শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

জাকারিয়ার রক্তের দায়/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
জাকারিয়ার রক্তের দায়/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

মানুষের বিপদে মানুষ এগিয়ে যাবেÑসভ্য সমাজের এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। বিপদে পড়া কাউকে সাহায্য করা, দুই পক্ষের বিবাদ থামানোর চেষ্টা করা কিংবা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক মূল্যবোধেরই অংশ। কিন্তু জাকারিয়ার মৃত্যু সেই স্বাভাবিক মানবিকতার সামনে এক কঠিন প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছেÑঅন্যের বিপদে এগিয়ে গিয়ে যদি নিজের জীবনই দিতে হয়, তাহলে আগামী দিনে মানুষ কি আর কারও বিপদে এগিয়ে আসবে? জাকারিয়া এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল-একটি বিবাদ থামানো, বিপদগ্রস্ত কাউকে সহায়তা করা, নাকি পরিস্থিতি শান্ত করা-তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট: তিনি আর বেঁচে নেই। অন্যের বিপদের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোর পরিণতিতে তাঁকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। একটি পরিবারের স্বজন, একজন মানুষের জীবন এবং একটি পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্ন-সবকিছুই মুহূর্তে বদলে গেছে।

 

জাকারিয়ার মৃত্যু তাই শুধু একটি হত্যাকা- নয়; এটি আমাদের সামাজিক সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা এবং মানবিক মূল্যবোধ নিয়েও ভাবতে বাধ্য করে। একসময় পাড়া-মহল্লা বা গ্রামে কারও বিপদ হলে মানুষ ছুটে যেত। কারও বাড়িতে আগুন লাগলে সবাই মিলে আগুন নেভাত, কেউ অসুস্থ হলে কয়েকজন মিলে হাসপাতালে নিয়ে যেত, দুই পক্ষের বিবাদ হলে এলাকার প্রবীণরা এগিয়ে এসে তা থামানোর চেষ্টা করতেন। প্রতিবেশীর বিপদকে নিজের বিপদ মনে করার এই সংস্কৃতিই ছিল আমাদের সামাজিক শক্তি। আজ সেই জায়গায় পরিবর্তন এসেছে। মানুষ ক্রমেই ব্যক্তি কেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তার ভয়। অন্যের সমস্যায় জড়িয়ে গিয়ে নিজেই বিপদে পড়ার আশঙ্কা অনেককে পিছিয়ে দেয়। জাকারিয়ার মতো মানুষের করুণ পরিণতি সেই ভয়কে আরও গভীর করতে পারে। আজ একজন ভাববেন, ‘আমি কেন যাব?’ কাল আরেকজন বলবেন, ‘নিজের জীবন আগে।’

 

এভাবে একসময় বিপদগ্রস্ত মানুষ চারপাশে অনেক মানুষ দেখেও কাউকে পাশে নাও পেতে পারেন। এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর দিক। কারণ অপরাধ শুধু একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না; কখনো কখনো একটি সমাজের সাহসও কেড়ে নেয়। মানুষ যদি অন্যায়ের সামনে দাঁড়াতে ভয় পায়, বিপদে কাউকে সাহায্য করতে ভয় পায়, তাহলে অপরাধী আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে নীরব দর্শকে পরিণত হয়।

 

নীরবতা তখন শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত থাকে না, তা সামাজিক অভ্যাসে পরিণত হয়।আমরা নিশ্চয়ই এমন সমাজ চাই না। তবে মানবিকতার অর্থ নিজের জীবনকে অযথা ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া নয়। সশস্ত্র বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া কোনো সমাধান হতে পারে না। এমন অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেওয়া, আহত ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কিংবা প্রয়োজনীয় সহায়তা সংগঠিত করাও মানবিক দায়িত্বের অংশ। কিন্তু এসব কাজ করার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সেখানেই জাকারিয়ার মৃত্যুর পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন সামনে আসে।

 

একটি বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী হয়ে উঠল? এর আগে কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা ছিল কি? স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগে কোনো তথ্য পেয়েছিল কি না? এমন ঘটনা ঠেকাতে আগে থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি। কারণ শুধু হত্যাকারী শনাক্ত করলেই একটি ঘটনার বিচার সম্পূর্ণ হয় না; ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা কীভাবে প্রতিরোধ করা যাবে, সেই শিক্ষাটিও বের করে আনতে হয়। জাকারিয়া হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তদন্ত হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য। অপরাধীর পরিচয়, সামাজিক অবস্থান বা প্রভাব যেন তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, যথাযথ তদন্ত শেষে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ ন্যায়বিচার এখানে শুধু জাকারিয়ার পরিবারের দাবি নয়; এটি সামাজিক আস্থার প্রশ্ন।

