তালার ক্ষিতিশ মণ্ডল হত্যা: ২১ দিনেও গ্রেপ্তার নেই
পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সদর ইউনিয়নের জেয়ালা পূর্বপাড়ার ঘেরমালিক ক্ষিতিশ মণ্ডলকে ঘেরের বাসা থেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২১ দিনেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় উৎকণ্ঠায় রয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।
তালা উপজেলার জেয়ালা গ্রামের প্রকাশ মণ্ডল ও পার্থ মণ্ডল তাঁদের চাচাতো ভাই ক্ষিতিশ মণ্ডলের মৃত্যুকালীন জবানবন্দির বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদককে জানান, খুলনার ডুমুরিয়া থানার চণ্ডীপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ইব্রাহীম হোসেন (২৮) গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে একটি গাছ থেকে চুরি করে নারকেল পাড়ার সময় ক্ষিতিশের হাতে ধরা পড়েন। এ সময় ইব্রাহীম তাঁকে জীবননাশের হুমকি দেন।
ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং একই গ্রামের আব্বাস শেখের ছেলে ঘেরমালিক শেখ হাবিবুর রহমান ক্ষিতিশকে গত ১০ অক্টোবর একটি কাজ করে দেওয়ার কথা বলেন। সে অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে ফোন করে ক্ষিতিশকে তাঁর ঘেরের বাসা থেকে হাবিবুরের ঘেরে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে পাশের কানা বিশ্বনাথ ঘোষের ঘের থেকে জাল দিয়ে মাছ ধরে হাবিবুরের ঘেরে ছেড়ে দিতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিতিশকে মারধর করে কানা বিশ্বনাথের ঘেরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করা হয়।
তাঁদের অভিযোগ, ক্ষিতিশ পানিতে ডুব দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ইব্রাহীম হোসেন নৌকার বৈঠা দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। পরে পানি থেকে তুলে ডাঙায় এনে ইব্রাহীম, তাঁর সহযোগী গফফার শেখ, রবিউল ও মাজেদ লোহার রড দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। এরপর তাঁকে জেয়ালা ঘোষপাড়া মহাশ্মশানে নিয়ে একটি আমগাছের সঙ্গে পেছনমোড়া করে বেঁধে দুই পা ও বুকের পাঁজর ইট, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্ষিতিশের মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল জানান, তাঁর স্বামীকে নৃশংসভাবে নির্যাতনের সময় স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি দেওয়ার বিনিময়েও তাঁর স্বামীর জীবন রক্ষা করা যায়নি। এমনকি তাঁকে পুলিশের কাছে দেওয়ার আগে কয়েকটি অলিখিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ইব্রাহীম, হাবিবুরসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। অথচ ঘটনার তিন সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ তাঁর স্বামী হত্যা মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
সুলেখার অভিযোগ, মূল আসামি ইব্রাহীম ও হাবিবুরকে পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। উপরন্তু একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশ্রয়ে থেকে কয়েকজন আসামি নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে তাঁকে, তাঁর ছেলে উৎপল মণ্ডল ও মামলার সাক্ষীদের মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এজাহারভুক্ত বিশ্বনাথ ঘোষ ও তাঁর ভাই শিমুল ঘোষ গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন।






