শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: পূর্বাভাসের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হোক প্রান্তিক কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: পূর্বাভাসের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হোক প্রান্তিক কৃষক

তারিক ইসলাম

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব আজ আর কোনো দূরবর্তী হুমকি নয়; এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতা। প্রতি বছর জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন (কপ) ঘিরে বৈশ্বিক পরাশক্তি ও নীতিনির্ধারকদের নানা আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের আলোচনায় একটি দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে—জলবায়ু অর্থায়নের কেন্দ্রে রাখতে হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের।

বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানেই লাখ লাখ কৃষকের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন ও পরিশ্রম মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া। খরা, বন্যা কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের আগাম পূর্বাভাস দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। পূর্বাভাসের তথ্য জানা এক বিষয়, আর সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে ফসল ও খামার রক্ষা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আবহাওয়ার বার্তা সময়মতো কৃষকের কাছে পৌঁছানোর পর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা তাঁর আছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

কোনো কৃষক যদি পূর্বাভাস থেকে জানতে পারেন যে পাঁচ দিন পর বন্যা হতে পারে, তাহলে এই সময়ের মধ্যে দ্রুত ফসল কাটার যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, বীজ সংরক্ষণ কিংবা গবাদিপশুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সম্পদ তাঁর হাতে থাকতে হবে। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও নিরাপদ অবকাঠামোর অভাবে অনেক কৃষকের পক্ষে আগাম সতর্কবার্তা পেয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই শুধু তথ্য সরবরাহ নয়, সেই তথ্য কাজে লাগানোর মতো অবকাঠামো ও অভিযোজন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য জলবায়ু তহবিলের অর্থ ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছানো জরুরি।

বর্তমানে কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এসব প্রযুক্তি কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে পরিকল্পিত, সহজলভ্য ও কৃষকবান্ধব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন ক্ষুদ্র কৃষকের ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে তাঁকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল করে না তোলে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রযুক্তির সুবিধা যেন শুধু বড় বাণিজ্যিক খামারগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং ক্ষুদ্র কৃষকের আর্থিক সামর্থ্য ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রযুক্তিসেবা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপে তাঁরা আরও প্রান্তিক হয়ে না পড়েন।

কপ-৩১ সম্মেলনকে শুধু আলোচনা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগোষ্ঠীর সহায়তায় গঠিত ক্ষয়ক্ষতি তহবিল এবং অভিযোজন অর্থায়ন যেন উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে জোরালো কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থায়নের প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা জরুরি, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সহায়তা পেতে অযথা জটিলতার মুখে না পড়েন।

জলবায়ু অর্থায়নকে কেবল দয়া বা অনুদান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো এবং তাদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত রাখা বৈশ্বিক দায়িত্বের অংশ। তাই আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষি খাতের অভিযোজন, স্থানীয় উপযোগী প্রযুক্তির প্রসার এবং ক্ষুদ্র কৃষকের সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা এখন সময়ের দাবি। কৃষকের হাতে প্রয়োজনীয় সম্পদ, প্রযুক্তি ও সহায়তা পৌঁছাতে পারলেই আগাম পূর্বাভাস বাস্তব সুরক্ষায় রূপ নেবে। আর প্রান্তিক কৃষকের ঘরে খাদ্যের নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠিত হলেই শক্তিশালী হবে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা।

লেখক: সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

Ads small one

আইনের অজ্ঞতা ক্ষমার যোগ্য নয়, কিন্তু আইন শেখানোর দায়িত্ব কার?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
আইনের অজ্ঞতা ক্ষমার যোগ্য নয়, কিন্তু আইন শেখানোর দায়িত্ব কার?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

আমাদের আইনি ব্যবস্থার একটি বহুল প্রচলিত নীতি হলো—Ignorantia juris non excusat। অর্থাৎ, আইনের অজ্ঞতা সাধারণত আইনি দায় থেকে মুক্তির অজুহাত হতে পারে না। রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। কিন্তু যে আইন সম্পর্কে জানার সুযোগ কিংবা আগ্রহ—কোনোটিই বেশির ভাগ নাগরিকের মধ্যে তৈরি হয়নি, সেই আইন সম্পর্কে তাঁদের সচেতনতা গড়ে উঠবে কীভাবে? রাষ্ট্র যখন নাগরিকের কাছে আইন মেনে চলার প্রত্যাশা করে, তখন নাগরিককে আইন জানার সুযোগ করে দেওয়ার দায়িত্ব কার?