 

মানুষ যখন দেখে অপরাধের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার হয়, তখন আইনের ওপর আস্থা বাড়ে। বিপরীতে অপরাধী প্রভাব বা সময়ের সুযোগে পার পেয়ে গেলে মানুষের মধ্যে জন্ম নেয় ভয় ও হতাশাÑআইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান? এই প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্রকে তার কার্যকর কর্মকা-ের মাধ্যমে দিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ প্রতিরোধের ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে। ছোট বিরোধ বড় সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার আগেই তা শনাক্ত করতে হবে। জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, সমাজের প্রবীণ ব্যক্তি ও নাগরিক প্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। কোথাও উত্তেজনা তৈরি হলে সেটিকে ‘স্থানীয় ব্যাপার’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ ছোট একটি বিরোধ কখন যে প্রাণঘাতী সংঘাতে পরিণত হবে, তার নিশ্চয়তা নেই।

 

জাকারিয়ার পরিবার আজ যে শূন্যতার মধ্যে পড়েছে, কোনো বিচারই তা পূরণ করতে পারবে না। একজন মানুষের মৃত্যু মানে শুধু একজন স্বজনকে হারানো নয়; একটি পরিবারের দৈনন্দিন জীবন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা বোধও বদলে যায়। তাই তাঁদের প্রতি সহমর্মিতার পাশাপাশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। জাকারিয়ার মৃত্যু আমাদের সামনে দুটি পথের প্রশ্ন রেখেছে। আমরা কি এমন সমাজের দিকে যাব, যেখানে মানুষ অন্যের বিপদ দেখেও নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকবে? নাকি এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলব, যেখানে মানবিকতার সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তারও নিশ্চয়তা থাকবে? উত্তরটি আমাদের সামাজিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

মানুষের বিপদে মানুষ এগিয়ে আসবে-এই ন্যূনতম সামাজিক আস্থাটুকু যেন আমরা হারিয়ে না ফেলি। এ জন্য জাকারিয়া হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে; স্থানীয় বিরোধ ও সংঘাতের আগাম ঝুঁকি চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে; এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এমনভাবে সক্রিয় রাখতে হবে, যাতে কোনো বিবাদ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্যও নিরাপদভাবে সহায়তা করার পথ তৈরি করতে হবে। জাকারিয়ার মৃত্যু যেন মানুষের মানবিকতাকে ভীত করে পিছু হটিয়ে না দেয়; বরং তাঁর হত্যার দ্রুত বিচার, সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবেÑঅন্যের পাশে দাঁড়ানো কোনো মানুষের জন্য মৃত্যুফাঁদ হতে পারে না।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

পাইকগাছায় নেশার টাকা না পেয়ে ইটের আঘাতে পিতার মাথা ফাঁটালো ছেলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় নেশার টাকা না পেয়ে ইটের আঘাতে পিতার মাথা ফাঁটালো ছেলে

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছায় নেশার টাকা না পেয়ে ইটের আঘাতে পিতার মাথা ফাঁটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন নেশাগ্রস্থ এক ছেলে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রামে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা রক্তাক্ত পিতা শহীদ গাইন (৫৫) কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

 

এ ঘটনায় আহত পিতা থানায় অভিযোগ করলে দুপুরে এসআই পিংকু ও একরামুল হক অভিযান চালিয়ে মাদকাসক্ত পুত্র আমিন গাইন (২৩) আটক করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছেন। ভুক্তভোগী দম্পতির আক্ষেপ নেশার টাকা না দিলে অত্যাচার করে এমনকি গলায় রঁঁশি দিয়ে নেশাগ্রস্থ ছেলে আত্মহত্যার হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এসএম মিজানুর রহমান বলেন, মা-বাবার অভিযোগ প্রেক্ষিত বাড়িতে মাদকসহ নেশাগ্রস্থ ছেলেক আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আশাশুনিতে মহিলা দলের কর্মী সম্মেলনে সংগঠনকে তৃণমূলে শক্তিশালী করার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে মহিলা দলের কর্মী সম্মেলনে সংগঠনকে তৃণমূলে শক্তিশালী করার আহ্বান

oplus_2

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কর্মী সম্মেলন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় আশাশুনি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজনে এ কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীন। উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ জাহান শিলা ও সাংগঠনিক সম্পাদক সালেকা হক কেয়া।

