সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

জামাইষষ্ঠী: আম, আত্মীয়তা ও আনন্দের উৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
জামাইষষ্ঠী: আম, আত্মীয়তা ও আনন্দের উৎসব

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলার ঋতুচক্র, লোকজ সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য উৎসব। বাঙালির জীবনধারাকে তাই বলা হয়Ñ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’। এই পার্বণগুলো কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও বাহক। সেই ধারার একটি বিশেষ উৎসব হলো জামাইষষ্ঠী।

 

জ্যৈষ্ঠ মাসে ষষ্ঠী হওয়ার কথা থাকলেও গ্রহ ফেরে আষাঢের দাবদাহের মধ্যেও এই উৎসব বয়ে আনে আত্মীয়তার শীতল পরশ, পারিবারিক পুনর্মিলনের আনন্দ এবং আন্তরিক আপ্যায়নের এক অনন্য আবহ। জামাইষষ্ঠী শুধু একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি এক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। আমের মৌসুম, গ্রামের প্রাণবন্ত পরিবেশ এবং আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলায় এই উৎসব পায় ভিন্ন মাত্রা।

 

জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই গ্রামগঞ্জে শুরু হয় জামাই বরণের প্রস্তুতি। শ্বশুরবাড়ির উঠানে ব্যস্ততা বাড়ে, রান্নাঘরে তৈরি হয় বিশেষ আয়োজন, আর পরিবারের সদস্যদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে মা ষষ্ঠীর পূজা ও ব্রত পালনের মধ্য দিয়ে জামাইষষ্ঠীর সূচনা হয়। কিন্তু এবার পড়েছে আষাঢ়ের শনিবার । মা ষষ্ঠীকে সন্তান ও মাতৃত্বের রক্ষাকর্ত্রী দেবী হিসেবে মানা হয়। কন্যার সুখী দাম্পত্য জীবন, সুস্থতা এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়েরা এই ব্রত পালন করেন।

 

লোককথায় রয়েছে, এক নারী ষষ্ঠী দেবীর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করায় নানা দুর্ভোগে পড়েছিলেন। পরে অনুতপ্ত হয়ে দেবীর পূজা করলে তিনি আশীর্বাদ লাভ করেন। সেই কাহিনির সূত্র ধরেই মা ষষ্ঠীর পূজা এবং পারিবারিক মঙ্গল কামনার এই প্রথা জনপ্রিয়তা পায়। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় আচারকে ঘিরে সামাজিক উৎসবের রূপ আরও বিস্তৃত হয়েছে।

 

বর্তমানে জামাইষষ্ঠী কেবল ব্রত বা পূজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি হয়ে উঠেছে পারিবারিক সম্পর্কের পুনর্নবীকরণ এবং ভালোবাসা প্রকাশের এক উপলক্ষ। জামাইষষ্ঠীকে ঘিরে গ্রাম ও শহরে দেখা যায় বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ। বছরের অন্যান্য সময় কর্মব্যস্ততায় দূরে থাকা মেয়েরা এ উপলক্ষে বাবার বাড়িতে আসেন। সঙ্গে আসেন জামাই ও নাতি-নাতনিরাও। ফলে বহুদিন পর পরিবারের সদস্যদের মিলন ঘটে। অনেক পরিবারে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগেই প্রস্তুতি শুরু হয়।

 

বাজার থেকে কেনা হয় নতুন কাপড়, মাছ, মাংস, ফলমূল ও মিষ্টি। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা হয়, অতিথিদের জন্য আলাদা আয়োজন করা হয়। যেন এক দিনের জন্য পুরো পরিবার ফিরে যায় শেকড়ের কাছে। বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, জামাই আসার খবরে প্রতিবেশীরাও খোঁজখবর নেন। কোথাও কোথাও জামাইকে নিয়ে হাস্যরস, গল্প-আড্ডা এবং ছোটখাটো সাংস্কৃতিক আয়োজনও হয়। ফলে উৎসবটি শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো সামাজিক পরিম-লে ছড়িয়ে পড়ে।

 

জামাইষষ্ঠীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক নিঃসন্দেহে ভোজন-আয়োজন। বাঙালির সংস্কৃতিতে অতিথি আপ্যায়নের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। আর জামাইকে অতিথিদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত মনে করা হয়। ফলে এই দিনে শ্বশুরবাড়িতে আয়োজন করা হয় বিশেষ ভোজের। একটি আদর্শ জামাইষষ্ঠীর খাবারের তালিকায় থাকে শুক্তো, গরম ভাত, ঘি, আমের টক ডাল, পোলাও, বিভিন্ন ধরনের ভাজি, ইলিশ মাছ, চিংড়ি, রুই বা কাতল মাছের বিশেষ পদ, খাসি বা পাঁঠার মাংস, চাটনি, দই, পায়েস এবং নানা রকম মিষ্টান্ন।

