শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: পূর্বাভাসের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হোক প্রান্তিক কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: পূর্বাভাসের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হোক প্রান্তিক কৃষক

তারিক ইসলাম

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব আজ আর কোনো দূরবর্তী হুমকি নয়; এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতা। প্রতি বছর জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন (কপ) ঘিরে বৈশ্বিক পরাশক্তি ও নীতিনির্ধারকদের নানা আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের আলোচনায় একটি দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে—জলবায়ু অর্থায়নের কেন্দ্রে রাখতে হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের।

বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানেই লাখ লাখ কৃষকের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন ও পরিশ্রম মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া। খরা, বন্যা কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের আগাম পূর্বাভাস দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। পূর্বাভাসের তথ্য জানা এক বিষয়, আর সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে ফসল ও খামার রক্ষা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আবহাওয়ার বার্তা সময়মতো কৃষকের কাছে পৌঁছানোর পর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা তাঁর আছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

কোনো কৃষক যদি পূর্বাভাস থেকে জানতে পারেন যে পাঁচ দিন পর বন্যা হতে পারে, তাহলে এই সময়ের মধ্যে দ্রুত ফসল কাটার যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, বীজ সংরক্ষণ কিংবা গবাদিপশুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সম্পদ তাঁর হাতে থাকতে হবে। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও নিরাপদ অবকাঠামোর অভাবে অনেক কৃষকের পক্ষে আগাম সতর্কবার্তা পেয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই শুধু তথ্য সরবরাহ নয়, সেই তথ্য কাজে লাগানোর মতো অবকাঠামো ও অভিযোজন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য জলবায়ু তহবিলের অর্থ ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছানো জরুরি।

বর্তমানে কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এসব প্রযুক্তি কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে পরিকল্পিত, সহজলভ্য ও কৃষকবান্ধব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন ক্ষুদ্র কৃষকের ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে তাঁকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল করে না তোলে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রযুক্তির সুবিধা যেন শুধু বড় বাণিজ্যিক খামারগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং ক্ষুদ্র কৃষকের আর্থিক সামর্থ্য ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রযুক্তিসেবা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপে তাঁরা আরও প্রান্তিক হয়ে না পড়েন।

কপ-৩১ সম্মেলনকে শুধু আলোচনা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগোষ্ঠীর সহায়তায় গঠিত ক্ষয়ক্ষতি তহবিল এবং অভিযোজন অর্থায়ন যেন উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে জোরালো কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থায়নের প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা জরুরি, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সহায়তা পেতে অযথা জটিলতার মুখে না পড়েন।

জলবায়ু অর্থায়নকে কেবল দয়া বা অনুদান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো এবং তাদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত রাখা বৈশ্বিক দায়িত্বের অংশ। তাই আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষি খাতের অভিযোজন, স্থানীয় উপযোগী প্রযুক্তির প্রসার এবং ক্ষুদ্র কৃষকের সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা এখন সময়ের দাবি। কৃষকের হাতে প্রয়োজনীয় সম্পদ, প্রযুক্তি ও সহায়তা পৌঁছাতে পারলেই আগাম পূর্বাভাস বাস্তব সুরক্ষায় রূপ নেবে। আর প্রান্তিক কৃষকের ঘরে খাদ্যের নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠিত হলেই শক্তিশালী হবে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা।

লেখক: সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

Ads small one

সাতক্ষীরায় ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুরস্কার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুরস্কার বিতরণ

সংবাদদাতা: জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ফুলকুঁড়ি আসরের সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শহর শাখার পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন অগ্রপথিক সালমান রাফিদ ও ফাহিম আহমেদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল হাশেম। প্রধান আলোচক ছিলেন ফুলকুঁড়ি আসরের কেন্দ্রীয় সহকারী প্রধান পরিচালক আশরাফুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির খুলনা অঞ্চল পরিচালক ইমরান জাবির ও খুলনা মহানগর পরিচালক সাব্বির আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুলকুঁড়ি আসর আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১৫০ জন শিশু-কিশোরের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. আবুল হাশেম বলেন, শিশু-কিশোররাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার বিকাশে পড়ালেখার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে তাদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে ফুলকুঁড়ি আসরের মতো সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধান আলোচক আশরাফুল ইসলাম শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় অন্য বক্তারা পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ সাংস্কৃতিক মনোভাব গড়ে তোলা এবং মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য শিশু-কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানান।

নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে তিনটি লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে তিনটি লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক: চলতি নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের নভেম্বর মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং নদী অববাহিকায় ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এ সময় দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরে ঢাকা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার, সিলেটে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার, খুলনায় ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার এবং বরিশালে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এ মাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে, ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার। অন্যদিকে রংপুর বিভাগে সবচেয়ে কম ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। গত অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের অধিকাংশ এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শুক্রবার রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শনিবার তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দেশের অন্যান্য এলাকার আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সোমবার রাতে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে এবং দিনে সামান্য কমতে পারে।

কয়রায় শিক্ষকের বসতঘরে দুর্বৃত্তদের আগুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
কয়রায় শিক্ষকের বসতঘরে দুর্বৃত্তদের আগুন

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জি এম আব্দুর রশিদের বসতঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোরে জানালা দিয়ে ঘরে আগুন দেওয়ার এ ঘটনা ঘটে। এতে ঘরের পালঙ্ক, তোশক, বিছানাপত্র, কাপড়চোপড় ও পাশে থাকা ধানের গোলার কিছু অংশ পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে আব্দুর রশিদের বসতঘরে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে তাঁরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়দের দাবি, আব্দুর রশিদের ছেলে সাবেক ছাত্রনেতা তুফান। বর্তমানে তাঁরা পরিবারের সবাই খুলনায় অবস্থান করায় বাড়িটি ফাঁকা ছিল। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে আগুন দিয়েছে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফেরদৌস ঢালী বলেন, রশিদ মাস্টারের বসতঘরে আগুন লাগার খবর পেয়েছেন তিনি। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা জানা যায়নি।