সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে পর্যটনকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে পর্যটনকে

মো: মামুন হাসান

সুন্দরবনের পুরোনো মাঝিরা আকাশ পড়তে জানেন। বাতাস হঠাৎ থমকে গেলে, পশ্চিম দিগন্তে ঘোলাটে আভা জমলে কিংবা নদীতে অকারণ অস্থিরতা দেখা দিলে তাঁরা বুঝে ফেলেন, প্রকৃতি কিছু একটা বলছে। এই লোকজ জ্ঞানই বহু প্রজন্ম ধরে বনজীবীদের বাঁচিয়েছে। কিন্তু আজ তাঁদেরই ট্রলারে যে পর্যটক বসে আছেন, তিনি আকাশের ভাষা জানেন না। তাঁর ভরসা শুধু একটি সতর্কসংকেত, আর সেই সংকেত তাঁর কাছে সময়মতো, বোধগম্য ভাষায় পৌঁছাবে কি না, সেটাই আজকের প্রশ্ন।

প্রতিবছর ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘ এই দিবসটি ঘোষণা করেছিল ১৯৮৯ সালে, আর ২০১৫ সালে গৃহীত সেনদাই কাঠামোয় ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্যোগজনিত ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে। এই অঙ্গীকারের আলোয় আমাদের পর্যটন খাতের দিকে তাকালে বোঝা যায়, ঝুঁকি যতটা বড়, প্রস্তুতি ততটা নয়।
যে শিল্পের কাঁচামাল আকাশ, জল আর মাটি

পর্যটন পৃথিবীর বিরল শিল্প, যার পুঁজি প্রকৃতি নিজেই। মহামারির আগে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ এবং প্রতি দশটি কর্মসংস্থানের একটি আসত এই খাত থেকে। কিন্তু প্রকৃতি যে পুঁজি জোগায়, জলবায়ু পরিবর্তন সেই পুঁজিতেই হাত বাড়াচ্ছে। সমুদ্রসৈকত ক্ষয় হচ্ছে, বন লবণাক্ত হচ্ছে, হিমবাহ গলছে, ঋতুর হিসাব এলোমেলো হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি আরও তীব্র, কারণ আমাদের সেরা গন্তব্যগুলোই ঝুঁকির মানচিত্রের গাঢ়তম দাগে আঁকা।

সুন্দরবন: পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীর পানিতে লবণাক্ততার আগ্রাসন আর ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ে এই সবুজ প্রাচীরটি ক্রমশ চাপের মুখে।

কক্সবাজার ও কুয়াকাটা: বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতগুলোর একটির অধিকারী কক্সবাজার, আর সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মিলনভূমি কুয়াকাটা। দুটিই উপকূলীয় ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি সামনে দাঁড়িয়ে।

সিলেট ও হাওর: পাহাড়ি ঢল আর আকস্মিক বন্যা এখন আর ব্যতিক্রম নয়। ২০২২ সালের জুনের বন্যায় সিলেট অঞ্চলের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়েছিলেন, থমকে গিয়েছিল যোগাযোগ, থমকে গিয়েছিল পর্যটনও।

পার্বত্য চট্টগ্রাম: অনিয়মিত ও তীব্র বৃষ্টিতে ভূমিধসের শঙ্কা বাড়ছে। বর্ষায় যে পাহাড় মেঘের সঙ্গে খেলা করে, সেই পাহাড়ই হয়ে ওঠে প্রাণঝুঁকির উৎস।

প্রাণ বাঁচানোর সাফল্য, জীবিকা বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনার গল্প বিশ্বের জন্য এক অনুপ্রেরণা। ১৯৭০ সালের ভোলা ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন কয়েক লাখ মানুষ। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যু ছিল প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার। ২০০৭ সালের সিডরে তা নেমে আসে কয়েক হাজারে। ২০২০ সালের আম্ফানের সময় প্রায় ২৪ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়, আর প্রাণহানি ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এই রূপান্তরের নেপথ্যে আছে আগাম সতর্কবার্তা, আশ্রয়কেন্দ্র আর ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকেরা।

