বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরার দিগন্তজোড়া ঘেরে রূপালী জয়গাঁথা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার দিগন্তজোড়া ঘেরে রূপালী জয়গাঁথা

দীপঙ্কর বিশ্বাস

জানালার বাইরে তাকালে যেখানেই চোখ যায়, শুধু জল আর জল। তবে এ কোনো বন্যার জল নয়, এ হলো সাতক্ষীরার মানুষের ভাগ্য বদলের ‘তরল সোনা’। দিগন্ত বিস্তৃত এই জলরাশি আসলে একেকটি মৎস্য ঘের। সাতক্ষীরা জেলা আজ শুধু বাংলাদেশের মানচিত্রেই নয়, বরং বিশ্ব দরবারে পরিচিতি পেয়েছে মৎস্য চাষের এক অনন্য রাজধানী হিসেবে। গলদা, বাগদা আর সাদা মাছের এই ত্রিমুখী বিপ্লব জেলার অর্থনীতিকে বদলে দিয়েছে আমূল।

একসময় যেসব জমিতে বছরে কেবল এক ফসল হতো, কিংবা নোনা জলের আগ্রাসনে যে জমিগুলো পড়ে থাকত, আজ সেখানে ঢেউ খেলছে রূপালী মাছের স্বপ্ন। স্থানীয় চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রম, মেধা আর আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সাতক্ষীরায় ঘটেছে এক নীরব মৎস্য বিপ্লব।

সাতক্ষীরার এই মৎস্য বিপ্লব কেবল মাছ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি তৈরি করেছে এক বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ।

১. ঘের প্রস্তুত করা, পোনা ছাড়া, খাবার দেওয়া থেকে শুরু করে মাছ ধরা, বাজারজাতকরণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ সব মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এই খাতে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের জন্য এটি আয়ের বড় একটি উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২. এখানকার বাগদা ও গলদা চিংড়ি ‘হোয়াইট গোল্ড’ বা সাদা সোনা হিসেবে খ্যাত। ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাতক্ষীরার চিংড়ি রপ্তানি হয়ে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বয়ে আনছে।

৩. চিংড়ির পাশাপাশি রুই, কাতলা, মৃগেল, ভেটকি, পারশে ও ভাঙন মাছের মতো সাদা মাছের চাষও বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রোটিনের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করছে এই জেলা।

ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে সাতক্ষীরার চাষিরা এখন অনেক বেশি বিজ্ঞানমনস্ক। সরকারের মৎস্য বিভাগ এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় তারা শিখছেন আধুনিক চাষ পদ্ধতি।

ঘেরে আধুনিক ‘এয়ারেটর’ ব্যবহার করে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখা, মানসম্মত ভাইরাসমুক্ত পোনা নির্বাচন এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে ঘের ব্যবস্থাপনা চাষিদের লোকসানের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছে।

পাশাপাশি, একই ঘেরে মাছের সাথে ধান এবং ঘেরের বেড়িতে সবজি চাষের যে ‘সমন্বিত মডেল’ সাতক্ষীরায় জনপ্রিয় হয়েছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। একই জমি থেকে একই সাথে মাছ, ধান আর বিষমুক্ত সবজি উৎপাদিত হচ্ছে যা কৃষিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

অবশ্য এই রূপালী বিপ্লবের পথটা সবসময় মসৃণ নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা, আকস্মিক জলোচ্ছ্বাস, অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি এবং মাঝে মাঝে ভাইরাসের আক্রমণ চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে। রপ্তানি বাজারের নানা কঠোর নিয়মকানুন মেনে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে সাতক্ষীরার মানুষ লড়াকু। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তারা দমে যাননি। ঘেরের আইল মেরামত করে, নতুন উদ্যমে পোনা ছেড়ে তারা আবার ঘুরে দাঁড়ান।

সাতক্ষীরার দিগন্তজোড়া ঘেরগুলো আজ শুধু মাছ চাষের স্থান নয়, এগুলো একেকটি সম্ভাবনার ক্যানভাস। এই বিপ্লবকে আরও টেকসই করতে প্রয়োজন সরকারি পর্যায়ে আরও বেশি হিমাগার স্থাপন, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি রপ্তানির স্থায়ী ব্যবস্থা করা।

