বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

চৈত্রান্তে চড়ক: লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
চৈত্রান্তে চড়ক: লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনচর্চাকে যদি একটি বাক্যে ধরতে হয়, তবে “বারো মাসে তেরো পার্বণ” প্রবাদটি অনিবার্যভাবে সামনে আসে। এই প্রবাদ শুধু উৎসবের প্রাচুর্যকে নির্দেশ করে না; এটি একটি জাতির জীবনদর্শন, অনুভূতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরে। বাঙালির প্রতিটি উৎসবের মধ্যেই রয়েছে কোনো না কোনো সামাজিক, অর্থনৈতিক কিংবা আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। এই ধারাবাহিকতার সূচনা হয় পয়লা বৈশাখের নবজাগরণের মধ্য দিয়ে, আর সমাপ্তি ঘটে চৈত্র সংক্রান্তির গাম্ভীরে‌্য। এই শেষ প্রান্তেই দাঁড়িয়ে চড়ক পূজা যেন একদিকে বিদায়ের বেদনা, অন্যদিকে পুনর্জন্মের প্রত্যাশা বহন করে।

 

চড়ক পূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির এমন একটি বহুমাত্রিক উপাদান, যেখানে ধর্ম, সমাজ, অর্থনীতি, শরীরী সাধনা এবং মানসিক বিশ্বাস একসূত্রে গাঁথা। এটি মূলত শিবকেন্দ্রিক গাজন উৎসবের অংশ, যা চৈত্র মাসব্যাপী চলে এবং সংক্রান্তির দিনে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। গাজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ভক্তি ও তপস্যার প্রকাশ ঘটে, অন্যদিকে এটি হয়ে ওঠে মানুষের সম্মিলিত জীবনযাপনের এক প্রতীকী মঞ্চ। চড়ক পূজার উৎপত্তি নিয়ে নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য না থাকলেও এর চারপাশে গড়ে উঠেছে নানা লোককথা ও কিংবদন্তি।

 

রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুরের নাম এই প্রসঙ্গে প্রায়ই উচ্চারিত হয়, তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এই উৎসবের শিকড় আরও গভীরে-গ্রামীণ ও কৃষিভিত্তিক সমাজের প্রাচীন বিশ্বাসে। প্রকৃতির অনুকূলতা লাভ, রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি এবং জীবনের পুনর্জন্মের ধারণা-এই তিনটি উপাদান চড়ক পূজার ভিত গড়ে দিয়েছে। এই উৎসবের মধ্যে যে ভৌতিক শক্তি, ভূতপ্রেত কিংবা অলৌকিক বিশ্বাসের উপস্থিতি দেখা যায়, তা আসলে প্রাচীন মানুষের অজানাকে ব্যাখ্যা করার একটি প্রচেষ্টা।

 

যখন বিজ্ঞান ছিল না, তখন মানুষ প্রকৃতির অদৃশ্য শক্তিকেই দেবত্ব দান করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় চড়ক পূজা একধরনের লোকধর্মীয় আচার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। চড়ক পূজার সবচেয়ে আলোচিত দিক নিঃসন্দেহে এর শরীরনির্ভর আচার। আধুনিক সভ্যতার চোখে যা অনেক সময় নিষ্ঠুর বা অমানবিক বলে মনে হয়, তা অংশগ্রহণকারীদের কাছে একধরনের আধ্যাত্মিক সাধনা।

 

শরীরকে কষ্ট দিয়ে আত্মার পরিশুদ্ধি-এই ধারণা বহু প্রাচীন ধর্মীয় প্রথার সঙ্গে সম্পর্কিত।চড়কগাছে সন্ন্যাসীদের বেঁধে ঘোরানো, শরীরে হুক প্রবেশ করানো, জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর হাঁটা, ধারালো বস্তুর ওপর লাফানো-এসব আচার কেবল দেহের সহনশীলতার পরীক্ষা নয়; এগুলো বিশ্বাসের গভীরতার প্রকাশ। যারা এই আচার পালন করেন, তারা মনে করেন-এই কষ্টই তাদের পাপমোচনের পথ, এই যন্ত্রণা তাদের মুক্তির দিশা। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক দিকও রয়েছে।

 

চরম শারীরিক কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ একধরনের আত্মিক তৃপ্তি লাভ করে, যা তাকে নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার অনুভূতি দেয়। এই অভিজ্ঞতা অনেক সময় ধর্মীয় উন্মাদনা বা একধরনের তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থার সৃষ্টি করে, যা তাদের কাছে দেবতার সঙ্গে সংযোগের এক মাধ্যম হয়ে ওঠে। চড়ক পূজার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র। সন্ন্যাসী হিসেবে পূজার সমস্ত আচার সম্পন্ন করেন, এবং এই প্রক্রিয়ায় তারা একধরনের সামাজিক মর্যাদা অর্জন করেন।

 

এই দিকটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চড়ক পূজা একধরনের সামাজিক প্রতিবাদের ভাষা। এটি এমন একটি মঞ্চ, যেখানে সমাজের প্রান্তিক মানুষ নিজের অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠা করে। ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে তারা একটি বিকল্প সামাজিক কাঠামো তৈরি করে, যেখানে শ্রেণিবৈষম্য কিছুটা হলেও লঘু হয়। চড়ক পূজাকে ঘিরে যে মেলা বসে, তা গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি একটি সামাজিক মিলনমেলা, যেখানে মানুষ আনন্দ, বিনোদন এবং পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ পায়। স্থানীয় কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প, মাটির তৈরি জিনিস, খেলনা, মিষ্টান্ন-সবকিছুই এই মেলায় স্থান পায়।