কিন্তু প্রাণ বাঁচানো আর জীবিকা বাঁচানো এক কথা নয়। ২০০৯ সালের আইলার পর সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ উপকূলের বহু জনপদে বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা মানুষের জীবনধারা বদলে দিয়েছে। পর্যটনে এর প্রতিফলন আরও নীরব। সুন্দরবনের মাঝি, সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হাওরের নৌকাশ্রমিক বা হোমস্টের মালিকের না আছে নিয়োগপত্র, না বিমা। ঝড় থামলে প্রাণ বাঁচে, কিন্তু আয়ের পথ বন্ধ থাকে মাসের পর মাস। জিডিপির হিসাবে এই ক্ষতি দেখা যায় না, দেখা যায় একটি পরিবারের শূন্য হাঁড়িতে।

নকশার একটি অদৃশ্য ফাঁক
প্রায় প্রতিটি হোটেলের কক্ষের দরজার পেছনে অগ্নি-নির্গমনের নকশা ঝোলানো থাকে। অথচ উপকূলীয় হোটেলের কক্ষে ঘূর্ণিঝড়ের সময় কোথায় যেতে হবে, সেই নকশা প্রায় থাকে না। অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি আমরা নিয়মে বেঁধেছি, জলবায়ুর ঝুঁকিকে বাঁধিনি।

আরও গভীর প্রশ্ন আছে। ঝড়ের আগের ২৪ ঘণ্টায় একটি দ্বীপে বা সৈকতে ঠিক কত জন পর্যটক আছেন, তা কি কেউ জানে? সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করতে হলে প্রথমে জানা দরকার, কাকে সরাতে হবে। মৌসুমে হাজার হাজার অতিথির বিপরীতে আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা, বহুভাষিক সতর্কবার্তা আর মাঝিদের কাছে সংকেত পৌঁছানোর পথ, এসব হিসাব আমাদের পর্যটন-পরিকল্পনায় প্রায় অনুপস্থিত।

পর্যটন: ভুক্তভোগী এবং অংশীদার
একটি অস্বস্তিকর সত্য মেনে নেওয়া ভালো। পর্যটন শুধু জলবায়ু সংকটের শিকার নয়, কিছুটা অংশীদারও। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৮ শতাংশ এই খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। সৈকতঘেঁষা অপরিকল্পিত স্থাপনা, বন ও জলাভূমি ভরাট, প্লাস্টিক-দূষণ আর শব্দ-দূষণ প্রকৃতির নিজস্ব সুরক্ষা-ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। অর্থাৎ সহনশীল পর্যটন শুধু বাঁচার কৌশল নয়, নৈতিক দায়ও।

সেনদাইয়ের চার অগ্রাধিকার: পর্যটনের জন্য একটি রূপরেখা
সেনদাই কাঠামো চারটি অগ্রাধিকারে দাঁড়িয়ে আছে: ঝুঁকি বোঝা, শাসন জোরদার করা, সহনশীলতায় বিনিয়োগ এবং প্রস্তুতি ও আরও ভালো করে পুনর্গঠন। এই চার স্তম্ভে বাংলাদেশের পর্যটনের জন্য আমি এমন একটি রূপরেখা প্রস্তাব করি।

১. ঝুঁকি বুঝি। প্রতিটি প্রধান পর্যটন অঞ্চলের জন্য আলাদা ঝুঁকি-মানচিত্র তৈরি হোক, যেখানে জোয়ার-ভাটা, জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাব্য উচ্চতা, ভূমিধসপ্রবণ এলাকা আর নিরাপদ আশ্রয়ের অবস্থান থাকবে। ট্যুর বোট, হোটেল ও ঘাটে পর্যটকের নিবন্ধন ডিজিটাল করা হলে দুর্যোগের আগে কতজন কোথায় আছেন, তা জানা যাবে।

