মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

জামাইষষ্ঠী: আম, আত্মীয়তা ও আনন্দের উৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
জামাইষষ্ঠী: আম, আত্মীয়তা ও আনন্দের উৎসব

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলার ঋতুচক্র, লোকজ সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য উৎসব। বাঙালির জীবনধারাকে তাই বলা হয়Ñ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’। এই পার্বণগুলো কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও বাহক। সেই ধারার একটি বিশেষ উৎসব হলো জামাইষষ্ঠী।

 

জ্যৈষ্ঠ মাসে ষষ্ঠী হওয়ার কথা থাকলেও গ্রহ ফেরে আষাঢের দাবদাহের মধ্যেও এই উৎসব বয়ে আনে আত্মীয়তার শীতল পরশ, পারিবারিক পুনর্মিলনের আনন্দ এবং আন্তরিক আপ্যায়নের এক অনন্য আবহ। জামাইষষ্ঠী শুধু একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি এক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। আমের মৌসুম, গ্রামের প্রাণবন্ত পরিবেশ এবং আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলায় এই উৎসব পায় ভিন্ন মাত্রা।

 

জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই গ্রামগঞ্জে শুরু হয় জামাই বরণের প্রস্তুতি। শ্বশুরবাড়ির উঠানে ব্যস্ততা বাড়ে, রান্নাঘরে তৈরি হয় বিশেষ আয়োজন, আর পরিবারের সদস্যদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে মা ষষ্ঠীর পূজা ও ব্রত পালনের মধ্য দিয়ে জামাইষষ্ঠীর সূচনা হয়। কিন্তু এবার পড়েছে আষাঢ়ের শনিবার । মা ষষ্ঠীকে সন্তান ও মাতৃত্বের রক্ষাকর্ত্রী দেবী হিসেবে মানা হয়। কন্যার সুখী দাম্পত্য জীবন, সুস্থতা এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়েরা এই ব্রত পালন করেন।

 

লোককথায় রয়েছে, এক নারী ষষ্ঠী দেবীর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করায় নানা দুর্ভোগে পড়েছিলেন। পরে অনুতপ্ত হয়ে দেবীর পূজা করলে তিনি আশীর্বাদ লাভ করেন। সেই কাহিনির সূত্র ধরেই মা ষষ্ঠীর পূজা এবং পারিবারিক মঙ্গল কামনার এই প্রথা জনপ্রিয়তা পায়। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় আচারকে ঘিরে সামাজিক উৎসবের রূপ আরও বিস্তৃত হয়েছে।

 

বর্তমানে জামাইষষ্ঠী কেবল ব্রত বা পূজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি হয়ে উঠেছে পারিবারিক সম্পর্কের পুনর্নবীকরণ এবং ভালোবাসা প্রকাশের এক উপলক্ষ। জামাইষষ্ঠীকে ঘিরে গ্রাম ও শহরে দেখা যায় বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ। বছরের অন্যান্য সময় কর্মব্যস্ততায় দূরে থাকা মেয়েরা এ উপলক্ষে বাবার বাড়িতে আসেন। সঙ্গে আসেন জামাই ও নাতি-নাতনিরাও। ফলে বহুদিন পর পরিবারের সদস্যদের মিলন ঘটে। অনেক পরিবারে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগেই প্রস্তুতি শুরু হয়।

 

বাজার থেকে কেনা হয় নতুন কাপড়, মাছ, মাংস, ফলমূল ও মিষ্টি। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা হয়, অতিথিদের জন্য আলাদা আয়োজন করা হয়। যেন এক দিনের জন্য পুরো পরিবার ফিরে যায় শেকড়ের কাছে। বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, জামাই আসার খবরে প্রতিবেশীরাও খোঁজখবর নেন। কোথাও কোথাও জামাইকে নিয়ে হাস্যরস, গল্প-আড্ডা এবং ছোটখাটো সাংস্কৃতিক আয়োজনও হয়। ফলে উৎসবটি শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো সামাজিক পরিম-লে ছড়িয়ে পড়ে।

 

জামাইষষ্ঠীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক নিঃসন্দেহে ভোজন-আয়োজন। বাঙালির সংস্কৃতিতে অতিথি আপ্যায়নের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। আর জামাইকে অতিথিদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত মনে করা হয়। ফলে এই দিনে শ্বশুরবাড়িতে আয়োজন করা হয় বিশেষ ভোজের। একটি আদর্শ জামাইষষ্ঠীর খাবারের তালিকায় থাকে শুক্তো, গরম ভাত, ঘি, আমের টক ডাল, পোলাও, বিভিন্ন ধরনের ভাজি, ইলিশ মাছ, চিংড়ি, রুই বা কাতল মাছের বিশেষ পদ, খাসি বা পাঁঠার মাংস, চাটনি, দই, পায়েস এবং নানা রকম মিষ্টান্ন।

