বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

জামাইষষ্ঠী: আম, আত্মীয়তা ও আনন্দের উৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
জামাইষষ্ঠী: আম, আত্মীয়তা ও আনন্দের উৎসব

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলার ঋতুচক্র, লোকজ সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য উৎসব। বাঙালির জীবনধারাকে তাই বলা হয়Ñ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’। এই পার্বণগুলো কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও বাহক। সেই ধারার একটি বিশেষ উৎসব হলো জামাইষষ্ঠী।

 

জ্যৈষ্ঠ মাসে ষষ্ঠী হওয়ার কথা থাকলেও গ্রহ ফেরে আষাঢের দাবদাহের মধ্যেও এই উৎসব বয়ে আনে আত্মীয়তার শীতল পরশ, পারিবারিক পুনর্মিলনের আনন্দ এবং আন্তরিক আপ্যায়নের এক অনন্য আবহ। জামাইষষ্ঠী শুধু একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি এক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। আমের মৌসুম, গ্রামের প্রাণবন্ত পরিবেশ এবং আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলায় এই উৎসব পায় ভিন্ন মাত্রা।

 

জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই গ্রামগঞ্জে শুরু হয় জামাই বরণের প্রস্তুতি। শ্বশুরবাড়ির উঠানে ব্যস্ততা বাড়ে, রান্নাঘরে তৈরি হয় বিশেষ আয়োজন, আর পরিবারের সদস্যদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে মা ষষ্ঠীর পূজা ও ব্রত পালনের মধ্য দিয়ে জামাইষষ্ঠীর সূচনা হয়। কিন্তু এবার পড়েছে আষাঢ়ের শনিবার । মা ষষ্ঠীকে সন্তান ও মাতৃত্বের রক্ষাকর্ত্রী দেবী হিসেবে মানা হয়। কন্যার সুখী দাম্পত্য জীবন, সুস্থতা এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়েরা এই ব্রত পালন করেন।

 

লোককথায় রয়েছে, এক নারী ষষ্ঠী দেবীর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করায় নানা দুর্ভোগে পড়েছিলেন। পরে অনুতপ্ত হয়ে দেবীর পূজা করলে তিনি আশীর্বাদ লাভ করেন। সেই কাহিনির সূত্র ধরেই মা ষষ্ঠীর পূজা এবং পারিবারিক মঙ্গল কামনার এই প্রথা জনপ্রিয়তা পায়। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় আচারকে ঘিরে সামাজিক উৎসবের রূপ আরও বিস্তৃত হয়েছে।

 

বর্তমানে জামাইষষ্ঠী কেবল ব্রত বা পূজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি হয়ে উঠেছে পারিবারিক সম্পর্কের পুনর্নবীকরণ এবং ভালোবাসা প্রকাশের এক উপলক্ষ। জামাইষষ্ঠীকে ঘিরে গ্রাম ও শহরে দেখা যায় বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ। বছরের অন্যান্য সময় কর্মব্যস্ততায় দূরে থাকা মেয়েরা এ উপলক্ষে বাবার বাড়িতে আসেন। সঙ্গে আসেন জামাই ও নাতি-নাতনিরাও। ফলে বহুদিন পর পরিবারের সদস্যদের মিলন ঘটে। অনেক পরিবারে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগেই প্রস্তুতি শুরু হয়।

 

বাজার থেকে কেনা হয় নতুন কাপড়, মাছ, মাংস, ফলমূল ও মিষ্টি। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা হয়, অতিথিদের জন্য আলাদা আয়োজন করা হয়। যেন এক দিনের জন্য পুরো পরিবার ফিরে যায় শেকড়ের কাছে। বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, জামাই আসার খবরে প্রতিবেশীরাও খোঁজখবর নেন। কোথাও কোথাও জামাইকে নিয়ে হাস্যরস, গল্প-আড্ডা এবং ছোটখাটো সাংস্কৃতিক আয়োজনও হয়। ফলে উৎসবটি শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো সামাজিক পরিম-লে ছড়িয়ে পড়ে।