 

একই সঙ্গে থাকে লোকসংগীত, যাত্রাপালা, গম্ভীরা, বাউল গান-যা এই উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ফলে চড়ক পূজা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি সামগ্রিক গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রতিফলন। বর্তমান সময়ে চড়ক পূজাকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছে আধুনিক মানবাধিকার ও বিজ্ঞানমনস্কতা, যা শরীরকে আঘাত করে এমন আচারকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। অন্যদিকে রয়েছে ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্ন, যা এই আচারগুলোকে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখছে।

 

অনেক জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চড়ক পূজার ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। হুক দিয়ে ঝোলানো বা শরীরে বাণ বিদ্ধ করার মতো আচার অনেক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। তবে তাতে উৎসবের মূল চেতনা হারিয়ে যাচ্ছে কিনা-সেই প্রশ্নও উঠে আসছে। এই দ্বন্দ্ব আসলে একটি বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন-কিভাবে একটি সমাজ তার অতীতকে ধারণ করে বর্তমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য স্থাপন করবে। চড়ক পূজা এই প্রশ্নের একটি জীবন্ত উদাহরণ।চৈত্র সংক্রান্তি মূলত একটি সমাপ্তির প্রতীক-পুরোনো বছরের শেষ।

 

আর এই সমাপ্তির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন শুরুর সম্ভাবনা। চড়ক পূজা সেই সম্ভাবনাকেই প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে। শরীরের কষ্ট, আগুনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়া, বেদনার অভিজ্ঞতা-সবকিছু যেন একধরনের শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নতুন বছরের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চড়ক পূজা একটি পুনর্জন্মের আচার। এটি শুধু ধর্মীয় নয়; এটি মানসিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনের একটি প্রতীক। চড়ক পূজা আজও বেঁচে আছে-সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে।

 

হয়তো অনেক আচার বদলেছে, অনেক কিছু হারিয়ে গেছে, আবার নতুন কিছু যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এর মূল সুরটি অটুট-মানুষের বিশ্বাস, কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা, এবং নতুন করে শুরু করার আকাক্সক্ষা। চৈত্রের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়-সংস্কৃতি কখনও স্থির নয়; এটি প্রবাহমান। আর সেই প্রবাহের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একটি জাতির ইতিহাস, তার সংগ্রাম, তার আনন্দ এবং তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন। চড়ক পূজা তাই শুধু একটি উৎসব নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক গভীর প্রতিফলন-যেখানে অতীত ও বর্তমান মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

সুন্দরবন রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণের বিকল্প নেই: আলোচনা সভার বক্তারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণের বিকল্প নেই: আলোচনা সভার বক্তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী সিপিজি কার্যালয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি) ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ।

সিএমসি সভাপতি মাহামুদা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বনভিবাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) এরফান উদ্দিন। সিএমসি সদস্য আবু ফরিদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়ুব আলী, কলাগাছিয়া বনবিভাগ কেন্দ্রের ইনচার্জ সুলজ কুমার দ্বীপ, ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম রেজাউল করিম, সিপিজি সদস্য পঞ্চি রানী ও রুহুল আমিন, সিএমসি সদস্য আব্দুর রশিদ এবং উপকূল প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম।

বক্তারা বলেছেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার শুধু বাংলাদেশের জাতীয় গর্ব নয়, সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। তাই সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

দেবহাটায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী

সংবাদদাতা: দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও সততা চর্চায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বুধবার (২৯ জুলাই) দেবহাটা সরকারি বি.বি.এম.পি ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার আয়োজনে ও দেবহাটা উপজেলা প্রশাসন ও দেবহাটা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ব্যবস্থাপনায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি চন্দ্রকান্ত মল্লিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং পুরস্কার বিতরণ করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আলিম,
সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মুহা: মুনিরুদ্দীন, দেবহাটা সরকারি বি. বি. এম.পি ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মদন মোহন পাল প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন দেবহাটা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আকবর আলী, দেবহাটা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভারপ্রাপ্ত মোঃ শাহজাহান আলী, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জয়দেব কুমার পাল, দেবহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মির্জা মুহসিন আলী, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, দেবহাটা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ আল আজাদ প্রমুখ।

 

ফাইনালে বিতর্কের বিষয় ছিল- দুর্নীতি দমনের জন্য আইন ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক দেবহাটা সরকারি বি.বি.এম.পি ইনস্টিটিউশন সরকারি বি.বি.এম.পি ইনস্টিটিউশন এবং বিতর্কের বিপক্ষ দল হিসাবে অংশ নেয় পারুলিয়া এসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দেবহাটা সরকারি বি.বি.এম.পি ইনস্টিটিউশন উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিতর্কে শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার লাভ করেন আফরিনা আলম পাপড়ি

রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দেবহাটা উপজেলার ১৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এ সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, দেবহাটা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান।

 

 

 

দেবহাটায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা

মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা।

সভায় বক্তব্য রাখেন দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সচিব মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল বারী মোল্লা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিফুল ইসলাম, পল্লী বিদ্যুতের প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর. কে. বাপ্পা, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান কাজল, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামি উজ্জ্বল, দেবহাটা বিজিবির নায়েব সুবেদার সোলাইমান হোসেন, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ আব্দুস সাত্তার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান ফরহাদ, জুলাই যোদ্ধা মুজাহিদ বিন ফিরোজসহ বিজিবি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবিকে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়ে জানানো হয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মিলন সাহা বলেন, উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।