 

প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব কিছু বিশেষ রান্নাও থাকে। কোথাও নারকেলের দুধে রান্না করা মাছ, কোথাও চিংড়ির মালাইকারি, আবার কোথাও দেশীয় মুরগির ঝোল বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। রান্নাঘরে তখন উৎসবের আবহ। সকাল থেকেই ব্যস্ত থাকেন মা, মাসি, পিসি ও পরিবারের অন্যান্য নারীরা। তাঁদের একটাই লক্ষ্যÑজামাই যেন তৃপ্তি করে খেতে পারেন। সাতক্ষীরা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলা। জামাইষষ্ঠী আর আমÑদুটিকে আলাদা করে ভাবাই যায় না।

 

হিমসাগর, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলিÑবিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আমে ভরে ওঠে বাজার। অনেক পরিবারে জামাইয়ের জন্য আলাদা করে সেরা মানের আম সংগ্রহ করা হয়। কেউ উপহার হিসেবে আমের ঝুড়ি পাঠান, কেউ আবার বাড়ি ফেরার সময় জামাইয়ের হাতে তুলে দেন আমভর্তি বাক্স। শুধু ফল হিসেবেই নয়, আম দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের খাবারও। কাঁচা আমের ডাল, আমের চাটনি, আমের শরবত, আমের পায়েসÑসবকিছুই যেন উৎসবের স্বাদকে আরও সমৃদ্ধ করে।

 

সাতক্ষীরার মানুষ বিশ্বাস করেন, আম আর জামাইষষ্ঠীর আপ্যায়নÑএই দুয়ের সমন্বয়েই উৎসবের পূর্ণতা আসে। খাবারের পাশাপাশি জামাইষষ্ঠীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো উপহার দেওয়া। শ্বশুর-শাশুড়ি জামাইয়ের হাতে তুলে দেন নতুন পোশাক, ধুতি-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, ঘড়ি, সুগন্ধি কিংবা প্রয়োজনীয় সামগ্রী। গ্রামীণ সমাজে এই উপহার কেবল বস্তুগত মূল্য নয়; বরং ভালোবাসা, সম্মান ও আন্তরিকতার প্রতীক। অনেক সময় অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও পরিবারগুলো সাধ্যের মধ্যে সাধ্যমতো আয়োজন করে। কারণ উপহারের মূল মূল্য তার আর্থিক দিক নয়, বরং আবেগ ও সম্পর্কের গভীরতায়।

 

আজকের জামাইষষ্ঠীকে বুঝতে হলে অতীতের সমাজব্যবস্থার দিকে তাকাতে হয়। একসময় বাল্যবিবাহ ছিল প্রচলিত। মেয়েরা অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে দূরের গ্রামে চলে যেত। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত না থাকায় বাবার বাড়িতে আসার সুযোগও ছিল সীমিত। তখন জামাইষষ্ঠী হয়ে উঠেছিল মেয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার একটি সামাজিকভাবে স্বীকৃত উপলক্ষ। শ্বশুরবাড়ির লোকজন জামাইকে আমন্ত্রণ জানাতেন, আর সেই সুযোগে মেয়েও কয়েক দিনের জন্য বাবার বাড়িতে আসতেন। এ কারণে উৎসবটির মধ্যে শুধু জামাইকে সম্মান জানানোর বিষয়ই ছিল না; বরং মেয়ের খোঁজখবর নেওয়া, তার সুখ-দুঃখ জানা এবং পারিবারিক সম্পর্ক অটুট রাখার একটি মানবিক দিকও ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ বদলেছে।

 

এখন যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হয়েছে, মেয়েরা নিয়মিত বাবার বাড়িতে আসতে পারেন। তবুও জামাইষষ্ঠীর গুরুত্ব কমেনি। বরং আধুনিক ব্যস্ত জীবনে এটি পরিবারকে একত্র করার একটি বিশেষ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। কর্মব্যস্ততা, নগরজীবনের চাপ এবং সামাজিক দূরত্বের মধ্যে এই উৎসব মানুষকে আবার পারিবারিক বন্ধনের কাছে ফিরিয়ে আনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগেও জামাইষষ্ঠীর ছবি, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে।

 

