মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চৈত্রান্তে চড়ক: লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
চৈত্রান্তে চড়ক: লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনচর্চাকে যদি একটি বাক্যে ধরতে হয়, তবে “বারো মাসে তেরো পার্বণ” প্রবাদটি অনিবার্যভাবে সামনে আসে। এই প্রবাদ শুধু উৎসবের প্রাচুর্যকে নির্দেশ করে না; এটি একটি জাতির জীবনদর্শন, অনুভূতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরে। বাঙালির প্রতিটি উৎসবের মধ্যেই রয়েছে কোনো না কোনো সামাজিক, অর্থনৈতিক কিংবা আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। এই ধারাবাহিকতার সূচনা হয় পয়লা বৈশাখের নবজাগরণের মধ্য দিয়ে, আর সমাপ্তি ঘটে চৈত্র সংক্রান্তির গাম্ভীরে‌্য। এই শেষ প্রান্তেই দাঁড়িয়ে চড়ক পূজা যেন একদিকে বিদায়ের বেদনা, অন্যদিকে পুনর্জন্মের প্রত্যাশা বহন করে।

 

চড়ক পূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির এমন একটি বহুমাত্রিক উপাদান, যেখানে ধর্ম, সমাজ, অর্থনীতি, শরীরী সাধনা এবং মানসিক বিশ্বাস একসূত্রে গাঁথা। এটি মূলত শিবকেন্দ্রিক গাজন উৎসবের অংশ, যা চৈত্র মাসব্যাপী চলে এবং সংক্রান্তির দিনে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। গাজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ভক্তি ও তপস্যার প্রকাশ ঘটে, অন্যদিকে এটি হয়ে ওঠে মানুষের সম্মিলিত জীবনযাপনের এক প্রতীকী মঞ্চ। চড়ক পূজার উৎপত্তি নিয়ে নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য না থাকলেও এর চারপাশে গড়ে উঠেছে নানা লোককথা ও কিংবদন্তি।

 

রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুরের নাম এই প্রসঙ্গে প্রায়ই উচ্চারিত হয়, তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এই উৎসবের শিকড় আরও গভীরে-গ্রামীণ ও কৃষিভিত্তিক সমাজের প্রাচীন বিশ্বাসে। প্রকৃতির অনুকূলতা লাভ, রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি এবং জীবনের পুনর্জন্মের ধারণা-এই তিনটি উপাদান চড়ক পূজার ভিত গড়ে দিয়েছে। এই উৎসবের মধ্যে যে ভৌতিক শক্তি, ভূতপ্রেত কিংবা অলৌকিক বিশ্বাসের উপস্থিতি দেখা যায়, তা আসলে প্রাচীন মানুষের অজানাকে ব্যাখ্যা করার একটি প্রচেষ্টা।

 

যখন বিজ্ঞান ছিল না, তখন মানুষ প্রকৃতির অদৃশ্য শক্তিকেই দেবত্ব দান করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় চড়ক পূজা একধরনের লোকধর্মীয় আচার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। চড়ক পূজার সবচেয়ে আলোচিত দিক নিঃসন্দেহে এর শরীরনির্ভর আচার। আধুনিক সভ্যতার চোখে যা অনেক সময় নিষ্ঠুর বা অমানবিক বলে মনে হয়, তা অংশগ্রহণকারীদের কাছে একধরনের আধ্যাত্মিক সাধনা।

 

শরীরকে কষ্ট দিয়ে আত্মার পরিশুদ্ধি-এই ধারণা বহু প্রাচীন ধর্মীয় প্রথার সঙ্গে সম্পর্কিত।চড়কগাছে সন্ন্যাসীদের বেঁধে ঘোরানো, শরীরে হুক প্রবেশ করানো, জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর হাঁটা, ধারালো বস্তুর ওপর লাফানো-এসব আচার কেবল দেহের সহনশীলতার পরীক্ষা নয়; এগুলো বিশ্বাসের গভীরতার প্রকাশ। যারা এই আচার পালন করেন, তারা মনে করেন-এই কষ্টই তাদের পাপমোচনের পথ, এই যন্ত্রণা তাদের মুক্তির দিশা। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক দিকও রয়েছে।

 

চরম শারীরিক কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ একধরনের আত্মিক তৃপ্তি লাভ করে, যা তাকে নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার অনুভূতি দেয়। এই অভিজ্ঞতা অনেক সময় ধর্মীয় উন্মাদনা বা একধরনের তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থার সৃষ্টি করে, যা তাদের কাছে দেবতার সঙ্গে সংযোগের এক মাধ্যম হয়ে ওঠে। চড়ক পূজার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র। সন্ন্যাসী হিসেবে পূজার সমস্ত আচার সম্পন্ন করেন, এবং এই প্রক্রিয়ায় তারা একধরনের সামাজিক মর্যাদা অর্জন করেন।

