেছে নিউজিল্যান্ড ইনিংসে। ক্লিভারের পর রিশাদের দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন কাটেনে ক্লার্ক। অবশ্য তার আগেই ৩৪ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি ছুঁয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৫১ রানে হৃদয়কে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছয়। পরের ওভারে নতুন ব্যাটার বেভন জ্যাকবসকেও (১) তালুবন্দি করান তানজিম হাসান। তাতে দ্রুত আরও একটি উইকেটের পতন হয়েছে। নিউজিল্যান্ড চতুর্থ উইকেট হারায়১১৭ রানে।

৮৮ রানের জুটি ভাঙলেন রিশাদ

৯.১ ওভারেই দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। রিশাদের বলে কাটেনে ক্লার্কের ক্যাচ উঠলেও সেটা নিতে পারেননি সাইফ। তার পর টানা দুই চারে ২৭ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি পূরণ করেন ডেন ক্লিভার। চতুর্থ ডেলিভারিতে শেষ পর্যন্ত রিশাদের ঘূর্ণিতে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন তিনি। ক্লিভারের ২৮ বলে করা ৫১ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছয়। তার আউটে ভেঙেছে ৮৮ রানের জুটি (৫০ বলে)।

পাওয়ার প্লেতে নিউজিল্যান্ডের ৬১

১১ রানে প্রথম উইকেট হারালেও ঝড়ো গতিতে খেলে রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে স্কোরবোর্ডে যোগ করেছে ৬১ রান। এই সময় ডেন ক্লিভার ও কাটেনে ক্লার্কের জুটি পঞ্চাশ স্পর্শ করেছে।

হৃদয়ের থ্রোতে রানআউট রবিনসন

প্রথম ওভারেই ১১ রান তুলে ফেলেছিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারে অবশ্য রানআউটে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়েছেন টিম রবিনসন (০)। নিউজিল্যান্ড ১১ রানে হারায় তাদের প্রথম উইকেট।

টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

পাঁচ মাস বিরতির পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর এবার টি-টোয়েন্টি জয়ের মিশন। চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুরুতে আজ টসভাগ্য হেসেছে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে বোলিং নিয়েছে বাংলাদেশ।

পরিসংখ্যান

মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশের অবস্থা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। দুই দলের ২০টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র চারটিতে। নিউজিল্যান্ড জয় পেয়েছে ১৫ ম্যাচে, আর একটি ম্যাচে কোনো ফলাফল আসেনি।

তাছাড়া চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই হবে নিউজিল্যান্ডের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এর আগে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তাদের ছয়টি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে মিরপুরে। দুই দলের মধ্যে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ হয়েছে ২০২৩ সালে। যা সমতায় শেষ হয়েছিল।

একাদশে কারা

বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবার মূল জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন পেসার রিপন মন্ডল। যদিও এশিয়ান গেমসে তিনটি টি-টোয়েন্টিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

নিউজিল্যান্ড অবশ্য দুঃসংবাদ নিয়েই খেলতে নামছে। চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তার বদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিক কেলি। এছাড়া অভিষেক হচ্ছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ন‍্যাথান স্মিথ ও পেসার ম‍্যাথু ফিশারের।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), পারভেজ হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম ও রিপন মণ্ডল।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: টিম রবিনসন, কাটেনে ক্লার্ক, ডেন ক্লিভার, নিক কেলি (অধিনায়ক), বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, ম্যাথু ফিশার ও বেন লিস্টার।

Ads small one

তেলের লাইনেই সেই বাঘ বিধবা মাহফুজার শেষ ‘ভরসা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
তেলের লাইনেই সেই বাঘ বিধবা মাহফুজার শেষ ‘ভরসা’