জামাইষষ্ঠীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সম্পর্ককে দৃঢ় করা। এ দিনে শ্বশুরবাড়ি ও জামাইয়ের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘদিনের অভিমান, দূরত্ব কিংবা ভুল বোঝাবুঝিও অনেক সময় মিলনমেলার উষ্ণতায় দূর হয়ে যায়। শুধু জামাই নয়, মেয়ে, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজনÑসবার মিলনে পরিবার হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। একসঙ্গে খাওয়া, গল্প করা, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করাÑএসবই সম্পর্ককে নতুন করে প্রাণ দেয়। বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সৌন্দর্য হলো পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব।

 

জামাইষষ্ঠী সেই মূল্যবোধকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করে চলেছে। বিশ্বায়নের যুগে অনেক লোকজ উৎসব হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে অনেক ঐতিহ্য অচেনা হয়ে উঠছে। কিন্তু জামাইষষ্ঠী এখনও টিকে আছে মানুষের হৃদয়ে। এর কারণ, এই উৎসবের মূল ভিত্তি হলো ভালোবাসা, পারিবারিক সংযোগ এবং সামাজিক বন্ধন। ধর্মীয় আচার, লোকজ সংস্কৃতি, খাদ্য ঐতিহ্য এবং আত্মীয়তার মেলবন্ধন এটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। এই উৎসব এখনও গ্রামীণ সংস্কৃতির জীবন্ত অংশ।

 

আমবাগানের সুবাস, পাকা আমের মিষ্টি স্বাদ, রান্নাঘরের ব্যস্ততা এবং আত্মীয়-স্বজনের কোলাহল মিলিয়ে জামাইষষ্ঠী হয়ে ওঠে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। জামাইষষ্ঠীকে শুধু জামাই আপ্যায়নের উৎসব হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যায় না। এটি মূলত মেয়ের কল্যাণ কামনা, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং সামাজিক সম্পর্ক পুনর্নবীকরণের একটি উপলক্ষ। এই উৎসব আরও বিশেষ হয়ে ওঠে আমের মৌসুম, গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং আন্তরিক আতিথেয়তার কারণে।

 

এখানে জামাইষষ্ঠী মানে শুধু ভোজ নয়; এটি ভালোবাসার প্রকাশ, আত্মীয়তার পুনর্মিলন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উদ্যাপন। জ্যৈষ্ঠের প্রখর রোদে যখন চারদিক উত্তপ্ত, তখন ঘরে ঘরে জামাইষষ্ঠী নিয়ে আসে এক অন্যরকম শীতলতাÑযার নাম পারিবারিক ভালোবাসা। আমের মিষ্টি স্বাদের মতোই সেই ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, মানুষ থেকে মানুষের হৃদয়ে।

 

Ads small one

এআই দিয়ে মাদক কারবারির জার্সি বদল, এসআইকে শোকজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
এআই দিয়ে মাদক কারবারির জার্সি বদল, এসআইকে শোকজ

ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক মাদক কারবারির গায়ে থাকা আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জার্সি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্রাজিলের জার্সিতে পরিবর্তন করে গণমাধ্যমে ছবি পাঠানোর ঘটনায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানজিল আহমেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিএমপি কমিশনার মো. আশিক সাঈদের নির্দেশে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়।

এর আগে, সোমবার (২৯ জুন) নগরীর মোহাম্মদপুর কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ রাসেল হাওলাদার (৩৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে কাউনিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তার গায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জার্সি ছিল। তবে পরে বিএমপির মিডিয়া উইং থেকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই জার্সিকে ব্রাজিল ফুটবল দলের জার্সিতে পরিবর্তন করে ছবি গণমাধ্যমের হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপে পাঠানো হয়।

বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে প্রকৃত ছবি ও সঠিক তথ্যসহ নতুন করে ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পেজে পোস্ট করা হয়।

 

ঘটনার বিষয়ে এসআই তানজিল আহমেদ জানান, তিনি এটি দুষ্টুমির ছলে করেছিলেন। এ ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বিএমপি কমিশনার মো. আশিক সাঈদ জানান, শোকজের জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চামচ নয়- হাত দিয়ে খাওয়া অধিকতর স্বাস্থ্যকর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
চামচ নয়- হাত দিয়ে খাওয়া অধিকতর স্বাস্থ্যকর

আমরা হাত দিয়ে খাবার খেতেই অভ্যস্ত বেশি। তবে অনেক দেশে সংস্কৃতির অংশ হিসেবে চপস্টিক বা কাঁটাচামচ দিয়ে খাওয়া হয়। অনেকে মনে করেন, হাত দিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। তবে বিজ্ঞান বলছে, এই ধারণার ভিত্তি নেই। বরং চামচের চাইতে হাত দিয়ে খাওয়াটাই বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। তবে খাওয়ার আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে অবশ্যই।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কোন কোন কারণে চামচের বদলে হাত দিয়ে খাবার খাওয়া উচিত।