 

প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব কিছু বিশেষ রান্নাও থাকে। কোথাও নারকেলের দুধে রান্না করা মাছ, কোথাও চিংড়ির মালাইকারি, আবার কোথাও দেশীয় মুরগির ঝোল বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। রান্নাঘরে তখন উৎসবের আবহ। সকাল থেকেই ব্যস্ত থাকেন মা, মাসি, পিসি ও পরিবারের অন্যান্য নারীরা। তাঁদের একটাই লক্ষ্যÑজামাই যেন তৃপ্তি করে খেতে পারেন। সাতক্ষীরা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলা। জামাইষষ্ঠী আর আমÑদুটিকে আলাদা করে ভাবাই যায় না।

 

হিমসাগর, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলিÑবিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আমে ভরে ওঠে বাজার। অনেক পরিবারে জামাইয়ের জন্য আলাদা করে সেরা মানের আম সংগ্রহ করা হয়। কেউ উপহার হিসেবে আমের ঝুড়ি পাঠান, কেউ আবার বাড়ি ফেরার সময় জামাইয়ের হাতে তুলে দেন আমভর্তি বাক্স। শুধু ফল হিসেবেই নয়, আম দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের খাবারও। কাঁচা আমের ডাল, আমের চাটনি, আমের শরবত, আমের পায়েসÑসবকিছুই যেন উৎসবের স্বাদকে আরও সমৃদ্ধ করে।

 

সাতক্ষীরার মানুষ বিশ্বাস করেন, আম আর জামাইষষ্ঠীর আপ্যায়নÑএই দুয়ের সমন্বয়েই উৎসবের পূর্ণতা আসে। খাবারের পাশাপাশি জামাইষষ্ঠীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো উপহার দেওয়া। শ্বশুর-শাশুড়ি জামাইয়ের হাতে তুলে দেন নতুন পোশাক, ধুতি-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, ঘড়ি, সুগন্ধি কিংবা প্রয়োজনীয় সামগ্রী। গ্রামীণ সমাজে এই উপহার কেবল বস্তুগত মূল্য নয়; বরং ভালোবাসা, সম্মান ও আন্তরিকতার প্রতীক। অনেক সময় অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও পরিবারগুলো সাধ্যের মধ্যে সাধ্যমতো আয়োজন করে। কারণ উপহারের মূল মূল্য তার আর্থিক দিক নয়, বরং আবেগ ও সম্পর্কের গভীরতায়।

 

আজকের জামাইষষ্ঠীকে বুঝতে হলে অতীতের সমাজব্যবস্থার দিকে তাকাতে হয়। একসময় বাল্যবিবাহ ছিল প্রচলিত। মেয়েরা অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে দূরের গ্রামে চলে যেত। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত না থাকায় বাবার বাড়িতে আসার সুযোগও ছিল সীমিত। তখন জামাইষষ্ঠী হয়ে উঠেছিল মেয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার একটি সামাজিকভাবে স্বীকৃত উপলক্ষ। শ্বশুরবাড়ির লোকজন জামাইকে আমন্ত্রণ জানাতেন, আর সেই সুযোগে মেয়েও কয়েক দিনের জন্য বাবার বাড়িতে আসতেন। এ কারণে উৎসবটির মধ্যে শুধু জামাইকে সম্মান জানানোর বিষয়ই ছিল না; বরং মেয়ের খোঁজখবর নেওয়া, তার সুখ-দুঃখ জানা এবং পারিবারিক সম্পর্ক অটুট রাখার একটি মানবিক দিকও ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ বদলেছে।

 

এখন যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হয়েছে, মেয়েরা নিয়মিত বাবার বাড়িতে আসতে পারেন। তবুও জামাইষষ্ঠীর গুরুত্ব কমেনি। বরং আধুনিক ব্যস্ত জীবনে এটি পরিবারকে একত্র করার একটি বিশেষ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। কর্মব্যস্ততা, নগরজীবনের চাপ এবং সামাজিক দূরত্বের মধ্যে এই উৎসব মানুষকে আবার পারিবারিক বন্ধনের কাছে ফিরিয়ে আনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগেও জামাইষষ্ঠীর ছবি, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে।

 

