বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: পূর্বাভাসের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হোক প্রান্তিক কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: পূর্বাভাসের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হোক প্রান্তিক কৃষক

তারিক ইসলাম

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব আজ আর কোনো দূরবর্তী হুমকি নয়; এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতা। প্রতি বছর জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন (কপ) ঘিরে বৈশ্বিক পরাশক্তি ও নীতিনির্ধারকদের নানা আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের আলোচনায় একটি দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে—জলবায়ু অর্থায়নের কেন্দ্রে রাখতে হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের।

বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানেই লাখ লাখ কৃষকের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন ও পরিশ্রম মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া। খরা, বন্যা কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের আগাম পূর্বাভাস দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। পূর্বাভাসের তথ্য জানা এক বিষয়, আর সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে ফসল ও খামার রক্ষা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আবহাওয়ার বার্তা সময়মতো কৃষকের কাছে পৌঁছানোর পর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা তাঁর আছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

কোনো কৃষক যদি পূর্বাভাস থেকে জানতে পারেন যে পাঁচ দিন পর বন্যা হতে পারে, তাহলে এই সময়ের মধ্যে দ্রুত ফসল কাটার যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, বীজ সংরক্ষণ কিংবা গবাদিপশুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সম্পদ তাঁর হাতে থাকতে হবে। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও নিরাপদ অবকাঠামোর অভাবে অনেক কৃষকের পক্ষে আগাম সতর্কবার্তা পেয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই শুধু তথ্য সরবরাহ নয়, সেই তথ্য কাজে লাগানোর মতো অবকাঠামো ও অভিযোজন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য জলবায়ু তহবিলের অর্থ ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছানো জরুরি।

বর্তমানে কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এসব প্রযুক্তি কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে পরিকল্পিত, সহজলভ্য ও কৃষকবান্ধব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন ক্ষুদ্র কৃষকের ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে তাঁকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল করে না তোলে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রযুক্তির সুবিধা যেন শুধু বড় বাণিজ্যিক খামারগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং ক্ষুদ্র কৃষকের আর্থিক সামর্থ্য ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রযুক্তিসেবা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপে তাঁরা আরও প্রান্তিক হয়ে না পড়েন।

কপ-৩১ সম্মেলনকে শুধু আলোচনা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগোষ্ঠীর সহায়তায় গঠিত ক্ষয়ক্ষতি তহবিল এবং অভিযোজন অর্থায়ন যেন উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে জোরালো কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থায়নের প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা জরুরি, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সহায়তা পেতে অযথা জটিলতার মুখে না পড়েন।

জলবায়ু অর্থায়নকে কেবল দয়া বা অনুদান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো এবং তাদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত রাখা বৈশ্বিক দায়িত্বের অংশ। তাই আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষি খাতের অভিযোজন, স্থানীয় উপযোগী প্রযুক্তির প্রসার এবং ক্ষুদ্র কৃষকের সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা এখন সময়ের দাবি। কৃষকের হাতে প্রয়োজনীয় সম্পদ, প্রযুক্তি ও সহায়তা পৌঁছাতে পারলেই আগাম পূর্বাভাস বাস্তব সুরক্ষায় রূপ নেবে। আর প্রান্তিক কৃষকের ঘরে খাদ্যের নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠিত হলেই শক্তিশালী হবে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা।

লেখক: সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

Ads small one

প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন আজ, উদ্বোধন করবেন ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন আজ, উদ্বোধন করবেন ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প 

পত্রদূত ডেস্ক: দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আবারও মোংলা বন্দরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে তিনি বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নতুন দুটি কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণের পাশাপাশি পণ্য ওঠানামায় ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৪৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। বাকি অর্থ দেবে সংশ্লিষ্ট চীনা প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্প বাস্তবায়নে গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন চুক্তি করেন।

মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বন্দরের চ্যানেলের নাব্যতা বাড়াতে পরিকল্পিত ড্রেজিং, সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, ফয়লা বিমানবন্দর চালু এবং আকরাম পয়েন্টে এলএনজি স্টেশন নির্মাণের দাবি জানান।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী নতুন দুটি কনটেইনার জেটির নির্মাণকাজ উদ্বোধনের পাশাপাশি ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে রেলপথ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করবেন। এর ফলে মোংলা বন্দরে কনটেইনার পরিবহনে রেল যোগাযোগ চালুর সুযোগ তৈরি হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেড. এইচ. সিকদার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা, প্রদর্শিত ৪০ প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ
জেড. এইচ. সিকদার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা, প্রদর্শিত ৪০ প্রকল্প

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে জেড. এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৪০টি বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শন করেন।

‘উদ্ভাবন, অনুসন্ধান ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মেলায় শরীয়তপুরের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তাঁদের প্রকল্পে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৃজনশীল প্রয়োগ এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের নানা ধারণা তুলে ধরা হয়।

মেলা পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল খালেক, রেজিস্ট্রার খন্দকার তাহমিনা নিষাদ এলিনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রকল্পের ধারণা, কার্যপদ্ধতি ও সম্ভাব্য ব্যবহার তুলে ধরেন। অতিথিরা তাঁদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং গবেষণায় উৎসাহ দেন।

আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণায় আগ্রহ তৈরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরিতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে। এতে নির্বাচিত সেরা প্রকল্পের শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে।

মেলার আয়োজনে সহযোগিতা করেছে বেসিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, অ্যালবাট্রস এডুকেশন ও ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

বল্লীতে মসজিদের রাস্তা সংস্কারে পরিমাপ ও পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
বল্লীতে মসজিদের রাস্তা সংস্কারে পরিমাপ ও পরিদর্শন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের বরাদ্দে সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোচড়া জামে মসজিদে যাওয়ার রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে রাস্তার মাপজোখ ও কারিগরি পরিদর্শন সম্পন্ন করে।

এ সময় বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ মিজানুর রহমান (পিকলু) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এতে মসজিদের মুসল্লি ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হতো। রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পরিদর্শনকালে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, মুসল্লি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।