বাংলাদেশে সংবিধান রয়েছে, প্রচলিত আইন রয়েছে, নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্বও নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু এসব অধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতা এখনো পর্যাপ্ত নয়। অনেকেই জানেন না, সরকারি দপ্তর থেকে তথ্য পাওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে, পুলিশের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের আইনগত অধিকার কী, ভাড়াবাড়ির চুক্তিতে কী কী বিষয় থাকা প্রয়োজন কিংবা অনলাইনে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হলে কোথায় প্রতিকার চাইতে হবে। ফলে কোনো আইনি জটিলতায় পড়লে তাঁরা অনেক সময় অন্যের পরামর্শ, মধ্যস্থতাকারী কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

এই বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র উঠে এসেছে ২০২৬ সালের বাংলাদেশ রাইট টু ইনফরমেশন সার্ভেতে। বাংলাদেশ রাইট টু ইনফরমেশন ফোরামের উদ্যোগে পরিচালিত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের মাত্র ১০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানতেন। অর্থাৎ, প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই এ গুরুত্বপূর্ণ আইন সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আইনটি সম্পর্কে জানেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও মাত্র ৮ দশমিক ১ শতাংশ তথ্য চাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে ধারণা রাখেন। অর্থাৎ, তথ্য পাওয়ার অধিকার থাকলেও কীভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করতে হয়, তা জানেন না অধিকাংশ মানুষ।

সমস্যাটি শুধু তথ্য অধিকার আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে আইনি জ্ঞানের অভাব সাধারণ মানুষকে অসহায় করে তুলছে। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার, ভাড়াবাড়ির চুক্তি, পারিবারিক বিরোধ, কর্মক্ষেত্রে অধিকার, ভোক্তা অধিকার কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানির মতো ঘটনায় অনেকেই নিজের আইনগত অবস্থান সম্পর্কে জানেন না। ফলে কেউ প্রতারণার শিকার হন, কেউ অপ্রয়োজনীয় হয়রানির মুখে পড়েন, আবার কেউ প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে পারেন না।

এখানে আমাদের সমাজের আরেকটি বাস্তবতা হলো, সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের মধ্যে আইন সম্পর্কে জানার আগ্রহ ও অভ্যাস গড়ে ওঠেনি। অনেকের কাছে আইন মানেই মামলা, আদালত, থানা কিংবা নানা ধরনের ঝামেলা। আইন নিয়ে পড়াশোনা করা বা আইনি অধিকার সম্পর্কে জানার বিষয়টিকেও অনেকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করেন না। বরং যাঁরা আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন, আইনগত অধিকার সম্পর্কে কথা বলেন কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনসম্মত প্রতিকারের পরামর্শ দেন, তাঁদের কখনো কখনো নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। কাউকে কাউকে ব্যঙ্গ করে বলা হয়, তিনি বেশি আইন বোঝেন কিংবা সবকিছুতেই আইন খোঁজেন।

অথচ আইন জানা মানেই মামলা করা নয়, অন্যের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোও নয়। বরং আইন সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে অনেক বিরোধ ও প্রতারণা শুরুতেই এড়িয়ে চলা সম্ভব। নিজের অধিকার, দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানা একজন সচেতন নাগরিকের পরিচয়। সমাজে আইনজ্ঞানকে নেতিবাচকভাবে দেখার এই প্রবণতা পরিবর্তন করা জরুরি। আইন নিয়ে পড়াশোনা করা কিংবা আইন সম্পর্কে সচেতন হওয়াকে উৎসাহিত করতে হবে, নিরুৎসাহিত নয়।

বর্তমান সমাজে এক ধরনের আইনি পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। নিজের অধিকার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা না থাকায় একজন নাগরিককে সামান্য সমস্যার সমাধানেও অন্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই নির্ভরশীলতা শুধু ব্যক্তিগত অসুবিধাই সৃষ্টি করে না, বরং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগও বাড়িয়ে দেয়। অথচ নাগরিকের আইনি সচেতনতা থাকলে এসব পরিস্থিতি অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব।

আইনি শিক্ষা গ্রহণের অর্থ সবাইকে আইনজীবী হতে হবে, এমন নয়। বরং একজন সাধারণ মানুষ যেন বুঝতে পারেন কখন তাঁর অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, কোন বিষয়ে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন এবং কীভাবে আইনসম্মত উপায়ে প্রতিকার চাইতে হয়—সেই মৌলিক জ্ঞান নিশ্চিত করাই আইনি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিক কেবল ভোটার নন, তিনি রাষ্ট্রের অধিকারসম্পন্ন অংশীদার। রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহি চাওয়া, সরকারি সেবা গ্রহণ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকের প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। নাগরিক যত বেশি আইন সম্পর্কে সচেতন হবেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহির ক্ষেত্রও তত বেশি শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে নাগরিকেরও মনে রাখতে হবে, অধিকার ভোগের পাশাপাশি আইন মেনে চলা এবং অন্যের অধিকারকে সম্মান করা তাঁর দায়িত্ব।