বিকেলের সোনালী রোদে যখন ঘেরের জলে হাজার হাজার মাছের চালি একযোগে লাফিয়ে ওঠে, তখন মনে হয় এ যেন শুধু মাছ নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জয়ধ্বনি। সাতক্ষীরার এই রূপালী বিপ্লব আগামী দিনে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Ads small one

সাতক্ষীরায় কলেজছাত্রী অপহরণের দুই সপ্তাহ, উদ্ধার ও মামলা নিয়ে অসন্তোষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কলেজছাত্রী অপহরণের দুই সপ্তাহ, উদ্ধার ও মামলা নিয়ে অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অপহরণের দুই সপ্তাহ পার হলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ এখনো মামলা রেকর্ড করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অপহৃত ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ রিফা তাসফিয়া সদর উপজেলার শ্রীরামপুর মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবা ও ওই কলেজের শিক্ষক ফিরোজ হোসেন জানান, গত ১৭ জুন দুপুর দেড়টার দিকে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাসে করে রিফাকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় তিনি চৌবাড়িয়া গ্রামের অয়েজ কুরুনি, আল আমিন ও আল মামুনুল হকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ২৩ জুন থানায় এজাহার দেন। তবে ঘটনার দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও মেয়েকে উদ্ধার বা মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি। রিফা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মামলা ও উদ্ধারের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিছুজ্জামান জানান, ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, অভিযুক্তরা কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার না করায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে অপহরণের পরও মামলা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: কোটি টাকার সড়ক যখন ‘কাদার মহাসড়ক’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: কোটি টাকার সড়ক যখন ‘কাদার মহাসড়ক’

সাতক্ষীরা সদরের কুশখালী ইউনিয়নে সদ্য সমাপ্ত হওয়া কোটি টাকার একটি পিচঢালা সড়কের যে করুণ দশা চিত্রিত হয়েছে, তা এককথায় উদ্বেগজনক ও চরম জনদুর্ভোগের কারণ। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়ক নির্মাণের কিছুদিন যেতে না যেতেই সামান্য বৃষ্টিতে ‘কাদার মহাসড়কে’ পরিণত হবেÑতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে সড়কটির পিচকরণের কাজ শেষ হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে পিচ ও পাথরের আস্তরণ ঢাকা পড়ে পুরো সড়ক জুড়ে এখন ঘন কাদার আস্তরণ জমেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে মাটিবাহী ট্রলি, হল্লাগাড়ি ও মিনিট্রাকে করে অবাধে মাটি বহন করার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। গাড়ি থেকে পড়ে যাওয়া মাটির বড় বড় দলা যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে শুকনোর সময় ধুলা আর বর্ষায় মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির পিচ গলে যাচ্ছে ও পাথর উঠে যাচ্ছে।
এই পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক রাস্তার কারণে এলাকায় ইজিবাইক, ভ্যান বা মোটরসাইকেল চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলার উপায়ও নেই। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এমন জনদুর্ভোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। অনতিবিলম্বে এই সড়কটির দুরবস্থার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। শুধু কুশখালি সড়ক নয়, জনস্বার্থে জেলার সকল সড়কে মাটিবাহী ট্রলি, হল্লাগাড়ি ও মিনিট্রাক বন্ধ হওয়া জরুরী। একই সাথে, সড়ক আইন লঙ্ঘন করে সড়ক নষ্টকারী অবৈধ মাটিবাহী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনস্বার্থে রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

 

কয়রায় গাঁজাসহ আটক দুজনের কারাদন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
কয়রায় গাঁজাসহ আটক দুজনের কারাদন্ড

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় ৬৫ গ্রাম গাঁজাসহ আটক দুই ব্যক্তিকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। বুধবার কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) শেষে এই আদেশ দেন। দ-প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আলামিন হোসেন (৩৫) ও গাজিনগর গ্রামের আব্দুস সালাম (১৯)।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে ইসলামপুর চৌরাস্তা এলাকার একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে এই দুজনকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে আব্দুস সালামের কাছ থেকে ৩৫ গ্রাম এবং আলামিন হোসেনের চায়ের দোকান থেকে আরও ৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযোগ দাখিলের পর আদালত এই রায় দেন। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।