মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

চীনে ১০৯ তলা ভবনে বিমান বিধ্বস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চীনে ১০৯ তলা ভবনে বিমান বিধ্বস্ত

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ১০৯ তলা বিশিষ্ট ‘সিটিক টাওয়ারে’ একটি বিমান আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় ভবনের ভেতরে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটি দ্রুত খালি করে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) মার্কিন সংবাদ সংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিএনএন জানায়, স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় এই আকস্মিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পাশের আরেকটি ভবনে কর্মরত প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি বিকট শব্দ শুনতে পান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বেইজিংয়ের ১০৯ তলাবিশিষ্ট ‘সিটিক টাওয়ার’ থেকে ধ্বংসাবশেষ নিচে ভেঙে পড়ছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থলের কাছে বিমানের লেজের একটি অংশ এবং একটি ট্যাক্সিক্যাবের ভাঙা জানালাও পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের একজন সাংবাদিক জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ভবনটি থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভবনের প্রবেশপথের আশপাশে দমকলের গাড়ি, পুলিশের যান এবং অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।

তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে এখনো চীনা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বেইজিং পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট জেলা শাখায় যোগাযোগ করা হলে ফোনে দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। পরে তিনি অন্য একটি নম্বরে যোগাযোগ করতে বললেও সেই নম্বর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। ঘটনার বিস্তারিত জানতে সিএনএন বেইজিং মিউনিসিপ্যাল সরকার এবং বিমানটির মালিকপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে বিমানের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি চীনে নির্মিত ‘সানওয়ার্ড এসএ ৬০এল অরোরা’ মডেলের একটি হালকা স্পোর্টস বিমান। বিমানটি একটি স্থানীয় জেনারেল এভিয়েশন কোম্পানির মালিকানাধীন; যারা সাধারণত পাইলট প্রশিক্ষণ, ব্যক্তিগত বিনোদনমূলক ফ্লাইট এবং আকাশ থেকে আলোকচিত্র ধারণের মতো সেবা দিয়ে থাকে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর অনলাইনে প্রকাশিত প্রাথমিক ডেটা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কিছু সময় আগে বিমানটির উড্ডয়নপথ স্বাভাবিক রুট থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিচ্যুত হয়েছিল।

গত ১ মে থেকে কার্যকর হওয়া নতুন কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় বেইজিং কার্যত ‘ড্রোনমুক্ত’ শহরে পরিণত হয়েছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া নগরীর বিস্তৃত এলাকায় বাসিন্দারা ড্রোন কেনা, ভাড়া নেওয়া বা ওড়াতে পারেন না। এমন কড়া নজরদারির মধ্যে এই বিমান দুর্ঘটনাটি ঘটলো।

Ads small one

ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই হাজারো মানুষের ঢল, শোকে স্তব্ধ এলাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই হাজারো মানুষের ঢল, শোকে স্তব্ধ এলাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রাম যেন মঙ্গলবার শোকের জনপদে পরিণত হয়। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা খাতুনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বিকালে বাড়িতে পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর কান্নায় পুরো গ্রামে নেমে আসে হৃদয়বিদারক পরিবেশ।

ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার বাড়িতে ছুটে আসেন। ছোট্ট এই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপস্থিত সবাই গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্বজনরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমাদের ফারজানাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু যারা এই নির্মম ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফারজানার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

ফারজানার মৃত্যুতে পুরো নলতা ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় তারা আগে কখনও এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখেননি। ছোট্ট ফারজানার শেষ বিদায়ে মানুষের এই ঢল তার প্রতি সবার ভালোবাসা ও ঘটনার প্রতি গভীর ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য, কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে কানের স্বর্ণের দুলের লোভে ফারজানা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত সুমা বেগম নামের এক নারী নিহত হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ফারজানা কাশিবাটি গ্রামের খান এনামুলের মেয়ে এবং স্থানীয় কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

সকালে ফারজানা স্কুলে গিয়ে স্কুলের সামনের এক ঝালমুড়ির দোকানে যায়। দোকানটি পরিচালনা করতেন স্থানীয় আমিরুলের স্ত্রী সুমা বেগম। ফারজানার কানের স্বর্ণের দুলের লোভে সুমা তাকে কৌশলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির হাত-পা ও মুখ বেঁধে একটি ওয়ারড্রোবের ভেতর আটকে রেখে হত্যা করা হয় এবং মরদেহটি সেখানেই লুকিয়ে রাখা হয়।

 

কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ক্লিনিকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ক্লিনিকে জরিমানা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ক্লিনিক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়ন এর মা জননী নার্সিং হোম এবং মাতৃকল্যাণ ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম।

 

এ সময় ক্লিনিকে সরকারি অনুমোদন না থাকায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনুমোদিত ডাক্তার না থাকায় উভয় প্রতিষ্ঠানকে মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ- ১৯৮২ অনুযায়ী পাঁচ হাজার করে সর্বমোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

 

আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. বাপ্পি কুমার দাস, বেঞ্চ সহকারী এমএ মান্নানসহ থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম।

পাইকগাছায় আমড়ার বাম্পার ফলন: দূর-দূরান্তে যাচ্ছে উপকূলের টক-মিষ্টি ফল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় আমড়ার বাম্পার ফলন: দূর-দূরান্তে যাচ্ছে উপকূলের টক-মিষ্টি ফল

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে মুখরোচক ফল আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ ফলের ফলন ও বাজার দর ভালো পাওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় আমড়া চাষি ও ব্যবসায়ীদের।

খুলনার লবণাক্ত এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গদাইপুর, রাড়ুলী, হরিঢালী ও কপিলমুনির মতো উঁচু এলাকাগুলোতে প্রচুর আমড়ার চাষ হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনসমৃদ্ধ এ ফলটি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখে। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা আমড়া বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়।

আষাঢ় থেকে ভাদ্রÑএই তিন মাস আমড়ার প্রধান মৌসুম। ব্যাপারীরা এ সময় গ্রাম ঘুরে পুরো গাছের ফল এককালীন চুক্তিতে কিনে নেন। এরপর আড়ত হয়ে এ আমড়া সরবরাহ করা হয় ঢাকা, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, রোদযুক্ত উঁচু স্থানে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করলে ৩-৪ বছরের মধ্যে ফল পাওয়া যায়। এখানে মূলত দেশি ও হাইব্রিড—দুই জাতের আমড়া চাষ হয়। হাইব্রিড জাতের চারা রোপণের মাত্র এক বছরের মধ্যেই ফলন মেলে। দানাদার সার ও বর্ষার মৌসুমে পোকা দমনে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করলেই গাছ রোগমুক্ত থাকে।

চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন জানান, আমড়া উপকূলীয় এলাকার একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল। উৎপাদন আরও বাড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নতুন চারা রোপণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।