পীযূষ বাউলিয়া পিন্টু, মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর): শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ডেলমা ফিলিং স্টেশনের সামনে এখন দীর্ঘ সারি। কেউ এসেছেন গাবুরা থেকে, কেউ বুড়িগোয়ালিনী। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে মোটরসাইকেল চালকদের অপেক্ষা চলে দিনের পর দিন। প্রখর রোদে তৃষ্ণার্ত মানুষ আর রাতভর অপেক্ষায় থাকা ক্লান্ত চালকদের কাছে এখন একমাত্র আশ্রয়ের নাম মাহফুজা খাতুন। এক হাতে চায়ের কাপ আর অন্য হাতে জীবনযুদ্ধের লড়াই নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই ‘বাঘ বিধবা’ এখন শত শত মানুষের ভরসা।
২০০২ সালের এক বিষাদময় দিনে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান মাহফুজার স্বামী সাত্তার। দুই সন্তানকে নিয়ে অকূল পাথারে পড়েন তিনি। এক সময় লোকলজ্জা আর পর্দার আড়ালে থাকা মানুষটি সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে নেমে পড়েন সুন্দরবনের নদীতে। তপ্ত রোদে জাল টেনে, দিনমজুর খেটে কোনোমতে পার করেছেন দীর্ঘ দুই দশক। সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ বাজারে স্বামীর ভিটায় ঠাঁই মিললেও অভাব তার পিছু ছাড়েনি।
জ্বালানি সংকটের এই সময়ে প্রশাসন ও সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সিদ্ধান্তে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট ইউনিয়নের জন্য তেল বরাদ্দ করা হচ্ছে। সিরিয়াল ধরতে চালকরা আগের রাত থেকেই ভিড় করেন ফিলিং স্টেশনের সামনে। নির্জন এই এলাকায় রাত বিরেতে ক্ষুধা আর তৃষ্ণা মেটানোর কোনো জায়গা ছিল না। সেই সুযোগ ও প্রয়োজনকেই নিজের বেঁচে থাকার অবলম্বন করে নিয়েছেন মাহফুজা।
ছেলে মাহফুজুর রহমানকে সাথে নিয়ে ফিলিং স্টেশনের সামনে পলিথিনের একটি অস্থায়ী ছাউনি দিয়েছেন তিনি। গভীর রাত থেকে শুরু করে পরের দিন রাত ১০টা পর্যন্ত চলে তার বেচাকেনা। চা, বিস্কুট, কলা, কেক আর সিদ্ধ ডিম বিক্রি করে প্রতিদিন তার ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে এভাবেই চলছে তার নতুন সংসার।
মাঠে ঘাটে লড়াই করা মাহফুজা আজ তৃষ্ণার্ত মানুষের সেবা দিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু পুঁজির অভাবে চাহিদা মেটাতে পারছেন না। মাহফুজা বলেন,
“এই প্রচ- গরমে মানুষের সবচেয়ে বেশি চাহিদা পানি আর স্যালাইনের। পাশের বাড়িতে গেলেও কেউ পানি দিতে চায় না। কিন্তু আমার দোকানে পর্যাপ্ত মালামাল তোলার মতো টাকা নেই। মানুষের কাছে ধার নিয়ে কোনোমতে কিছু রসদ জোগাড় করেছি।”
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সিডিও’র নির্বাহী পরিচালক গাজী আল ইমরান মনে করেন, বাঘ বিধবা মাহফুজার এই লড়াই অত্যন্ত সাহসের এবং মানবিক। তিনি বলেন, “এই দুসময়ে একজন সংগ্রামী নারী যেভাবে শত শত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার কর্মসংস্থানের স্থায়ী সুযোগ করে দেওয়া সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব।”
গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক-এর কর্মকর্তা মফিজুর রহমানও একই মত পোষণ করেন। তার মতে, পাম্পের আশেপাশে অন্য দোকান না থাকায় মাহফুজার দোকানটি এখন চালকদের জন্য অপরিহার্য। সামান্য সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে তিনি দোকানটি আরও গুছিয়ে নিতে পারতেন।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম পল্টু বলেন, “মাহফুজা আমার ওয়ার্ডেরই মানুষ। বাঘ বিধবাদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনতে আমরা চেষ্টা করছি। মাহফুজা যাতে আরও ভালোভাবে দোকানটি চালাতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি সহযোগিতা করব।”
স্বামীকে হারানোর পর নদী আর জালের সাথে লড়াই করে মাহফুজা আজ জনসম্মুখে এসে দাঁড়িয়েছেন। তেলের লাইনে অপেক্ষমাণ মানুষের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি তিনি এখন নিজের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখছেন। সামান্য একটু সহযোগিতাই পারে এই লড়াকু নারীর জীবনের গল্পটি বদলে দিতে।

দেবহাটায় ২৫ এতিম শিশুর পাশে ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ২৫ এতিম শিশুর পাশে ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় এতিম শিশুদের মাঝে খাদ্য, শিক্ষা ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করেছে জাতীয় মানবিক উন্নয়ন সংস্থা ‘ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ’। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুদের হাতে এসব সামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
সংস্থার ‘অরফ্যান কেয়ার প্রোগ্রাম’-এর আওতায় সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা ও কালিগঞ্জ উপজেলার ২৫ জন এতিম শিশুকে এই সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতিটি শিশুকে চাল-ডালসহ খাদ্যসামগ্রী, শিক্ষা ও খেলাধুলা সামগ্রীর পাশাপাশি পড়াশোনার খরচ বাবদ নগদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি অহিদুজ্জামান। এছাড়া ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ-এর জুনিয়র প্রজেক্ট অফিসার সাজিদ আল আহাদ, শিবলী, সংস্থার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম, ইউপি সচিব প্রবীর হাজারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ জানায়, দাতা সংস্থা ‘মা ইন্টারন্যাশনাল’-এর সহযোগিতায় তারা সারাদেশে প্রায় ৪০০ এতিম শিশুর দায়িত্ব পালন করছে। এই কর্মসূচির আওতায় শিশুরা বছরে চারবার খাদ্যসামগ্রী, সারা বছরের শিক্ষা উপকরণ ও টিউশন ফি এবং দুই ঈদে নতুন পোশাক ও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে।
তৃণমূল পর্যায়ের এসব এতিম শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং তাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বজায় রাখতেই এই মানবিক উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

গাবুরায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ৬০টি ট্যাংক বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
গাবুরায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ৬০টি ট্যাংক বিতরণ

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ৬০টি পরিবারকে ১০০০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন পানির ট্যাংক প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফেইথ ইন এ্যাকশন’ এসব ট্যাংক বিতরণ করে। প্রকল্পের আওতায় গাবুরার ৪২ জন নারী ও ১৮ জন পুরুষকে এই ট্যাংক দেওয়া হয়। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে উপকূলীয় মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতেই এই উদ্যোগ। ট্যাংক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মনজুর হোসেন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম এবং ফেইথ ইন এ্যাকশন-এর কর্মকর্তা প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস ও পরিতোষ কুমার বৈদ্য।