আমরা প্রায়ই দুর্নীতি, অনিয়ম, হয়রানি ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে কথা বলি। কিন্তু এসব সমস্যা মোকাবিলায় নাগরিকের আইনি সচেতনতা যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, তা যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। আইন সম্পর্কে অজ্ঞ মানুষ অনেক সময় নিজের অধিকার হারান, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পান কিংবা প্রতিকারের সঠিক পথ খুঁজে পান না। অন্যদিকে সচেতন নাগরিক আইনসম্মতভাবে নিজের অধিকার দাবি করতে পারেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

অতএব, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু আইন প্রণয়ন কিংবা আইন প্রয়োগ করলেই চলবে না; আইনের ভাষা, উদ্দেশ্য ও প্রয়োগের পথ সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দিতে হবে। রাষ্ট্রকে নাগরিকের আইন জানার সুযোগ তৈরি করতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মৌলিক আইনি জ্ঞান দিতে হবে, পরিবার ও সমাজকে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, গণমাধ্যমকে সচেতনতা ছড়াতে হবে এবং নাগরিককেও আইন জানার আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

তালার ক্ষিতিশ মণ্ডল হত্যা: ২১ দিনেও গ্রেপ্তার নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
তালার ক্ষিতিশ মণ্ডল হত্যা: ২১ দিনেও গ্রেপ্তার নেই

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সদর ইউনিয়নের জেয়ালা পূর্বপাড়ার ঘেরমালিক ক্ষিতিশ মণ্ডলকে ঘেরের বাসা থেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২১ দিনেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় উৎকণ্ঠায় রয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।

তালা উপজেলার জেয়ালা গ্রামের প্রকাশ মণ্ডল ও পার্থ মণ্ডল তাঁদের চাচাতো ভাই ক্ষিতিশ মণ্ডলের মৃত্যুকালীন জবানবন্দির বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদককে জানান, খুলনার ডুমুরিয়া থানার চণ্ডীপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ইব্রাহীম হোসেন (২৮) গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে একটি গাছ থেকে চুরি করে নারকেল পাড়ার সময় ক্ষিতিশের হাতে ধরা পড়েন। এ সময় ইব্রাহীম তাঁকে জীবননাশের হুমকি দেন।

ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং একই গ্রামের আব্বাস শেখের ছেলে ঘেরমালিক শেখ হাবিবুর রহমান ক্ষিতিশকে গত ১০ অক্টোবর একটি কাজ করে দেওয়ার কথা বলেন। সে অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে ফোন করে ক্ষিতিশকে তাঁর ঘেরের বাসা থেকে হাবিবুরের ঘেরে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে পাশের কানা বিশ্বনাথ ঘোষের ঘের থেকে জাল দিয়ে মাছ ধরে হাবিবুরের ঘেরে ছেড়ে দিতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিতিশকে মারধর করে কানা বিশ্বনাথের ঘেরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করা হয়।

তাঁদের অভিযোগ, ক্ষিতিশ পানিতে ডুব দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ইব্রাহীম হোসেন নৌকার বৈঠা দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। পরে পানি থেকে তুলে ডাঙায় এনে ইব্রাহীম, তাঁর সহযোগী গফফার শেখ, রবিউল ও মাজেদ লোহার রড দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। এরপর তাঁকে জেয়ালা ঘোষপাড়া মহাশ্মশানে নিয়ে একটি আমগাছের সঙ্গে পেছনমোড়া করে বেঁধে দুই পা ও বুকের পাঁজর ইট, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্ষিতিশের মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল জানান, তাঁর স্বামীকে নৃশংসভাবে নির্যাতনের সময় স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি দেওয়ার বিনিময়েও তাঁর স্বামীর জীবন রক্ষা করা যায়নি। এমনকি তাঁকে পুলিশের কাছে দেওয়ার আগে কয়েকটি অলিখিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ইব্রাহীম, হাবিবুরসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। অথচ ঘটনার তিন সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ তাঁর স্বামী হত্যা মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সুলেখার অভিযোগ, মূল আসামি ইব্রাহীম ও হাবিবুরকে পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। উপরন্তু একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশ্রয়ে থেকে কয়েকজন আসামি নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে তাঁকে, তাঁর ছেলে উৎপল মণ্ডল ও মামলার সাক্ষীদের মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এজাহারভুক্ত বিশ্বনাথ ঘোষ ও তাঁর ভাই শিমুল ঘোষ গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন।

পাটকেলঘাটায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মৌসুমীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মৌসুমীর মৃত্যু

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার সরাডাঙ্গা গ্রামের সঞ্জয় সরকারের ছোট মেয়ে মৌসুমী সরকার (১২) মারা গেছে। সে স্থানীয় জেসিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মৌসুমী দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগে ভুগছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে পাটকেলঘাটা মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।