২. শাসন জোরদার করি। হোটেল, রিসোর্ট ও ট্যুর অপারেটরের লাইসেন্স নবায়নে দুর্যোগ-প্রস্তুতি পরিকল্পনা ও নিয়মিত মহড়ার প্রমাণ থাকা শর্ত হোক। ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ ও জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার সঙ্গে পর্যটন নীতির সমন্বয় আবশ্যক। কারণ জলবায়ু অভিযোজন এখন আর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একার বিষয় নয়, পর্যটনেরও কেন্দ্রীয় প্রশ্ন।

৩. সহনশীলতায় বিনিয়োগ করি। প্রকৃতির নিজস্ব ঢালই সবচেয়ে সাশ্রয়ী। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১০০ মিটার ম্যানগ্রোভ ঢেউয়ের উচ্চতা ১৩ থেকে ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। তাই পর্যটন আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ, যেমন প্রবেশ ফি বা পরিবেশ উপকরের একাংশ, স্বচ্ছভাবে বনায়ন ও উপকূল সুরক্ষায় ফিরে যাক। পাশাপাশি দরকার উঁচু ভিত্তির কটেজ, ঝড়-সহনশীল কাঠামো, সৌরবিদ্যুৎ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ক্ষুদ্রবিমা, সবুজ ঋণ ও কর-প্রণোদনা। বৈশ্বিক অভিযোজন কমিশনের হিসাবে অভিযোজনে বিনিয়োগ করা প্রতি এক ডলারে দুই থেকে দশ ডলার পর্যন্ত সুফল মেলে। ঝুঁকি-প্রতিরোধ খরচ নয়, লাভজনক বিনিয়োগ।

৪. প্রস্তুত থাকি, আর আরও ভালো করে গড়ি। দুর্যোগের প্রথম ঘণ্টায় পর্যটকের পাশে দাঁড়ান মাঝি, গাইড ও হোমস্টের মালিকেরা। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা, উদ্ধার ও সংকট-যোগাযোগে প্রশিক্ষণ দিলে পুরো জনপদ হয়ে ওঠে এক জীবন্ত নিরাপত্তা-জাল। এখানে পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলো হতে পারে স্থানীয় প্রশিক্ষণকেন্দ্র। সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা মাঝিদের সঙ্গে মিলে ঝুঁকি-মানচিত্র আঁকতে, মহড়া চালাতে আর বহুভাষিক নির্দেশিকা বানাতে পারে। আর দুর্যোগের পর যেন গন্তব্য দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য আগেই তৈরি রাখতে হবে পুনরুদ্ধার ও যোগাযোগ-পরিকল্পনা, কারণ ঝড়ের পর “পর্যটন নিরাপদ” বার্তা পৌঁছাতে দেরি হলে ক্ষতি দীর্ঘস্থায়ী হয়।

ঋতুর নতুন মানচিত্র
আমরা পর্যটনকে বড় বেশি শীতের উৎসব ভেবেছি। অথচ শীতের স্থায়িত্ব নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা। হাওরের বর্ষা, সুন্দরবনের সবুজ শ্রাবণ, চা-বাগানের ভেজা সকাল, প্রতিটি ঋতুর আছে নিজস্ব সৌন্দর্য। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, আবহাওয়াভিত্তিক নমনীয় বুকিং, বিনা জরিমানায় তারিখ বদল আর ঘরের ভেতরের বিকল্প কর্মসূচি থাকলে এই রূপগুলোকেই আকর্ষণে বদলে দেওয়া সম্ভব। এতে একদিকে শীতনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে ঝুঁকিও ছড়িয়ে পড়বে।
পর্যটকের দায়

