জেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু, উপকারভোগী হবেন ৪০ লাখ নারী
Oplus_131072
পত্রদূত ডেস্ক: নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডেটাবেইস তৈরি করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সোমবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিষয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা বাবদ ব্যয় করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় পিএমটি (প্রক্সি মিন্স টেস্ট) স্কোরের ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। তথ্য সংগ্রহের জন্য দেশব্যাপী ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইসে যুক্ত করবেন। ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি সংবলিত এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার টাকা তুলতে পারবেন।

জেলা সদর ছাড়াও সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ঘিরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তালা: তালা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ হাজিরা খাতুন, ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, কামরুল ইসলাম লাল্টু, সমাজসেবা কার্যালয়ের তৌফিক ইমরান, তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দার ফারুক হোসেন, তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রায়হান, তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবর হোসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা মারুফ উল ইসলাম ও সাংবাদিক মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আশাশুনি: আশাশুনিতে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু। তিনি জানান, আশাশুনি উপজেলার মোট ৭৬ হাজার ৮৯২টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কাজে ১১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন। ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্তিতে কোনো অনৈতিক লেনদেন বা প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, কমপক্ষে পাঁচটি ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উপযুক্ত পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স. ম. হেদায়েতুল ইসলাম, সদস্যসচিব মশিউল হুদা তুহিন, জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল আবছার মুর্তজা, জেলা ও স্থানীয় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ১১ জন সুপারভাইজারের হাতে তথ্য সংগ্রহের ট্যাব তুলে দেওয়া হয়।

কলারোয়া: কলারোয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঠিক ডেটাবেইস তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে আলম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেবহাটা: দেবহাটা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহার সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেবহাটা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আল আমিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ সিরাজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস, সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, হাজী কেয়ামুদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম ও স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সাথে তথ্য সংগ্রহের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।