 

এই দিকটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চড়ক পূজা একধরনের সামাজিক প্রতিবাদের ভাষা। এটি এমন একটি মঞ্চ, যেখানে সমাজের প্রান্তিক মানুষ নিজের অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠা করে। ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে তারা একটি বিকল্প সামাজিক কাঠামো তৈরি করে, যেখানে শ্রেণিবৈষম্য কিছুটা হলেও লঘু হয়। চড়ক পূজাকে ঘিরে যে মেলা বসে, তা গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি একটি সামাজিক মিলনমেলা, যেখানে মানুষ আনন্দ, বিনোদন এবং পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ পায়। স্থানীয় কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প, মাটির তৈরি জিনিস, খেলনা, মিষ্টান্ন-সবকিছুই এই মেলায় স্থান পায়।

 

একই সঙ্গে থাকে লোকসংগীত, যাত্রাপালা, গম্ভীরা, বাউল গান-যা এই উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ফলে চড়ক পূজা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি সামগ্রিক গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রতিফলন। বর্তমান সময়ে চড়ক পূজাকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছে আধুনিক মানবাধিকার ও বিজ্ঞানমনস্কতা, যা শরীরকে আঘাত করে এমন আচারকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। অন্যদিকে রয়েছে ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্ন, যা এই আচারগুলোকে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখছে।

 

অনেক জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চড়ক পূজার ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। হুক দিয়ে ঝোলানো বা শরীরে বাণ বিদ্ধ করার মতো আচার অনেক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। তবে তাতে উৎসবের মূল চেতনা হারিয়ে যাচ্ছে কিনা-সেই প্রশ্নও উঠে আসছে। এই দ্বন্দ্ব আসলে একটি বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন-কিভাবে একটি সমাজ তার অতীতকে ধারণ করে বর্তমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য স্থাপন করবে। চড়ক পূজা এই প্রশ্নের একটি জীবন্ত উদাহরণ।চৈত্র সংক্রান্তি মূলত একটি সমাপ্তির প্রতীক-পুরোনো বছরের শেষ।

 

আর এই সমাপ্তির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন শুরুর সম্ভাবনা। চড়ক পূজা সেই সম্ভাবনাকেই প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে। শরীরের কষ্ট, আগুনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়া, বেদনার অভিজ্ঞতা-সবকিছু যেন একধরনের শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নতুন বছরের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চড়ক পূজা একটি পুনর্জন্মের আচার। এটি শুধু ধর্মীয় নয়; এটি মানসিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনের একটি প্রতীক। চড়ক পূজা আজও বেঁচে আছে-সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে।

 

হয়তো অনেক আচার বদলেছে, অনেক কিছু হারিয়ে গেছে, আবার নতুন কিছু যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এর মূল সুরটি অটুট-মানুষের বিশ্বাস, কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা, এবং নতুন করে শুরু করার আকাক্সক্ষা। চৈত্রের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়-সংস্কৃতি কখনও স্থির নয়; এটি প্রবাহমান। আর সেই প্রবাহের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একটি জাতির ইতিহাস, তার সংগ্রাম, তার আনন্দ এবং তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন। চড়ক পূজা তাই শুধু একটি উৎসব নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক গভীর প্রতিফলন-যেখানে অতীত ও বর্তমান মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে পাটকেলঘাটা ক্লাব ও পাঠাগারের সদস্যরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে পাটকেলঘাটা ক্লাব ও পাঠাগারের সদস্যরা

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা ক্লাব ও পাঠাগারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১২টায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের কার্যালয়ে পাটকেলঘাটা ক্লাব ও পাঠাগার এর সভাপতি মকবুল হোসেন এর নেতৃত্বে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাটকেলঘাটা ক্লাব ও পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, হাফিজুর রহমান হাফিজ সাংবাদিক আব্দুল মোমিন, মিহির সাধু মনা, উদায় ঘোস, মাহমুদুল হক লাল্টু, মোসফেক বিশ্বাস, আনিছুর জামান।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে জেলা প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন নতুন প্রজন্মকে বিভিন্ন খেলাধুলার দিকে মননিবাস করতে হবে। বর্তমান সমাজ থেকে মাদক দূর করতে হবে আর মাদক থেকে দুরে রাখার জন্য এবং শরীর ঠিক রাখার জন্য খেলাধুলার বিকল্প কিছু নাই।