 

জামাইষষ্ঠীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক নিঃসন্দেহে ভোজন-আয়োজন। বাঙালির সংস্কৃতিতে অতিথি আপ্যায়নের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। আর জামাইকে অতিথিদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত মনে করা হয়। ফলে এই দিনে শ্বশুরবাড়িতে আয়োজন করা হয় বিশেষ ভোজের। একটি আদর্শ জামাইষষ্ঠীর খাবারের তালিকায় থাকে শুক্তো, গরম ভাত, ঘি, আমের টক ডাল, পোলাও, বিভিন্ন ধরনের ভাজি, ইলিশ মাছ, চিংড়ি, রুই বা কাতল মাছের বিশেষ পদ, খাসি বা পাঁঠার মাংস, চাটনি, দই, পায়েস এবং নানা রকম মিষ্টান্ন।

 

প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব কিছু বিশেষ রান্নাও থাকে। কোথাও নারকেলের দুধে রান্না করা মাছ, কোথাও চিংড়ির মালাইকারি, আবার কোথাও দেশীয় মুরগির ঝোল বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। রান্নাঘরে তখন উৎসবের আবহ। সকাল থেকেই ব্যস্ত থাকেন মা, মাসি, পিসি ও পরিবারের অন্যান্য নারীরা। তাঁদের একটাই লক্ষ্যÑজামাই যেন তৃপ্তি করে খেতে পারেন। সাতক্ষীরা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলা। জামাইষষ্ঠী আর আমÑদুটিকে আলাদা করে ভাবাই যায় না।

 

হিমসাগর, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলিÑবিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আমে ভরে ওঠে বাজার। অনেক পরিবারে জামাইয়ের জন্য আলাদা করে সেরা মানের আম সংগ্রহ করা হয়। কেউ উপহার হিসেবে আমের ঝুড়ি পাঠান, কেউ আবার বাড়ি ফেরার সময় জামাইয়ের হাতে তুলে দেন আমভর্তি বাক্স। শুধু ফল হিসেবেই নয়, আম দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের খাবারও। কাঁচা আমের ডাল, আমের চাটনি, আমের শরবত, আমের পায়েসÑসবকিছুই যেন উৎসবের স্বাদকে আরও সমৃদ্ধ করে।

 

সাতক্ষীরার মানুষ বিশ্বাস করেন, আম আর জামাইষষ্ঠীর আপ্যায়নÑএই দুয়ের সমন্বয়েই উৎসবের পূর্ণতা আসে। খাবারের পাশাপাশি জামাইষষ্ঠীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো উপহার দেওয়া। শ্বশুর-শাশুড়ি জামাইয়ের হাতে তুলে দেন নতুন পোশাক, ধুতি-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, ঘড়ি, সুগন্ধি কিংবা প্রয়োজনীয় সামগ্রী। গ্রামীণ সমাজে এই উপহার কেবল বস্তুগত মূল্য নয়; বরং ভালোবাসা, সম্মান ও আন্তরিকতার প্রতীক। অনেক সময় অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও পরিবারগুলো সাধ্যের মধ্যে সাধ্যমতো আয়োজন করে। কারণ উপহারের মূল মূল্য তার আর্থিক দিক নয়, বরং আবেগ ও সম্পর্কের গভীরতায়।

 

আজকের জামাইষষ্ঠীকে বুঝতে হলে অতীতের সমাজব্যবস্থার দিকে তাকাতে হয়। একসময় বাল্যবিবাহ ছিল প্রচলিত। মেয়েরা অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে দূরের গ্রামে চলে যেত। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত না থাকায় বাবার বাড়িতে আসার সুযোগও ছিল সীমিত। তখন জামাইষষ্ঠী হয়ে উঠেছিল মেয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার একটি সামাজিকভাবে স্বীকৃত উপলক্ষ। শ্বশুরবাড়ির লোকজন জামাইকে আমন্ত্রণ জানাতেন, আর সেই সুযোগে মেয়েও কয়েক দিনের জন্য বাবার বাড়িতে আসতেন। এ কারণে উৎসবটির মধ্যে শুধু জামাইকে সম্মান জানানোর বিষয়ই ছিল না; বরং মেয়ের খোঁজখবর নেওয়া, তার সুখ-দুঃখ জানা এবং পারিবারিক সম্পর্ক অটুট রাখার একটি মানবিক দিকও ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ বদলেছে।