গবেষণা বলছে, হাত দিয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীর ও মস্তিষ্ককে এমনভাবে সক্রিয় করে, যা হজমশক্তি, মনোযোগ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে। তাই এই প্রাচীন অভ্যাসকে এখন শুধু ঐতিহ্য নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

১। আঙুলের সাহায্যে খাবার গ্রহণ করলে সেটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে হজমে। খাবার স্পর্শ করলে আঙুলের ত্বকে অবস্থিত স্নায়ু খাবারের ধরন মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয় এবং সেই অনুযায়ী পরিপাকতন্ত্র হজমের জন্য প্রয়োজনীয় পরিপাক রস নিঃসরণের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকে।

২। হাতে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে যা ক্ষতিকারক নয় এবং হাত পরিষ্কার করার পরেও এটি হাতে রয়ে যায়। পরিবেশের বিভিন্ন ক্ষতিকারক জীবাণু থেকে শরীরকে রক্ষা করে এই ব্যাকটেরিয়া। ফলে হাত দিয়ে খেলে সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

৩। হাত দিয়ে খাওয়া এক ধরনের পেশির ব্যায়াম- যা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।

৪। যখন আমরা হাত দিয়ে খাই, তখন সাধারণত ধীরে ধীরে খাওয়া হয়। চামচের সাহায্যে খেলে দ্রæত খাওয়া হয়। ধীরে খাওয়া খাবার ভালোভাবে হজম করতে সাহায্য করে।

৫। হাত দিয়ে খাবার খেলে পরিমিত খাওয়া সম্ভব হয়। এতে স্থুলতা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়।

মানব শরীরে অসংখ্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যা হজম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় ভূমিকা রাখে। পরিষ্কার হাত দিয়ে খাবার খেলে স্বাভাবিকভাবে কিছু উপকারী মাইক্রোফ্লোরা শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ধারণা পাওয়া যায়। তবে এটি এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নয়, গবেষণা চলমান।

ডট বিডি ও ডট বাংলা ডোমেইন সেবা দিচ্ছে আম্বার আইটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
ডট বিডি ও ডট বাংলা ডোমেইন সেবা দিচ্ছে আম্বার আইটি

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) আম্বার আইটি লিমিটেড এখন বিটিসিএলের অনুমোদিত পুনর্বিক্রেতা (রিসেলার) হিসেবে টপ লেভেল কান্ট্রি ডোমেইন ডট বিডি ও ডট বাংলা ডোমেইন নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা সেবা প্রদান করছে।
অনলাইনে দেশীয় পরিচয় ও ডিজিটাল উপস্থিতি শক্তিশালী করতে ডট বিডি এবং ডট বাংলা ডোমেইনের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এই চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে আম্বার আইটি গ্রাহকদের জন্য সহজ, নিরাপদ এবং ঝামেলামুক্ত ডোমেইন নিবন্ধন সেবা চালু করেছে।

আম্বার আইটির মাধ্যমে ডট বিডি ও ডট বাংলা ডোমেইন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা দ্রুত অ্যাক্টিভিশন সুবিধা পাবেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াও তুলনামূলক সহজ করা হয়েছে। মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে টাকা পরিশোধের সুবিধা থাকায় যেকোনও জায়গা থেকে সহজে আবেদন করা যাবে।

এছাড়া ডোমেইনের সঙ্গে বিনামূল্যে ডিএনএস হোস্টিং ও ব্যবস্থাপনা সুবিধা পাওয়া যাবে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে ডোমেইন নবায়ন, মেয়াদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে নিয়মিত এসএমএস ও ই-মেইল নোটিফিকেশন পাঠানো হবে। ডোমেইন ব্যবস্থাপনার জন্য থাকছে ব্যবহারবান্ধব গ্রাহক প্যানেল, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজেরাই প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

এছাড়া ডট কম ডট বিডি, ডট কম ডট নেট, ডট কম ডট ইনফো, ডট কম ডট ওআরজি ইত্যাদি ডেমেইনও আম্বার আইটি থেকে নিবন্ধন করা যাবে। সাথে ডিএনএস হোস্টিং, ওয়েব হোস্টিং ও ইমে-ইল সার্ভিসও দেওয়া হয়। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন সংগঠন এখন দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্য উপায়ে নিজেদের নামে দেশীয় ডোমেইন নিবন্ধন করতে পারবেন।