বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চৈত্রান্তে চড়ক: লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
চৈত্রান্তে চড়ক: লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনচর্চাকে যদি একটি বাক্যে ধরতে হয়, তবে “বারো মাসে তেরো পার্বণ” প্রবাদটি অনিবার্যভাবে সামনে আসে। এই প্রবাদ শুধু উৎসবের প্রাচুর্যকে নির্দেশ করে না; এটি একটি জাতির জীবনদর্শন, অনুভূতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরে। বাঙালির প্রতিটি উৎসবের মধ্যেই রয়েছে কোনো না কোনো সামাজিক, অর্থনৈতিক কিংবা আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। এই ধারাবাহিকতার সূচনা হয় পয়লা বৈশাখের নবজাগরণের মধ্য দিয়ে, আর সমাপ্তি ঘটে চৈত্র সংক্রান্তির গাম্ভীরে‌্য। এই শেষ প্রান্তেই দাঁড়িয়ে চড়ক পূজা যেন একদিকে বিদায়ের বেদনা, অন্যদিকে পুনর্জন্মের প্রত্যাশা বহন করে।

 

চড়ক পূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির এমন একটি বহুমাত্রিক উপাদান, যেখানে ধর্ম, সমাজ, অর্থনীতি, শরীরী সাধনা এবং মানসিক বিশ্বাস একসূত্রে গাঁথা। এটি মূলত শিবকেন্দ্রিক গাজন উৎসবের অংশ, যা চৈত্র মাসব্যাপী চলে এবং সংক্রান্তির দিনে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। গাজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ভক্তি ও তপস্যার প্রকাশ ঘটে, অন্যদিকে এটি হয়ে ওঠে মানুষের সম্মিলিত জীবনযাপনের এক প্রতীকী মঞ্চ। চড়ক পূজার উৎপত্তি নিয়ে নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য না থাকলেও এর চারপাশে গড়ে উঠেছে নানা লোককথা ও কিংবদন্তি।

 

রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুরের নাম এই প্রসঙ্গে প্রায়ই উচ্চারিত হয়, তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এই উৎসবের শিকড় আরও গভীরে-গ্রামীণ ও কৃষিভিত্তিক সমাজের প্রাচীন বিশ্বাসে। প্রকৃতির অনুকূলতা লাভ, রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি এবং জীবনের পুনর্জন্মের ধারণা-এই তিনটি উপাদান চড়ক পূজার ভিত গড়ে দিয়েছে। এই উৎসবের মধ্যে যে ভৌতিক শক্তি, ভূতপ্রেত কিংবা অলৌকিক বিশ্বাসের উপস্থিতি দেখা যায়, তা আসলে প্রাচীন মানুষের অজানাকে ব্যাখ্যা করার একটি প্রচেষ্টা।

 

যখন বিজ্ঞান ছিল না, তখন মানুষ প্রকৃতির অদৃশ্য শক্তিকেই দেবত্ব দান করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় চড়ক পূজা একধরনের লোকধর্মীয় আচার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। চড়ক পূজার সবচেয়ে আলোচিত দিক নিঃসন্দেহে এর শরীরনির্ভর আচার। আধুনিক সভ্যতার চোখে যা অনেক সময় নিষ্ঠুর বা অমানবিক বলে মনে হয়, তা অংশগ্রহণকারীদের কাছে একধরনের আধ্যাত্মিক সাধনা।

 

শরীরকে কষ্ট দিয়ে আত্মার পরিশুদ্ধি-এই ধারণা বহু প্রাচীন ধর্মীয় প্রথার সঙ্গে সম্পর্কিত।চড়কগাছে সন্ন্যাসীদের বেঁধে ঘোরানো, শরীরে হুক প্রবেশ করানো, জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর হাঁটা, ধারালো বস্তুর ওপর লাফানো-এসব আচার কেবল দেহের সহনশীলতার পরীক্ষা নয়; এগুলো বিশ্বাসের গভীরতার প্রকাশ। যারা এই আচার পালন করেন, তারা মনে করেন-এই কষ্টই তাদের পাপমোচনের পথ, এই যন্ত্রণা তাদের মুক্তির দিশা। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক দিকও রয়েছে।