 

এখন যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হয়েছে, মেয়েরা নিয়মিত বাবার বাড়িতে আসতে পারেন। তবুও জামাইষষ্ঠীর গুরুত্ব কমেনি। বরং আধুনিক ব্যস্ত জীবনে এটি পরিবারকে একত্র করার একটি বিশেষ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। কর্মব্যস্ততা, নগরজীবনের চাপ এবং সামাজিক দূরত্বের মধ্যে এই উৎসব মানুষকে আবার পারিবারিক বন্ধনের কাছে ফিরিয়ে আনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগেও জামাইষষ্ঠীর ছবি, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে।

 

জামাইষষ্ঠীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সম্পর্ককে দৃঢ় করা। এ দিনে শ্বশুরবাড়ি ও জামাইয়ের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘদিনের অভিমান, দূরত্ব কিংবা ভুল বোঝাবুঝিও অনেক সময় মিলনমেলার উষ্ণতায় দূর হয়ে যায়। শুধু জামাই নয়, মেয়ে, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজনÑসবার মিলনে পরিবার হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। একসঙ্গে খাওয়া, গল্প করা, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করাÑএসবই সম্পর্ককে নতুন করে প্রাণ দেয়। বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সৌন্দর্য হলো পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব।

 

জামাইষষ্ঠী সেই মূল্যবোধকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করে চলেছে। বিশ্বায়নের যুগে অনেক লোকজ উৎসব হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে অনেক ঐতিহ্য অচেনা হয়ে উঠছে। কিন্তু জামাইষষ্ঠী এখনও টিকে আছে মানুষের হৃদয়ে। এর কারণ, এই উৎসবের মূল ভিত্তি হলো ভালোবাসা, পারিবারিক সংযোগ এবং সামাজিক বন্ধন। ধর্মীয় আচার, লোকজ সংস্কৃতি, খাদ্য ঐতিহ্য এবং আত্মীয়তার মেলবন্ধন এটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। এই উৎসব এখনও গ্রামীণ সংস্কৃতির জীবন্ত অংশ।

 

আমবাগানের সুবাস, পাকা আমের মিষ্টি স্বাদ, রান্নাঘরের ব্যস্ততা এবং আত্মীয়-স্বজনের কোলাহল মিলিয়ে জামাইষষ্ঠী হয়ে ওঠে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। জামাইষষ্ঠীকে শুধু জামাই আপ্যায়নের উৎসব হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যায় না। এটি মূলত মেয়ের কল্যাণ কামনা, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং সামাজিক সম্পর্ক পুনর্নবীকরণের একটি উপলক্ষ। এই উৎসব আরও বিশেষ হয়ে ওঠে আমের মৌসুম, গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং আন্তরিক আতিথেয়তার কারণে।

 

এখানে জামাইষষ্ঠী মানে শুধু ভোজ নয়; এটি ভালোবাসার প্রকাশ, আত্মীয়তার পুনর্মিলন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উদ্যাপন। জ্যৈষ্ঠের প্রখর রোদে যখন চারদিক উত্তপ্ত, তখন ঘরে ঘরে জামাইষষ্ঠী নিয়ে আসে এক অন্যরকম শীতলতাÑযার নাম পারিবারিক ভালোবাসা। আমের মিষ্টি স্বাদের মতোই সেই ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, মানুষ থেকে মানুষের হৃদয়ে।

 