জামাইষষ্ঠীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সম্পর্ককে দৃঢ় করা। এ দিনে শ্বশুরবাড়ি ও জামাইয়ের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘদিনের অভিমান, দূরত্ব কিংবা ভুল বোঝাবুঝিও অনেক সময় মিলনমেলার উষ্ণতায় দূর হয়ে যায়। শুধু জামাই নয়, মেয়ে, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজনÑসবার মিলনে পরিবার হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। একসঙ্গে খাওয়া, গল্প করা, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করাÑএসবই সম্পর্ককে নতুন করে প্রাণ দেয়। বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সৌন্দর্য হলো পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব।

 

জামাইষষ্ঠী সেই মূল্যবোধকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করে চলেছে। বিশ্বায়নের যুগে অনেক লোকজ উৎসব হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে অনেক ঐতিহ্য অচেনা হয়ে উঠছে। কিন্তু জামাইষষ্ঠী এখনও টিকে আছে মানুষের হৃদয়ে। এর কারণ, এই উৎসবের মূল ভিত্তি হলো ভালোবাসা, পারিবারিক সংযোগ এবং সামাজিক বন্ধন। ধর্মীয় আচার, লোকজ সংস্কৃতি, খাদ্য ঐতিহ্য এবং আত্মীয়তার মেলবন্ধন এটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। এই উৎসব এখনও গ্রামীণ সংস্কৃতির জীবন্ত অংশ।

 

আমবাগানের সুবাস, পাকা আমের মিষ্টি স্বাদ, রান্নাঘরের ব্যস্ততা এবং আত্মীয়-স্বজনের কোলাহল মিলিয়ে জামাইষষ্ঠী হয়ে ওঠে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। জামাইষষ্ঠীকে শুধু জামাই আপ্যায়নের উৎসব হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যায় না। এটি মূলত মেয়ের কল্যাণ কামনা, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং সামাজিক সম্পর্ক পুনর্নবীকরণের একটি উপলক্ষ। এই উৎসব আরও বিশেষ হয়ে ওঠে আমের মৌসুম, গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং আন্তরিক আতিথেয়তার কারণে।

 

এখানে জামাইষষ্ঠী মানে শুধু ভোজ নয়; এটি ভালোবাসার প্রকাশ, আত্মীয়তার পুনর্মিলন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উদ্যাপন। জ্যৈষ্ঠের প্রখর রোদে যখন চারদিক উত্তপ্ত, তখন ঘরে ঘরে জামাইষষ্ঠী নিয়ে আসে এক অন্যরকম শীতলতাÑযার নাম পারিবারিক ভালোবাসা। আমের মিষ্টি স্বাদের মতোই সেই ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, মানুষ থেকে মানুষের হৃদয়ে।

 

Ads small one

প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

শেখ আব্দুল আলিম: সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার কমিটির সক্ষমতা বাড়াতে এক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ও প্রাণসায়ের খাল পাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা জানান, প্রাণসায়ের খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যাতায়াতের জন্য যে পথটি তৈরি করা হয়েছে, তা বর্তমানে গরু-ছাগল চলাচল, ময়লা-আবর্জনা এবং মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পুরো এলাকাটিকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি (বাস্কেট) স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিনিধি রতœা খাতুন, অণিক দত্ত এবং কর্মসূচি সঞ্চালক নাসরিন সুলতানা মৌ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা বড়বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রব, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলি, মো. রাশেদ, আব্দুল আলিম, ফরিদ আহম্মেদ ময়না এবং প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা পর্ব শেষে সাতক্ষীরা শহর ও প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পৌর প্রতিনিধি মোঃ ইদ্রিস আলি ও রূপান্তরের প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা মৌ।

সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৫৮ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়াভেদে গড় চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে এলাকাভেদে দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও আশাশুনির গদাইপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধানের মিল, মুড়ির মিল ও খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশাশুনির মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরাও জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ জানান, ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে কোল্ড স্টোরেজ ও ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজু রহমান সরকার জানান, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়; তবে কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তা কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হতে পারে।

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ৫৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে ৩৩৯ কোটি টাকা চুক্তিতে মোজাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বর্তমানে প্রকল্পের মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁক সোজা করার কাজ সিংহভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার মূল কাজ অর্ধেকের কম হয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলোবালি ও খানাখন্দে যানবাহনের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি লাগছে। বিশেষ করে রোগী, পরীক্ষার্থী ও নিত্যদিনের যাত্রীদের যাতায়াতে চরম বিঘœ ঘটছে।
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কাজে ধীরগতি ছিল। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণাও নিয়মিত তদারকি করছেন বলে জানান।