 

চরম শারীরিক কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ একধরনের আত্মিক তৃপ্তি লাভ করে, যা তাকে নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার অনুভূতি দেয়। এই অভিজ্ঞতা অনেক সময় ধর্মীয় উন্মাদনা বা একধরনের তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থার সৃষ্টি করে, যা তাদের কাছে দেবতার সঙ্গে সংযোগের এক মাধ্যম হয়ে ওঠে। চড়ক পূজার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র। সন্ন্যাসী হিসেবে পূজার সমস্ত আচার সম্পন্ন করেন, এবং এই প্রক্রিয়ায় তারা একধরনের সামাজিক মর্যাদা অর্জন করেন।

 

এই দিকটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চড়ক পূজা একধরনের সামাজিক প্রতিবাদের ভাষা। এটি এমন একটি মঞ্চ, যেখানে সমাজের প্রান্তিক মানুষ নিজের অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠা করে। ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে তারা একটি বিকল্প সামাজিক কাঠামো তৈরি করে, যেখানে শ্রেণিবৈষম্য কিছুটা হলেও লঘু হয়। চড়ক পূজাকে ঘিরে যে মেলা বসে, তা গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি একটি সামাজিক মিলনমেলা, যেখানে মানুষ আনন্দ, বিনোদন এবং পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ পায়। স্থানীয় কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প, মাটির তৈরি জিনিস, খেলনা, মিষ্টান্ন-সবকিছুই এই মেলায় স্থান পায়।

 

একই সঙ্গে থাকে লোকসংগীত, যাত্রাপালা, গম্ভীরা, বাউল গান-যা এই উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ফলে চড়ক পূজা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি সামগ্রিক গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রতিফলন। বর্তমান সময়ে চড়ক পূজাকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছে আধুনিক মানবাধিকার ও বিজ্ঞানমনস্কতা, যা শরীরকে আঘাত করে এমন আচারকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। অন্যদিকে রয়েছে ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্ন, যা এই আচারগুলোকে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখছে।

 

অনেক জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চড়ক পূজার ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। হুক দিয়ে ঝোলানো বা শরীরে বাণ বিদ্ধ করার মতো আচার অনেক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। তবে তাতে উৎসবের মূল চেতনা হারিয়ে যাচ্ছে কিনা-সেই প্রশ্নও উঠে আসছে। এই দ্বন্দ্ব আসলে একটি বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন-কিভাবে একটি সমাজ তার অতীতকে ধারণ করে বর্তমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য স্থাপন করবে। চড়ক পূজা এই প্রশ্নের একটি জীবন্ত উদাহরণ।চৈত্র সংক্রান্তি মূলত একটি সমাপ্তির প্রতীক-পুরোনো বছরের শেষ।

 

আর এই সমাপ্তির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন শুরুর সম্ভাবনা। চড়ক পূজা সেই সম্ভাবনাকেই প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে। শরীরের কষ্ট, আগুনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়া, বেদনার অভিজ্ঞতা-সবকিছু যেন একধরনের শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নতুন বছরের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চড়ক পূজা একটি পুনর্জন্মের আচার। এটি শুধু ধর্মীয় নয়; এটি মানসিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনের একটি প্রতীক। চড়ক পূজা আজও বেঁচে আছে-সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে।

 

হয়তো অনেক আচার বদলেছে, অনেক কিছু হারিয়ে গেছে, আবার নতুন কিছু যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এর মূল সুরটি অটুট-মানুষের বিশ্বাস, কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা, এবং নতুন করে শুরু করার আকাক্সক্ষা। চৈত্রের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়-সংস্কৃতি কখনও স্থির নয়; এটি প্রবাহমান। আর সেই প্রবাহের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একটি জাতির ইতিহাস, তার সংগ্রাম, তার আনন্দ এবং তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন। চড়ক পূজা তাই শুধু একটি উৎসব নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক গভীর প্রতিফলন-যেখানে অতীত ও বর্তমান মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।