 

পাটকেলঘাটা ক্লাব ও পাঠাগারটি অনেক পুরাতন এই ক্লাব থেকে অনেক খেলোয়ার একসময় তৈরি হয়েছে। ক্লাবটির সুনাম ধরে রাখতে হবে এবং এ ক্লাবের মাধ্যমে ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভালো ভালো প্লেয়ার তৈরি করতে হবে। খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ভালো কাজের জন্য আমার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

 

পাইকগাছায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এর চিরবিদায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এর চিরবিদায়

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের ৬ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ (৮২) পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। ৯ জুন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকুর পিতা।

শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আবুল কালাম আজাদ ঐতিহ্যবাহী আর কে বি কে হরিশ্চন্দ্র কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ ও বাঁকা শহীদ কামরুল মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের প্রধান শিক্ষকসহ উপজেলা চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মৃত্যুকালে স্ত্রীসহ ১ মেয়ে, ৪ ছেলেসহ বহু আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে উপজেলার সর্ব মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

দখিনার শোক:
ঐতিহ্যবাহী খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার সমন্বয়ে গঠিত অরাজনৈতিক জন ও সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন দখিনা এর আজীবন সদস্য, পাইকগাছা রাড়–লি ইউনিয়নের বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ মঙ্গলবার সকালে ষ্ট্রোকজনিত কারনে মৃত্যু বরণ করায় দখিনা’র পক্ষ থেকে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবার বর্গের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন দখিনার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এডভোকেট স.ম বাবর আলী, দখিনার উপদেষ্টা যথাক্রমে আলহাজ¦ আব্দুলজব্বার মোল্লা, আলহাজ¦ শেখআব্দুল্লাহ, প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল আজিজ, অধ্যাপক মোঃ জোবায়ের হোসেন ও ডাঃ মুহাম্মাদ কাওসার আলী গাজী, দখিনার সভাপতি আলহাজ¦ ওহিদুজ্জামান খান পল্টু, সহ সভাপতি যথাক্রমে ড. মোঃ হারুনর রশিদ, মোঃ ইউনুস আলী গাজী, অধ্যক্ষ এ কে এম গোলাম আযম, প্রফেসর অশোক কুমার ঘোষ, প্রফেসর এসএম মাহবুবুর রহমান, আলহাজ¦ খুরশিদ আলম কাগজি, রোটাঃ এসএম মফিজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদ্বয় জি, এম, ইউনুস আলী, মোঃ শরিফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মোঃ ওসমান গনি, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম মইন উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ রাশেদ রানা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নাজমুলহক খোকন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এমডি আশরাফ হোসেন, সহসমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান, মহিলা সম্পাদিক এড. শারমিন মারিয়া মুক্তি, মানবাধিকার সম্পাদক শেখ মনিরুল ইসলাম মনি, ক্রীড়া সম্পাদক জি,এম রেজাউল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে আলহাজ¦ জাহিদ হাবিব, এড. মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ সেকেন্দার, মোঃ নুরুল ইসলাম কালু, জিএম নজরুল ইসলাম, মোঃ জহির হোসেন, জিএম আব্দুস সাত্তার, আবুবকর সিদ্দিক নান্না, হাসিবুর রহামন রকি, কাজী আমিনুল ইসলাম, শেখ মইনুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ।

 

হাসান হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই প্রধান আসামি মিন্টু আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
হাসান হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই প্রধান আসামি মিন্টু আটক

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় আলোচিত হাসান হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ নাজমুল হুদা মিন্টুকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই আটক করেছে পুলিশের বিশেষ টিম।

থানা সূত্রে জানা গেছে, ৯ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে খুলনা নগরীর লবণচোরা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত মিন্টু হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি। নিহত হাসানের পিতা মালেক বাদী হয়ে ৮ জুন সোমবার রাতে পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোঃ নাজমুল হুদা মিন্টুসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। থানার মামলা নং-৯।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ জুন রবিবার বিকেলে উপজেলার চাঁদখালী গরুর হাটে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় হাসান প্রতিবাদ করলে মিন্টুসহ তার সহযোগীরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় হসপিটালে নিয়ে আসার সময় হাসানের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ গোলাম কিবরিয়া জানান, নিহতের পিতা বাদী হয়ে সোমবার রাতে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি নাজমুল হুদা মিন্টুকে আটকের জন্য পুলিশের বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে এবং ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই খুলনার লবণচোরা এলাকা থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।