প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আশাশুনি উপজেলা শাখার সহ-সভানেত্রী মোছাঃ জাহানারা বেগম। বিশেষ বক্তা ছিলেন উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুন্নাহারা রিনা।
উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী কামরুন্নাহার (কচি) এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তাছলিমা পারভীন আইরিনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আবু জাহিদ সোহাগ।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে নারী কর্মীদের আরও সক্রিয় করা, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মী সম্মেলন শেষে পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সাতক্ষীরা আদালত এলাকায় যুব নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজি, আতঙ্কিত বিচারপ্রার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা আদালত এলাকায় যুব নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজি, আতঙ্কিত বিচারপ্রার্থীরা

ফাইল ফটো

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা আদালত প্রাঙ্গন এখন বিচারপ্রার্থীদের জন্য আতঙ্কের এলাকা হিসেবে পরিণত হয়েছে। মামলার ধার্য্য দিনে আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়া অনেক বিচারপ্রার্থী বিশেষ করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা এ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।

 

সাতক্ষীরা আদালতের একাধিক দায়িত্বশীল আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্প্রতি তাদের কয়েকজন মোয়াক্কেল মহামান্য হাইকোর্ট থেকে অন্তবর্তীকালিন জামিন নিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদলতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। জামিন আবেদন না’মঞ্জুর হওয়ায় তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি পান। ২০ সেপ্টেম্বর (মামলা নং-জিআর-১৬২/২৪ আশা:)) তারা আদালতে হাজিরা দিতে এলে আদালত চত্ত্বর থেকে কৌশলে তাদেরকে ডেকে নিয়ে আদালতের বাইরে মেইন রোড সংলগ্ন একটি বেকারী এ- কনফেকশনারীতে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

যুব সংগঠনের নেতা পরিচয়ে সেখান থেকে তাদেরকে গাড়িতে তুলে নিয়ে অন্যত্র আটক রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন ধরিয়ে দিয়ে গুমের ভয় দেখিয়ে দুই দিন পর চাঁদা হিসেবে এক জনের (জনপ্রতিনিধি) কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা আদায় করা হয়। অপর একজনের কাছ থেকে (উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা) এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা আদায় করে আড়াই দিন পর ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর একজনের (শ্রমিক লীগ নেতা) কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করে দুই দিন পর আশাশুনির সোহাগ নামে এক যুব সংগঠনের নেতা তাকে সাতক্ষীরা থেকে মুক্ত করে নিয়ে যান।তাদেরকে আবারো আটকানো হতে পারে এমন আশঙ্কায় পরবর্তীতে ওই ক্ষতিগ্রস্তরা আদালতে না এসে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন দেন।

 

দেড় মাস আগে আদালতের ভিতরকার পার্কের দক্ষিণ পাশ থেকে এক বিচারপ্রার্থীকে (কালিগঞ্জ) তুলে নিয়ে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় হাত ও পা ভেঙে দেওয়া হয়।

 

আদালতে হাজিরা দিতে এসে আবারো নির্যাতন বা অপহরণের শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কায় ওইসব নির্যাতিত বা তাদের পক্ষের আইনজীবীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করতে চান না। এ অবস্থা শুধু আশাশুনি বা কালিগঞ্জের বিচারপ্রার্থীদের নয়। জেলার অধিকাংশ উপজেলার বেশ কয়েকজন বিচার প্রার্থীর। যে চক্রটি এ অপহরণ ও মুক্তিপণের সঙ্গে জড়িত তাদেও অনেককেই বিভিন্ন সময়ে আদালত চত্ত্বরে ঘুরতে দেখা যায়।

 

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদি আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড. আকবর আলী শনিবার সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি শুনে তিনি উদ্বিগ্ন। রবিবার আদালতে যেয়ে তিনি এ নিয়ে খোঁজখবর নিয়ে সহকর্মীদের সাথে আলোচনায় বসবেন।

 

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। অপহরণের স্বীকার হওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শাহীদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, এ ধরণের ঘটনা নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি জানার পর অবশ্যই খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।