Ads small one

গর্ত আর কাদা-পানিতে বেহাল শহরের তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
গর্ত আর কাদা-পানিতে বেহাল শহরের তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়ক

oplus_0

নিজস্ব প্রতিনিধি: বুধবার সকাল সাড়ে আটটা। শহরের দোকানপাট সবে খুলতে শুরু করেছে। কর্মজীবী মানুষ ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও রওনা হয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে। এমন সময় শুরু হলো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাতক্ষীরা শহরের তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়কে জমে গেল পানি।
ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি ইজিবাইকের চাকা পানিভরা গর্তে পড়ে যায়। এতে নোংরা পানি ছিটকে গিয়ে ভিজে যায় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি ভ্যানের যাত্রীদের পোশাক। তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ মিটারের এই সড়কে এমন ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র।
শহরের অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে পুরোপুরি বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই কাদা-পানি মাড়িয়েই চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। সড়কের দুপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনের অংশও কাদায় ঢেকে গেছে।
এ রাস্তায় যাতায়াতকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। গর্তে চাকা পড়ে প্রতিনিয়ত রিকশা বা ইজিবাইক উল্টে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। নোংরা পানিতে জামাকাপড় নষ্ট হওয়া এখানে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলে এই পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ারও কোনো উপায় থাকে না।
সড়কের পাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাস্তার এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। কাদা আর নোংরা পানির ছিটায় দোকানের মালামাল নষ্ট হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এই অবস্থা থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
ব্যস্ততম এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে কাদা-পানির এই নাকাল হওয়া থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসী।

আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

সাতক্ষীরায় মোট পরীক্ষার্থী ১৫,৯০৬, এইচএসসি ১১৪০২, আলিম ১৮৪২, ভোকেশনাল ২৬৬২
নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার সাতক্ষীরা জেলায় এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি (ভোকেশনাল) মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ৯০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। জেলার মোট ৪০টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার সাধারণ ধারায় এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলার ২৩টি কেন্দ্রে মোট ১১ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৯০৫ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৪৯৭ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় ৯টি কেন্দ্রে মোট অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৮৪২ জন পরীক্ষার্থী। যার মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১৩৫ জন এবং ছাত্রী ৭০৭ জন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় জেলার ৮টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্র এবং ৯৭৯ জন ছাত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর উক্ত তথ্য দিয়ে জানান, সবকটি কেন্দ্রে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো নিয়মিত তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

সংবাদদাতা: দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পলি জমে নাব্যতা হারানো সাতক্ষীরার কলারোয়ার ঐতিহাসিক জাহাজমারী খালটি পুনঃখননের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ অঞ্চলের কৃষিতে। খরা মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট আর বর্ষায় জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এই খালের সুবিধাভোগী ছয়টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার কৃষক।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খনন করা এই খালটি নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও উত্তরণের যৌথ উদ্যোগে ‘সফল ফর আইডব্লিউআরএম’ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি পুনঃখনন করা হয়। দলুইপুর থেকে গোছমারা লস্কার বড় খাল পর্যন্ত ২ দশমিক ৯৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৩ ফুট প্রশস্ত এই খালটি পুনঃখননের ফলে প্রায় ৬২৫ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক শেখ আব্দুর রব ও খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের জানান, একসময় সেচের পানির অভাবে জমি অনাবাদি থাকত, আবার বর্ষায় ফসল তলিয়ে লোকসান গুনতে হতো। এখন পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও খালটি সচল রাখতে কৃষকেরা নিজেদের অর্থায়নে একটি তহবিল গঠন করেছেন, যা দিয়ে প্রতিবছর এটি পরিষ্কার করা হবে।
এদিকে, পুনঃখননকৃত খালের নাব্যতা ধরে রাখতে গত সোমবার দুপুরে যুগিখালী ইউনিয়নের আড়খালী মসজিদ-সংলগ্ন জাহাজমারী খালে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।