গন্তব্য শুধু আয়োজকের নয়, অতিথিরও। সতর্কসংকেত উপেক্ষা করে উত্তাল সাগরে নামা, নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ, সৈকতে প্লাস্টিক ফেলা, এসব আচরণ নিজের ও অন্যের জীবনকে বিপন্ন করে। যাত্রার আগে আবহাওয়ার খবর রাখা, পতাকা-সংকেতের অর্থ জানা আর স্থানীয় নির্দেশনা মানাই দায়িত্বশীল পর্যটকের ন্যূনতম পরিচয়।

শেষ কথা
জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের সব মানুষের কাছে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এই সবার তালিকায় যেন সুন্দরবনের গহিনে থাকা অচেনা অতিথি আর কক্সবাজারের ভিড়ে মিশে যাওয়া বিদেশি পর্যটকও থাকেন।

সুন্দরবনের মাঝির আকাশ-পড়ার বিদ্যা আর আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্যাটেলাইট-তথ্য, এই দুই জ্ঞান যেদিন এক নৌকায় উঠবে, সেদিনই আমাদের পর্যটন সত্যিকারের সহনশীল হবে। দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিশ্বকে একবার পথ দেখিয়েছে। এবার সেই আলো পর্যটনের পথেও ফেলার সময়, কারণ অতিথিকে আমরা ডেকে আনি ভালোবেসে, আর ভালোবাসার প্রথম প্রমাণ তাঁকে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া।

লেখক: শিক্ষক ও কলাম লেখক।

Ads small one

সাতক্ষীরায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু, উপকারভোগী হবেন ৪০ লাখ নারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু, উপকারভোগী হবেন ৪০ লাখ নারী

এসএম বিপ্লব হোসেন: নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডেটাবেইজ তৈরি করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

সোমবার সাতক্ষীরায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন বিষয়ে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা বাবদ ব্যয় করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

তথ্য সংগ্রহের জন্য দেশব্যাপী ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে যুক্ত করবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, সব নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রথম তিনটি শ্রেণিভুক্ত দরিদ্র ও অপেক্ষাকৃত অসচ্ছল পরিবারের নারীপ্রধানেরা ভাতা পাবেন। পর্যায়ক্রমে আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি থাকবে। সরকারের টাকাপে পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত এ কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার টাকা তুলতে পারবেন।

সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুতে এক দিনে ভর্তি ১২, সতর্ক থাকার পরামর্শ সিভিল সার্জনের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুতে এক দিনে ভর্তি ১২, সতর্ক থাকার পরামর্শ সিভিল সার্জনের

ইব্রাহিম খলিল: সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৪১ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫২ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১২ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে দুজন রয়েছেন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন, সদর হাসপাতালে একজন, দেবহাটায় একজন ও কলারোয়ায় তিনজন ভর্তি হয়েছেন। বাকি দুজন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৮৪১ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৬৮ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে ২০ জনকে। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই। তবে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালভিত্তিক হিসাবে, বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন, সদর হাসপাতালে চারজন, দেবহাটায় সাতজন, কালিগঞ্জে ১২ জন, কলারোয়ায় তিনজন, শ্যামনগরে তিনজন এবং বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আশাশুনি ও তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বাড়ির ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আশাশুনি সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনি সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি সরকারি কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ৩৭৪ নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিকতায় নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয়। এ উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে কলেজজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম এবং নবীনবরণ কমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক এস এম হাবিবুল্লাহ বাহার।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে বিএমটি বিভাগে ৪২ জন, মানবিক বিভাগে ৩৩৪ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ২৫ জন এবং বাণিজ্য বিভাগে ১৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে চার বিভাগে নতুন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭৪ জন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কলেজজীবন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ সময় নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়, দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্যও নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং দায়িত্বশীল আচরণ শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পথ সুগম করে। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে অধ্যবসায়ের সঙ্গে এগিয়ে গেলে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ নবীনবরণের মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের কলেজের শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ, শৃঙ্খলাবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
এ সময় কলেজের শিক্ষক, নবীন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।